ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সলিড ফুয়েল চালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালালো রাশিয়া


সলিড ফুয়েল চালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালালো রাশিয়া

রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আরখানগেলস্ক অঞ্চলের প্লেসেৎস্ক কসমোড্রোম থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী সফলভাবে ভ্রাম্যমাণ সলিড-ফুয়েল চালিত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।

শুক্রবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, একটি মোবাইল লঞ্চার ইউনিটকে দুর্গম এলাকায় স্থানান্তরিত করে সেখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এটি রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের কামচাটকা উপদ্বীপের কুরা টেস্ট সাইটে পৌঁছায়।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে বনাঞ্চল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের দৃশ্য দেখা যায়। সামরিক বাহিনী জানায়, এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটির কৌশলগত, কারিগরি ও উড্ডয়ন সক্ষমতা যাচাই করা।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৬৮৪ জন

মন্ত্রণালয়ের দাবি, পরীক্ষার সব নির্ধারিত লক্ষ্য সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘নিখুঁত গতিপথ’ বজায় রেখেছে।

তবে, পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট নাম জানায়নি রাশিয়া। এর আগে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর মহড়ার অংশ হিসেবে প্লেসেৎস্ক থেকে কুরা পর্যন্ত আরএস-২৪ ইয়ার্স ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

এদিকে, সর্বশেষ এই পরীক্ষা এমন একটি সময়ে সম্পন্ন হলো, যখন এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার একমাত্র সামরিক স্পেসপোর্ট প্লেসেৎস্কে হামলা চালিয়েছে বলে যাচাই না হওয়া প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সূত্র:

মস্কো টাইমস

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নতুন সরকার এলে ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য কতটা পাল্টাবে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি হারানোর শঙ্কা : বিশ্বব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৮ পি.এম


বাংলাদেশে ৬ লাখ চাকরি হারানোর শঙ্কা : বিশ্বব্যাংক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং সার উৎপাদনের পরিমাণ কমছে।

 

পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি ঘটছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পণ্যের দাম, কৃষি, মানুষের আয়-রোজগার এবং কর্মসংস্থানেও পড়ছে। যদি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে, চলতি বছরে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার কথা ছিল এমন মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

 

বিশ্বব্যাংকের জুনের মাঝামাঝি সময়ে করা মূল্যায়নে এসব ঝুঁকির বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। সরকারকে বাজেট সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই মূল্যায়নটি করা হয়।

বাংলাদেশ এমন একটি অবস্থানে এসে পৌঁছেছে, যখন অর্থনীতি ইতোমধ্যে চাপে রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংক খাত এবং সরকারের সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে নতুন কর্মসংস্থান প্রত্যাশিত হারে তৈরি হচ্ছে না।

 

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ১৪ লাখ বেড়ে যাবে। ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে এই সংখ্যা কমে প্রায় ৫ লাখে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ যুদ্ধের কারণে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ হারাতে পারেন আরও প্রায় ১২ লাখ মানুষ।

বিশ্বব্যাংকের মতে, এই বছর দেশে দারিদ্র্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব প্রায় ১০ শতাংশ থাকবে।

 

জ্বালানির দাম ধাপে ধাপে সাধারণ মানুষের ওপর চাপানো হলে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে পরিবহন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যা শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচকেও প্রভাবিত করবে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি বলেছেন, জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে। তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ না হলে মূল্যস্ফীতি আরও কমত।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সরাসরি প্রভাব দেশের জ্বালানি খাতে পড়ছে। বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। কিন্তু দেশে গ্যাসের উৎপাদন ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়েছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ থেকে ২৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের দামের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সংকটের মধ্যে সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য দুটি এলএনজি চালান কিনতে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিটে ২৪ ডলারের বেশি দিতে হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। সব মিলিয়ে ভর্তুকির চাপ ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। এতে অন্যান্য খাতে সরকারি ব্যয় কমার ঝুঁকি রয়েছে।

জ্বালানি সংকট কৃষিতেও প্রভাব ফেলছে। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সার উৎপাদন ও আমদানিতে সমস্যা হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন ছোট কৃষকরা।

বাংলাদেশে প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ৩৯১ দশমিক ৯ কেজি সার ব্যবহার করা হয়, যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণের বেশি। দেশে সার উৎপাদনের জন্যও গ্যাস প্রয়োজন। ইতোমধ্যে ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার পাঁচটিকে গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এদিকে ইউরিয়ার দামও বেড়ে গেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘ হলে সারের দাম দ্বিগুণ হতে পারে।

জ্বালানি ও সরবরাহ সংকটে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে প্রায় ১৯ হাজার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ছয় হাজার ২০০ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, ফলে জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে।

দেশের প্রায় ২৫০টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আনে। এ ছাড়া হাসপাতালের ৯০ শতাংশের বেশি সরঞ্জাম আমদানিনির্ভর। তাই আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট ও জাহাজভাড়া বৃদ্ধি পেলে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব কর্মসংস্থানে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। কোথাও কাজের সময় কমানো হয়েছে, আবার জ্বালানি সংকটে কিছু কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে।

তাঁর মতে, কারখানা বন্ধ হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরি হারানোর সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ৬ লাখ চাকরি হারানোর আশঙ্কা সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য শুধুমাত্র জ্বালানি সংকট নয়; বরং কর্মসংস্থান, কৃষি, মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য এবং স্বাস্থ্যসেবায় একযোগে চাপ তৈরি করছে। সংকট দীর্ঘ হলে এর বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করতে হবে নিম্নআয়ের মানুষকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ইন্দো-প্যাসিফিকে নজর বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ন্যাটোকে আরো দায়িত্ব নিতে বলল পেন্টাগন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২১ পি.এম


ন্যাটোকে আরো দায়িত্ব নিতে বলল পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোকে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় আরও বড় দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। একই সময়ে, ওয়াশিংটন ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে।

 

এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন দেশের আশপাশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে চাইছে। বর্তমানে ইউরোপে মার্কিন সেনাদের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। তবে, ভবিষ্যতে এই সংখ্যা কতটা কমানো হবে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র পর্যালোচনা করছে। রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করার জন্য ন্যাটোর সামরিক সক্ষমতার জন্য ইউরোপে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি দীর্ঘকাল ধরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র কতটা সেনা সরিয়ে নেবে, তা ইউরোপীয় মিত্র দেশ ও কানাডার জোটের দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে ওয়াশিংটনের দাবির প্রতি তাদের সাড়া দেওয়ার ওপর নির্ভর করবে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ইউরোপের প্রচলিত প্রতিরক্ষার বড় অংশের দায়িত্ব ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো গ্রহণ করবে। প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা প্রদান করবে। এই ব্যবস্থার আওতায় পারমাণবিক প্রতিরক্ষার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

 

বৃহস্পতিবার, বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী এলব্রিজ কলবি জার্মানি, পোল্যান্ড ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তবে, তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের অন্যান্য মিত্রদের কাছ থেকেও আরও বেশি উদ্যোগ প্রত্যাশা করছে। কলবি সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর কাছ থেকে ওয়াশিংটন আরও কিছু আশা করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ন্যাটোকে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করা।

 

একই সঙ্গে, ওয়াশিংটন জোটের সামরিক দায়িত্ব আরও ভারসাম্যপূর্ণভাবে ভাগ করে দিতে চায়। কলবির ভাষায়, ন্যাটোকে এমন একটি কাঠামোয় নিয়ে যেতে হবে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর এবং সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ইউরোপে মার্কিন সামরিক অবস্থান পর্যালোচনা করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর ইউরোপীয় মিত্রদের প্রত্যাশা পূরণের জন্য বিভিন্ন দেশকে একটি প্রশ্নপত্র পাঠিয়েছে। কলবি জানান, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ প্রশ্নপত্রের উত্তর দিয়েছে। এখন সেসব উত্তর যুক্তরাষ্ট্র পর্যালোচনা করবে। তবে, কোন কোন দেশ উত্তর দিয়েছে, তা তিনি প্রকাশ করেননি। প্রশ্নপত্রে শুধুমাত্র ন্যাটোর সামরিক দায়িত্ব নিয়ে তথ্য চাওয়া হয়নি, বরং মিত্র দেশগুলোর ঘাঁটি ও আকাশসীমায় মার্কিন সেনাদের প্রবেশের সুযোগ নিয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো সামরিক অভিযানের প্রয়োজন হলে মার্কিন বাহিনী যেন মিত্র দেশগুলোর ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারে, সে বিষয়ে আগাম নিশ্চয়তা চাচ্ছে ওয়াশিংটন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর সময় ইউরোপের কয়েকটি দেশ দ্বিধায় পড়ে যায়। কারণ, ওয়াশিংটন মিত্রদের সঙ্গে আগাম আলোচনা না করেই অভিযান শুরু করেছিল। এর পর থেকেই মার্কিন বাহিনীর জন্য ইউরোপের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কলবি বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ইউরোপেরও স্বার্থ রয়েছে। তাই, এ ধরনের পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা থাকা জরুরি। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন এমন একটি পরিস্থিতি চায়, যেখানে সামরিক অভিযানের প্রয়োজন হলে আগে থেকেই কীভাবে তা পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র যখন ন্যাটোর ভেতরে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর দায়িত্ব বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে, একই সময়ে ওয়াশিংটন ইউরোপে নিজেদের সেনা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এই সংখ্যা কমানো হবে কি না এবং হলে কতটা কমানো হবে, তা এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, ইউরোপের প্রচলিত প্রতিরক্ষায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। ওয়াশিংটন প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করবে, কিন্তু ইউরোপের নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব একা যুক্তরাষ্ট্র বহন করবে না। ফলে, ন্যাটোর সামরিক কাঠামোয় দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপে মার্কিন সেনা কমানোর সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে মিত্র দেশগুলো ওয়াশিংটনের এই নতুন কাঠামোয় কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাড়া দেয় তার ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে উদ্ধার মরদেহগুলোর বেশিরভাগই শনাক্ত করা যায়নি, খাবার ও পানির সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৪ পি.এম


নেপালে উদ্ধার মরদেহগুলোর বেশিরভাগই শনাক্ত করা যায়নি, খাবার ও পানির সংকট

নেপালের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের তরাই অঞ্চলের চিতওয়ান জেলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যার পর উদ্ধার করা

শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। চিতওয়ান জেলা প্রশাসন কার্যালয় একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও নদীর তীর থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো পচে যাওয়ার কারণে সেগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলো বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এসব মরদেহ শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও নথিভুক্ত করার কাজ চলছে।

খাবার ও পানির সংকট

নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সরকার জরুরি ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করেছে। দেশটিতে এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ নেপালে ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নেপালের কয়েক হাজার পরিবার খাবার ও জরুরি পানীয় জলের সংকটে ভুগছে। নেপালের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর প্রায় ৪ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, চীন তিব্বতে বন্যায় সাতজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

 

সামনে আরো বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল একজনের 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৫ পি.এম


বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল একজনের 

সাতক্ষীরায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে দেবহাটা উপজেলার দেবীশহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত আব্দুল আলিম (৫০) উপজেলার রামনাথপুর মাঠপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে ও পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আব্দুল আলিম গাজীরহাট বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে দেবীশহর এলাকায় পৌঁছালে কালীগঞ্জ থেকে সাতক্ষীরাগামী কাজী এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাসের (সিরাজগঞ্জ-ব-১১-০০৮৬) সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। 

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আব্দুল আলিমকে সাতক্ষীরা ব্লিস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। 

এ বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করেছে। পাশাপাশি নিহত ব্যক্তির মোটরসাইকেলটি পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%