মাইদুল ইসলাম মামুন নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০১ পি.এম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনিরপাট বাজারসংলগ্ন কেশরিয়া বিল এখন শ্বেতপদ্মের অপরূপ সৌন্দর্যে সেজেছে। বিস্তীর্ণ জলাশয়জুড়ে ফুটে থাকা হাজারো শ্বেতপদ্মের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন সকাল-বিকেল ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। শরতের আবহে শুভ্র পদ্মফুলের সমারোহে বিলটি যেন পরিণত হয়েছে প্রকৃতির এক অনন্য ক্যানভাসে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে কেশরিয়া বিলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মাচ্ছে বহুবর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ শ্বেতপদ্ম। গ্রীষ্মকাল থেকে ফুল ফোটা শুরু হলেও শরৎকালে এর সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে বিলের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য পদ্মফুল।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিলের পানিতে ভেসে আছে বড় বড় গোলাকার সবুজ পাতা। সেসব পাতার মাঝখান থেকে ডাঁটা উঁচু করে ফুটে আছে সাদা রঙের শ্বেতপদ্ম। সবুজ পাতা আর শুভ্র ফুলের সমন্বয়ে চারপাশে তৈরি হয়েছে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য। ভোরের আলোয় শিশিরভেজা পদ্মপাপড়ি এবং হালকা বাতাসে দুলতে থাকা ফুলগুলো আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। নৌকায় করে বিলের গভীরে গেলে কাছ থেকে উপভোগ করা যায় পদ্মফুলের সৌন্দর্য।
স্থানীয় বাসিন্দা শোভা রায় ও সবিতা রায় জানান, শরৎকালে কেশরিয়া বিলে শ্বেতপদ্মের সমারোহ বেড়ে যায়। প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখানে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন। এই বিলটি এলাকার মানুষের কাছে একটি আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক স্থান হয়ে উঠেছে।
কলেজ শিক্ষক সঞ্জীব রায় বলেন, শ্বেতপদ্ম পবিত্রতা, শুভ্রতা ও আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের প্রতীক। সনাতন ধর্মে এ ফুলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেবী সরস্বতী ও লক্ষ্মীর আসন হিসেবেও শ্বেতপদ্ম ব্যবহৃত হয়।
উন্নয়নকর্মী ফরিদুল জুলফিকার বলেন, পদ্মবিল ও পদ্মফুল আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বাস্তুসংস্থানের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর সম্ভাবনা রয়েছে। পদ্মমধু সংগ্রহ, পদ্মবীজের ব্যবহার এবং পর্যটনকেন্দ্রিক জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তাই কেশরিয়া বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কেশরিয়া বিলের শ্বেতপদ্মের সৌন্দর্য সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে বিলের পরিবেশ রক্ষা ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এটি নাগেশ্বরীর অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এয়ারপোর্ট থানার অভিযানে মাদক উদ্ধার; আটক দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন
বরিশাল মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন গড়িয়ারপাড়ে পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশির সময় ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১৪৫ গ্রাম গাঁজাসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গড়িয়ারপাড় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পুলিশ বক্সের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিএমপি মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, এয়ারপোর্ট থানার এসআই বাসুদেবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি আভিযানিক দল গড়িয়ারপাড় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করছিল। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে দুই ব্যক্তির হেফাজত থেকে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১৪৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মোঃ হাফিজুর রহমান সিকদার (৩২), পিতা মোঃ শাহজান সিকদার, মাতা ভৈরব বেগম, সাং-শাহাজিরা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড, শরিকল ইউনিয়ন, থানা-গৌরনদী, জেলা-বরিশাল এবং মোঃ ইমাম হাসান (১৯), পিতা মোঃ নুরুল আমীন ফকির, মাতা হাসিয়া বেগম, সাং-আহম্মদ কাঠী, মেধাকুল বাদুরতলা, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন, থানা-গৌরনদী, জেলা-বরিশাল।
পুলিশের দাবি, আটক দুজনের হেফাজত থেকেই উল্লেখিত মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তবে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা এবং মামলার পরবর্তী আইনগত বিষয়গুলো তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে শাহজালাল মিয়া (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার পূর্ব ধনিরাম গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে খাবার খেয়ে ওই নারী নিজ বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় একই এলাকার আহসান আলীর ছেলে শাহজালাল মিয়া তাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা হলেও মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শাহজালাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
ফুলবাড়ী থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আউয়াল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, ভুক্তভোগীর করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রামে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধের জেরে ভাতিজা হত্যার আড়াই মাসের মাথায় চাচা রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে রবিকে (৫৫) হত্যার ঘটনায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত রবির ভাতিজা নাজমুল শেখ (৫০) বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারে বড়ভাগ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখকে হত্যাকাণ্ডের মূল নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে রবিউল ইসলাম শেখ ও আরও তিনজনের ওপর হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এতে ঘটনাস্থলেই রবির মৃত্যু হয়। আহত হন মোক্তার বিশ্বাস (৫৫), হৃদয় শেখ (২১) ও লিটন খান (৪০)। তাঁদের মধ্যে মোক্তার ও হৃদয়ের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর ঢাকায় পাঠানো হয়।
নিহত রবি বড়ভাগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি কাশিয়ানী সদর বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন।
এর আগে গত ২৬ জুন একই ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়ায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় রবির ভাতিজা সুমন শেখ (২৪) নিহত হন। ওই ঘটনার পর দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়। সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার কয়েকজন সম্প্রতি জামিনে বের হওয়ার পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অপূর্ব সাহা বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এজাহারে ২৩ জনের নাম রয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. সোহেল সারোয়ার বলেন, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাব বিস্তার ও গ্রাম্য বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় চার বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষ, হামলা ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনা ঘটেছে।
রবিউল হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ