মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৭ পি.এম
বগুড়ায় নতুন জেলা ও দায়রা জজ পদায়নের প্রেক্ষাপটে আইনজীবীদের একটি অংশের টানা আন্দোলনের ফলে বিচারিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। গত বুধবার শুরু হওয়া এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবারও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেননি নবনিযুক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামান। এজলাসে বসার মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে আন্দোলনকারী আইনজীবীদের স্লোগান ও হট্টগোলের কারণে তিনি এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান।
আদালত সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনজীবীদের আপত্তি বা প্রতিবাদ জানানোর জন্য আইনগত ও সাংগঠনিক পথ থাকলেও আদালত বর্জন এবং এজলাসে হট্টগোলের কারণে সরাসরি বিচারিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে পেশাগত আচরণ ও আদালতের শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইনজীবীদের পেশাগত আচরণবিধিতে আদালতের মর্যাদা ও বিচারিক কার্যক্রমের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২৮ মিনিটে নবনিযুক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামান বিচারিক কার্যক্রম শুরু করতে এজলাসে আসন গ্রহণ করেন। তিনি বসার পরপরই আন্দোলনকারী আইনজীবীরা হট্টগোল শুরু করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। কোনো আইনজীবী মামলায় অংশ না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মাত্র সাত মিনিট পর ১১টা ৩৫ মিনিটে বিচারক এজলাস ত্যাগ করে খাসকামরায় চলে যান।
পরে ডিবি ও থানা পুলিশ আদালত এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এদিনও স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিন জেলা ও দায়রা জজের পদ শূন্য থাকার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর মো. মনিরুজ্জামানকে নতুন জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়ন করা হয়। তার পদায়নকে কেন্দ্র করে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে আদালত বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারী আইনজীবীরা।
আইনজীবীদের আদালত বর্জন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কোনো বিচারকের পদায়ন বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে তা নির্ধারিত আইনগত ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় উত্থাপন না করে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা কতটা গ্রহণযোগ্য। কারণ বিচারিক কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রবিন্দু বিচারপ্রার্থী জনগণ। আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকলে মামলার পক্ষগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এদিকে বারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগে অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওহাবসহ চার আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাবের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আইনজীবী হিসেবে সনদ পাওয়ার বিষয়ে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের একটি শোকজ নোটিশের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে আদালত পাড়ায় নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল ওহাব বলেন, বিষয়টি পুরনো এবং মীমাংসিত। দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি পিপলস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত আইন পাস করে নিয়ম মেনেই সনদ ও লাইসেন্স পেয়েছেন। পুরনো বিষয় সামনে এনে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেদ বলেন, বার ও বেঞ্চের সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিক বিচার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই তার মূল লক্ষ্য। দীর্ঘদিন জেলা জজের পদ শূন্য থাকার পর নিয়োগ হলেও পদায়নকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা বিচারসেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। দ্রুত সংকটের সমাধান প্রয়োজন।
বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, নতুন জেলা ও দায়রা জজের পদায়ন এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়েছে। সাধারণ সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও বিচারিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের বিষয়ে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতে, বার ও বেঞ্চের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে বগুড়ার বিচারিক অঙ্গনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার শত শত বিচারপ্রার্থী আদালতে এসে কার্যক্রম না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিচারকের পদায়ন নিয়ে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বার-বেঞ্চের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা না হলে এই অচলাবস্থা আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে। তাই বিচারপ্রার্থীদের স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত স্বাভাবিক বিচারিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় (রোডক্র্যাশ) তরুণ ও যুবকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা ও সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তরুণদের অংশগ্রহণ এবং হতাহতের হার বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। তরুণদের একটি বড় অংশ মোটরসাইকেল ব্যবহার করে, যার ফলে অতিরিক্ত গতি, হেলমেটের সঠিক ব্যবহার না করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের মতো বিভিন্ন কারণে তারা সড়কে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এ কারণে তরুণদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ যানবাহন, মানসম্মত হেলমেট, সিটবেল্ট এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবাকে সমন্বিত করে কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।
‘সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইনের পক্ষে তরুণদের আহ্বান’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় এই দাবি উত্থাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সভাকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় নিরাপদ যানবাহন, গতি নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত হেলমেট এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবা নিয়ে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ‘রোড সেফটি আইন কেন দরকার ও তরুণদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেশনে সড়ক নিরাপত্তায় তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহার সঞ্চালনায় কর্মশালায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান।
এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সদস্য মো. ইস্তিয়াক ইমন, মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সদস্য মো. ইফরাত হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয়কারী মো. আরমান হোসাইন রায়েদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্ট সোসাইটির সদস্য নওশীন নাওয়ার আচল।
আলোচনায় বক্তারা উল্লেখ করেন, সড়ক দুর্ঘটনায় তরুণদের ঝুঁকির চিত্র উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিএইচও) তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনা বিশ্বব্যাপী ৫–২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ। অতিরিক্ত গতি, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারে অনীহা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা ও জরুরি সেবা না পাওয়ার কারণে দুর্ঘটনার ক্ষতি বেড়ে যেতে পারে। সুতরাং, সড়ক নিরাপত্তায় যানবাহন, গতি নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ব্যবহারকারীর আচরণ এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী সেবাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি তরুণদের মতামত ও উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ব নম্বর-ওয়ান আন সি-ইয়ং ব্যাডমিন্টনে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি জাপানের আকানে ইয়ামাগুচিকে সরাসরি দুই গেমে পরাজিত করে এশিয়ান গেমসে মেয়েদের একক ইভেন্টে টানা দ্বিতীয়বার সোনা জিতেছেন। এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি প্রথম নারী শাটলার হিসেবে এশিয়ান গেমসে এককে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
মঙ্গলবার নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত ফাইনালে আন ইয়ামাগুচিকে ২১-১৭, ২১-৯ ব্যবধানে পরাজিত করেন। ম্যাচটি ছিল একতরফা, যেখানে আন শুরুতে কিছুটা ধীরগতির হলেও দ্রুতই ছন্দে ফিরে আসেন। বর্তমান অলিম্পিক ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে তার এই পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ।
প্রথম গেমে আন কিছু সময় পিছিয়ে পড়লেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। একটি দুর্দান্ত স্ম্যাশের মাধ্যমে ইয়ামাগুচিকে কোর্টের বাইরে ছিটকে দেওয়ার পর নেটের কাছে ব্যাকহ্যান্ড ফ্লিকে প্রথম গেম নিশ্চিত করেন তিনি।
দ্বিতীয় গেমে প্রতিপক্ষকে আর কোনো সুযোগ দেননি আন। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাডমিন্টন খেলতে থাকা আন দ্রুত বড় ব্যবধান তৈরি করেন। শেষ পর্যন্ত ইয়ামাগুচির লম্বা সার্ভ রিটার্নে ম্যাচ শেষ হয়। এরপর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে হাঁটু গেড়ে বসেন আন।
এই জয়ের মাধ্যমে ২৪ বছর বয়সী শাটলারের জন্য একটি দুর্দান্ত বছর আরও স্মরণীয় হয়ে উঠলো। ২০২৬ সালে এটি তার অষ্টম শিরোপা। এ বছর অল ইংল্যান্ড ওপেনে রানার্সআপ হওয়ার পর তিনি কোনো টুর্নামেন্টেই হার মানেননি; যদিও জাপান ওপেন থেকে চোটের কারণে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল। আগস্টে নয়াদিল্লিতে তিনি নিজের দ্বিতীয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছেন।
ইয়ামাগুচির বিরুদ্ধে এশিয়ান গেমসে এটি আন সি-ইয়ং এর দ্বিতীয় জয়। এর আগে নারী দলীয় ইভেন্টেও তিনি জাপানের এই তারকাকে পরাজিত করেছিলেন।
তবে এশিয়ান গেমসে আনকে কেবল কোর্টের পারফরম্যান্সেই নয়, আবেগের প্রকাশেও আলোচনায় দেখা গেছে। আগের এক ম্যাচে হতাশা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার কারণে তিনি পরে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। এমনকি গ্যালারিতে থাকা বাবাকে মজার ছলে বলেছিলেন, ‘আমি মাঠে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছি, আর তিনি আরামে বসে শুধু উৎসাহ দিচ্ছেন।’
এদিকে মেয়েদের দ্বৈত ইভেন্টেও দক্ষিণ কোরিয়া সোনা জিতেছে। লি সো-হি ও বেক হা-না চীনের লিউ শেংশু ও তান নিংকে ২৬-২৮, ২১-১৮, ২১-১৮ গেমে পরাজিত করে স্বর্ণপদক অর্জন করেন।
ফাইনালের শেষ গেমে ১৮-১৮ সমতায় থাকা অবস্থায় লিউ চোট পান। গোড়ালির চোট নিয়েও খেলা চালিয়ে গেলেও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় দক্ষিণ কোরিয়ার জুটি।
মিশ্র দ্বৈতে চীন সোনা জিতেছে। জিয়াং ঝেনবাং ও ওয়েই ইয়াশিন ইন্দোনেশিয়ার আমরি শ্যানাউই ও নিতা ভিওলিনা মারওয়াহকে ২১-১৯, ২১-৮ ব্যবধানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হন।
তবে আন সি-ইয়ং সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন—এশিয়ান গেমসে এককে দ্বিতীয় সোনা জিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সাক্ষাৎ ও বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউয়িন, কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং, অ্যাটাচে লিয়াং শুয়িং এবং পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অ্যাটাচে ওয়াং ডাউয়েই উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে আরও বেগবান করতে দুই দেশ একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ও সংলাপের পরিবেশ তৈরিতে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। জামায়াতের নেতারা এ সময় তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, নূরুল ইসলাম বুলবুল, মো. মোবারক হোসাইন, ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভ্যাট রিটার্ন জমার নিয়মে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমানে প্রতি তিন মাসের কর মেয়াদ শেষে একবার রিটার্ন জমা দেওয়া যায়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেকটি কর মেয়াদের জন্য আলাদাভাবে রিটার্ন জমা দিতে হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্নটি জমা দিতে হবে। পূর্বে এই নিয়ম কার্যকর ছিল এবং এখন সেটি পুনর্বহাল করা হচ্ছে।
সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এই খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে।
মন্ত্রিসভার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মাঠ পর্যায়ে রাজস্ব আদায়কে আরও কার্যকরী করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর ৬৪ ধারা সংশোধন করা হবে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীর আওতায়, প্রত্যেক কর মেয়াদ শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে হবে। তবে যদি ১৫তম দিনটি সরকারি ছুটির দিন হয়, তাহলে পরবর্তী কার্যদিবসে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।
কিছু প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলি এই সুবিধার আওতায় আসবে। ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলিও এই সুবিধা পাবে। যারা শূন্য রিটার্ন জমা দেন, তারাও এই সুবিধা পাবেন। তারা কর মেয়াদ শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
অধ্যাদেশের খসড়াটি এখনো একটি ধাপ অতিক্রম করতে বাকি রয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এটি ভেটিং করবে। মন্ত্রিসভা সেই ভেটিংয়ের পর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ