১২:২৫ পি.এম
একসময় মাদেইরার একটি ছোট্ট বাড়িতে বসে ফুটবল খেলার স্বপ্ন দেখতেন এক বালক। পায়ে থাকত কখনো ভাই বা আত্মীয়ের পুরোনো বুট, আর্থিক অবস্থাও ছিল সীমিত। ফুটবল ছিল তাঁর আনন্দ, ফুটবল ছিল তাঁর পৃথিবী। সেই ছেলেকে মাত্র ১২ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে পাড়ি দিতে হয়েছিল। নতুন শহর, অচেনা মানুষ, পরিবারের জন্য মন কাঁদা, সহপাঠীদের ঠাট্টা—সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করে একদিন সেই বালক হয়ে উঠেছেন বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ক্রীড়া তারকাদের একজন।
তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ট্রফি, অশ্রু, রেকর্ড, বিতর্ক, আত্মবিশ্বাস আর কখনো কখনো অহংকারের অভিযোগ—সবকিছুই ছিল তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে। ২৩ বছর ধরে পর্তুগালের জার্সি গায়ে কখনো তিনি ছিলেন জাতির সবচেয়ে বড় আশা, কখনো সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর গোলেই উৎসবে মেতেছে পুরো দেশ, আবার বড় মঞ্চে ব্যর্থতার পর তাঁর চোখের জল হয়ে উঠেছে পর্তুগিজ ফুটবলের হতাশার প্রতিচ্ছবি। অবশেষে ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৪১ বছর বয়সে জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়ে সেই দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি টানলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত বিদায়ী ভিডিওতে নিজের সিদ্ধান্ত জানান রোনালদো। ২০০৩ সালের আগস্টে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা শেষ হলো ২৩৪ ম্যাচ ও ১৪৬ গোলের অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান নিয়ে। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও সর্বোচ্চ গোলের বিশ্বরেকর্ড—দুটিই নিজের করে রেখে বিদায় নিলেন তিনি। তবে সংখ্যার বাইরেও রোনালদোর এই যাত্রার মূল্য অনেক বড়। তাঁর সময়ে পর্তুগাল পেয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল আন্তর্জাতিক ফুটবল অধ্যায়।
আরও পড়ুন: ৬৪ টেস্টে ২২৯ উইকেট, সাদা জার্সিকে বিদায় জানালেন শামি
১৯৮৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্তুগালের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপাঞ্চল মাদেইরার রাজধানী ফুনশালে জন্ম রোনালদোর। চার সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। বাবা হোসে দিনিস আভেইরো স্থানীয় ক্লাবে সরঞ্জাম দেখাশোনার কাজ করতেন, মা মারিয়া দোলোরেস রান্না ও পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল ছিল না। শৈশবের সেই দিনগুলোতে দামি বুট কিংবা আধুনিক প্রশিক্ষণসুবিধা ছিল না; ছিল ফুটবলের প্রতি অসীম ভালোবাসা আর বড় হওয়ার স্বপ্ন।
মাত্র সাত বছর বয়সে স্থানীয় ক্লাব আন্দোরিনহায় খেলা শুরু করেন রোনালদো। এরপর খেলেন নাসিওনালে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে প্রবল প্রতিযোগিতার মানসিকতা ছিল। সতীর্থদের কাছে তিনি ছিলেন এমন এক শিশু, যে বল না পেলে রাগ করত, হারলে কাঁদত। প্রতিভা ছিল, কিন্তু সেটিকে বড় করে তোলার জন্য ছিল কঠোর পরিশ্রম ও জেদ।
মাত্র ১২ বছর বয়সে জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তগুলোর একটি নিতে হয় তাঁকে। মাদেইরা ছেড়ে লিসবনে স্পোর্টিংয়ের একাডেমিতে যোগ দিতে যান। পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকা সেই বয়সের একটি শিশুর জন্য সহজ ছিল না। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে কষ্ট হতো, বাড়ির জন্য মন কাঁদত। তাঁর মাদেইরান উচ্চারণ নিয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা হাসাহাসিও করত। পরবর্তী সময়ে নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণায় রোনালদো জানিয়েছেন, লিসবনে থাকার সময় প্রায় প্রতিদিনই কাঁদতেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও ছিল সীমিত।
রোনালদোর জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়গুলোর একটি তাঁর বাবা। হোসে দিনিস আভেইরো ছেলেকে ফুটবল খেলতে দেখতেন, উৎসাহ দিতেন। কিন্তু ছেলের বিশ্বসেরা হয়ে ওঠা তাঁর দেখা হয়নি। ২০০৫ সালে মাত্র ৫২ বছর বয়সে মারা যান তিনি। তখন রোনালদোর বয়স ছিল মাত্র ২০। পরবর্তী সময়ে রোনালদো যখন ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন, ইউরোপের সেরা ফুটবলার হয়েছেন, তখন তাঁর বাবা আর বেঁচে ছিলেন না। জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলো বাবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে না পারার আক্ষেপ বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে বাবার পুরোনো একটি ভিডিও দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন রোনালদো। চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। বলেছিলেন, তাঁর বাবা ছেলের এত বড় হয়ে ওঠা দেখতে পারেননি—এটাই তাঁর কষ্ট।
আরও পড়ুন: ইংলিশ ক্রিকেটার ব্রায়ান ডিভাইন পন্টিংকে মাঠে আঙুল ফুটিয়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ
অন্যদিকে মা মারিয়া দোলোরেস ছিলেন তাঁর দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে বড় আশ্রয়গুলোর একটি। মায়ের সংগ্রাম, পরিবারের ত্যাগ এবং শৈশবের অভাব রোনালদোকে মনে করিয়ে দিয়েছে, তিনি কোথা থেকে উঠে এসেছেন। আজ বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ক্রীড়া তারকাদের একজন হয়েও নিজের পরিবারের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে কখনো সংকোচ করেননি তিনি। ফুটবল তাঁকে বিশ্বজোড়া পরিচিতি দিয়েছে, কিন্তু তাঁর জীবনের গল্পে মাদেইরার সেই পরিবারটি সব সময়ই থেকে গেছে।
কিন্তু সেই একাকিত্ব তাঁকে থামাতে পারেনি। বরং ফুটবল হয়ে উঠেছিল তাঁর সবচেয়ে বড় আশ্রয়। ১৬ বছর বয়সে স্পোর্টিংয়ের মূল দলের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পান, ১৭ বছর বয়সে মূল দলে অভিষেক। ২০০২-০৩ মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে ৩১ ম্যাচে পাঁচ গোল করেন। এরপর ২০০৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে স্পোর্টিংয়ের একটি ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স এতটাই নজর কাড়ে যে ইংলিশ ক্লাবটির খেলোয়াড়েরা কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে তাঁকে দলে নেওয়ার পরামর্শ দেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে শুরু হয় বিশ্বমঞ্চে তাঁর উত্থান।
মাদেইরা থেকে লিসবন, লিসবন থেকে ম্যানচেস্টার—এই পথচলা শুধু একজন ফুটবলারের ক্লাব বদলের গল্প নয়। এটি পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকা এক কিশোরের স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলার গল্প। যে ছেলেটি একসময় পুরোনো বুট পরে খেলতেন, তাঁর নামেই পরে তৈরি হয়েছে মাদেইরায় জাদুঘর। দ্বীপটির পরিচিতিও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর মাধ্যমে।
২০০৩ সালের ২০ আগস্ট। কাজাখস্তানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে লুইস ফিগোর বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। সেটিই ছিল পর্তুগালের জার্সিতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রথম ম্যাচ। তখনো তিনি বিশ্বসেরা তারকা নন; ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নিজের জায়গা তৈরি করছেন, আর জাতীয় দলে তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে দীর্ঘ পথ।
আরও পড়ুন: ফ্রস্ট ব্লাস্ট টি-টোয়েন্টি ফাইনালে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স, সুমন আহমেদ ম্যাচসেরা
অভিষেকের পর প্রথম গোলের জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ২০০৪ সালের ১২ জুন ইউরোর উদ্বোধনী ম্যাচে গ্রিসের বিপক্ষে গোল করে আন্তর্জাতিক গোলের খাতা খুলেছিলেন রোনালদো। যদিও ম্যাচটি ২-১ গোলে হেরেছিল পর্তুগাল। সেই আসরেই প্রথমবারের মতো বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে নেমে ফাইনালে উঠেছিল দলটি। কিন্তু ঘরের মাঠে অপ্রত্যাশিতভাবে গ্রিসের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়। মাত্র ১৯ বছর বয়সী রোনালদোর জন্য সেটি ছিল প্রথম বড় আন্তর্জাতিক বেদনা।
২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে খেলেন রোনালদো। ইরানের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে করেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল। পর্তুগাল পৌঁছে যায় সেমিফাইনালে—১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য। ২০০৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে প্রথমবার পর্তুগালের অধিনায়কত্ব করেন তিনি। পরে সেই আর্মব্যান্ডই হয়ে ওঠে তাঁর পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
পর্তুগালের ফুটবলে লুইস ফিগো, রুই কস্তা, ডেকো ও পাউলেতার মতো তারকারা আগে থেকেই নিজেদের জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে রোনালদোর দায়িত্ব ছিল দলকে নতুন উচ্চতায় নেওয়া। ২০১২ সালের ১৬ অক্টোবর উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে শততম আন্তর্জাতিক উপস্থিতি পূর্ণ করেন তিনি।
২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন রোনালদো। একই বছরের নভেম্বরে সুইডেনের বিপক্ষে ২০১৪ বিশ্বকাপের প্লে-অফের ফিরতি লেগেও করেন আরেকটি স্মরণীয় হ্যাটট্রিক। স্টকহোমে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের সুইডেনকে ৩-২ গোলে হারায় পর্তুগাল; স্বাগতিকদের দুটি গোলই করেছিলেন ইব্রাহিমোভিচ। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-২ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে পর্তুগাল। সেই রাতে রোনালদো একাই ছিলেন দলের পার্থক্য গড়ে দেওয়া খেলোয়াড়।
আরও পড়ুন: সূচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বৈভব সূর্যবংশী
২০১৪ সালের মার্চে ক্যামেরুনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে পাউলেতাকে ছাড়িয়ে পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন রোনালদো। তখন তাঁর গোলসংখ্যা ছিল ৪৯। পরে সেই সংখ্যাকে নিয়ে গেছেন ১৪৬-এ। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তাঁর ৪১ গোলের রেকর্ডও পর্তুগালকে বড় টুর্নামেন্টে পৌঁছানোর পথে তাঁর গুরুত্বের প্রমাণ।
রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন নিঃসন্দেহে ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। ২০০৪ সালে ঘরের মাঠে ফাইনালে হারের ১২ বছর পর আবারও শিরোপার মঞ্চে পৌঁছায় পর্তুগাল। তবে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ম্যাচের প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় অধিনায়ক রোনালদোকে। সাইডলাইনে বসে চোখের জল মুছতে মুছতে সতীর্থদের উৎসাহ দিয়েছেন, নির্দেশনা দিয়েছেন, কখনো কোচের মতো দাঁড়িয়ে থেকেছেন।
নির্ধারিত সময়ে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৯ মিনিটে এদেরের দূরপাল্লার শটে আসে ইতিহাসগড়া গোল। ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হয় পর্তুগাল। অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি হাতে তোলার মুহূর্তটি রোনালদোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি। ব্যক্তিগতভাবে ফাইনাল শেষ করতে না পারলেও দলের সাফল্যে তাঁর নেতৃত্ব ও উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ইউরোর মূল পর্বে রোনালদোর প্রভাবও ছিল অভূতপূর্ব। ২০০৪ থেকে ২০২৪—ছয়টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন তিনি। ছয়টি আসরে অংশ নেওয়া প্রথম ফুটবলার রোনালদো। ইউরোর মূল পর্বে ৩০ ম্যাচ খেলে করেছেন ১৪ গোল। ম্যাচসংখ্যা ও গোল—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর রেকর্ড রয়েছে। ইউরোর বাছাইপর্বেও তাঁর গোল ৪১টি। মূল পর্ব ও বাছাইপর্ব মিলিয়ে ইউরো প্রতিযোগিতায় তাঁর গোল ৫৫টি।
আরও পড়ুন: হাসান মাহমুদ: ঘরের মাঠে ফাইফার পাওয়া খুবই স্পেশাল
রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সাফল্যের তালিকায় ইউরো ২০১৬-এর পাশাপাশি রয়েছে দুটি উয়েফা নেশনস লিগ শিরোপা। ২০১৯ সালে প্রথম আসরের সেমিফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নেশনস লিগের শিরোপা জেতে পর্তুগাল।
এর ছয় বছর পর, ২০২৫ সালে আবারও নেশনস লিগের শিরোপা জেতে পর্তুগাল। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয়। রোনালদো করেন পর্তুগালের দ্বিতীয় গোলটি। পরে টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে শিরোপা নিশ্চিত করে দলটি। ৪০ বছর বয়সেও ফাইনালে গোল করে রোনালদো প্রমাণ করেন, জাতীয় দলের হয়ে বড় মুহূর্তে অবদান রাখার সামর্থ্য তখনো হারাননি তিনি।
সব মিলিয়ে পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর অর্জন তিনটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা—২০১৬ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালের দুটি নেশনস লিগ। দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এর আগে এমন সাফল্যের যুগ দেখা যায়নি।
ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এবং প্রতিটিতেই গোল করার কীর্তি রোনালদোকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ২০০৬ সালে প্রথম বিশ্বকাপ থেকে ২০২৬ সালে শেষ আসর—প্রতিটি প্রজন্মের পর্তুগাল দলেই ছিলেন তিনি। ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম পুরুষ ফুটবলার তিনি। বিশ্বকাপের মূল পর্বে তাঁর গোল ১১টি, ম্যাচ ২৭টি।
আরও পড়ুন: সেঞ্চুরি করেও হতাশ আমির জাঙ্গু, বাংলাদেশকে ২৫০ রানের নিচে আটকে রাখতে চান
বিশ্বকাপের গল্পটি অবশ্য শুধুই রেকর্ডের নয়। ২০০৬ সালে সেমিফাইনালে উঠলেও ২০১০ ও ২০১৮ সালে শেষ ষোলো থেকে বিদায়, ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্বেই বাদ, ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে হার—বারবার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তাঁর। ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর কাছে হারের পর টানেল দিয়ে মাঠ ছাড়ার সময় রোনালদোর কান্নার দৃশ্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। নিজের দেশের হয়ে সবচেয়ে বড় মঞ্চে শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম অপূর্ণতা হয়ে থাকবে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোলের খরাও ছিল সমালোচনার বড় কারণ। ২০২৬ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করার আগে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁর গোল ছিল না। অন্যদিকে ক্লাব ফুটবলে অবিশ্বাস্য গোলসংখ্যা ও ধারাবাহিকতার কারণে প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি। প্রশ্ন উঠেছে, তাঁর সেরা সময়ে পর্তুগাল কি আরও বেশি শিরোপা জিততে পারত?
রোনালদোর আন্তর্জাতিক গোলের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বড় টুর্নামেন্টের মূল পর্বের পাশাপাশি বাছাইপর্বেও তাঁর অবদান ছিল অসাধারণ। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৪১ এবং ইউরো বাছাইপর্বে ৪১ গোল করেছেন তিনি। দুই প্রতিযোগিতার বাছাইপর্ব মিলিয়ে ৮২ গোল। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৪১ গোলের রেকর্ডও তাঁর দখলে।
২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সুইডেনের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শততম গোল পূর্ণ করেন রোনালদো। ইউরোপের প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। ওই ম্যাচেই করেন নিজের ১০১তম গোল।
২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে জোড়া গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নেন রোনালদো। ইরানের আলি দাইয়ের ১০৯ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান তিনি। পরে সেই সংখ্যাকে নিয়ে গেছেন ১৪৬-এ।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর গোলের আরেকটি বিস্ময়কর দিক হলো প্রতিপক্ষের বৈচিত্র্য। মোট ৪৯টি জাতীয় দলের বিপক্ষে গোল করেছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১০টি হ্যাটট্রিক রয়েছে তাঁর। ২০২১ সালে ১০টি আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক করা প্রথম পুরুষ ফুটবলার হন তিনি। এ ছাড়া ২৮টি ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন।
রোনালদোকে নিয়ে কথা উঠলে তাঁর প্রতিভা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি আলোচনায় আসে তাঁর আত্মবিশ্বাস। অনেকের চোখে সেটি ছিল অসাধারণ আত্মবিশ্বাস, আবার সমালোচকদের কাছে কখনো কখনো অহংকার। নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে তিনি কখনো দ্বিধা করেননি। বড় ম্যাচে গোল করার পর উদ্যাপন, সমালোচনার জবাব দেওয়ার ধরন কিংবা নিজের অবস্থান নিয়ে দৃঢ়তা—সব মিলিয়ে রোনালদো এমন এক চরিত্র, যাঁকে নিয়ে মতভেদ কখনো কমেনি।
তবে তাঁর আত্মবিশ্বাসের পেছনে ছিল নিজেকে প্রতিদিন নতুন করে প্রমাণ করার তাগিদ। প্রতিভা থাকলেই যথেষ্ট নয়, কঠোর পরিশ্রম ছাড়া সাফল্য আসে না—এই দর্শন বারবার তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বহুল প্রচলিত একটি উক্তি, ‘প্রতিভা কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কিছুই নয়।’ আরেকটি উক্তি তাঁর মানসিকতার পরিচয় দেয়: ‘তোমাদের ভালোবাসা আমাকে শক্তিশালী করে, আর ঘৃণা আমাকে অপ্রতিরোধ্য করে তোলে।’
স্বপ্ন নিয়ে ড. এ পি জে আব্দুল কালামের একটি বিখ্যাত বক্তব্য, ‘স্বপ্ন সেই জিনিস নয়, যা তুমি ঘুমের মধ্যে দেখো; স্বপ্ন হলো সেই জিনিস, যা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না।’ এই কথাগুলোর সঙ্গে মাদেইরা থেকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানোর তাঁর যাত্রার যেন অদ্ভুত মিল রয়েছে।
রোনালদো নিজেকে নিখুঁত মানুষ দাবি করেননি। বরং বলেছেন, তিনি সব সময় শিখতে, উন্নতি করতে ও নিজেকে বদলাতে চান। তাঁর কাছে প্রতিটি প্রশিক্ষণ, প্রতিটি ম্যাচ এবং প্রতিটি গোল ছিল আগের চেয়ে ভালো হওয়ার আরেকটি সুযোগ। এই মানসিকতা তাঁকে দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।
এই কারণেই রোনালদো শুধু গোলের রেকর্ডধারী নন, অনেক তরুণ ফুটবলারের অনুপ্রেরণাও। বিশেষ করে যারা ছোট শহর, সীমিত সুযোগ কিংবা আর্থিক প্রতিকূলতা থেকে উঠে আসতে চায়, তাদের কাছে তাঁর গল্প মনে করিয়ে দেয়—শুরুর অবস্থানই শেষ গন্তব্য নির্ধারণ করে না। প্রতিভার সঙ্গে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও নিরলস পরিশ্রম যুক্ত হলে স্বপ্নের পরিধি অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে।
তবে তাঁর ব্যক্তিত্বের এই দিকটির অন্য একটি ব্যাখ্যাও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, নিজের গুরুত্ব সম্পর্কে অতিরিক্ত সচেতনতা কখনো কখনো দলীয় স্বার্থের সঙ্গে সংঘাতে এসেছে। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শেষ দিকে একাদশে জায়গা, কোচের সিদ্ধান্ত এবং নিজের ভূমিকা নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া বিতর্ক তৈরি করেছে। রোনালদোর উত্তরাধিকার তাই শুধু অনুপ্রেরণার নয়; আত্মবিশ্বাস ও অহংকারের সীমারেখা নিয়েও আলোচনার।
রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ বছরগুলোতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তাঁর বয়স, ফর্ম, দলের কৌশল এবং একাদশে জায়গা পাওয়া। ২০২২ বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে তাঁকে বেঞ্চে রেখে গনসালো রামোসকে খেলান কোচ ফার্নান্দো সান্তোস। রামোস সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন। পর্তুগালের ৬-১ গোলের জয়ে তাঁর পারফরম্যান্স কোচের সিদ্ধান্তকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে। পরে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে রামোসের গোলেই জয় পায় পর্তুগাল—তখন রোনালদো মাঠের বাইরে।
সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন ছিল, ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে কেন্দ্র করে দলের কৌশল সাজাতে গিয়ে পর্তুগাল কি অন্য খেলোয়াড়দের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছিল না? আবার তাঁর সমর্থকদের যুক্তি, এত দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার পরও গোল ও নেতৃত্বে অবদান রাখার সামর্থ্যকে অস্বীকার করা যায় না। এই বিতর্কের চূড়ান্ত উত্তর হয়তো সময়ই দেবে।
পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৭২ ম্যাচে। জিতেছেন ১৪১টি ম্যাচ। ছয়টি বিশ্বকাপ ও ছয়টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে দুই প্রতিযোগিতাতেই একাধিক প্রজন্মের দর্শকের কাছে নিজেকে পরিচিত করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও সবচেয়ে বেশি গোলের বিশ্বরেকর্ড তাঁর।
তাঁর উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক রেকর্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে—
পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ: ২৩৪।
পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল: ১৪৬।
পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ জয়: ১৪১।
অধিনায়ক হিসেবে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ: ১৭২।
ইউরো বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ গোল: ৪১।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ গোল: ৪১।
ইউরোর মূল পর্বে সর্বোচ্চ গোল: ১৪।
ইউরোর মূল পর্বে সর্বোচ্চ ম্যাচ: ৩০।
ইউরো বাছাইপর্ব ও মূল পর্ব মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোল: ৫৫।
বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম পুরুষ ফুটবলার।
বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে অংশ নেওয়া প্রথম পুরুষ ফুটবলার।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে ১১ গোল, ২৭ ম্যাচ।
নেশনস লিগে ১৫ গোল।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১০টি হ্যাটট্রিক।
৪৯টি জাতীয় দলের বিপক্ষে গোল।
ইউরোপের প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে ১০০ গোল।
রেকর্ডের এই তালিকার প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে আলাদা গল্প। ২০১৩ সালে সুইডেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, ২০১৬ সালে ইউরো জয়, ২০১৯ সালে প্রথম নেশনস লিগ শিরোপা, ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক গোলের বিশ্বরেকর্ড, ২০২৩ সালে ২০০তম ম্যাচ এবং ২০২৬ সালে ছয়টি বিশ্বকাপে গোলের অনন্য কীর্তি—প্রতিটি মাইলফলক তাঁর দীর্ঘ যাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
নিজের বিদায়ী বার্তায় রোনালদো বলেছেন, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার জন্য তিনি জীবনভর কাজ করেছেন। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় জয় হলো বিশ্বের সেরা দেশটির প্রতিনিধিত্ব করার সম্মান অর্জন। পর্তুগালের মানুষের প্রত্যাশা সব সময় পূরণ করতে পারেননি বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। কিছু হার এখনো মনে পড়লে কষ্ট দেয়—এ কথাও বলেছেন।
রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে তাই কেবল গোল ও ট্রফির হিসাব দিয়ে বিচার করা যাবে না। ২০০৪ সালের ফাইনালে কিশোরের কান্না, ২০১৬ সালের ফাইনালে চোট নিয়েও সতীর্থদের পাশে থাকা অধিনায়ক, ২০১৮ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, ২০২২ সালে মরক্কোর কাছে হারের পর অশ্রুসিক্ত বিদায়—প্রতিটি মুহূর্তই তাঁর যাত্রার অংশ।
একসময় মাদেইরার ছোট্ট বাড়িতে যে ছেলেটি পরিবারের জন্য কাঁদতেন, তিনিই একদিন দেশের হয়ে গোল করে কোটি মানুষের চোখে আনন্দের জল এনেছেন। যে কিশোরকে নতুন শহরে উচ্চারণ নিয়ে ঠাট্টা শুনতে হয়েছিল, তাঁর নামেই পরে স্টেডিয়াম, জাদুঘর ও অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন তৈরি হয়েছে। যে তরুণ একদিন স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশ্বের সেরা হওয়ার, তিনি নিজের কাজ, শৃঙ্খলা ও জেদের মাধ্যমে সেই স্বপ্নকে বাস্তব করেছেন।
একটি জার্সি, ২৩ বছরের দায়বদ্ধতা, ২৩৪ ম্যাচ, ১৪৬ গোল এবং তিনটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা—এই উত্তরাধিকার মুছে যাওয়ার নয়। তাঁর অহংকার নিয়ে বিতর্ক থাকবে, শেষ সময়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন থাকবে, মেসির সঙ্গে তুলনাও চলবে। কিন্তু মাদেইরার এক কিশোরের বিশ্বজয়ের গল্প, তাঁর অদম্য পরিশ্রম এবং কোটি মানুষের মনে জাগানো স্বপ্নকে অস্বীকার করার উপায় নেই।
রোনালদোর বিদায় শুধু পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়। পৃথিবীর কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাছেও এটি ব্যক্তিগত এক অনুভূতির নাম। কেউ তাঁকে প্রথম দেখেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লাল জার্সিতে। কেউ রিয়াল মাদ্রিদের সাদা জার্সিতে। কেউ তাঁর সঙ্গে বড় হয়েছেন, তাঁর গোল দেখে ফুটবল ভালোবাসতে শিখেছেন। কেউ স্কুলের মাঠে গোল করে তাঁর মতো করে উদ্যাপন করেছেন। কেউ আবার জীবনের কঠিন সময়ে তাঁর সংগ্রামের গল্প থেকে সাহস পেয়েছেন।
তাঁদের অনেকেই এখন বড় হয়ে গেছেন। কেউ চাকরি করছেন, কেউ সংসার করছেন, কেউ নিজের সন্তানকে ফুটবল শেখাচ্ছেন। কিন্তু রোনালদো যেন এত দিন একইভাবে মাঠে ছিলেন—এক পরিচিত মুখ, এক চেনা উদ্যাপন, এক অদম্য প্রতিযোগী। এবার সেই পরিচিত দৃশ্যটি আর দেখা যাবে না পর্তুগালের জার্সিতে।
তাঁর অবসরবার্তায় একটি কথা বিশেষভাবে মনে রাখার মতো। তিনি বলেছেন, সারাজীবন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার জন্য কাজ করেছেন, কিন্তু এখন বুঝতে পারছেন, তাঁর সবচেয়ে বড় জয় ছিল নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সম্মান পাওয়া।
এত গোল, এত ট্রফি, এত রেকর্ডের পরও শেষ পর্যন্ত দেশের জার্সিটিই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় হয়ে উঠল।
একদিন মাদেইরার ছোট্ট একটি ছেলে পরিবার ছেড়ে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে লিসবনে গিয়েছিল। সেই ছেলেটি ২৩ বছর ধরে পর্তুগালের জার্সি পরে বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষকে আনন্দ দিয়েছে, কাঁদিয়েছে, অনুপ্রাণিত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন