সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:২৮ পি.এম
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। অভিযোগ গঠনের ফলে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।
আজ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম আসামিদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ গঠন করেন। আদালত একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৫ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছে।
আদালতের পেশকার বেলাল হোসেন বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহতের মা রীনা বেগম মোহাম্মদপুর থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। ঘটনার দিন তিনি গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর, তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, আসিফ আহমেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান ও নুর মোহাম্মদ সেন্টু পলাতক রয়েছেন।
মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ চারজন কারাগারে আছেন। এছাড়া ১০ জন জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু চীনের বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে চীনের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও কনসালটেন্সি ফার্মের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিনিধি দলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শেনজেন কাইফা টেকনোলজি (চেংদু) কোম্পানি লিমিটেডের (Shenzhen Kaifa Technology (chengdu) Co. Ltd.) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বোর্ড পরিচালক সেনহুই ঝাং (Senhui Zhang), এপিএসি অঞ্চলের কারিগরি প্রধান জুনজি চেন (Junjie Chen), একই অঞ্চলের ব্যবসাপ্রধান ওয়েই ঝাং (Wei Zhang) এবং বাংলাদেশ জাতীয় প্রতিনিধি ইউকিং ইয়াও (Yuqing Yao)।
এছাড়া, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ওয়াক্সম্যাক্স কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডের (WAXMAX CONSULTING PTE LTD) চেয়ারম্যান জিনসং ওয়াং (Jinsong Wang), ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড (David) এবং পরিচালক স্টেফান ডিং (Stefan Ding)। পাশাপাশি দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি রেজাউর রহমান সোহাগও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিলিয়ান এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে তার শততম গোলটি করেছেন। গতকাল এল ক্লাসিকোর ম্যাচে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে দুটি গোল করে এই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি।
ন্যু ক্যাম্পে এমবাপ্পের প্রথম গোলটি ঘটে অনেকটা দুর্ঘটনাবশত। বার্সেলোনার জেরার্ড মার্টিন ইয়ান দিওমান্দের ক্রস ক্লিয়ার করার জন্য শট নেন। সেই শটটি দৌড়াতে থাকা এমবাপ্পের পায়ে লেগে জালে প্রবেশ করে। রিয়ালের হয়ে ফরাসি এই তারকার শততম গোলটিতে সহায়তা করেন তার স্বদেশী এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা।
একশ গোল করার জন্য এমবাপ্পের প্রয়োজন হয়েছে ১১৬ ম্যাচ। এর আগে রিয়ালের ২৩ জন ফুটবলার এই মাইলফলক অর্জন করেছেন। উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন আলফ্রেডো ডি স্টেফানো (৩০৮), ফেরেঙ্ক পুসকাস (২৪২), রাউল (৩২৩), রোনালদো নাজারিও (১০৪), করিম বেনজেমা (৩৫৪), সার্জিও রামোস (১০১), গ্যারেথ বেল (১০৬) ও ভিনিসিউস জুনিয়র (১২৯)। ৪৫০ গোল নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
এমবাপ্পের একশ গোলের মধ্যে ৬৭টি লা লিগায়, ২৫টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে, ৪টি কোপা দেল রেতে, ২টি ক্লাব বিশ্বকাপে এবং একটি করে উয়েফা সুপার কাপ ও স্প্যানিশ সুপার কাপে এসেছে।
এমবাপ্পের সর্বাধিক গোল পিএসজির জার্সিতে। ২০২৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ৩০৮ ম্যাচে ২৫৬ গোল করেন। তার সিনিয়র ক্লাব ক্যারিয়ারে মোট ৪৮৪ ম্যাচে গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮৩টি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠছে। শহর থেকে দূরের সৈকত ও সেখানকার রিসোর্টে নিরিবিলি পরিবেশের আকর্ষণে পর্যটকেরা ছুটে আসছেন। কিন্তু পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা একই গতিতে গড়ে উঠছে না। বিশেষ করে সৈকতের অপ্রচলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড, আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম এবং কার্যকর সতর্কতাব্যবস্থা নেই।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) পেচারদ্বীপ সমুদ্রসৈকতে ঢেউয়ের তোড়ে পাঁচ পর্যটকের প্রাণহানির ঘটনা নিরাপত্তার এই ঘাটতিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। এর আগে গত বছরের ৮ জুলাই একই সৈকতে ঢেউয়ের তোড়ে প্রাণ হারান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী সাবাব ও আসিফ। অরিত্র হাসান নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রত্যন্ত সৈকতগুলোতে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে পর্যটকদের অভিযোগ। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড নিয়োগ, উদ্ধার ইউনিট স্থাপন এবং পর্যটকদের সচেতন করার উদ্যোগ নেয়ার দাবি উঠেছে। ফায়ার সার্ভিস মেরিন ড্রাইভে স্থল ও ডুবুরি ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে সেই পরিকল্পনা কবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মেরিন ড্রাইভের পেচারদ্বীপ সমুদ্রসৈকতে গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ঢেউয়ের তোড়ে পাঁচ পর্যটকের মৃত্যু ঘটে। তারা সবাই সৈকতসংলগ্ন একটি রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। নিরিবিলি পরিবেশের আকর্ষণে সেখানে গেলেও সমুদ্রে নামার ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা এবং বিপদের মুহূর্তে দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পর্যটক সাইফ উদ্দিন বলেন, “আমরা অবশ্যই এ ধরনের ঘটনায় চিন্তিত। কারণ, আমরা ভ্রমণে আসি মানসিক প্রশান্তি ও কিছুটা স্বস্তির জন্য। সেখানে যদি জীবনের ঝুঁকি থাকে কিংবা প্রাণ হারানোর আশঙ্কা থাকে, তাহলে মানুষ পরবর্তী সময়ে কক্সবাজারে আসতে নিরুৎসাহিত হবে।”
সমুদ্রে নামার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি, দুর্ঘটনার কারণ ও নিরাপদ থাকার উপায় সম্পর্কে পর্যটকদের স্পষ্ট ধারণা দেয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
সাইফ উদ্দিন বলেন, একজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের দুর্ভোগ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ঘটনার দিন তিনি একই রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন এবং দুপুরে নিহত পর্যটকদের সঙ্গে একসঙ্গে খাবারও খেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, সাত বন্ধুর মধ্যে চারজন ফিরে এসেছেন, আর বাকি তিনজনের মরদেহ এসেছে। পরে বাকি চারজন কান্নাকাটি করতে করতে রিসোর্ট ছেড়ে চলে যান। ঘটনাটি সত্যিই হৃদয়বিদারক। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমুদ্রে নামার আগে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নির্দেশনা দেয়া অত্যন্ত জরুরি।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিসোর্ট মালিক, হোটেল কর্তৃপক্ষ ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পর্যটক সোহানুর রহমান।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটি রিসোর্টের মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরকারের বৈঠক করা উচিত। পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে পর্যটকেরা সমুদ্রে নামার বিধিনিষেধ, করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান।
সোহানুর রহমান বলেন, পর্যটকেরা স্থানীয় নন। ফলে সমুদ্রের পরিস্থিতি, কোন সময়ে সমুদ্রে নামা নিরাপদ এবং কখন নামা উচিত নয়-এসব বিষয়ে অনেকের পর্যাপ্ত ধারণা থাকে না। তাই পর্যটকেরা রিসোর্টে পৌঁছানোর পর তাদের এসব বিষয়ে জানানো প্রয়োজন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ সৈকতে সার্বক্ষণিক না হলেও অন্তত একজন স্ট্যান্ডবাই লাইফগার্ড রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, শুধু সতর্কবার্তা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর মতো প্রস্তুতিও থাকতে হবে।
হোটেল কক্স টুডের মহাব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ বলেন, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মতো দেশে সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় আধুনিক সরঞ্জাম ও উন্নত লাইফগার্ড ব্যবস্থাপনা রয়েছে। চাইলে কক্সবাজারেও এসব কার্যকর ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, এ জন্য প্রয়োজন সদিচ্ছা ও উদ্যোগ। সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও আধুনিক উদ্ধার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার প্রকল্প কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বিভিন্ন পয়েন্টে গড়ে ওঠা ইকো রিসোর্টগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু নির্দেশনা দেওয়া যথেষ্ট নয়। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সেখানে অন্তত একজন স্ট্যান্ডবাই লাইফগার্ড রাখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পর্যটকেরা যেকোনো সময় সমুদ্রে নামতে পারেন। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লাইফগার্ডের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া এবং নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোরতা নিশ্চিত করা না হলে এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতেই থাকবে, যা পর্যটন খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার কার্যক্রম মূলত লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী-এই তিনটি পয়েন্টে পরিচালিত হয়। এসব স্থানে পর্যটকদের সচেতন করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে ইনানী ও হিমছড়ির মতো অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রেও পানিতে ডুবে দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব স্থানে নিরাপত্তা জোরদারে জেলা প্রশাসন, হোটেলমালিক ও টুরিস্ট পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পর্যটকেরা কক্সবাজারে পৌঁছানোর আগেই তাদের সচেতন করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরে সমুদ্রে নামার আগে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে প্রচার চালানো যেতে পারে। এতে পর্যটকেরা আগেভাগেই নিরাপত্তাবিধি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
মেরিন ড্রাইভে পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্থল ও ডুবুরি ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এসব ইউনিটের মাধ্যমে অগ্নিনির্বাপণের পাশাপাশি সমুদ্রে গোসলে নেমে ভেসে যাওয়া বা বিপদে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারের কাজও করা হবে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, “মেরিন ড্রাইভে স্থল ও ডুবুরি-এই দুই ধরনের ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সমুদ্রে গোসলে নেমে ভেসে যাওয়া বা বিপদে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে।”
তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার দেয়া তথ্য মতে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে গত ১২ বছরে ৮৫ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
পর্যটন অবকাঠামোর বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার না হলে প্রাণহানির ঝুঁকি থেকেই যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করা, প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড নিয়োগ, আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এবং পর্যটকদের নিয়মিত সতর্ক করার সমন্বিত উদ্যোগই পারে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি কমাতে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কানাডার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি ‘খুব শিগগিরই’ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। তিনি রোববার এক নির্বাচনী সমাবেশে এই মন্তব্য করেন, যা আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র নয় দিন আগে ঘটে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত আগস্ট মাসে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে উত্তর আমেরিকার প্রতিবেশী দেশ দুটি— যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কারণে ট্রাম্প কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর একের পর এক নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন।
মিশিগান অঙ্গরাজ্যের কানাডা সীমান্তবর্তী শহর পোর্ট হুরনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই বিষয়টির নিষ্পত্তি করব। এই মুহূর্তে তারা আমাদের যেকোনো কিছু দিতে প্রস্তুত।’
শহরটি ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সমাবেশে ট্রাম্প আবারও কানাডার ওপর আরোপিত শুল্কের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, কানাডা বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করে আসছে।
গত আগস্টে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর আরোপিত শুল্কের আওতায় পড়ে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে হকি খেলার স্টিক থেকে শুরু করে সিমেন্টও।
কানাডা এর জবাবে সমপরিমাণ মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ট্রাম্প পরে কিছু পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করেন।
তবে শুক্রবার হোয়াইট হাউস এসব শুল্কের কিছু অংশ প্রত্যাহার করে। যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্য মেইনের সিনেটর সুসান কলিন্সের অনুরোধের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে মেইন অঙ্গরাজ্য তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে চায় ডেমোক্র্যাটরা। এ লক্ষ্যে তারা কলিন্সের আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন।
তার অভিযোগ, বিভিন্ন দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অন্যায্য সুবিধা নিয়ে আসছে।
এ ছাড়া, তিনি কয়েকটি ক্ষেত্রে সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের হুমকিকে সরাসরি রাজনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ