মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:২৬ পি.এম
নওগাঁর রাণীনগরে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপিত হয়েছে। এই উপলক্ষে মঙ্গলবার উপজেলা যুবদল র্যালি, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং দু:স্থদের মাঝে খাবার ও গাছের চারা বিতরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
দুপুর ১২টায় উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়। র্যালিটি সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোজাক্কির হোসেন। সঞ্চালনা করেন যুগ্ন আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম জেমস ও সিরাজ এ আলম সিরাজ।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এছাহক আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন, বিএনপির সদস্য এসএম আল-ফারুক জেমস, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল হক লিটন।
অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক ফরহাদ আলী মন্ডল, মাজেদুল ইসলাম, সদস্য আমিনুল ইসলাম টুটুল, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান উজ্জল, সদস্য সচিব মাহমুদ হাসান বেলাল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান শিমুল, উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন টনিসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু মন্তব্য করেছেন যে, নিষিদ্ধ ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ যদি বাড়াবাড়ি করে, তাহলে জনগণ তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেবে। জাতীয়তাবাদী শক্তি দেশের বিরোধী সকল চক্রান্ত রুখে দিতে রাজপথে অবস্থান করবে।
দুলু আরও বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনের নামে গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশকে শোষণ করেছে। বর্তমানে পাশের দেশে বসে তারা দেশের অশান্তি সৃষ্টির জন্য গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে দুলু বলেন, আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ও সালাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর মতো নেতাদের বিচারের নামে হত্যা করা হয়েছে। বিরোধী দল যেকোনো ছোটখাট বিষয় নিয়ে আন্দোলন শুরু করে, এবং আওয়ামী লীগ এই আন্দোলনকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। আন্দোলনে পড়ে তারা দেশের অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাবে। দুলু বলেন, জনগণ আমাদের ৫ বছরের জন্য ভোট দিয়েছে, আমরা বিএনপি সরকার ৫ বছর দেশ পরিচালনা করব, এরপর কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। যদি আমরা ভালো কাজ করি, জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে, আর যদি খারাপ করি, তাহলে জনগণ আপনাদের ভোট দিতে পারে। অযথা আন্দোলনের নামে আওয়ামী লীগকে দেশ অশান্ত করার সুযোগ দিবেন না।
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাটোর জেলা যুবদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দুলু এসব কথা বলেন। নাটোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স চত্বরে জেলা যুবদল সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিমের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জহির উদ্দিন জহিরের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নাটোর জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রহিম নেওয়াজ, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম আফতাব, মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও সদস্য নাসিম উদ্দিন নাসিম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে দুলু আরো বলেন, বিএনপি ও দেশের মানুষের ভদ্রতা এবং নিরবতাকে পলাতক শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাকর্মীরা দুর্বলতা হিসেবে মনে করে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের মানুষ নিষিদ্ধ ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ ও তার নেতাকর্মীদের ভয় পায় না। আগামী দিনে তারা যদি কোনো বাড়াবাড়ি করে, তাহলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরতের রোদ এবং ভোরের হালকা কুয়াশা শীতের আগমনী বার্তা জানাচ্ছে। এই ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন কর্মযজ্ঞ। কোথাও ধানখেতের বুক চিরে নতুন মাটির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও টমেটোর কোমল চারা রোপণের ধুম চলছে, আবার কোথাও সারি সারি ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা হাতছানি দিচ্ছে। মৌসুমের শুরুতেই বাজারের চড়া দাম ধরতে দিনরাত ঘাম ঝরাচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।
তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মাঠে ইঁদুরের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের মনে দানা বেঁধেছে গভীর শঙ্কা। চান্দিনার কৃষিতে এখন এক অদ্ভুত সমীকরণ—একদিকে আগাম সবজি তুলে বাজার মাতানোর সোনালি স্বপ্ন, অন্যদিকে অস্বাভাবিক ইঁদুর আতঙ্ক এবং বাড়তি খরচের কড়া ধাক্কা।
মৌসুমের শুরুতে বাজারে নতুন সবজির চাহিদা থাকে তুঙ্গে, দামও পাওয়া যায় দ্বিগুণ। এই সমীকরণকে পুঁজি করেই চান্দিনার মাঠের পর মাঠে শীতকালীন সবজি চাষের আয়োজন চলছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে চান্দিনায় ১ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে ৪৩ হাজার ৭৫৫ মেট্রিক টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩১০ হেক্টর জমিতে আবাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাতাঘাসী, শুহিলপুর, মাধাইয়া, মহিচাইল, এতবারপুর, বাড়েরা, মাইজখার, চিলোড়া, এওয়াজবন্দ এবং পূর্ব অম্বরপুরের মাঠগুলো এখন যেন এক একটি সবজির ক্যানভাস।
কিন্তু কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, খেতে ভালো ফলন হওয়া মানেই শতভাগ সাফল্য নয়। দিনশেষে সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি এবং পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের পকেটে কতটা থাকছে—তা-ই নির্ধারণ করে আসল লাভ-ক্ষতি।
উৎসবমুখর এই পরিবেশের মধ্যেই চান্দিনার কয়েকটি এলাকায় আমন ধানখেত এবং নতুন সবজি চারায় হানা দিয়েছে ইঁদুরের দল। চান্দিনা পৌরসভার তুলাতোলী, ছায়কোট, বড় গোবিন্দপুর এবং বাতাঘাসী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে ইঁদুরের আক্রমণ অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ধানগাছ ও শিষ কাটার পাশাপাশি কেটে ফেলা হচ্ছে ভুট্টা, শিম, বরবটি এবং বেগুনের কচিপাতা।
বাতাঘাসী ইউনিয়নের উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়া নিজের ৯০ শতক জমিতে এবার ভুট্টা চাষ করেছেন। খেতের অবস্থা বেশ চমৎকার হলেও তাঁর ঘুম হারাম করেছে ইঁদুরের উৎপাত।
তিনি বলেন "অন্যান্য বছর ইঁদুরের উপদ্রব কিছুটা কম থাকলেও এবার তা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। খেত বাঁচাতে নিয়মিত পাহারা দিচ্ছি, ফাঁদ পাতছি। কিন্তু কোনো কিছুতেই যেন ইঁদুর দমন করা যাচ্ছে না। ফসল কাটার আগে এভাবে ক্ষতি হতে থাকলে তো আসল খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়বে।"
অন্যদিকে, শ্রীমন্তপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম আগাম বাজারের আশায় শিম চাষ করলেও তাঁর কপালে চিন্তার ভাঁজ। তাঁর মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর সার, ওষুধ এবং শ্রমিকের মজুরি যেমন বেশি, তেমনি ইঁদুরের অতিরিক্ত উপদ্রব কৃষকদের কোণঠাসা করে তুলেছে।
উৎপাদন খরচের ঊর্ধ্বগতি এবং ইঁদুরের অস্বাভাবিক আক্রমণের মতো দ্বিমুখী সংকটের মাঝেও আশা হারাচ্ছেন না কৃষি কর্মকর্তারা।
চান্দিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, আগাম শীতকালীন সবজি চাষ চাষিদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের অনেক পরিবার স্বাবলম্বী হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের ইঁদুর দমনসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং তদারকি প্রদান করা হচ্ছে।
তবে কেবল মাঠপর্যায়ের পরামর্শেই সংকট পুরোপুরি কাটবে না বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা। তাঁদের মতে, কৃষকেরা যাতে সঠিক সময়ে ইঁদুর দমনের আধুনিক উপায় এবং হালনাগাদ বাজারদর সম্পর্কে জানতে পারেন, সে বিষয়ে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং সহযোগিতা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের রাস্তায় গতির প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই ব্যক্তি। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক মা এবং তার চার বছরের মেয়ে, যারা স্কুলে যাওয়ার পথে ছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে উত্তর ইংল্যান্ডে। সোমবার, যুক্তরাজ্যের লিডস ক্রাউন কোর্টে বিচারক রে সিং দুই আসামির কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন, যেহেতু অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।
জুরি প্যানেল তদন্তে জানতে পেরেছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ৩৭ বছর বয়সী গাড়ি বিক্রেতা জাসকমল রিয়াত এবং ২৯ বছর বয়সী হার্দিপ ভাচু একে অপরের সঙ্গে রেসিংয়ে লিপ্ত ছিলেন। এক পর্যায়ে ভাচু গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং স্কুলে যাওয়ার জন্য স্কট হল রোড দিয়ে হেঁটে যাওয়া ওই মা ও মেয়ের ওপর গাড়িটি তুলে দেন। ভাচুর চালানো অডি টিটি আরএস গাড়িটির ধাক্কায় ২৭ বছর বয়সী জাস্তিনা হুলবোজ এবং তার চার বছর বয়সী মেয়ে লেনা সেপচর ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে রিয়াত একটি বিএমডব্লিউ এম১৩৫আই গাড়ি নিয়ে ভাচুর সঙ্গে রেসিং করছিলেন, যা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে।
ইয়র্কশায়ার ইভনিং পোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাচু ২০২৪ সালের জুন মাসে বিপজ্জনক ড্রাইভিংয়ের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানোর দায় স্বীকার করেন এবং তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে, রিয়াত নিজের দায় অস্বীকার করলেও ড্যাশবোর্ড ক্যামেরার ফুটেজে তার রেসিংয়ের প্রমাণ স্পষ্টভাবে মেলে। আদালত তাকে বিপজ্জনক ড্রাইভিংয়ের মাধ্যমে দুটি মৃত্যুর কারণ হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি উভয়ের ড্রাইভিং লাইসেন্স ৬ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাদের বর্ধিত ড্রাইভিং পরীক্ষা দিতে হবে।
আদালতে এই দুজনকে উদ্দেশ্য করে বিচারক রে সিং বলেন, ‘রাস্তা কোনো রেসিং ট্র্যাক নয়। একটি শক্তিশালী গাড়ি পাওয়ার অর্থ এই নয় যে জনসাধারণের রাস্তায় সেটির গতির সীমা পরীক্ষা করতে হবে। চরম গতিতে প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানোর পরিণতি অপূরণীয় হতে পারে, এবং এই মামলায় ঠিক তা-ই ঘটেছে।’
মামলার শুনানিতে জানা যায় যে, এই দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি একে অপরকে চিনতেন না। দুর্ঘটনার কয়েক মিনিট আগে একটি ট্রাফিক সিগন্যালে পাশাপাশি থামার পর স্পোর্টস কারের জানালা দিয়ে তাদের মধ্যে কথোপকথন হয়। ভাচুর ড্যাশক্যামের ফুটেজ এবং রিয়াতের ফোনের রেকর্ডিং থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তারা একে অপরের গাড়ির ক্ষমতার প্রশংসা করছিলেন এবং রিয়াত তাকে রেসিংয়ের জন্য উসকে দিচ্ছিলেন।
এরপর তারা রেসিং শুরু করেন। প্রথমে রিয়াত গতি বাড়িয়ে এগিয়ে যান এবং তার পেছনে আসেন ভাচু। ৪০ মাইল গতিসীমার রাস্তায় ভাচু প্রায় ৯০ মাইল গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে গাড়িটি রাস্তার ধারের ফুটপাতের পাথরে ধাক্কা খেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। জাগুয়ার শোরুমের কাছাকাছি ফুটপাতে গাড়িটি উঠে গিয়ে ওই মা ও মেয়েকে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং এতে তাদের মৃত্যু হয়।
ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার পুলিশের মেজর কলিশন ইনকোয়ারি টিমের ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর পল কনরয় বলেন, ‘এই দুজনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের কারণে একজন নারী ও তার শিশু কন্যা মারা গেছেন। আমি জানি কোনো সাজাই এই মূল্যবান দুটি প্রাণ হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে যথেষ্ট হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘তবে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে জাস্তিনা ও লেনার পরিবারের জন্য একটি দীর্ঘ ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ার অবসান ঘটল। ভাচু এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর প্রায় দুই বছর কেটে গেছে, এবং আমি জানি যে বিচারের এই দীর্ঘ অপেক্ষা তাদের ওপর কতটা মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। আজ আমার সমস্ত সহানুভূতি এই পরিবারের সাথে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে পাঁচ বছরের শিশু আলী হোসেনকে মাটিতে আছাড় মেরে হত্যার ঘটনায় আদালত জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ইতালি প্রবাসীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। আদালত একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করারও নির্দেশ দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কাজী আব্দুল হান্নান এ রায় প্রদান করেন। মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং প্রায় এক বছরের বিচারিক কার্যক্রম শেষে এই রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পেলিশ্যার বাজার ও উচ্চার বাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে আলীকে তুলে মাটিতে আছাড় মারার অভিযোগ ওঠে ইতালি প্রবাসী মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। এতে শিশুটির মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার মুখ ও কান দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেয়া হলে শিশুটি পথেই মারা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশুটির বাবা আবু তাহেরের সঙ্গে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের পূর্ববিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জের ধরে শিশুটির ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
শিশু আলী হোসেন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ