ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ১৮৫৫ পদে নিয়োগে ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়ল


পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ১৮৫৫ পদে নিয়োগে ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়ল

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীন ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের মোট ১ হাজার ৮৫৫টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য আগে দেওয়া ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব পদে নিয়োগের ছাড়পত্র আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের পার-২ শাখা থেকে সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন যুগ্মসচিব মুহাম্মদ আব্দুল হোসেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ২৫ জুন ২০২৬ তারিখের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ৪ জুন ২০২৫ তারিখের স্মারকের অনুবৃত্তিক্রমে ২০১৯ সালে দেওয়া তিনটি আদেশের মাধ্যমে অনুমোদিত নিয়োগের ছাড়পত্রের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

ছাড়পত্রের আওতায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সদর দপ্তর পর্যায়ে ১৭ ক্যাটাগরির ১ হাজার ৬৬৭টি এবং জেলা পর্যায়ে ৪ ক্যাটাগরির ১৮৮টি পদ রয়েছে। সব মিলিয়ে নিয়োগের জন্য ছাড়পত্র পাওয়া পদের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৫টি।

সদর দপ্তর পর্যায়ের পদগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, ফিজিওথেরাপিস্ট, গবেষণা সহকারী, সহকারী লাইব্রেরিয়ান, ইপিআই টেকনিশিয়ান, টেলিফোন অপারেটর, ওয়ার্ড মাস্টার, জিনেম কিপার, টিকেট ক্লার্ক, ভেন্টিলেটর কাম মেকানিক, কিনো সুপারভাইজার, রেডিও কিপার ও কার্ডিওগ্রাফার।

এর মধ্যে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদটি ১১তম গ্রেডের, যার বেতনস্কেল ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা পদটি ১৪তম গ্রেডের এবং এর বেতনস্কেল ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদটি ১৬তম গ্রেডের, যার বেতনস্কেল ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা।

জেলা পর্যায়ে নিয়োগযোগ্য পদগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা সহকারী (এফপিএ), পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই), পরিবার কল্যাণ সহকারী এবং আয়া। এসব পদে মোট ১৮৮টি শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

এ ছাড়া অধিদপ্তর পর্যায়ে অতিরিক্ত হিসেবে অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) ও কুক হেলপার পদও ছাড়পত্রের আওতায় রাখা হয়েছে। অফিস সহায়ক পদটি ২০তম গ্রেডের এবং এর বেতনস্কেল ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা।

নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্তও দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে পদোন্নতি, বদলি, অবসর, চাকরিচ্যুতি বা অন্য কোনো কারণে শূন্য হওয়া পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে না। শুধু সরাসরি নিয়োগযোগ্য শূন্য পদগুলোতেই জনবল নিয়োগ করা যাবে বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্য স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকে অবহিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে অর্থাৎ ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের মধ্যে এসব পদে নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য চিঠিটি মহাপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর বরাবর পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ, প্রতিপক্ষের কলাবাগান ধ্বংসের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০১ পি.এম


পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ, প্রতিপক্ষের কলাবাগান ধ্বংসের অভিযোগ

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নে চোকদার বংশের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষটি পূর্ববিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়। উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের পর, একটি পক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নে চোকদার বংশের জোনায়েদ মেম্বার ও সৈকত চোকদারের পক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধের কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত ৯ জন আহত হন। পরে উভয় পক্ষই শিবচর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করে।

এরপর, ২৫ আগস্ট সকালে স্থানীয় ক্রোকচর বাজার এলাকায় জোনায়েদ মেম্বার হামলার শিকার হয়ে আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন, ২৬ আগস্ট সৈকত চোকদারের জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে। তবে গাছ কাটার ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, চোকদার বংশের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে প্রায়ই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সম্প্রতি এই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

গাছ কাটার অভিযোগের বিষয়ে সৈকত চোকদারের পরিবারের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের জমিতে থাকা গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। অন্যদিকে, জোনায়েদ মেম্বারের পরিবারের পক্ষ থেকে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

জোনায়েদ মেম্বারের ছেলে সাইমুন চোকদার বলেন, “আমার বাবাকে তারা আহত করেছে। তবে আমরা কোনো কলাগাছ বা অন্য কোনো গাছ কাটার বিষয়ে কিছু জানি না।”

সৈকত চোকদারের মা সিরিন সুলতানা বলেন, “জায়গাজমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে আমার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। জোনায়েদ মেম্বার আহত হওয়ার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমার ছেলেরা শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা প্রতিষ্ঠিত হওয়াটা অনেকে সহ্য করতে পারেনি। এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে।”

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, “জুনায়েদ মেম্বারকে যারা আহত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গাছ কাটার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো তথ্য পাইনি।”

এদিকে সংঘর্ষ ও পরবর্তী ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিরোধের সমাধান না হলে যেকোনো সময় আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। দীর্ঘদিনের জায়গাজমি ও বংশীয় বিরোধের অবসান কবে হবে—এমন প্রশ্নও তুলেছেন স্থানীয়রা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিরোধের স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৭ বছরে নতুন গ্যাসকূপ ও বিদ্যুৎ গ্রিড না বাড়ায় সংকট: আমানউল্লাহ আমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ পি.এম


১৭ বছরে নতুন গ্যাসকূপ ও বিদ্যুৎ গ্রিড না বাড়ায় সংকট: আমানউল্লাহ আমান

বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সৃষ্টি হয়েছে, কারণ গত ১৭ বছরে দেশে নতুন গ্যাসকূপ এবং বিদ্যুতের নতুন গ্রিড যুক্ত করা হয়নি, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার গ্যাসের আটটি নতুন কূপ খননের কাজ শুরু করেছে।

 

সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিসিক শিল্প মালিক সমিতি কর্তৃক শিল্পশ্রমিকদের জন্য বিনা মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পশ্রমিকদের বিষয়ে আমানউল্লাহ আমান বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

 

শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শ্রমিকদের কল্যাণে এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরও বলেন, শিল্পকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন। বর্তমান সরকার এই সংকট নিরসনে কাজ করছে।

 

গ্যাসের নতুন কূপ খনন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো হবে।

আমানউল্লাহ আমান বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে। শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশকে লন্ডনের আদলে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী মালিক সমিতির সভাপতি হোসেন এ সিকদারের সভাপতিত্বে স্থানীয় বিএনপি ও মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

পরে শিল্পশ্রমিকদের জন্য বিনা মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিল্পনগরীর শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সারের সংকট নেই, কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে কঠোর ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০৪ পি.এম


সারের সংকট নেই, কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে কঠোর ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। প্রতিবছর চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয়ে থাকে।

তিনি মন্তব্য করেছেন যে, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সারের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, "সার নেই বলে বেশি দামে বিক্রি করলে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষকের উন্নতির জন্য যা কিছু প্রয়োজন, সরকার তা করবে। কৃষকের উন্নতি হলে দেশের অগ্রগতি হবে।’

তিনি সারের কৃত্রিম সংকট প্রসঙ্গে বলেন, দেশের মোট চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয়। তাই দেশে সার সংকট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিতভাবে সারের দাম বাড়িয়ে দেয়। মন্ত্রী বলেন, "কিছু খুচরা সার বিক্রেতা বাজারে সার নেই বলে প্রচার করছেন। অথচ অতিরিক্ত টাকা দিলে তারাই আবার সার সরবরাহ করছেন। তাহলে সংকট কোথায়? অতি লোভী কিছু মানুষ এ ধরনের কাজ করছে। কারসাজির মাধ্যমে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

জেলার সার ডিলারদের সতর্ক করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কোনো ডিলার তার বরাদ্দের সার সময়মতো না তুললে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের কাছে সঠিক দামে ও সময়মতো সার পৌঁছে দিতে ডিলারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।

কৃষিপণ্যে আমদানি-নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পাট ও পেঁয়াজের বীজ যাতে ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে আমদানি করতে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘আগামীতে কোনো কৃষিপণ্য যেন আমদানি করতে না হয়, কৃষিতে সরকারের মূল টার্গেট সেটিই। আমরা নিজেরাই উৎপাদনের চেষ্টা করছি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে কষ্ট ও পরিশ্রম করতে হবে।’

মন্ত্রী আরও জানান, বিভিন্ন কারণে দেশের মাটির গুণগত অবস্থা আগের মতো ভালো নেই। তবে ফরিদপুরের মাটি এখনো দেশের অন্যতম সেরা ও উর্বর। ফলে এ জেলার কৃষিকে আরো এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

মতবিনিময় সভায় ফরিদপুরের চরাঞ্চলে কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ডাল, রসুন, পেঁয়াজ ও পাটবীজ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশি মাছের চাষ সম্প্রসারণ, চরাঞ্চলে শাকসবজি উৎপাদন এবং ছাগল পালন ও ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল উন্নয়ন কর্মসূচি জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে জেলার নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের পাটবীজ, নতুন অ্যাগ্রো-ফ্রা মেশিন ও চেক বিতরণ করা হয়। পরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পেঁয়াজ ও পাটচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী।

পরবর্তীতে বিকেল ৪টায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ফরিদপুর জেলার উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় সংরক্ষিত পেঁয়াজ এবং শীতকালীন পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন খামার পরিদর্শন করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরব হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস এম আসজাদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহদুজ্জামান, সদর উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা মিশকাতুল জান্নাত রাবেয়াসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ফরিদপুর সার্কিট হাউসে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদকে ফরিদপুরের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের করণীয়-বর্জনীয় নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ পি.এম


মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের করণীয়-বর্জনীয় নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

মালয়েশিয়ায় বসবাস ও কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতামূলক বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। স্থানীয় আইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার, কর্মস্থলের নীতিমালা এবং অনলাইন প্রতারণাসহ বিভিন্ন বিষয়ে করণীয় ও বর্জনীয় উল্লেখ করে এসব নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ নির্দেশনা জানায়।

যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ

হাইকমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়ার আইন ও বিধি-বিধান, কর্মস্থলের নীতিমালা, স্থানীয় সাইবার আইন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে দেশটির ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিবার, বন্ধু ও ইতিবাচক যোগাযোগের কাজে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। চাকরি, নিয়োগকর্তা কিংবা কর্মস্থল-সংক্রান্ত কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া অপরিচিত ব্যক্তি, অজানা লিংক, ফাইল কিংবা বার্তার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং অনলাইন প্রতারণা ও ফিশিং থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ারের আগে তার সত্যতা যাচাই এবং সন্দেহজনক বা উসকানিমূলক অনলাইন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে।

যেসব কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা

হাইকমিশন সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ বা নিষিদ্ধ সংগঠন-সংশ্লিষ্ট কোনো পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা বার্তা শেয়ার, লাইক, মন্তব্য কিংবা প্রচার না করার নির্দেশনা দিয়েছে। একই সঙ্গে গুজব, ভুয়া তথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন, ইরান-ইসরায়েল বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে এমন কোনো উসকানিমূলক বা বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার কিংবা প্রচার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় আইন লঙ্ঘনের কারণ হতে পারে।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক বা অনলাইন প্রচারণায় অংশ না নেওয়া এবং যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা অনলাইন তহবিলে অনুদান না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কর্মস্থল, বিমানবন্দর, বন্দর, সরকারি স্থাপনা কিংবা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত স্থানের ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নিজের বা অন্যের পাসপোর্ট, ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্র, আইডি কার্ড, ব্যাংক তথ্য কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার পরামর্শ দিয়েছে হাইকমিশন।

ধর্মীয়, জাতিগত বা বর্ণগত বিদ্বেষ উসকে দিতে পারে এমন পোস্ট, মন্তব্য বা বিতর্ক থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অবৈধ ভিসা, দ্রুত আয়ের প্রলোভন, সন্দেহজনক বিনিয়োগ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণা থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।

কোনো অপরাধ, সহিংসতা বা অবৈধ কার্যক্রমকে সমর্থন কিংবা প্রশংসা করে পোস্ট, মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া না দেওয়ার বিষয়েও বিশেষভাবে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বড় সমস্যার মধ্যে রয়েছে প্রতারণামূলক ও অতিরিক্ত ব্যয়বহুল নিয়োগপ্রক্রিয়া। এ ছাড়া বৈধ কাগজপত্র-সংক্রান্ত জটিলতার অভিযোগও রয়েছে অনেক প্রবাসীর বিরুদ্ধে।

বৈধ কাগজপত্র না থাকা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় নিয়মিত অভিযান ও আটকের ঘটনাও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আইন মেনে চলা এবং সামাজিক ও অনলাইন কর্মকাণ্ডে সতর্ক থাকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%