০৩:২৭ পি.এম
চীনের সামরিক গবেষকেরা ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক–এর মতো মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের আউটপুট ব্যবহার করে নিজেদের প্রতিরক্ষা–উপযোগী এআই সিস্টেম তৈরি করে চলেছেন।
এর জন্য তারা ব্যবহৃত প্রযুক্তিটির নাম হলো ‘মডেল ডিস্টিলেশন’, যার মাধ্যমে শক্তিশালী একটি এআই মডেলের উত্তর বা আউটপুট ব্যবহার করে ছোট, দ্রুত এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালনা করা যায় এমন নতুন মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তথ্যটি উঠে এসেছে। রয়টার্স ৮০টিরও বেশি চীনা গবেষণাপত্র ও পেটেন্ট পর্যালোচনা করেছে এবং দেখেছে যে, চীনের সেনাবাহিনী-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতিতে মার্কিন এআই মডেলের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নজরদারি, সাইবার যুদ্ধ, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো কাজে ব্যবহারের জন্য নিজস্ব এআই তৈরি করছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
এছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র উন্নত চিপ ও কৌশলগত প্রযুক্তি চীনের নাগালের বাইরে রাখতে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করলেও চীনা গবেষকেরা বিকল্প পথ হিসেবে মডেল ডিস্টিলেশন ব্যবহার করছেন।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা বিশাল কম্পিউটিং অবকাঠামো ছাড়াই তুলনামূলক ছোট ও নিরাপদ এআই মডেল তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছেন।
রয়টার্সের যাচাই করা একটি গবেষণাপত্রে দেখা যাচ্ছে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) একটি গোয়েন্দা ও সাইবার ইউনিট সংবেদনশীল সামরিক সফটওয়্যার কোড বিশ্লেষণে জিপিটি-৩.৫ ব্যবহার করে। পরে ওই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটি দেশীয় এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণরূপে চীনের সামরিক নেটওয়ার্কের মধ্যেই পরিচালিত হতে পারে।
একটি অন্য গবেষণায় দেখা গেছে, চীনের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজি ডিস্টিলেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ইমেজ প্রসেসিং মডেলকে ছোট আকারে রূপান্তর করেছে। এর ফলে, ড্রোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও বিশ্লেষণ, নেভিগেশন ও লক্ষ্য নির্ধারণের মতো কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
এছাড়া চীনের অ্যাকাডেমি অব মিলিটারি সায়েন্সেস ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ ও চালকবিহীন সাবমেরিনের যৌথ অভিযানে লক্ষ্য শনাক্তকরণের জন্য একই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তবে ডিস্টিলেশন প্রযুক্তিরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। যদিও এটি মূল মডেলের কিছু নির্দিষ্ট দক্ষতা স্থানান্তর করতে পারে, তবে সম্পূর্ণ সক্ষমতা বা বুদ্ধিমত্তা উপর নির্ভরশীলভাবে হুবহু অনুকরণ করতে সক্ষম নয়। সুতরাং এটি উন্নত এআইয়ের বিকল্প নয়, বরং বিভিন্ন কাজের জন্য কম খরচে স্থানীয়ভাবে ব্যবহারযোগ্য একটি সমাধান।
এদিকে এআই প্রযুক্তির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে এবং মডেল ডিস্টিলেশন এখন দুই দেশের মধ্যে নতুন বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, কিছু চীনা প্রতিষ্ঠান মার্কিন এআই মডেলের সক্ষমতা অনুমতি ছাড়াই কাজে লাগাচ্ছে। তবে চীন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এআই খাতে আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন