শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫৮ পি.এম
> জাতীয়
আইনমন্ত্রী বলেছেন, জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতি অপরিহার্য।শুক্রবার বাংলা একাডেমিতে জিয়া স্মৃতি বইমেলার আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীতআইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান শুক্রবার বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের আলোচনা ভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার(বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী।
ডিজিটালম্যাপ দেখুন
মন্ত্রী এ সময় উল্লেখ করেন, "শুধু জিন্দাবাদ স্লোগানে আগামীর প্রজন্মকে আমরা যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে পারব না। এর জন্য প্রয়োজন জ্ঞানের বিকাশ। আগামীর বিশ্বে বিএনপিকে এগিয়ে নিতেও প্রয়োজন জ্ঞানের বিকাশ।"
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, "এই বইমেলাটি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য নিঃসন্দেহে একটি মাইলফলক হিসেবে থাকবে।"
তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশের যা কিছু শ্রেষ্ঠ অর্জন তার সবই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের হাত ধরেই এসেছে। ১৯৭১ সালে গোটা জাতি যখন দ্বিধাবিভক্ত ছিল, তখন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে এ দেশের মানুষকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন।"
মন্ত্রী বলেন, "স্বাধীনতা যুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান যখন ব্যারাকে ফিরে গিয়েছিলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সময়কালে বাংলাদেশে রক্তের হোলিখেলা চলেছে। জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। সে সময় কেরানীগঞ্জের সিদ্দিক মাস্টার বাংলাদেশে প্রথম গুমের শিকার হয়েছিলেন। কারণ তিনি শেখ মুজিবের দর্শন পছন্দ করতেন।"
তিনি বলেন, "বাংলাদেশের প্রথম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন সিরাজ শিকদার। সে বিষয়ে শেখ মুজিব পার্লামেন্ট উচ্চকণ্ঠে বলেছিলেন, ‘কোথায় আজ সিরাজ শিকদার’। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সময়ে ৩০ হাজার তরতাজা প্রাণকে জীবন দিতে হয়েছিল।"
বাণিজ্যবিষয়ক খবর
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, "খন্দকার মোশতাকের ষড়যন্ত্রে শেখ মুজিব নিহত হয়েছিলেন। সে সময় সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্যু-পাল্টা ক্যু শুরু হয়। উত্তাল সেই দিনগুলোতে যখন এ দেশের মানুষ আবারও দিশেহারা হয়ে যায় তখন জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করেছিলেন। এটাই জিয়াউর রহমানের রাজনীতি।"
মন্ত্রী বলেন, "শহীদ জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নিয়ে এ দেশের গণতন্ত্রের দ্বার উন্মোচন করেছেন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান এসে সকল দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছেন। মানুষের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।"
তিনি বলেন, "দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিকেরা জীবন দিয়েছেন। বিএনপির ৭০০-এর বেশি নেতাকর্মী গুম হয়েছে। ৬০ লাখের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীর নামে মামলা করা হয়েছিল। গত জুলাই আন্দোলনে এই প্রজন্মের ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে পঙ্গু করা হয়েছে। শহীদ জিয়া যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সে স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখতে ছাত্রদলকে গড়ে তোলা দরকার।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, "শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের জাতিসত্তার রূপকার। জিয়াউর রহমান প্রকৃত অর্থে গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের একমাত্র স্টেটসম্যান। স্বাধীনতা-উত্তর শ্বাপদসংকুল রাজনৈতিক, সামরিক পথপরিক্রমা, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে দিশাহীন জাতিকে দেখিয়েছিলেন আলোর পথ।"
কাদের গনি বলেন, "জিয়াউর রহমান ছিলেন সত্যিকার অর্থেই আমাদের বাতিঘর। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন কৃষি, শিল্প, মানবসম্পদ উন্নয়নে স্বনির্ভরতার দিকে। দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।"
রাজনৈতিকসংবাদ পড়ুন
তিনি বলেন, "জিয়াউর রহমান এ দেশে একটি সাংস্কৃতিক জাগরণ চেয়েছিলেন। সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য এ দেশে যা কিছু প্রয়োজন তার সবই করেছেন তিনি।"
কাদের গনি আরও বলেন, "জিয়াউর রহমান আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্থপতি। জিয়াউর রহমানকে যে বিশেষণেই বিশেষায়িত করা হোক না কেন, তাতে তাঁর যোগ্যতার পূর্ণ প্রকাশ ঘটে না, কারণ তাঁর কীর্তি বিপুল ও বিশাল।"
তিনি বলেন, "জাতির প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তিনি বারবার দাঁড়িয়েছেন নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে। অসীম সাহসিকতা, দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেম নিয়ে তিনি সময়ের প্রয়োজনে আলোর দ্যুতি নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। বিপর্যস্ত জাতিকে রক্ষা করেছেন সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে। আমাদের অহংকারের অধ্যায়কে তিনি আলোকিত ও সমৃদ্ধ করেছেন। অল্পদিনের জীবনে বিশাল তাঁর অর্জন। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে তিনি কর্মগুণে জ্যোতির্ময় হতে পেরেছিলেন; যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।"
জিয়াউর রহমান এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন উল্লেখ করে কাদের গনি বলেন, "১৯৭১ সালে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেলেও গণতন্ত্র পায়নি। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে গণবিমুখ একদলীয় বাকশালী ব্যবস্থা চালু করেন। সে দিনগুলোতে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কোনো স্বাধীনতা ছিল না।"
তিনি বলেন, "গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। একদল, এক ব্যক্তির শাসনে গোটা দেশ এক বন্দিশালায় পরিণত হয়েছিল। জনগণ গণতন্ত্রের স্বাদ উপভোগ করতে পারেননি। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর গণতন্ত্রের দরজা উন্মুক্ত করে দেন। তিনি উপলব্ধি করেন যে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে অবশ্যই মত ও পথের শত ফুল ফুটতে দিতে হবে। এই লক্ষ্য ও মানসেই তিনি ১৯৭৬ সালে ‘রাজনৈতিক দল বিধি ১৯৭৬’ জারি করেন। এর ফলে আওয়ামী লীগসহ দেশে সব রাজনৈতিক দলের পুনরুজ্জীবনের সুযোগ ঘটে।
ডিজিটালম্যাপ দেখুন
কাদের গনি আরও বলেন, "জিয়া রাজনীতিকে প্রাসাদে বন্দি না করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। জিয়ার প্রতি জনগণের ভালোবাসার কারণে বিএনপি শুরু থেকেই জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীতে বিএনপির গণমুখী কর্মকাণ্ডের কারণে দলটি মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়। তাই জনগণ যখনই ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে।"
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান মিন্টুর সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের কলকাতা বিমানবন্দরে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি বিমানে বোমা থাকার হুমকি নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কলকাতা থেকে গোরক্ষপুরগামী ইন্ডিগোর একটি বিমানের টয়লেটে ‘বোমা রয়েছে’ লেখা একটি চিরকুট পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের উড্ডয়ন স্থগিত করা হয়। এরপর বিমানটির সব যাত্রীকে নামিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা তল্লাশি শুরু করেন।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, উড্ডয়নের আগে বিমানটি শেষবারের মতো পরীক্ষা করা হচ্ছিল। সেই সময় বিমানের টয়লেটে একটি চিরকুট নজরে আসে। ওই কাগজে বিমানে বোমা থাকার হুমকি ছিল বলে জানা যায়।
চিরকুটটি পাওয়ার পর বিষয়টি দ্রুত পাইলট ও বিমানকর্মীদের জানানো হয়। তারা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিমানে থাকা সব যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে দেওয়া হয়।
সংবাদআর্কাইভ অনুসন্ধান
পরে ভারতের কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (সিআইএসএফ) ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা বিমানের ভেতরে তল্লাশি শুরু করেন। বিমানের প্রতিটি অংশ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
সূত্রের দাবি, তল্লাশিতে এখন পর্যন্ত বিমানে কোনো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। তবে হুমকির চিরকুটটি কে বা কারা বিমানে রেখে গেছে, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
বোমাতঙ্কের কারণে নির্ধারিত সময়ে কলকাতা থেকে গোরক্ষপুরের উদ্দেশে উড়তে পারেনি ইন্ডিগোর বিমানটি। তল্লাশি ও নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর বিমানটি কখন গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হবে, তা এখনো নিশ্চিত করে জানানো হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে শুরু হওয়া এ সভা বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি মোসা. আছিয়া আক্তার। সংস্থার মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মহাসচিব আলমগীর গনি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নীতিনির্ধারণী পরিষদের সদস্য সচিব মুহাম্মদ মনজুর হোসেন।
সভায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সাংগঠনিক কার্যক্রম, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন নীতিনির্ধারণী পরিষদের সভাপতি জামাল হোসেন, সংস্থার নির্বাহী সভাপতি শাহজাহান মোল্লা, সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফর রশিদ রানা, নির্বাহী পরিষদের সহ-সভাপতি ও বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি এম আর প্রিন্স, সহ-সভাপতি খায়রুল ইসলাম, আতিকুর রহমান আজাদ, শিহাব উদ্দিন টিপু ও অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল হক।
সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল জেলা সভাপতি মোঃ মামুন-অর-রশিদ, আঃ মজিদ, আরিফুল আলম টিটো, ঢাকা জেলা সভাপতি মহসীন উদ্দিন, পিরোজপুর জেলা সভাপতি হাসান মামুন, ঝালকাঠি জেলা সভাপতি এমদাদুল হক স্বপন, পটুয়াখালী জেলা সভাপতি ফিরোজ আহমেদসহ দেশের ৬৪ জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা জাতীয় সাংবাদিক সংস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালদ্বীপে ভারতীয় সেনা থাকবে না, সাদা পোশাকেও নয়: মুইজ্জু মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ১০ মে’র পর দেশটিতে কোনো ভারতীয় সামরিক সদস্যের উপস্থিতি থাকবে না। তিনি এমনকি ভারতীয় সেনারা বেসামরিক নাগরিকের পরিচয়ে পোশাক পরিবর্তন করে মালদ্বীপে অবস্থান করবেন—এমন গুজবকেও অস্বীকার করেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনের সূত্রে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যম এডিশন টিভি।
মুইজ্জু এক বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, ভারতীয় সামরিক সদস্যরা দেশ ত্যাগ করছেন না কিংবা পোশাক পরিবর্তন করে ফিরে আসছেন—এ ধরনের গুজবে বিশ্বাস করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ১০ মে’র পর মালদ্বীপে কোনো ভারতীয় সেনা থাকবে না। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায়ও নয়, বেসামরিক পোশাকেও নয়। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছেন, কোনো ধরনের পোশাকেই ভারতীয় সামরিক সদস্যরা এ দেশে অবস্থান করবেন না।
মুইজ্জুর এই বক্তব্য এমন একটি দিনে এসেছে, যখন মালদ্বীপ চীনের সঙ্গে বিনামূল্যে সামরিক সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে। চীনঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মুইজ্জু গত বছর ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতীয় সামরিক সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন।
মালদ্বীপে বর্তমানে তিনটি বিমান পরিচালনা প্ল্যাটফর্মে মোট ৮৮ জন ভারতীয় সামরিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তারা দুটি হেলিকপ্টার ও একটি ডর্নিয়ার উড়োজাহাজের মাধ্যমে দেশটির জনগণকে মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিবহনসেবা প্রদান করে আসছেন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ১০ মে’র মধ্যে তিনটি প্ল্যাটফর্ম থেকে ভারতীয় সামরিক সদস্যদের সরিয়ে তাদের জায়গায় বেসামরিক কর্মী মোতায়েন করা হবে। এর প্রথম ধাপ ১০ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা।
এদিকে, গত সপ্তাহে একটি ভারতীয় বেসামরিক দল মালদ্বীপে পৌঁছে তিনটি বিমান প্ল্যাটফর্মের একটির দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
‘সামরিক সদস্যরাই বেসামরিক পোশাকে এসেছেন’—বিরোধীদের অভিযোগ
তবে মুইজ্জু সরকারের বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, ভারত থেকে মালদ্বীপে আসা বেসামরিক কর্মীদের মধ্যে অনেকেই আসলে সামরিক কর্মকর্তা, যারা ইউনিফর্ম খুলে বেসামরিক পোশাক পরিধান করেছেন। বিরোধী দলগুলো সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মালদ্বীপের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়েছে, চিকিৎসাজনিত জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য দেশটি শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বিকল্প বিমানসেবা পরিচালনার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এতে ভারতীয়দের পরিবর্তে অন্য দেশের সহায়তায় এ ধরনের সেবা চালানোর মালদ্বীপ সরকারের প্রচেষ্টার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ক্ষমতায় এসেই ভারতকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি
গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর মুইজ্জু শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মালদ্বীপ থেকে ভারতীয় সামরিক সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। তার নির্বাচনি প্রচারণার অন্যতম প্রধান বক্তব্য ছিল ‘ইন্ডিয়া আউট’ নীতি।
৫ ফেব্রুয়ারি পার্লামেন্টে দেওয়া নিজের প্রথম ভাষণেও তিনি ভারতীয় সামরিক সদস্যদের প্রত্যাহারের বিষয়ে একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
মুইজ্জু আরও বলেন, মালদ্বীপের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করাকে তার সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি দেশের ‘বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমা’ পুনরুদ্ধারের বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মালদ্বীপ
ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মালদ্বীপ ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের লাক্ষাদ্বীপের মিনিকয় দ্বীপ থেকে দেশটির দূরত্ব প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল এবং ভারতের পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ নটিক্যাল মাইল।
ভারতের কাছে মালদ্বীপ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রতিবেশী। ভারতের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতি এবং ‘সাগর’ (সাগর—সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্রোথ ফর অল ইন দ্য রিজিওন) উদ্যোগেও দেশটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
মুইজ্জু সরকারের ভারতবিরোধী অবস্থান এবং চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা তাই শুধু দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, গোটা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে আবারো উঠে এসেছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ। শুক্রবার অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই বিষয়ে মন্তব্য করেন।
এক সাংবাদিক ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার একাধিক সাক্ষাৎকার প্রকাশের সময়কালকে আকর্ষণীয় উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান। মুখপাত্র জয়সওয়াল স্পষ্টভাবে বলেন, এই সাক্ষাৎকারগুলোর বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই।
এদিকে, অন্য এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, হাসিনা সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এ বছরের ডিসেম্বরে তার দেশে ফেরা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো বোঝাপড়া হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের সঙ্গে নেপথ্যে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। দেশে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের নিশ্চয়তা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তিনি চান স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত হোক।এ বিষয়ে শেখ হাসিনা ভারত সরকারকে কিছু জানিয়েছেন কি না, তা জানতে চাওয়া হলে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়েও তার কিছু জানা নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ