জেলা প্রতিনিধি:মিজানুর রহমান প্যাদা
রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৭ পি.এম
পাগলা থেকে পটুয়াখালী হাইওয়ে সড়কে দুর্ঘটনা রোধে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল হাইওয়ে পুলিশ।
আজ বরিশাল হাইওয়ে পুলিশের এসআই জয়ন্ত কুমার দাসের নেতৃত্বে এ বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়।
অভিযানে সড়ক পরিবহন আইন ও ট্রাফিক নিয়ম না মানা চালকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও দুর্ঘটনা রোধে এ ধরনের চেকপোস্ট ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টসের (বিআরআইসিএম) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালা খানকে ‘ভুয়া পিএইচডি’ ও ‘অপর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা’ নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আট বছর ধরে আদালতে তার নিয়োগের বৈধতা নিয়ে মামলা চলমান থাকলেও সম্প্রতি অডিট অধিদপ্তর এ বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।
যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যোগ্যতা না থাকার কারণে তাকে নিয়োগ দেওয়ায় সরকারের ১ কোটি ৫ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও, প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন খাতে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকাসহ মোট ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ঘটেছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান, তথ্য এবং প্রযুক্তি অডিট অধিদপ্তরের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কমপ্লায়েন্স অডিটে এ আপত্তি উত্থাপন করা হয়। ২৮ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত বিআরআইসিএমের কার্যক্রমের ওপর করা অডিটে মোট ১৩টি আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি গুরুতর আর্থিক অনিয়ম (এসএফআই) এবং ৭টি সাধারণ আর্থিক অনিয়ম (নন-এসএফআই) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগের শর্ত ছিল বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি ১৪ বছরের গবেষণা অভিজ্ঞতা ও বিশেষ অবদান। ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাছাই কমিটির সভায় মালা খানের প্রয়োজনীয় গবেষণা অভিজ্ঞতা ও অবদানের প্রমাণ না থাকায় তার আবেদন বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছিল।
পরে জানা যায়, যে প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি পিএইচডি করেছেন, সেটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত নয়। এরপরও তার আবেদন পুনর্বহাল করা হলে ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট বিসিএসআইআরের ডিপিসি-১ তাকে তৎকালীন ডিআরআইসিএমের (বর্তমান বিআরআইসিএম) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে সুপারিশ করে। তবে বিসিএসআইআর বোর্ডের ২৮৬তম সভায় এই সুপারিশ নাকচ করে দেওয়া হয়।
যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট করেন মালা খান এবং পক্ষে রায় পান। পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে সরকার। ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে দেন। কিন্তু আট বছর পার হলেও আপিল বিভাগে মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তি না হলেও মালা খান ২০১৭ সাল থেকে আজও (প্রায় ৯ বছর) অবৈধভাবে চাকরি করে যাচ্ছেন। নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি মালা খানের নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির প্রমাণ পেলে ২০২৫ সালের ২৫ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। কিন্তু তিনি চতুরতার সঙ্গে ২০১৭ সালের অমীমাংসিত মামলাকে সামনে রেখে সাময়িক বরখাস্তের বিপরীতে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন।
বিআরআইসিএম সূত্র জানায়, ২০২২ সালে একটি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে মালা খানকে দ্বিতীয়বার বরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু রিট পিটিশনের মাধ্যমে সেই আদেশের ওপরও স্থগিতাদেশ বাগিয়ে নেন তিনি।
বিআরআইসিএমে ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার অনিয়ম : অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু নিয়োগই নয়, প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক লুটপাট ও বিধি লঙ্ঘনের চিত্র পাওয়া গেছে। যার মধ্যে রয়েছে পারসোনাল লেজার (পিএল) খাত থেকে ব্যয় না দেখিয়েই ৪৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা উত্তোলন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ফেলোশিপ ভাতা দিয়ে ৬২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা অনিয়মিত ব্যয়। বিল থেকে বিধি অনুযায়ী আয়কর ও ভ্যাট কর্তন না করায় প্রায় ২১ লাখ টাকার ক্ষতি। বাজেট বরাদ্দের শর্ত লঙ্ঘন করে বিল পরিশোধের মাধ্যমে ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা অনিয়মিত ব্যয় হয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন খাতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি ও অনিয়মিত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৯৯ হাজার ৫৩১ টাকা। এসব আপত্তির জবাব চেয়ে গত ১০ আগস্ট বিআরআইসিএমকে চিঠি দিয়েছে অডিট অধিদপ্তর।
এদিকে, মালা খানের অভিযোগের বিষয়ে গত ২১ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও বিআরআইসিএমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দেয়। কিন্তু আজও বিআরআইসিএম এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
এসব বিষয়ে বিআরআইসিএম-এর মহাপরিচালক মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘অডিট আপত্তিগুলো মূলত অডিট দপ্তরের। যেসব বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে, সেগুলোর তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে জবাব দেওয়ার পর অডিট দপ্তর আবার যাচাই-বাছাই করে। এরপর পর্যায়ক্রমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তা ছাড়া ওই সময় আমি প্রশিক্ষণে থাকায় অন্য একজন দায়িত্বে ছিলেন। ফলে এখনই বলতে পারছি না।
মালা খানের মামলার বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘এটি আদালতের বিষয়। আদালতে চলমান বিষয়ে এ মুহূর্তে বলার কিছু নেই।’ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাব দেওয়া হয়েছে কি না এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো দেওয়া হয়নি। জবাব তৈরির কাজ চলছে।’
মালা খানের বক্তব্য জানতে চাইলে তার অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন। কিন্তু বিআরআইসিএমে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কল করা হলে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে জানান তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সত্য নয়। তার স্বপক্ষে তথ্যপ্রমাণ দেবেন বলে প্রতিবেদকের সঙ্গে ২০ সেপ্টেম্বর বসার কথা জানালেও পরে সাড়া দেননি।
এসব বিষয়ে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মহাপরিচালক মো. নূরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও সাড়া দেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কুমারুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলায় কারাগারে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর কালের কণ্ঠের ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি আলম ফরাজীকে সংবাদ বর্জনের হুমকি প্রদান করেছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন-অর-রশিদ।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে যখন সংবাদটি প্রকাশিত হয়, তখনই ওই সংবাদকর্মীর ব্যক্তিগত মেসেঞ্জারে কল করে হুমকি দেন তিনি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, রবিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কালের কণ্ঠের অনলাইনে ‘প্রধান শিক্ষকের মামলায় সহকারী শিক্ষক কারাগারে, ক্লাস বর্জন শিক্ষার্থীদের’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের মাত্র ২৭ মিনিট পর, বিকেল ৪টা ৫৭ মিনিটে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন-অর-রশিদ ওই সংবাদকর্মীর মেসেঞ্জারে কল করেন। তিনি জানতে চান, ‘আপনি যে বিদ্যালয়ে গেলেন, কি পেলেন আর কি জানলেন? কেনই বা গেলেন?’ একাধিক প্রশ্নের পর, এক পর্যায়ে ওই বিএনপি নেতা দাবি করেন, ‘ওই ছাত্রী তো ধর্ষণের শিকার হয়েছে, আপনি কি তা জানেন? পরে আবার ৬ লাখ টাকা রফা হয়েছে। নৈতিক স্খলনের জন্য কি ওই শিক্ষকের বিচার চান না?’
জবাবে সাংবাদিক পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘ওই ছাত্রীর পরিবার তো মামলা করেনি, তাহলে ধর্ষণ হলো কিভাবে? পরিবার না করে মামলা তো প্রধান শিক্ষক করেছেন শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে।’ এই প্রশ্নের পর ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপি নেতা হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘সরি টু সে, এখন থেকে কালের কণ্ঠে ঈশ্বরগঞ্জের নিউজ আপনি করবেন না। অন্য জায়গার করেন।’ এই কথা বলেই ফোন কেটে দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রতিবেশী একটি দেশকে লক্ষ্য করে বলেছেন, ভারত শান্তি চায়, যুদ্ধ নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, যতদিন সন্ত্রাসবাদকে মদদ দেওয়া হবে, ততদিন ভারত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে প্রস্তুত থাকবে। এই কারণে ভারতের শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে ভুলভাবে দেখা উচিত নয়।
রবিবার অনুষ্ঠিত ডিফেন্স সামিট ২০২৬-এ রাজনাথ সিং এই মন্তব্য করেন। সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ‘প্রতিবেশী দেশ’ বলতে তিনি পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, ভারত শান্তিতে বিশ্বাসী, এবং যুদ্ধ চায় না। ভারত অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করতে বা কাউকে হুমকি দিতে আগ্রহী নয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন, নীরবতা এবং দুর্বলতার মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত শান্তি চায়, কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, যতদিন প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দেবে, ততদিন ভারত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযানে প্রস্তুত থাকবে—এটি তারা এবং বিশ্বকে জানাতে চায়।
রাজনাথ সিং বলেন, ভারত সংলাপে বিশ্বাস করে, কিন্তু যদি কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদকে মদদ দেয়, তাহলে সেই সংলাপের সমাপ্তি ঘটবে। ভারত সহযোগিতা চায়, তবে তা জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওর প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির বিস্তীর্ণ চাষাবাদের এলাকা। বর্ষা মৌসুমে হাওর পানিতে ভরে গেলে কৃষক, জেলে, ট্রলারচালকসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনেকটাই নৌপথনির্ভর হয়ে পড়ে।
নলুয়ার হাওর দিয়ে দিরাই উপজেলার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষও যাতায়াত করেন। ফলে বর্ষাকালে এই নৌপথটি দুই এলাকার মানুষের যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বৈরী আবহাওয়া, ঝড়ো বাতাস ও প্রবল বৃষ্টির সময় হাওরের মাঝখানে থাকা জেলে, ট্রলারচালক ও যাত্রীরা নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে পড়েন। বিশেষ করে হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হলে মানুষের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তাই হাওরপাড়ের সাধারণ মানুষের দাবি, নলুয়ার হাওরের মধ্যখানে একটি স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হোক। দুর্যোগের সময় এটি জেলে, ট্রলারযাত্রী ও হাওর দিয়ে চলাচলকারী মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ