শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:০৭ এম
স্ট্রোকের ঝুঁকি চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে স্ক্রিনিং ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট নিউরোলজিস্ট, নিউরোসার্জন, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উল্লেখ করেন, রোগীর চাপ কমানোর জন্য শুধুমাত্র নতুন হাসপাতাল নির্মাণ যথেষ্ট নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং ওয়ার্কারদের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কর্মীরা বছরে তিন থেকে চারবার প্রতিটি পরিবারে গিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করবেন। এর ফলে স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে পরিচিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
স্ট্রোকের চিকিৎসায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রোগীর স্বজনেরা অনেক সময় বুঝতে পারেন না কোন হাসপাতালে গেলে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যাবে। এই সমস্যার সমাধানে জেলা পর্যায়ে কল সেন্টার ও কেন্দ্রীয় অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা প্রশিক্ষিত প্যারামেডিকরা রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করে তাকে উপযুক্ত হাসপাতালে নিতে সহায়তা করবেন।
সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, স্ট্রোক বিশ্বব্যাপী মৃত্যু এবং দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি, ধূমপান, স্থূলতা এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের একপাশ দুর্বল হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করা উচিত।
বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালের আয়োজনে সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সচিব অধ্যাপক ডা. ফিরোজ কাদের এবং বাডাসের মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।
এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য ড. একরামুল হক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল হান্নান চৌধুরী, সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইসড (সিআরপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ভ্যালেরি অ্যান টেইলর এবং অনলাইনে যুক্ত ছিলেন স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডির নিউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আইরিশ গ্রানওয়াল্ড।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর সম্ভাবনার কারণে একদিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে জ্বালানি তেলের দাম।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমে গেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধি এবং তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এখনও বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। এই তথ্যটি রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ২২ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১১৪ ডলার ১০ সেন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ ডলার ৩৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ৪৫ সেন্ট হয়েছে। এর আগের দিন বুধবার ব্রেন্টের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ২৪ সেন্ট এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে ১০১ ডলার ৫২ সেন্ট হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তির আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা তেলের দাম কমার একটি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বুধবার মার্কিন কর্মকর্তা ও আলোচনাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়িকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের কাছে নতুন একটি খসড়া চুক্তি দিয়েছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই প্রস্তাবের বিষয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এতে কিছু ধারণা রয়েছে, যা তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
নোমুরা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ ইউকি তাকাশিমা মন্তব্য করেছেন, শান্তি আলোচনা আবার শুরু হওয়ার প্রত্যাশায় বাজারে তেল বিক্রির চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার আশঙ্কা থাকায় দাম কমার পরিমাণ সীমিত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কা
শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা এখনও কাটেনি। বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে আসছিল। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে জোটটি।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দাবি, বুধবার হুতিরা এডেন বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এর আগের দিন হুতিরা সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল। তবে শোধনাগারটিতে হামলার খবর সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সৌদি আরবের মতো বড় তেল উৎপাদক দেশের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমে যেতে পারে। এছাড়া ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে মার্কিন হামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
রাশিয়ার উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা
রাশিয়ার তেল পরিশোধন কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও বিশ্ববাজারে দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করছে। জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে তেল পরিশোধনের পরিমাণ দৈনিক ৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল বেড়ে ৪০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিশোধন কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলে দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদনও বাড়তে পারে। এর আগে রাশিয়ার তেল উৎপাদন দৈনিক ৮৪ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছিল, যা ২০০৩ সালের পর সর্বনিম্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও রপ্তানি একই হারে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত কমেছে
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৯ লাখ ব্যারেল কমেছে। তবে রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকেরা ১৫ হাজার ব্যারেল মজুত বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। অন্যদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের মজুত ৩৯ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। বিশ্লেষকদের যেখানে ৯ লাখ ব্যারেল মজুত কমার পূর্বাভাস ছিল, সেখানে উল্টো বৃদ্ধি দেখা গেছে।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ (বৃহস্পতিবার) মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। এরপর থেকেই নদী ও সাগরে ইলিশ শিকারের জন্য জেলেরা নামবেন। এ কারণে তারা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী পানপট্টি ঘাটসংলগ্ন জেলেপল্লিতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে ও রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় বসে জাল মেরামত করছেন জেলেরা। কেউ পুরোনো জাল ঠিক করছেন, আবার কেউ মাছ ধরার ট্রলার প্রস্তুত করছেন। অন্যরা নদী-সাগরে যাওয়ার জন্য জ্বালানি ও খাবার সংগ্রহ করছেন।
তবে এই প্রস্তুতির আড়ালে রয়েছে অভাব-অনটন ও অনিশ্চয়তার গল্প। পানপট্টি জেলেপল্লির জেলে জয়নাল বলেন, "২২ দিন অবরোধ থাকার কারণে ঘরে ঠিকমতো রান্না হয়নি। সরকারিভাবে চাল আসে, তাও পাইনি। অবরোধ আসলে মনে হয়, আমাগো গরিবের ওপরেই আসে। ভয়ে নদীতে নামি না, যদি প্রশাসনে একমাত্র সম্বল জালটুকু নিয়ে যায়। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় এখন মাছ ধরতে সব প্রস্তুতি শেষ করছি।"
একই ঘাটের নারী জেলে আকলিমা জানান, তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তেঁতুলিয়া ও আগুনমুখা নদীতে মাছ ধরেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, "সরকারি সহায়তার চাল দিয়ে সংসার চলে না। তার ওপর নদীতে আগের মতো মাছও পাওয়া যায় না।"
দীর্ঘ সময় মাছ ধরতে না পারায় অনেক জেলে পরিবারকে ঋণের কিস্তি, সংসারের খরচ এবং নৌকা ও জালের দেনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি খাদ্যসহায়তা বরাদ্দ থাকলেও অনেকে চাল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার ফলে মাছ ধরার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এদিকে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে জাটকা আহরণে আট মাসের নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। এ সময় ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের ইলিশ ধরা, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন জানান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ৪৫টি অভিযান ও চারটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ইলিশ ও জাল জব্দ, মামলা, কারাদণ্ড এবং জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনার সময় কয়েকটি স্থানে জেলেরা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এরপরও অভিযান সফল করতে কাজ করেছেন তারা।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, জেলার আটটি উপজেলায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত ছিল। কোথাও কোথাও কর্মকর্তাদের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনা ঘটলেও সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ী নদীর ঘাট এলাকা থেকে নৌ পুলিশ কে এম তাহসিফ সাউরি (২৭) নামে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এক সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করে। গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে উদ্ধার করা হয় তাঁর মরদেহ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত তাহসিফের বাবা ও ছোট চাচা তাহসিনুল করিমের দেওয়া তথ্যমতে, তাহসিফ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন। সম্প্রতি সরকার পতনের পর তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তিনি অবিবাহিত ছিলেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাহসিফ উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকায় বসবাস করতেন এবং ২৭ অক্টোবর নিখোঁজ হন। তাহসিফের চাচা জানান, ২৭ অক্টোবর দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ সর্বশেষ একটি ভয়েস মেসেজ দিয়ে বাসায় আসার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর 'দীপ' নামের এক বন্ধু এসে তাঁকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি এবং ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও থানায় যোগাযোগের পর ২৮ অক্টোবর বিকেলে নৌ পুলিশের মাধ্যমে মরদেহ উদ্ধারের খবর পায় পরিবার।
নিহত তাহসিফের বাবা এটিকে একটি হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, "এটি হত্যাকাণ্ড, লাশ নদীতে পাওয়া গেছে এবং ওই এলাকায় সে সাধারণত যায় না"। তিনি আরও জানান, তাহসিফ একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পর বাসায় বিশ্রামে ছিল এবং সুস্থ ছিল। তাঁর ছেলে অত্যন্ত সৎ, ভদ্র, বিনয়ী এবং সবার কাছে প্রিয় ছিল উল্লেখ করে তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। অন্যদিকে তাহসিফের চাচা জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তারা নির্দিষ্ট কাউকে সন্দেহ করছেন না।
নৌ পুলিশের উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ ও তাঁর সঙ্গী পুলিশ সদস্যরা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। প্রাথমিকভাবে মরদেহের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। মরদেহ উদ্ধারের পর নৌ পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে তাঁর পকেট থেকে একটি আইফোন ও একটি মানিব্যাগ উদ্ধার করে। পরে নৌ পুলিশের ওসি মো. ফিরোজ মোবাইল ফোনের সিম সচল করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মৃত্যুর খবর জানান।
ময়নাতদন্ত শেষে আজ বিকেল ৪টার পর পুলিশ মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর আসরের নামাজের পর নিহতের জানাজা সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা ৭০০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
রোসাটমের প্রধান আলেক্সি লিখাচেভ মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রুশ কর্মীদের সরাব না, বরং সেখানে সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। আমরা বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত কর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৭০০ জনে উন্নীত করতে চাই।’
মেহের নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও পরিষেবা খাতে ১৯২ জন রুশ বিশেষজ্ঞ কর্মরত আছেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য আরও ৫০০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে নতুন করে প্রায় ৫০৮ জন রুশ বিশেষজ্ঞ সেখানে যোগ দিতে পারেন।
এছাড়া, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন ইউনিট নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি চুক্তি ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতে গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের সম্মেলনে অংশ নিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পৌঁছান। সেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকও করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ