০৯:১১ পি.এম
বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু এশিয়ার দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান জানিয়েছেন, চীন ও ভারতের বৃহৎ অর্থনীতির উত্থানের ফলে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি বিনিময় বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশকে এশিয়ার আঞ্চলিক সরবরাহশৃঙ্খল ও বাজারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হতে হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এ তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রেহমান সোবহান বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিনের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে এশিয়া বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর রপ্তানি সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো আর পূর্বের মতো পশ্চিমা বিশ্বের ওপর নির্ভরশীল নয় বিদেশি সাহায্য, বিনিয়োগ ও মূলধনের জন্য।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা
তিনি আরও বলেন, এশিয়া বিশ্বের প্রধান বাণিজ্যিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাশাপাশি আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার অনেক দেশের বাণিজ্যে এশিয়ার দেশগুলোর ভূমিকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনসহ এশিয়ার কিছু দেশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।
রেহমান সোবহান মন্তব্য করেন, এশিয়ার উত্থানের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলোর নীতিতে পরিবর্তন এসেছে। তার মতে, অর্থনীতি এখন কৌশলগত ও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে শুল্ক আরোপ ও বাণিজ্যনীতির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বায়ন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া থেকে সরে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, দুর্বল হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, এশিয়ার অর্থনৈতিক উত্থান থামানো কঠিন। ক্রয়ক্ষমতার সমতার হিসাবে চীন ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। ভবিষ্যতে চলতি মূল্যে জিডিপির নিরিখেও চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধি করা। রেহমান সোবহান মনে করেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো কয়েকটি বাজারের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, আমদানি ও ক্রমবর্ধমান মূলধনের বড় অংশ এশিয়া থেকে আসছে। তাই বাংলাদেশকে এশিয়ার সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে আরও জোরালোভাবে যুক্ত হতে হবে।
আরও পড়ুন: দেশের ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৫.০৭ মেগাওয়াট
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অন্যতম বড় সুবিধা হলো চীন ও ভারতের প্রতিবেশী হওয়া। আগামী এক দশকে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি এবং ভারত তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের উৎপাদন খাত এ দুই দেশের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে কিছুটা যুক্ত হলেও তাদের বিশাল বাজারে রপ্তানির সুযোগ এখনো যথেষ্ট কাজে লাগানো হয়নি।
বাংলাদেশের অর্থনীতি বহুমুখীকরণের জন্য অনেক পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সুযোগ কাজে লাগাতে কৌশলগত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন—দুই ক্ষেত্রেই আরও কার্যকর হতে হবে।
বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব শুধু বঙ্গোপসাগরে নয়, দেশের স্থল-ভৌগোলিক অবস্থানেও রয়েছে। পদ্মা ও যমুনা সেতুর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া এবং শেষ পর্যন্ত ইউরোপের সঙ্গে স্থল যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এশিয়ার ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ভারত ও চীনের মধ্যকার টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ করেন রেহমান সোবহান। তার মতে, দুই দেশের সহযোগিতা বাড়লে এশিয়ার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরো বৃদ্ধি পাবে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশও ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুন: মিসরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩৪
চীন ও ভারতের বাজার, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্য এশিয়ার দিকে সরে আসার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তাই পরিবর্তনের ধরন বুঝে এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের আরও গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন