০৪:২৫ এম
দেশব্যাপী সরকারের উন্নয়নে ভূমি অধিগ্রহণের সম্পর্ক নিবিড় থাকলেও, ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে। অফিসের ছোট-বড় সকলের সমন্বয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য চলছে। এই সিন্ডিকেটের মূলহোতা হিসেবে ভূমি অধিগ্রহণ (এল/এ) শাখার সার্ভেয়ার আসাদুল রহমান আসাদের বিরুদ্ধে ভূক্তভোগীদের অভিযোগের অন্ত নেই।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পাঁচকোরালিয়া গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন মৃধা বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে তিনি অভিযোগ করে বলেন, "পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার আসাদুল রহমান আসাদই এখানকার সব।" তিনি জানান, ভূমি অধিগ্রহণের টাকা পেতে হলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ১০ থেকে ১৫% ঘুষ দিতে হয় সার্ভেয়ার আসাদ সিন্ডিকেটকে। ঘুষ না দিলে ক্ষতিগ্রস্তদের ফাইল দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়। তিনি আরও জানান, "সার্ভেয়ার আসাদ সিন্ডিকেটকে ঘুষ দিলে জমির জাল দলিলেও অধিগ্রহণের টাকা পাওয়া যায়।" সার্ভেয়ার আসাদের সাথে যুক্ত রয়েছেন সার্ভেয়ার ফারুক হোসেন, আনোয়ারুল, সার্ভেয়ার কমল, সার্ভেয়ার মনিরুজ্জামান, কানুনগো শহিদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন।
সূত্রমতে, পায়রাকুঞ্জে নির্মাণাধীন ব্রিজের দুই পাড়ের অধিগ্রহণকৃত জমির ভুয়া দলিল ও কাগজপত্র তৈরি করে জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা আসাদ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন।
আরও পড়ুন: সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর বেড়িবাঁধ ধসে মানুষের চরম দুর্ভোগ
বাউফলের দাস পাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার মিয়ার ছেলে আব্দুস সালাম মিয়া অভিযোগ করেন, তার এলএ কেস নাম্বার ১৬/২০১৭-১৮, খতিয়ান নম্বর ৩৭৮, ৪০৩ ও ৪১৬ এর প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আসাদ ও সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসাদ তার বাবা ও শশুরের নামে ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে ভূমি অধিগ্রহণের ৮৯ লাখ টাকার চেক আত্মসাত করেছেন। এমনকি সার্ভেয়ার আসাদুর রহমান নিজের স্ত্রীর নামে জাল কাগজপত্র তৈরি করে ভূমি অধিগ্রহণের টাকা স্ত্রীর নামে উত্তোলন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট অফিসের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সার্ভেয়ার আসাদুর রহমানের পদায়ন খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হলেও রহস্যজনক কারণে তিনি বিগত ১১ বছর ধরে পটুয়াখালীতে কর্মরত রয়েছেন। সূত্রে আরও জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় যোগদানের পর একটানা পাঁচ বছর কাজ করার পর ২০২০ সালে তাকে গলাচিপা উপজেলা ভূমি অফিসে বদলি করা হয়। কিন্তু ছয় মাস যেতে না যেতেই তদবির করে তিনি (আসাদ) পুনরায় পটুয়াখালী ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় চলে আসেন। পরবর্তীতে ব্যাপক দুনীতি ও অনিয়মের অভিযোগে তাকে মির্জাগঞ্জে বদলী করা হলেও সেখানে ছয় মাস যেতে না যেতেই তিনি আবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় বদলি হয়ে চলে আসেন।
ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে সার্ভেয়ার আসাদুর রহমান আসাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অভিযোগের ব্যাপারে সার্ভেয়ার আসাদুর রহমান আসাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এমনকি ক্ষুদে বার্তা দিয়েও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, "অধিগ্রহণ বিষয়ে যথেষ্ট স্বচ্ছতার সাথে কাজ করা হয়। সেবা প্রার্থীদের কোনো ধরনের হয়রানির করার সুযোগ নেই।" তিনি আরও বলেন, "তবে সেবা প্রার্থীদের হয়রানির সাথে যদি কেউ সম্পৃক্ত থাকে, সে ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের সুনিদৃষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার বলেন, "পুরো বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে দ্রুত কয়লা উত্তোলনের দাবি জানাল ৫০০ জনের মানববন্ধন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন