০১:৩৯ পি.এম
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই করার জন্য দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্য আনা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সম্প্রতি তিনি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত এক টক শোতে অংশ নিয়ে এই কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি, নতুন উড়োজাহাজ কেনা এবং প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাণিজ্যনীতির মূল ভিত্তি হলো— বাণিজ্য হতে হবে মুক্ত, ন্যায্য ও পারস্পরিক। বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর পরিমাণে তৈরি পোশাক রপ্তানি করলেও, সে তুলনায় সেখান থেকে পণ্য আমদানি করে খুবই কম। একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের জন্য নিয়ম হলো, যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করবে, তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও পণ্য কিনতে হবে।
আরও পড়ুন: গুটি কয়েক ব্যক্তির কারণে মাদ্রাসার শিক্ষকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ছড়াচ্ছে: শিশির মনির
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেছেন, বিশ্বের সব দেশ যদি শুধু যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করে; কিন্তু নিজেদের কিছু না কেনে, তবে তা দীর্ঘ মেয়াদে কোনো পক্ষের জন্যই টেকসই হবে না। এই বাণিজ্যিক ভারসাম্য ফিরে আনতে এবং সম্পর্ক আরো জোরদার করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’তে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ যেমন আকর্ষণীয় শুল্ক সুবিধা পাবে, তেমনই এর শর্ত মেনে দেশের কাস্টমসব্যবস্থা, শ্রম খাত ও সামগ্রিক বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে। এই সংস্কারগুলো বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত জরুরি এবং ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত আরো জানান, দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য ঠিক করতে বাংলাদেশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে মানসম্মত গম ও কৃষিপণ্য কিনছে। তিনি বলেন, মার্কিন গমে অপচয় মাত্র ২%, যেখানে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা গমের ২০% নষ্ট হতো। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ভবিষ্যতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। মার্কিন কোম্পানিগুলো তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী, তবে সরকার প্রদত্ত শর্তগুলো ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক হতে হবে।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনেকেই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থেকে যান বা ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা নেন। জাল কাগজপত্র এবং অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের উদ্বোধনে পুলিশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করার জন্য কাজ চলছে। বাংলাদেশ যেন বিশ্বের সেরা সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারে, সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায়, বিশেষ করে যক্ষ্মা ও হামের মতো রোগ মোকাবেলায় মার্কিন সহায়তা চলছে। খুব শিগগিরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ৫ বছরের একটি নতুন স্বাস্থ্য সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
রাষ্ট্রদূত জানান, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে ২৫০টি রিকশাকে লাল, সাদা ও নীল রঙে সাজানো হয়েছে, যা মার্কিন পতাকার রঙের সাদৃশ্য। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও স্বাধীনতার কাহিনী তুলে ধরার জন্য ‘ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ নামক প্রদর্শনী আয়োজিত হবে।
সবশেষে, বর্তমানে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের দল নকআউট পর্বে ওঠায় বাংলাদেশের মানুষকে মার্কিন দলকে সমর্থন করার জন্য রাষ্ট্রদূত অনুরোধ করেছেন।
আরও পড়ুন: রায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য: ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন ২ আওয়ামীপন্থি আইনজীবী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন