ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সমুদ্র ছুঁয়ে আন্তর্জাতিক আকাশে যাত্রার অপেক্ষায় কক্সবাজার বিমানবন্দর


সমুদ্র ছুঁয়ে আন্তর্জাতিক আকাশে যাত্রার অপেক্ষায় কক্সবাজার বিমানবন্দর

সমুদ্রের বুক ছুঁয়ে বিস্তৃত রানওয়ে, যা বাংলাদেশের দীর্ঘতম রানওয়ে হিসেবে পরিচিত। কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে, যেখানে আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল, প্রশস্ত অ্যাপ্রন এবং বড় উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা রয়েছে। আগামী নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে পারে। এ উপলক্ষে পেনাং, কাঠমান্ডু ও কুনমিংসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এয়ার এশিয়া শুরুতেই মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা জানিয়েছে। নেপালের কাঠমান্ডু, চীনের কুনমিং এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগও চলছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহজ হবে এবং পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সম্প্রতি বলেন, ‘এয়ার এশিয়া কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে নিশ্চিত করেছে।’ এই ফ্লাইটের মাধ্যমে কক্সবাজারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে।

আরও পড়ুন: ৫ বছর পর ছেলের সাথে ফোনে কথা বললেন অং সান সু চি

মন্ত্রী আরও জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিমানবন্দরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার থেকে নেপালের কাঠমান্ডু রুটেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। এর লক্ষ্য হলো, চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের পর্যটকদের কক্সবাজারে আকৃষ্ট করা।

ঝিনুকের আদলে আধুনিক টার্মিনাল

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ঝিনুকের আদলে নির্মিত নতুন যাত্রী টার্মিনাল চালু করা হয়েছে। প্রায় ৩৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনালে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার, ১০টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার ও দুটি লাগেজ বেল্ট রয়েছে। পুরোপুরি চালু হলে টার্মিনালটির মাধ্যমে বছরে ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে।

আরও পড়ুন: টাটা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে

সমুদ্রের ঢেউ ও শামুকের খোলসের আদলে নির্মিত টার্মিনালটি যাত্রীদের নজর কেড়েছে। আধুনিক অবকাঠামো ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তারা সন্তুষ্ট। তবে তাদের প্রত্যাশা, কক্সবাজার থেকেই যেন সরাসরি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাতায়াত করা যায়।

কানাডাপ্রবাসী মেহেদী হাসান ইমন বলেন, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরটি খুবই সুন্দর ও আধুনিক হয়েছে। আমার কাছে এটি ঢাকার বিমানবন্দরের তুলনায় অনেক ভালো লেগেছে। বিমানবন্দরের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা দেখে বেশ ভালো লেগেছে। এখান থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করা গেলে সেটি খুবই ভালো হবে।’

মালয়েশিয়াপ্রবাসী রুবাইবা আহমেদের মতে, কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে প্রবাসীদের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনেক যাত্রীকে প্রথমে ঢাকায় এসে পরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে কক্সবাজার যেতে হয়, যা সময় ও ভোগান্তি বাড়ায়।

রুবাইবা আহমেদ বলেন, ‘এখান থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করা গেলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে ঢাকায় যাত্রাবিরতি ও বিমান পরিবর্তনের ঝামেলা কমে যাবে।’

আরও পড়ুন: দাম্মামে বিমানবন্দরে হামলা, আহত দুই বাংলাদেশি প্রবাসী

যাত্রী আমান উল্লাহও মনে করেন, কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। তার ভাষায়, ঢাকার তুলনায় কক্সবাজারে যানজট কম এবং বিমানবন্দরের আশপাশের পরিবেশও খোলামেলা। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে এসব বিষয় যাত্রীদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

যাত্রী জসিম উদ্দিনের প্রত্যাশা, কক্সবাজার থেকে ভারত, নেপাল, চীনসহ বিভিন্ন দেশে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। এতে ভ্রমণ আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে বলে মনে করেন তিনি।

দেশের দীর্ঘতম ১০ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ে, নতুন অ্যাপ্রন

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে জমি পুনরুদ্ধার করে আগে ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়েকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। এতে বড় উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে হামলা হুথিদের

পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের নতুন অ্যাপ্রন, যেখানে একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের সুবিধা রয়েছে। সক্ষমতা যাচাইয়ের পর আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার সনদও পেয়েছে বিমানবন্দরটি।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক মো. গোলাম মুর্তজা হোসেন জানান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরটি প্রস্তুত রয়েছে। নতুন অ্যাপ্রন ব্যবস্থাপনার ফলে একই সময়ে ১০ থেকে ১২টি উড়োজাহাজ পার্কিং করা সম্ভব হবে। এতে উড়োজাহাজ পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিমানবন্দরে প্রতিদিন প্রায় ২৭টি আগমন ও ২৭টি বহির্গমনসহ মোট ৫৪টি ফ্লাইট মুভমেন্ট পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি দুটি বোয়িং উড়োজাহাজও একই ব্যবস্থাপনার আওতায় পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।

নতুন টার্মিনাল ভবনটি আপাতত দেশীয় যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান বিমানবন্দরের পরিচালক।

আরও পড়ুন: জার্মানিতে ফ্রান্সের আদলে শিক্ষার্থীদের বড় গণবিক্ষোভের প্রস্তুতি

তিনি বলেন, টার্মিনালে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টারের পাশাপাশি রয়েছে প্রশস্ত হোল্ডিং লাউঞ্জ। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৪৫০ জন যাত্রী বসতে পারবেন। লাউঞ্জ থেকে রানওয়ে ও উড়োজাহাজের ওঠানামার দৃশ্যও দেখা যাবে। নতুন অবকাঠামোর ফলে যাত্রীরা আগের তুলনায় আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও উন্নত সেবা পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।

পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের তাগিদ

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এয়ারলাইনস কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে শুধু বিমানবন্দর উন্নত করলেই হবে না। আবাসন, পর্যটনসেবা, যাতায়াতব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোতেও গুরুত্ব দিতে হবে।

বেসরকারি এয়ারলাইনস নভোএয়ারের কক্সবাজার স্টেশনের ইনচার্জ সরওয়ার কাদের বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য রানওয়ে ও বিমানবন্দরের অবকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে। দ্রুত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হবে বলে তারা আশাবাদী।

আরও পড়ুন: আইআরজিসির ৭ জাহাজে হামলা, মার্কিন ঘাঁটিতে ধ্বংসের হুমকি

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কক্সবাজার স্টেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক মুসা আহমদ জানান, নভেম্বরের দিকে কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে তাদের ঘোষণা আসতে পারে। এ বিষয়ে সম্ভাব্য রুট নিয়ে বাজার বিশ্লেষণ চলছে।

মুসা আহমদ বলেন, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত রুট নির্বাচন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা পেলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।

তবে বিমানবন্দরের পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটন খাতেও উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। বিদেশি পর্যটকদের জন্য উন্নত আবাসন, বাড়তি সুযোগ-সুবিধা ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তাদের আগ্রহ বাড়বে।

রানওয়ে থেকে যাত্রী টার্মিনাল-আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ অনেকটাই এগিয়েছে কক্সবাজারে। এখন সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর অপেক্ষা। পরিকল্পিত রুটগুলো বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ার পাশাপাশি পর্যটনশিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘৭১ ও ২৪-এর পরাজিত শক্তি রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে ঐক্যবদ্ধ’: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ এম


‘৭১ ও ২৪-এর পরাজিত শক্তি রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে ঐক্যবদ্ধ’: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মন্তব্য করেছেন যে, ৭১ ও ২৪-এর পরাজিত রাজনৈতিক শক্তিগুলি বর্তমানে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছে।

তিনি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত একটি প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

এই সমাবেশটি সারাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আয়োজিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, 'এসব পরাজিত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতেই একত্রিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে, দেশে শিক্ষা ও চিকিৎসার উন্নয়ন হবে কিংবা অর্থনৈতিক চাকা সচল থাকবে, এগুলো কোনোভাবেই তারা মেনে নিতে পারছে না।'

তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের অতীত ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, 'এদের চক্রান্ত নতুন কিছু নয়। ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদের পাতানো নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের পিঠে ছুরিকাঘাত করে কোন দল জাতীয় বেইমান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল, তা দেশবাসী জানে। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারকে অস্থিতিশীল করতে যারা টানা ১৭২ দিন হরতাল ডেকেছিল, আজকে তারাই নতুন রূপে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।'

দলীয় নেতাকর্মীদের গণতন্ত্র রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে সজাগ থাকতে হবে, যেন কোনো ষড়যন্ত্রকারী চক্র আমাদের রক্তে অর্জিত গণতন্ত্রকে নতুন করে বিপন্ন করতে না পারে।'

নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালের বিরুদ্ধে স্বজনদের ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ এম


সিলেটে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালের বিরুদ্ধে স্বজনদের ক্ষোভ

সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকায় অবস্থিত মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসার অবহেলার কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরিবারের দাবি, সময়মতো সিজারিয়ান না করে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চালানোয় শিশুটির মৃত্যু ঘটেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে এই ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, দুই দিন আগে প্রসববেদনা শুরু হলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা ও সৌদিপ্রবাসী ইদ্রিস আলী সুমনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নবজাতকের দাদা এবং টেংরা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. জোবায়ের হোসাইন মজুমদার অভিযোগ করেন, আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে শিশুর ওজন প্রায় চার কেজি থাকার কারণে তারা শুরু থেকেই সিজারিয়ান ডেলিভারির জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা নরমাল ডেলিভারির আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রসবের এক পর্যায়ে শিশুটির মাথা বের হলেও কাঁধ আটকে যায়। তখন টানাটানি করার ফলে শিশুটির মাথা, গলা ও শরীরে মারাত্মক আঘাত লাগে এবং শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু ঘটে। পরিস্থিতি জটিল হওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাকা হলেও ততক্ষণে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে নিরাপত্তার অজুহাতে তাদের বের করে দেয় বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপক শফিক আহমদ। তিনি জানান, শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই মারা গিয়েছিল।

শফিক আহমদ আরও বলেন, এ বিষয়ে যদি পরিবারের কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তারা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করাতে পারেন অথবা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভয় দেখানোর শর্তে তিন তালাক পতিত হবে: মুফতি তাওহীদুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ এম


ভয় দেখানোর শর্তে তিন তালাক পতিত হবে: মুফতি তাওহীদুল ইসলাম

এক প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন, তার স্বামী বলেছেন, যদি তিনি কখনো তাকে ‘তুই’ বলেন, তাহলে যেদিন বলবেন, সেদিনই তালাক, তালাক, তালাক, তালাক হবে।

প্রশ্নকারী জানতে চান, এই কথার মাধ্যমে শর্ত ভঙ্গ হলে কত তালাক পতিত হবে? তার স্বামী বর্তমানে বলছেন, তাকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে এবং কথার ওপর জোর দেওয়ার জন্য তিনি ‘তালাক, তালাক, তালাক, তালাক’ বলেছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, এর মাধ্যমে তিনি এক তালাক বোঝাতে চেয়েছেন।

উত্তরে ঢাকার মুহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ফতোয়া বিভাগের মুফতি তাওহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তালাকের স্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করে তালাক দিলে অথবা তালাককে কোনো শর্তের সঙ্গে যুক্ত করলে, শুধুমাত্র ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বলার কারণে তালাক বাতিল হয়ে যাবে না। তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত না থাকলেও তালাকের সারিহ (স্পষ্ট) শব্দ দ্বারা তালাক সংঘটিত হয়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ، وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: النِّكَاحُ، وَالطَّلَاقُ، وَالرَّجْعَةُ

অর্থ: ‘তিনটি বিষয় এমন, যেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে করলে যেমন কার্যকর হয়, ঠাট্টা-তামাশা করে করলেও তেমনই কার্যকর হয়: বিবাহ, তালাক ও রুজু।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২১৯৪)

অতএব, যদি স্বামী শর্তসাপেক্ষে বলেন, আমি যদি ‘তুই’ বলি, তাহলে তালাক, তালাক, তালাক—এরপর যদি স্ত্রীকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করেন, তাহলে শর্ত পূর্ণ হওয়ার কারণে তিন তালাক কার্যকর হবে। পরবর্তীতে যদি তিনি বলেন যে, ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে কথাটি বলেছেন অথবা এক তালাক বোঝাতে চেয়েছেন, তাহলেও এর দ্বারা তালাকের হুকুম পরিবর্তিত হবে না।

الھندیة: (الفصل الثالث في تعلیق الطلاق، ৪২০/১، ط: دار الفکر)

و وإذا أضافه إلى الشرط وقع عقيب الشرط اتفاقا مثل أن يقول لامرأته: إن دخلت الدار فأنت طالق।

الدر المختار مع رد المحتار: (باب التعلیق مطلب فیما لوتعدد الاستثناء، ৩৭৬/৩)

وقد عرف في الطلاق أنه لو قال: إن دخلت الدار فأنت طالق، إن دخلت الدار فأنت طالق، إن دخلت الدار فأنت طالق وقع الثلاث

يعني بدخول واحد

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঋতু পরিবর্তনে সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ এম


ঋতু পরিবর্তনে সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার

ঋতু পরিবর্তনের সময় আবহাওয়ার তাপমাত্রা ও পরিবেশে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে যখন ঠান্ডা বাড়তে শুরু করে, তখন সর্দি, কাশি, গলাব্যথা কিংবা নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকে। এই সময় শরীরকে সুস্থ রাখতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সুষম ও পুষ্টিকর খাবার শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল রাখতে সহায়তা করে। যদিও কোনো একটি খাবারই সব ধরনের রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে না, তবে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ঋতু পরিবর্তনের সময় খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন এমন পাঁচটি খাবার।

১. লেবুজাতীয় ফল

কমলা, লেবু ও জাম্বুরার মতো লেবুজাতীয় ফলে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রয়োজনীয় শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভিটামিন সি সহায়ক।

প্রতিদিনের খাবারে এসব ফল যুক্ত করা বেশ সহজ। সকালের নাশতায় কমলা বা জাম্বুরা খাওয়া কিংবা পানীয়তে লেবুর রস মেশানোর মাধ্যমে ভিটামিন সি গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো যায়। তবে সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ভিটামিন সি যে পুরোপুরি কার্যকর, এমন নয়।

২. রসুন

রান্নার পরিচিত উপাদান রসুনে রয়েছে অ্যালিসিনসহ বিভিন্ন জৈব সক্রিয় যৌগ। এসব উপাদানের সম্ভাব্য জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। পাশাপাশি রসুন সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেও উপকারী।

তরকারি, স্যুপ, সস কিংবা অন্যান্য রান্নায় রসুন ব্যবহার করা যেতে পারে। রসুন কুচি বা থেঁতো করে কিছুক্ষণ রেখে রান্না করলে অ্যালিসিন তৈরির প্রক্রিয়া সহজ হয়। তবে রসুন খেলেই সংক্রমণ থেকে নিশ্চিতভাবে রক্ষা পাওয়া যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়।

৩. আদা

আদা শুধু খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ায় না, এতে রয়েছে জিঞ্জেরলের মতো বিভিন্ন উপাদান, যেগুলোর প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। আদা গলাব্যথা বা বমি বমি ভাবের মতো কিছু অস্বস্তি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

ঋতু পরিবর্তনের সময় আদা চা, স্যুপ কিংবা রান্নায় আদা ব্যবহার করা যেতে পারে। গরম আদা চা গলায় আরাম দিতে পারে এবং শরীরকে উষ্ণ অনুভূতি দেয়। তবে আদাকে কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

৪. দই

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দইয়ে থাকা জীবিত উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে সব ধরনের দইয়ে একই পরিমাণ বা ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে না।

চিনি ছাড়া সাধারণ দই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। চাইলে এর সঙ্গে তাজা ফল, বাদাম কিংবা অল্প মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যায়। তবে দই খেলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

৫. পালং শাক

পালং শাক ভিটামিন সি, বিটা-ক্যারোটিন, ফোলেট ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও কোষের কার্যক্রম বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে সহায়তা করে, যা ত্বক ও শ্লেষ্মাঝিল্লির স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয়।

পালং শাক ভাজি, স্যুপ, ডাল কিংবা অন্যান্য রান্নায় যোগ করা যায়। অল্প সময় রান্না করলে শাকের স্বাদ ও পুষ্টিগুণের অনেকটাই বজায় রাখা সম্ভব। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় অন্যান্য সবুজ শাকসবজিও রাখুন।

সুস্থ থাকতে খাবারের পাশাপাশি যা জরুরি

ঋতু পরিবর্তনের সময় শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম, শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া এবং অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সতর্ক থাকাও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

মনে রাখতে হবে, পুষ্টিকর খাবার শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করে; তবে তা সব রোগ প্রতিরোধ করতে পারে না। দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, শ্বাসকষ্ট কিংবা গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%