ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

গণভোটের রায় অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জাতীয় ছাত্রশক্তির


গণভোটের রায় অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জাতীয় ছাত্রশক্তির

জাতীয় ছাত্রশক্তি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানিয়ে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে গণভোটের রায় অনুযায়ী।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি তুলে ধরেন। তারা মন্তব্য করেন, এই বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গণরায়ের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা। তাদের সংগঠন গঠনের, কার্যক্রমের কিংবা সুপারিশের কোনোটাই স্বীকার করে না।

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের জনগণ স্পষ্ট রায় দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী ৪ কোটি ৭২ লাখেরও বেশি মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর পক্ষে মত দিয়েছেন। সেই আদেশ অনুযায়ী সংবিধান বদলানোর একমাত্র পথ হল সংবিধান সংস্কার পরিষদ। জনগণ ভোটের মাধ্যমে সংবিধান বদলানোর পথ নির্ধারণ করেছে, তাই এ নিয়ে নতুন করে দর-কষাকষির কোনো সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন: বেরোবিতে 'জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস'-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত

ক্ষমতাসীন দলের তীব্র সমালোচনা করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার জনগণের রায়কে পাশ কাটিয়ে সংসদে একটি ‘‘সংশোধন কমিটি’’ গঠন করেছে। জনগণ ভোট দিয়েছে সংস্কারের জন্য, অথচ সরকারের পক্ষ থেকে দলীয় সুবিধামতো কাটছাঁট চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি।

ছাত্রশক্তির শীর্ষ দুই নেতা বলেন, এই কাঠামোর ভিত্তিটাই গণরায়বিরোধী। তাই এই কমিটিতে কারা আছেন বা কী প্রস্তাব এসেছে, তা বিবেচ্য নয়। ভুল ঘরে বসে সঠিক সংবিধান রচনা সম্ভব নয়।

জাতীয় ছাত্রশক্তির পক্ষে ৩টি প্রধান দাবি পেশ করা হয়।

১. তথাকথিত সংবিধান সংশোধন কমিটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং এর সুপারিশের ভিত্তিতে কোনো সংশোধনী বিল আনা যাবে না।

আরও পড়ুন: বেরোবিতে ‘অ্যাডভান্সড রিসার্চ মেথোডোলজি’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

২. গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অবিলম্বে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর অধিবেশন আহ্বান করতে হবে।

৩. সংস্কার পরিষদের মাধ্যমেই জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।

নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, জাতীয় ছাত্রশক্তি এই বিশেষ কমিটির কোনো ধরনের মতবিনিময়, শুনানি বা পরামর্শমূলক বৈঠকে অংশ নেবে না।

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালে ঈদুল ফিতরে ৫ ও ঈদুল আজহায় ৬ দিন ছুটি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ই-পার্লামেন্টে অনলাইনে যুক্ত হবে সংসদের কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৫ এম


ই-পার্লামেন্টে অনলাইনে যুক্ত হবে সংসদের কার্যক্রম

জাতীয় সংসদের প্রতিটি অধিবেশনের কার্যক্রম, বিল বা আইন পাস, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি এবং ভোট দেওয়ার রেকর্ড ই-পার্লামেন্টের মাধ্যমে সরাসরি অনলাইনে যুক্ত হবে। এই ব্যবস্থা চালু হলে সাধারণ নাগরিকরা সহজেই জানতে পারবেন, তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধি সংসদে কীভাবে কাজ করছেন এবং কোন বিষয়ে কীভাবে ভোট দিচ্ছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) এসব তথ্য জানান। সংসদ ভবনের টানেলে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

এ বি এম আশরাফ উদ্দিন উল্লেখ করেন, নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা কোনো খসড়া আইন পাসের আগে তাঁদের মতামত ও পরামর্শ দিতে পারবেন। পাশাপাশি ই-পিটিশন দাখিল এবং গ্রাম থেকে বসে যেকোনো অভিযোগ সরাসরি সংসদের কমিটির কাছে পাঠানোর সুযোগ থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সংসদকে কাগজবিহীন (পেপারলেস) করতে হবে। সংসদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রতিদিন কয়েক টন কাগজ ব্যবহার হয়, যা পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কাগজের প্রয়োজন নেই।

এ বি এম আশরাফ উদ্দিন জানান, এই সংসদকে যুগোপযোগী এবং ই-পার্লামেন্টে রূপান্তর করা আমাদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল। বাংলাদেশের নাগরিক যেন আমাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে। পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংসদে কাগজের ব্যবহার বন্ধ করে পেপারলেস পার্লামেন্ট গড়ে তুলতে ই-পার্লামেন্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি এবং বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক সংসদ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

সভায় কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য হিসেবে এ বি এম আশরাফ উদ্দিন ছাড়াও সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিন্জ অংশগ্রহণ করেন।

সভায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের নাম ‘ই-পার্লামেন্ট’ পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় প্রকল্পের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন ছাড়াও সংসদীয় কার্যক্রমকে অধিকতর আধুনিক, গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন, বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং প্রকল্পের আওতাভুক্ত কাজের পুনরাবৃত্তি পরিহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া প্রকল্পের আওতায় সাউন্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে যাতে কোনো পুনরাবৃত্তি বা কাজের দ্বৈততা না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে একটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিন সদস্যের একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন সাঈদ আল নোমান, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিন্জ। উপ-কমিটিকে প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন মূল কমিটির কাছে উপস্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সভায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সচিবালয়ের সাংগঠনিক সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত সহায়তা দেওয়ার জন্য দুজন অথবা ক্ষেত্রবিশেষে তিনজন পরামর্শক নিয়োগের সুপারিশ করেছে এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি। পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউএনডিপির সঙ্গে পরামর্শ গ্রহণের সুপারিশও করেছে কমিটি।

গতকাল সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের জনবল-সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা পরবর্তী কমিশন বৈঠকে উপস্থাপনের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির দ্বিতীয় সভায় এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি ও সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সভায় কমিটির সদস্য চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কাজী রফিকুল ইসলাম, সেলিম রেজা ও শাম্মী আক্তার অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সংসদ সচিবালয়ের অর্গানাইজেশনাল রিফর্ম এবং বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি সার্ভিস গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের ব্যর্থতা আড়ালে বিরোধীদের চরিত্রহনন করছে: জামায়াত আমির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৬ এম


সরকারের ব্যর্থতা আড়ালে বিরোধীদের চরিত্রহনন করছে: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, সরকার নিজেদের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও অদক্ষতা আড়ালে রেখে বিরোধীদলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, "বিরোধী দলের চরিত্রহনন বাদ দিয়ে আপনাদের ব্যর্থতা সমাধানের চেষ্টা করুন। যদি দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়, মানুষ আপনাদের সমর্থন করবে।"

এক মাস কারাভোগের পর দলের সহযোগী সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মুক্তিতে জামায়াত সেখানে একটি সংবর্ধনার আয়োজন করে।

বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, "যদি মনে করেন যে অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠকে দমিয়ে দেবেন, স্তব্ধ করে দেবেন, তাহলে আপনাদের দুঃসংবাদ দিচ্ছি, এটি বাংলাদেশে আর হবে না।"

জামায়াতের ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ওমরাহ শেষে গত ১ অক্টোবর দেশে ফেরার পর লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন মেজর আখতারুজ্জামান। শফিকুর রহমান জানান, আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত দেননি। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

জামায়াতের আমির বলেন, মেজর আখতারের প্রতিবাদের পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ট্রলি সংযোজন, লাগেজ বেল্টে ক্যামেরা স্থাপন এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন প্রমাণ করে, তিনি যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেগুলোর বাস্তবতা ছিল।

২ অক্টোবর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁকে এই মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। তিনি জানান, রিমান্ডে চোখ বেঁধে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, যা মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

আখতারুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন, "পুলিশ হয়ে, ডিবি হয়ে একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরের খবর জানার ন্যাক্কারজনক সাহস কোথায় পেল? একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব কীভাবে চলে, এই প্রশ্ন করার অধিকার পুলিশকে কে দিয়েছে?"

গত সোমবার হাইকোর্ট থেকে জামিন পান আখতারুজ্জামান। গতকাল সকালে তিনি কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

কারাফটকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন ঢাকা উত্তর মহানগর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন প্রমুখ।

এদিকে গতকাল সকালে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লোহ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাইবান্ধায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে চলন্ত নৌকায় যমজ সন্তানের জন্ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৬ এম


গাইবান্ধায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে চলন্ত নৌকায় যমজ সন্তানের জন্ম

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে জেলা সদর হাসপাতালে যাওয়ার সময় ব্রহ্মপুত্র নদে চলন্ত নৌকায় এক নারী যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নবজাতকদের মধ্যে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী ও বালাসীঘাটের মাঝামাঝি নদীতে এই ঘটনা ঘটে। নবজাতক দুটির পিতা মনোয়ার হোসেন, যিনি জিগাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা।

স্বজন ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোরে ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে জেলা শহরের হাসপাতালে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তাকে মাচায় শুইয়ে কাঁধে করে দীর্ঘ বালুময় পথ অতিক্রম করেন স্বজনেরা। সকাল ৮টার দিকে তারা জিগাবাড়ী ঘাটে পৌঁছান।

সেখান থেকে একটি নৌকায় করে বালাসীঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তারা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাঝনদীতে পৌঁছালে ওই প্রসূতির প্রসববেদনা শুরু হয়। এ সময় নৌকায় উপস্থিত নারী যাত্রী ও স্বজনেরা কাপড় দিয়ে চারপাশ ঢেকে দেন। পরে নৌকাতেই নিরাপদে প্রথমে ছেলে এবং পরে মেয়েসন্তানের জন্ম দেন ওই নারী।

প্রসূতির স্বামী মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান বর্তমানে সুস্থ আছে। সবার কাছে দোয়া চাই।’

এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান আকন্দ জানান, চরাঞ্চলের মানুষের জন্য জরুরি প্রসূতিসেবা পাওয়া বেশ কঠিন। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, তিন দিন আগে জেলা শহরের হাসপাতালে নেয়ার পথে ব্রহ্মপুত্র নদে চলন্ত নৌকায় আরেক নারী কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত বাংলাদেশে শ্রমিক বিক্ষোভের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৭ এম


ভারত বাংলাদেশে শ্রমিক বিক্ষোভের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে

বাংলাদেশে চলমান পোশাক শ্রমিক বিক্ষোভের পরিস্থিতির ওপর ভারত নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নদী ও পানিবণ্টন ইস্যু সমাধানের জন্য প্রতিষ্ঠিত দ্বিপাক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

এনএনআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জয়সওয়াল।

বাংলাদেশে চলমান বিক্ষোভ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের কথা বললে, আমি আগেও যেমন বলেছি, আমরা চাই বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে উঠুক। এটিই আমাদের প্রত্যাশা এবং এর জন্যই আমরা কাজ করতে চাই।’

জয়সওয়াল মন্তব্য করেন যে, ভারত বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং বলেন, ‘সেখানে নানা ঘটনাপ্রবাহ ঘটছে এবং আমরা সেগুলো অনুসরণ করছি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা একটি ইতিবাচক, ভবিষ্যৎমুখী এবং গঠনমূলক সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই।’

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যৌথ পানিসম্পদ সম্পর্কিত যে কোনো আলোচনা নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই এগিয়ে যাবে। আমি আগেও বলেছি, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। গঙ্গা নদীসহ সব সীমানাবিহীন যৌথ নদীর বিষয়ে আলোচনার জন্য এটিই একমাত্র নির্ধারিত কাঠামোবদ্ধ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা।’

নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে আসন্ন উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক সফরের বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের প্রতি ভারতের একটি স্থায়ী আমন্ত্রণপত্র বা নিমন্ত্রণ বহাল রয়েছে।

জয়সওয়াল জানান, ‘আমরা এরইমধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এ বিষয়ে কোনো নতুন অগ্রগতি হলে আপনাদের জানানো হবে।’

ব্রিফিংয়ে বিজনেস ইন্ডিয়ার এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সম্প্রতি ঢাকায় এনসিপির একটি প্রতিবাদ সমাবেশে প্রচুর ভারতবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে ভারতের কোনো বক্তব্য আছে কিনা?

জবাবে জয়সওয়াল বলেন, আমরা সেখানে উদ্ভূত এই ঘটনাপ্রবাহগুলোর ওপর নজর রাখছি।

ডেকান ক্রনিকলের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মোহাম্মদ রশীদ খানের একটি বক্তব্যে বলা হয়েছে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নাকি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং জামায়াতের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে। জামায়াত ও আওয়ামী লীগ মিলে নাকি বাংলাদেশে অভ্যুত্থান ঘটানোর পরিকল্পনা করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে?

জবাবে জয়সওয়াল বলেন, আপনি যে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাচ্ছেন সে বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%