ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

টিকল না দ্বিতীয় সংসারও, বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় বিচ্ছেদের ঘোষণা বাদশার


টিকল না দ্বিতীয় সংসারও, বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় বিচ্ছেদের ঘোষণা বাদশার

বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হওয়ার ঘোষণা দিলেন ভারতের জনপ্রিয় র‌্যাপার বাদশা ও পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি। গত কয়েক মাস ধরে তাদের দাম্পত্যজীবনে টানাপোড়েনের যে গুঞ্জন চলছিল, সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে সেটির চূড়ান্ত অবসান ঘটান এই তারকা দম্পতি। 

চলতি বছরের মার্চ মাসে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই জুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মাধ্যমে তাদের ডিভোর্সের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া বিবৃতিতে বাদশা বলেন, আমি এবং ইশা রিখি পারস্পরিক সম্মতিতে আলাদা হয়ে যাওয়ার এবং নিজেদের নিজ নিজ পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে আমরা সবার কাছে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান জানানোর অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তিনি আরও যুক্ত করেন, এই বিষয়ে এটিই আমাদের একমাত্র বক্তব্য। আমাদের সম্পর্ক নিয়ে আর কোনো অনুমান বা জল্পনা-কল্পনা না করার জন্য আমরা সবাইকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন: রিজভী: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার

চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই বাদশা ও ইশা রিখির সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করে। সে সময় ইশা রিখি বাদশা ও নিজের বেশ কিছু ভিডিও এবং ছবির একটি কোলাজ পোস্ট করেছিলেন। ক্যাপশনে ভাঙা হৃদয় ও হাতজোড় করার ইমোজি দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, প্রতিটি ঝড়ই একটি শিক্ষা এবং প্রতিটি প্রার্থনাই একটি আশা। তার এই পোস্টের পরই অনুরাগী ও নেটিজেনদের মনে তাদের বিবাহিত জীবন নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এমনকি সম্প্রতি ইশার মা পুনম রিখিও কর্মফল নিয়ে একের পর এক পোস্ট শেয়ার করে সে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

এর আগে, গত জুন মাসে ইনস্টাগ্রামের একটি ‘আস্ক মি অ্যানিথিং’ সেশনে বাদশার সঙ্গে নিজের বিয়ের খবর প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছিলেন ইশা রিখি। সালমান খানের সঞ্চালনায় আসন্ন ‘বিগ বস ২০’-এর প্রতিযোগী হিসেবে ইশা রিখির অংশ নেওয়ার জোর গুঞ্জনের মধ্যেই তাদের এই বিবাহবিচ্ছেদের খবরটি সামনে এলো।

উল্লেখ্য, এটি বাদশার দ্বিতীয় বিবাহবিচ্ছেদ। এর আগে তিনি জেসমিন মসিহকে বিয়ে করেছিলেন। ২০২০ সালে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি ঘটে এবং বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। বাদশা ও জেসমিনের সংসারে জেসেমি গ্রেস মসিহ সিং নামে ৯ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অডিও ভাইরাল হওয়ার পর চবি হল প্রভোস্টের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩২ এম


অডিও ভাইরাল হওয়ার পর চবি হল প্রভোস্টের পদত্যাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর প্রেরিত একটি পদত্যাগপত্রে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

এর আগে আজ বিকেলে হলে আসন বরাদ্দের সুপারিশ নিয়ে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের সঙ্গে হল প্রভোস্টের মধ্যে একটি বাগবিতণ্ডার অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই অডিওতে শোনা যায়, রাশেদুল নামক এক ছাত্রদলকর্মীর জন্য আসন বরাদ্দের সুপারিশ করছেন আব্দুল্লাহ আল নোমান। কিন্তু হল প্রভোস্ট তাকে জানান যে, ওই শিক্ষার্থী এমফিলের রানিং শিক্ষার্থী নয়, তাই তাকে আসন দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ছাত্রদল নেতা বলেন, হল প্রভোস্ট শিবিরের ‘এস্টাবলিশমেন্ট’ করেছেন এবং মেধাতালিকার বাইরে শিবিরের নেতাকর্মীদের আসন বরাদ্দ দিয়েছেন। এসময় তিনি হলের সব আসন বরাদ্দের তালিকা জানতে চান। পাশাপাশি প্রশ্ন করেন, হল প্রভোস্ট জামায়াত-শিবিরের চেয়ে বড় ক্যাডার কিনা এবং উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য চেয়ে তিনি বড় কি না।

এদিকে ভাইরাল হওয়া অডিওর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্টে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান উল্লেখ করেন যে, ওই শিক্ষার্থী মেধার ভিত্তিতে পূর্বে থেকেই হলে আসন পেয়েছেন। মাস্টার্সের ফল প্রকাশের পর এমফিলে ভর্তির প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তিনি আসনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন।

নোমান বলেন, প্রভোস্ট বিষয়টি আমলে না নেওয়ায় তিনি প্রো-ভিসির কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করেন। পরে প্রো-ভিসির সুপারিশ নিয়ে প্রভোস্টের কাছে গেলে তাকে হল ছাড়তে বলা হয় এবং তার মা-বাবার সামর্থ্য নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি প্রভোস্টকে ফোন করে এমন আচরণের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে ৫ আগস্টের পর মেধার ভিত্তিতে এবং সুপারিশের মাধ্যমে কতটি আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা প্রকাশের দাবি জানান।

নোমান আরও জানান, স্বচ্ছতা ও বৈষম্যমুক্ত হল নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় প্রশ্ন তোলার সাহস তিনি সবসময় রাখবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লন্ডন থেকেই দলকে সুসংগঠিত করেন তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ এম


লন্ডন থেকেই দলকে সুসংগঠিত করেন তারেক রহমান

বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর ধরে লন্ডনে অবস্থান করলেও দলের নেতৃত্বে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ দুঃশাসনের মধ্যে দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার, মামলা, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা এবং সাংগঠনিক সংকটের পরিস্থিতিতে তিনি লন্ডন থেকে দলের পরিচালনার জন্য একটি ভার্চুয়াল কাঠামো গড়ে তোলেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকে, দেশে না থেকেও তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক কার্যক্রম, নির্বাচন প্রস্তুতি এবং আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তারেক রহমানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল শারীরিকভাবে দেশে না থেকেও কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে ভিডিও কনফারেন্স, স্কাইপ এবং অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যুক্ত থাকতেন। ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার ঘটনা ছিল এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সে সময় তিনি লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৫৪০ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নেন। এই ঘটনা নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ততা প্রদর্শন করেছে এবং দেশে না থেকেও দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে তাঁর অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে। আওয়ামী লীগ তখন তাঁর এই ভূমিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগও করেছিল, কিন্তু কমিশনের তৎকালীন সচিব জানিয়েছিলেন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার নেওয়াকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে না। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তারেক রহমান। ২০১৮ সালের পর বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক প্রশ্ন ছিল খালেদা জিয়া কারাগারে, তারেক রহমান লন্ডনে; তাহলে দলকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করবেন কে? বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তখন বলেছিলেন, প্রযুক্তির যুগে শারীরিকভাবে দেশে উপস্থিত থাকা দল পরিচালনার প্রধান শর্ত নয়। তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই দল পরিচালনা করেন।

বাস্তবে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি দলের তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা দেশের মাঠের রাজনীতি সামলালেও বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও কৌশল নির্ধারণে তারেক রহমানের ভূমিকা ক্রমে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এর ফলে বিএনপির নেতৃত্বে একটি দ্বিস্তরীয় কাঠামো গড়ে ওঠে- দেশের ভিতরে মাঠের নেতৃত্ব এবং লন্ডন থেকে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নির্দেশনা। শুধু কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নয়, দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসেও তারেক রহমান সক্রিয় ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন জেলা কমিটি গঠন এবং ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অর্থাৎ, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিকে শুধু আন্দোলননির্ভর দল না রেখে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠনের চেষ্টা ছিল তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম দিক। পরবর্তী সময়ে সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহের মতো কর্মসূচিতেও লন্ডন থেকে তিনি সরাসরি যুক্ত হন। এমনকি নিজের প্রাথমিক সদস্যপদও অনলাইনে নবায়ন করেন। এই কর্মসূচিতে তিনি দল পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ‘ভালো মানুষ’ ও মেধাবীদের সামনে আনার ওপর গুরুত্ব দেন।

স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্বিষহ দমনপীড়নের সময়ে বিএনপির রাজনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি করা এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের সংগঠিত রাখা। লন্ডন থেকে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে তারেক রহমান নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি দলকে অটুটভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন, আন্দোলন ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে বিএনপির রাজনৈতিক বার্তাও তিনি নিয়মিত তুলে ধরেন। ২০২৪-পরবর্তী সময়েও লন্ডন থেকে বিএনপির বর্ধিত সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান অব্যাহত রাখেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি শুধু নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর দিকে নয়, সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেয়। বিভিন্ন জোটের কর্মসূচি ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়ে তিনি বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তা দেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামগ্রিকভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে ধরে রাখার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এই দীর্ঘ অধ্যায়ের পর, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তারেক রহমান দেশে ফেরেন। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের দায়িত্ব নেন। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে লন্ডন থেকে বিএনপি পরিচালনার অভিজ্ঞতা তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। শারীরিক অনুপস্থিতিকে প্রযুক্তিনির্ভর নেতৃত্বে রূপান্তর, কেন্দ্র ও তৃণমূলের মধ্যে যোগাযোগ, দলীয় কমিটি পুনর্গঠন, নির্বাচনি প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক ঐক্য— এ কয়েকটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি দীর্ঘ সময় দলটির সাংগঠনিক কাঠামো সচল রাখার চেষ্টা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যাপল সিইও হিসেবে শেষ দিন: বিদায় বেলায় যা বললেন টিম কুক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ এম


অ্যাপল সিইও হিসেবে শেষ দিন: বিদায় বেলায় যা বললেন টিম কুক

দীর্ঘ ১৫ বছরের এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ২০১১ সাল থেকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ৩১ আগস্ট এই পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন টিম কুক। সিইও হিসেবে নিজের শেষ দিনে অ্যাপল সম্প্রদায়কে এক আবেগঘন বার্তায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে টিম কুক লেখেন, সিইও হিসেবে শেষ দিনে অ্যাপল সম্প্রদায়কে অনেক ভালোবাসা। আগামীকাল আমার পদবি বদলে যাবে, কিন্তু আপনাদের প্রতি আমার ভালোবাসা কখনোই বদলাবে না। নিরন্তর অনুপ্রেরণার উৎস হওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমার কৃতজ্ঞতার কোনো শেষ নেই এবং আমি নতুন অধ্যায়ের জন্য দারুণ রোমাঞ্চিত!

তার এই পোস্টে শুভকামনা ও ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন অসংখ্য ভক্ত-অনুসারী।

সিইও পদ ছাড়লেও অ্যাপল থেকে একেবারে বিদায় নিচ্ছেন না কুক। এখন থেকে তিনি কোম্পানির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে, ১ সেপ্টেম্বর (২০২৬) থেকে অ্যাপলের নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন জন টার্নাস।

স্টিভ জবসের বিদায়ের পর কুক যখন দায়িত্ব নেন, তখন অনেকেই তার সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের দক্ষতায় সব সংশয় দূর করেছেন। তার নেতৃত্বে অ্যাপলের বাজারমূল্য ৩৫০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ১৩ ডলারের শেয়ারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৯.৭০ ডলারে, আর বার্ষিক আয় ১০৮ বিলিয়ন থেকে ৪০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। শুধু আইফোনের মতো হার্ডওয়্যার নয়; অ্যাপ স্টোর, অ্যাপল মিউজিক ও অ্যাপল পে-এর মতো সার্ভিস খাতেও কোম্পানিটিকে এক অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে গেছেন টিম কুক।

বিডিপ্রতিদিন/কেকে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউ জার্সির কান্না থেকে বিশ্বজয়: মেসির ১০ বছরের অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৪ এম


নিউ জার্সির কান্না থেকে বিশ্বজয়: মেসির ১০ বছরের অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তন

‘আমি নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, এখন আর দেওয়ার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই’ বলে আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় হিসেবে সোমবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিলেন লিওনেল মেসি। অধিনায়কত্ব করে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২১ ও ২০২৪ সালে দলকে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতিয়েছেন তিনি।

কিন্তু বিখ্যাত সেই আকাশী-সাদা জার্সিতে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল সময়টি দেখা থেকে বিশ্ব প্রায় বঞ্চিতই হতে বসেছিল।

২০১৬ সালের ২৬ জুন, রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আক্ষরিক অর্থেই একটি গোটা দেশের হৃদয় ভেঙে দিয়েছিলেন মেসি।

নিজের ২৯তম জন্মদিনের ঠিক দুদিন পর এবং কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করার পরপরই মেসি সিদ্ধান্ত নেন—অনেক হয়েছে, আর নয়।

১১৩টি ম্যাচ খেলার পর তিনি নিজের সিদ্ধান্তে ছিলেন একেবারেই অনড়। মনের ভেতর তিনি পণ করে নিয়েছিলেন, আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে আর কখনোই মাঠে নামবেন না।

চোখের জল সামলে ট্রফি জয়ের আরও একটি সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর মেসি বলেছিলেন, জাতীয় দল নিয়ে আমার অধ্যায় এখানেই শেষ। আমি সাধ্যমতো সব চেষ্টা করেছি। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার বেদনা সত্যিই ভীষণ কষ্টের। আমি এটাই সবচেয়ে বেশি চেয়েছিলাম, কিন্তু পেলাম না। তাই আমার মনে হয়, এটাই সবার জন্য সেরা সিদ্ধান্ত।

মেসির সেই আবেগ ও কষ্ট বোঝার মতো ছিল। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালের পাশাপাশি ২০০৭, ২০১৫ এবং ২০১৬—টানা চারটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বসেরা হিসেবে যাকে মানা হতো, দেশের হয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতেই তিনি বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলেন।

ভাগ্য ভালো আর্জেন্টিনার, মেসি পরবর্তীতে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছিলেন।

পরবর্তী ১০ বছরে তিনি তৈরি করেছেন ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক রূপকথা। তবে এটি এমন এক দশকের আধিপত্য ছিল, যা প্রায় শুরুই হতে পারত না।

অবসরের সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর, মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে আরও ৯৪টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ৭০টি গোল করেছেন। জিতেছেন চারটি প্রধান ট্রফি।

২০১৬ সালের জুনে অবসরের ঘোষণা দেওয়া থেকে শুরু করে আগস্টের ১২ তারিখে দেশের প্রতি ভালোবাসার টানে আবার ফিরে আসার মাঝের এই ছয় সপ্তাহ—আর্জেন্টাইন ফুটবল, এমনকি বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসেও এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে গণ্য হতে পারে।

‘নেতা হওয়ার মতো ব্যক্তিত্ব তার নেই’

মেসি যখন আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চ ছাড়ছেন, তখন ১০ বছর আগে দেশটির আরেক কিংবদন্তি ১০ নম্বর জার্সিধারী মারাদোনার দেওয়া এক সমালোচনামূলক মন্তব্য এখন প্রায় হাস্যকর ঠেকে।

মেসির প্রথমবার অবসরের ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে দিয়েগো মারাদোনা বলেছিলেন, সে মানুষ হিসেবে সত্যিই খুব ভালো, কিন্তু তার কোনো ব্যক্তিত্ব নেই। নেতা হওয়ার মতো যে স্বভাব বা তেজ দরকার, সেটা তার নেই।

তখনকার দিনে মারাদোনার সঙ্গেই সবসময় তার তুলনা টানা হতো এবং সেটা মেসির বিরুদ্ধেই যেত। অথচ ২৯ বছর বয়স হওয়ার আগেই বার্সেলোনার হয়ে ৮টি লা লিগা, ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ৫টি ব্যালন ডি'অর জিতে ফেলেছিলেন মেসি।

ক্লাব ক্যারিয়ারে মারাডোনা এর ধারেকাছেও ছিলেন না, কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেসির ঝুলিতে তখন একমাত্র বড় সাফল্য বলতে ছিল কেবল ২০০৮ অলিম্পিকের সোনা। অন্যদিকে মারাদোনা ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ প্রায় একাই আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছিলেন।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে তৎকালীন সেই পরিবেশ কল্পনা করাও কঠিন। যেখানে গত দুটি বিশ্বকাপে গ্যালারিজুড়ে শুধুই মেসির জার্সি, পুরো দলটা তৈরি হয়েছিল তাকে কেন্দ্র করে এবং ভক্তরা তাকে প্রায় দেবতার মতো পুজো করে—সেখানে সেই সময় তাকে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

সে দিয়েগোর মতো অতটা ভালো নয়, বড় কোনো ম্যাচে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না, দেশের সব ব্যর্থতার পেছনে সে-ও দায়ী—এমন নানা অভিযোগে তাকে জর্জরিত করা হতো।

জাতীয় দল ছেড়ে চলে যাওয়ার চিন্তা মেসি যে সেবারই প্রথম করেছিলেন, তা কিন্তু নয়।

স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও মেসির জীবনীকার গিলেম বালেগে বলেন, হেরে গেলে লিও ভেতরে ভেতরে ভীষণ ভেঙে পড়ে। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হওয়ার মানসিক চাপ এবং মারাদোনার সাথে প্রতিনিয়ত চুলচেরা বিশ্লেষণ—এসব সে তীব্রভাবে অনুভব করত।

তিনি আরও যোগ করেন, আর্জেন্টিনায় মানুষ তাকে বলত পেচো ফ্রিও (Pecho Frio), যার অর্থ ঠান্ডা বুক। রক্তে তেজ নেই বা শিরার ভেতরে রক্ত না থেকে যেন দুধ বইছে—কাউকে অপমান করার জন্য সেখানে এই কথাটি বলা হতো। তাই ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকায় ব্যর্থ হওয়ার পর, সেটি ছিল তৃতীয় ঘটনা (তবে প্রথমবার জনসমক্ষে), যখন সে জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আগের দুবার সে নিজের ভেতরের ক্ষতগুলোকে গোপনে সারিয়ে তুলেছিল, কিন্তু সেবার সে প্রকাশ্যে এসে বলে দেয় যে সে আর পারছে না। অনেক সময় মেসি নিজেকে ধরে রাখতে পারে না, যা ভাবে তা বানিয়ে না বলে সরাসরি বলে ফেলে।

তবে মারাডোনা বনাম মেসির সেই বিতর্ক এখন নির্দ্বিধায় শেষ। সিংহভাগ মানুষের মতেই মেসিই এখন আর্জেন্টিনার সর্বকালের সেরা। এমনকি অনেকে তো তাকে পেলের সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা হওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে রাখছেন।

একটি প্রচারণা, একটি ভাস্কর্য এবং অজস্র ক্ষমা প্রার্থনা

এমনকি যারা একসময় মেসির কড়া সমালোচনা করেছিলেন, তারাও শেষমেশ তার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। মেসি জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া মাত্রই পুরো আর্জেন্টিনাজুড়ে যেন এক বিশাল ধাক্কা বা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল।

হ্যাঁ, তিনি টানা চারটি ফাইনালে হেরেছিলেন ঠিকই। কিন্তু দিনশেষে তিনিই ছিলেন দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং বিশ্বের সেরা ফুটবলার।

মেসিকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনার জন্য 'গেট মেসি ব্যাক' আন্দোলন মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে। তিনি অবসর নেওয়ার কথা জানানোর মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় সতীর্থরা তাকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অনুরোধ জানান।

যেমন গোলরক্ষক সের্হিও রোমেরো বলেছিলেন, মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার জাতীয় দল আমি ভাবতেই পারি না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় `#NoTeVayasMessi` (যেও না মেসি) হ্যাশট্যাগটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০,০০০ বারেরও বেশি ব্যবহার করা হয়।

বার্সেলোনা তারকাকে সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করতে বোঝাতে ততক্ষণে আর্জেন্টিনার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাউরিসিও মাক্রি নিজে ফোনে মেসির সঙ্গে কথা বলেন।

সে সময় সাংবাদিকদের মাক্রি বলেছিলেন, আমি তাকে বলেছি যে কে কী বলছে তাতে কান না দিতে, কারণ সে যে কাজ করেছে তাতে আমরা সত্যিই অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

এর একদিনের মধ্যেই বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোরাসিও রদ্রিগেজ লারেতা মেসির সম্মানে একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি উন্মোচন করেন এবং সাধারণ মানুষকে তাদের ভালোবাসা জাহির করার আহ্বান জানান।

মেয়র আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন, একজন ফুটবল ভক্ত হিসেবে, লিও, আমি তোমাকে বিনীত অনুরোধ করছি—দয়া করে তোমার সিদ্ধান্তটি আরেকবার ভেবে দেখো।

মধ্য বুয়েনস আইরেসে হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে আসেন, আর রাজধানীজুড়ে রাস্তার সংকেত চিহ্নগুলোতে ভেসে উঠছিল একটাই আকুতি—আর্জেন্টিনার হয়ে যেন মেসি খেলা চালিয়ে যান।

এমনকি মারাদোনাও নিজের সুর বদলে বলেন, ২০১৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দলকে টেনে নেওয়ার জন্য মেসিকে দলে থাকতেই হবে।

সেটি আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছিল, আমরা তাকে কতটা ভালোবাসতাম

কোপা আমেরিকার ব্যর্থতার পর জেরার্দো মার্তিনোর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ২০১৬ সালের অগাস্টে আর্জেন্টিনা দলের কোচ হন এদগার্দো বাউসা। কোচ হিসেবে তিনি মাত্র আট মাস স্থায়ী হয়েছিলেন, তবে তার দায়িত্বকালের প্রথম কয়েকটা দিনই হয়তো ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দায়িত্ব নিয়েই তিনি প্রথম যে কাজটি করেন, তা হলো সোজা বার্সেলোনায় উড়ে গিয়ে মেসিকে মন বদলাতে রাজি করানো। দেশজুড়ে মেসিকে ফেরানোর সেই বিশাল আকুল আবেদন মেসি আর উপেক্ষা করতে পারেননি।

জাতীয় দলে ফেরার কথা জানিয়ে মেসি বলেছিলেন, আমি এই দেশ এবং এই শার্টটাকে বড্ড ভালোবাসি।

তিনি আরও বলেন, যারা চেয়েছিলেন আমি যেন আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা চালিয়ে যাই, তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আশা করি, খুব শীঘ্রই আমরা তাদের মুখে হাসি ফোটানোর মতো কিছু দিতে পারব।

তবে সাফল্য কিন্তু রাতারাতি আসেনি। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা, আর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে মেসির ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন বুঝি চিরতরে শেষ।

কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে, ৩৪ বছর বয়স হওয়ার আগে মেসি দেশের হয়ে কোনো সিনিয়র আন্তর্জাতিক ট্রফি জিততে পারেননি, আর সেখান থেকেই মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তিনি পরপর চারটি বড় ট্রফি জিতে নেন—যার মধ্যে ২০২২ সালের ফিনালিসিমাও রয়েছে।

প্রতিটি ট্রফি জয়ের পরই তার আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে, কিন্তু তিনি খেলা চালিয়ে গেছেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। ২০২৬ সালের সেই বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে ফাইনালে আর্জেন্টিনার হারের পথেও তিনি ৮টি গোল করেন এবং ৪টি অ্যাসিস্ট যোগ করেন।

মাঠে তাকে কেবল ধীরপায়ে হেঁটে বেড়াতে দেখা যাচ্ছিল, আগের সেই দ্রুত গতি আর হয়তো ছিল না, কিন্তু তিনি প্রতিটিতে মুহূর্তেই সমান কার্যকর প্রমাণিত হয়েছেন।

২০২৬ সালের এই ফাইনালটি আয়োজিত হয়েছিল ঠিক সেই স্টেডিয়ামেই, যেখানে ১০ বছর আগে এক হতাশার রাতে মেসি প্রথম 'অবসর' নিয়েছিলেন।

২০১৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ফাইনালের দিনে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকা আর্জেন্টিনার সমর্থক বেঞ্জামিন বলেন, ১০ বছর আগে মেসি যখন অবসর নিয়েছিল, তখন তা আমাদের সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছিল যে আমরা তাকে কতটা ভালোবাসি। যখন শুনলাম সে অবসর নিচ্ছে, আমি কেঁদেছিলাম, পুরো দেশ কেঁদেছিল। সে সমালোচনা পেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তা কেবল এই কারণেই যে সবাই তাকে বড্ড বেশি ভালোবাসত ও তার কাছে অনেক প্রত্যাশা রাখত। লিওনেল মেসি না থাকলে, ১৯৮৬ সালের পর পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনাকে হয়তো আজও পথ চেয়ে বসে থাকতে হতো।

এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র তিন সপ্তাহ পরেই মেসির বাবা হোর্হের প্রয়াণ ঘটে, যার ফলে তার ফুটবল ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।

তবে ৩৯ বছর বয়সে এসে এবার তার নেওয়া এই বিদায়ের সিদ্ধান্তটি একেবারেই চূড়ান্ত বলেই মনে হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার আর কোনো নতুন প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

তবে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল বিশেষজ্ঞ টিম ভিকারি মনে করছেন, আর্জেন্টিনায় মেসির জন্য একটি অফিসিয়াল বা রাজকীয় বিদায়ী ম্যাচের ব্যবস্থা করা হতে পারে।

বিবিসি রেডিও ৫ লাইভ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভিকারি বলেন, মনে রাখবেন, বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের আচরণের কারণে শাস্তি হিসেবে আর্জেন্টিনার মাটিতে খেলা পরবর্তী ম্যাচটিতে কেবল ৫০% দর্শক প্রবেশের অনুমতি থাকবে। কিন্তু সেই শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেই আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিশ্চিতভাবেই চিন্তা করবে: কেন বুয়েনস আইরেসে আমরা একটি বিদায়ী ম্যাচের আয়োজন করছি না? রিভার প্লেটের স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা পুরো দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। কেন আমরা সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিদায় জানাচ্ছি না? কেমন হয় ভাবনাটা, লিও? শেষবারের মতো আর একটিবার?

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%