বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:২৭ পি.এম
বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮১২টি পণ্য রপ্তানি করে বিশ্বের ২০২টি গন্তব্যে।
এসময় দেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজারগুলো মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জাতীয় সংসদে।
আজ সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্যের মধ্যে স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, ভারত, ইতালি, কানাডা, জাপান, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, বেলজিয়াম, চীন, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো ও রাশিয়া রয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-জুন সময়কালে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে ছিল বোনা পোশাক (ওভেন গার্মেন্টস), নিট পোশাক, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত ও জীবিত মাছ, কৃষিপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা এবং প্রকৌশলজাত (ইঞ্জিনিয়ারিং) পণ্য।
বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদকে জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসব পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৪৪ হাজার ১৬৭ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে।
তিনি আরও বলেন, অর্থবছরটিতে এসব পণ্য থেকে অর্জিত রপ্তানি আয় দেশের মোট রপ্তানি আয় হিসেবে ৯১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনার দৌলতপুর-শাহপুর সড়ক ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অনেক আগেই।
কার্পেটিং উঠে গিয়ে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায়। বৃহস্পতিবার সড়কের আমভিটা বাজারসংলগ্ন এলাকায়। ছবি: কালের কণ্ঠ
‘পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাস্তাটা বেহাল। প্রতিদিনই দুই-একটা ইজিবাইক উল্টে যায়।
কাদা-পানিতে ভরা গর্তে ঢুকে চাকা আটকে যায়। একদিন বসে থাকলে পেটে খাবার জোটে না। তাই প্রাণটা হাতে নিয়ে রাস্তায় গাড়ি বের করি। আমাদের দুর্দশা দেখার কেউ নেই।
খুলনার দৌলতপুর-শাহপুর সড়কের দূরাবস্থার কারণে তার মতো দুর্ভোগের শিকার সংশ্লিষ্ট এলাকার হাজার হাজার মানুষ।
নগরীর দৌলতপুর মহসিন মোড় থেকে শাহপুর পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক এই সড়কটির প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশ নিয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
তাদের এই ভোগান্তি চলছে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে।
স্থানীয়রা জানায়, ভাঙা সড়কের বেশিরভাগ অংশ পড়েছে ডুমুরিয়া উপজেলার মধ্যে। এখানকার জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ব্যবসায়ী এবং কৃষি ও মৎস্যজীবী। এর বাইরে রয়েছে চাকরিজীবী, যাত্রীবাহী যানের চালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ফলে প্রায় প্রতিদিনই পেশা অনুযায়ী হাজারো মানুষকে দৌলতপুর-শাহপুর সড়ক ব্যবহার করতে হয়। এলাকার অনেক শিক্ষার্থীকে নগরীর কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়।
অথচ দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সরেজমিন সড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ অংশে বিটুমিন ও পাথর উঠে গেছে, সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। অনেক জায়গায় মাটি দেবে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ভেতরের খোয়া উঠে মাটি বেরিয়ে পড়ায় তা কাঁচা রাস্তার রূপ পেয়েছে। ফলে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এতে হালকা যান উল্টে যাওয়াসহ প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
সবচেয়ে বেশি খারাপ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক এই সড়কটির প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশ বেশি খারাপ। সড়কটির শাহপুর বাজার, থুকড়া মাদরাসা রামকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমভিটা বাজার ও খানজাহান আলী কৃষি কলেজের সামনে; শলুয়া বাজার, শলুয়া পূর্ণচন্দ্র বিদ্যালয় এবং বাইপাস সড়কের সামনের অংশ একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী। সড়কের এসব জায়গায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে আছে। বৃষ্টির দিনে কোনো কোনো অংশ ছোটখাটো ডোবার আকার ধারণ করে।
সড়কটির আড়ংঘাটার পর থেকে শাহপুর পর্যন্ত ও এর আশপাশের এলাকা থেকে নগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করেন এমন কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, আগে এ সড়ক দিয়ে সরকারি ব্রজলাল (বিএল) কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধায় প্রতিষ্ঠানটির বাস চলাচল করতো। তবে বেহাল সড়কের কারণে তা বন্ধ রাখা হয়।
শাহপুর গ্রামের বাসিন্দা বিএল কলেজের শিক্ষার্থী শেখ রহিম বলেছেন, ‘ইতোমধ্যে সড়কটিতে চলাচলকারী কলেজের বাস বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।’
সড়কটি নিয়মিত ব্যবহার করতে হয় শাহপুর গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাজু ফকির (৪৩)-কে। তার ভাষ্য, ‘এই একটি সড়ক নিয়ে বছরের পর বছর ভোগান্তি চলছে। শেষ কবে এর সংস্কার হয়েছে মনে নেই।’ তিনি বলেন, ‘এখানকার অনেক মানুষ শহরে অফিস করেন; শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সড়কটি ব্যবহার করেন। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শহরে গিয়ে মাছ-তরকারি বিক্রি করেন। তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। রাস্তায় নামলে অসুস্থ মানুষ আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে।’
আমভিটা এলাকার বাসিন্দা ইজিবাইক চালক নাসির সরদার বলেন, ‘১৪ কিলোমিটার সড়কে আগে আধাঘণ্টা সময় লাগতো। এখন এক ঘণ্টা থেকে সোয়া এক ঘণ্টা লাগছে। তবে গাড়ির যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘পেটের তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে। কেউ আমাদের কষ্টের কথা শুনতে চায় না।’
কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ লক্ষ্মী রাণী, সবিতা মণ্ডল বলেন, ‘রাস্তাটি অত্যন্ত ঝূঁকিপূর্ণ। এলাকার মানুষ মাছ, সবজি, দুধ নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে দৌলতপুর যান। আমরা শুধু রাস্তাটি ভালো চাই।’
যা বলছে এলজিইডি
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বলছে, সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন। ইতোমধ্যে সড়কের একটি অংশে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরের মধ্যে পুরো সড়কটির সংস্কার কাজটি শেষ হবে।
এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, সড়কটি আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তিতে পুনর্নির্মাণের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২৩ জুলাই আড়ংঘাটা রেল স্টেশন থেকে শাহপুর অংশের জন্য দরপত্র দাখিল শেষ হবে। আগামী সেপ্টেম্বরে মহসিন মোড় থেকে আড়ংঘাটা অংশ ও চলতি অর্থ বছরে পুরো অংশের সংস্কার শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) খুলনার প্রধান প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রযুক্তিগত ক্রটির কারণে সড়কটি সংস্কারে পদক্ষেপ নিতে দেরি হয়েছে। ইতোমধ্যে সড়কের একটি অংশের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। চলতি অর্থ বছর পুরো সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হবে আশা করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর্জি জানিয়েছে তুরস্ককে এফ-থার্টি ফাইভ যুদ্ধবিমান না দেওয়ার জন্য। এতে দেখা যাচ্ছে, কেন তেল আবিব বাধা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, যদি আঙ্কারা মার্কিন এই যুদ্ধবিমান পায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ পরিবর্তিত হতে পারে। এর ফলে অঞ্চলটিতে দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের প্রভাবের পরিমাণ কমে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে আঙ্কারার কাছে এফ থার্টি ফাইভ যুদ্ধবিমান বিক্রির ইঙ্গিত রেখেছে। তবে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তুরস্ককে যুদ্ধবিমান না দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠছে যে, তুরস্ককে এফ থার্টি ফাইভ দেওয়া হলে ইসরাইলের সমস্যা কোথায় তৈরি হবে।
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধুমাত্র যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয় নয়। বরং এর সঙ্গে রয়েছে বাণিজ্যিক, জ্বালানি, আকাশসীমা এবং আঞ্চলিক নেতৃত্বের লড়াই। যদি তুরস্ক মার্কিন এই যুদ্ধবিমান পায়, তাহলে পুরো অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে।
ইসরাইলের সামরিক কৌশলের মূল ভিত্তি দীর্ঘদিন ধরে আকাশে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা। সিরিয়া, লেবানন কিংবা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে যে কোনও অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তিগত সুবিধার ওপর নির্ভর করে তেল আবিব। যদি তুরস্ক এফ-থার্টি ফাইভ পায়, তবে তাদের বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এতে ওই অঞ্চলে ইসরাইলের কৌশলগত স্বাধীনতা এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
ইসরাইলের প্রতি যুদ্ধবিমান না দেয়ার পেছনে বাণিজ্যিক কারণও রয়েছে। ভারতে আই.এম.ই.সি করিডোর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভারতকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান এবং ইসরাইল হয়ে ইউরোপের দিকে নিয়ে যাবে। ভারতের জন্য এটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোডের বিকল্প হবে, আর ইসরাইলের জন্য এটি ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লাইফলাইন হয়ে দাঁড়াবে।
কিন্তু, তুরস্ক এই অর্থনৈতিক করিডোরের বাইরে পড়ে। তাই, আঙ্কারা ইরাক হয়ে নিজস্ব উন্নয়ন রোড করিডোর তৈরি করতে চায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আঙ্কারা ও তেল আবিব শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয় বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিযোগিতায় রয়েছে।
জ্বালানির রাজনীতি এখানে ধরা পড়ছে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ইসরাইলের লেভিয়াথন, তামারা ও সাইপ্রাসের আফ্রোদিতি গ্যাসক্ষেত্র ইউরোপের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই অঞ্চল নিয়ে তুরস্ক, গ্রিস এবং সাইপ্রাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলমান রয়েছে। তাই, তুরস্ক শক্তিশালী হলে এই গ্যাস রুট ও জ্বালানি প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে ইসরাইলের উদ্বেগ বাড়বে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা বলছেন, গত এক দশকে ভারত ও ইসরাইলের সম্পর্ক প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং আইএমইসিকে কেন্দ্র করে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। অপরদিকে, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যেও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে তুরস্ক প্রায়ই পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করে, আর ইসলামাবাদও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আঙ্কারার পাশে থাকে। তুরস্ক যদি এফ থার্টি যুদ্ধবিমান পায়, তবে তাদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব বাড়বে। সেইসাথে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক বরাবরই বৈরি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তুরস্ককে নিজের কৌশলগত বলয়ে রাখতে চায়, অন্যদিকে ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার নীতিও ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী হবে। তাই, এফ-থার্টি ফাইভ ইস্যু শুধুমাত্র অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শক্তির ভারসাম্য, বাণিজ্য করিডোর, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিফা বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরে নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল। গত সোমবার স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর প্রধান কোচ রবার্তো মার্টিনেজ তার দায়িত্ব ছাড়েন। তার উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে জোরালো আলোচনা এখন অভিজ্ঞ পর্তুগিজ কোচ জর্জ জেসুসের নাম নিয়ে।
যদিও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করেনি, তবে আশা করা হচ্ছে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই নতুন কোচের নাম প্রকাশ করা হবে।
বুধবার এফপিএফ সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা সাংবাদিকদের বলেন, ‘নতুন কোচকে অবশ্যই পর্তুগিজ ফুটবল সম্পর্কে গভীর ধারণা রাখতে হবে এবং ফেডারেশন ও জাতীয় দলের জয়ের মানসিকতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। আমাদের সামনে কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। আমি নিজেই পুরো বিষয়টি দেখছি এবং আশা করছি সপ্তাহের শেষ নাগাদ ইতিবাচক খবর দিতে পারব।’
পর্তুগালের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক আ বোলা এবং ইএসপিএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে জর্জ জেসুসকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এফপিএফ।
গত মে মাসে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরকে সৌদি প্রো লিগের শিরোপা জেতানোর পর বর্তমানে ৭১ বছর বয়সী এই কোচ ফ্রি এজেন্ট হিসেবে রয়েছেন। যদিও জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার কোনও পূর্ব অভিজ্ঞতা তার নেই, কিন্তু ক্লাব ফুটবলে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেশ-বিদেশে অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
বেনফিকার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি তিনটি লিগ শিরোপাসহ মোট ১০টি ট্রফি জিতেছেন। ২০১৯ সালে তিনি ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোর দায়িত্ব নেন এবং মাত্র এক বছরের মধ্যে পাঁচটি বড় শিরোপা জিতে ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচে পরিণত হন। এরপর ২০২৩-২৪ মৌসুমে আল হিলালকে ঘরোয়া ট্রেবল জিতিয়েও নিজের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ২০২৫ সালে কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের কোচ হওয়ার আগে সেলেসাওদের দায়িত্বের জন্যও তার নাম আলোচনার মধ্যে ছিল।
বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে চায় পর্তুগাল। শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও মাঠের পারফরম্যান্সে সেই সম্ভাবনার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্বাধীন দল।
এফপিএফ সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা সামনের পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করেন, ‘পর্তুগিজ ফুটবলে নতুন এক জয়ের যুগ শুরু করতে চাই আমরা। এবারের বিশ্বকাপ আমাদের প্রত্যাশার অনেক নিচে ছিল। এখন যত দ্রুত সম্ভব সেই হতাশার জবাব দিতে হবে। সামনে নেশনস লিগ, সেখানে আমাদের লক্ষ্য শিরোপা জয়। এরপর রয়েছে ইউরো এবং ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ, যা আমাদের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের লক্ষ্য ও স্বপ্ন দুটোই এখন অনেক বড়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে র্যাব-৭-এর অভিযানে ৭০ কেজি গাঁজাসহ কথিত মাদক কারবারি রবিউল আলম এবং তার সহযোগী রোকসানা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই গ্রেপ্তার অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয় বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায়, উপজেলার পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোমারবাড়ি গ্রামের একটি বাড়িতে। পরে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) র্যাব-৭-এর পক্ষ থেকে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
র্যাব এবং স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা গোমারবাড়ি এলাকার পালোয়ান বাড়িকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এই এলাকায় র্যাব একাধিক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০০ কেজি গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করেছে।
এসব ঘটনার কারণে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও রবিউল আলমকে অগ্রিম গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গত ২৫ জুন রাতে একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব প্রায় ৩০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। ওই ঘটনার সময় অভিযুক্ত মুজিবুল হক প্রকাশ রবিউল ও রাজমিস্ত্রি সিয়ামকে সাক্ষী হওয়ার কথা বলে নিয়ে গিয়ে আসামি করা হয়েছে, এমন অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয় গ্রামবাসী ও সুশীল সমাজ মানববন্ধন করে প্রকৃত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় র্যাব-৭ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। গত বুধবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিউল আলমের বাড়ির রান্নাঘরে অভিযান চালিয়ে ৭০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় গোমারবাড়ি গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে রবিউল আলম এবং তার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত রিপন হোসেনের স্ত্রী রোকসানা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় র্যাব-৭, সিপিসি-১-এর পুলিশ পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দীন আজাদ মোল্লা বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় একটি মামলা করেন।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোছাইন উল্লেখ করেন, র্যাব ৭০ কেজি গাঁজাসহ দুজনকে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ