সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫১ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, যা একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণ, বাজেট অনুমোদন, প্রশাসনিক জবাবদিহি ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অন্যতম প্রধান ফোরাম, দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিবছর অন্তত একবার সিনেটের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সেই সিনেটের অধিবেশন গত এক দশক ধরে অনুষ্ঠিত হয়নি। এক বছর বা দুই বছরের কথা নয়, টানা প্রায় দশ বছর ধরে সিনেটের কোনো অধিবেশন বসেনি।
সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের ২২তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর কেটে গেছে প্রায় ১০ বছর, যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক প্রশাসন এসেছে, উপাচার্য বদলেছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সিনেটের নিয়মিত অধিবেশন আর অনুষ্ঠিত হয়নি।
সিনেট ভবনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সভা-সেমিনার ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও, সিনেটের মূল কাজ, অর্থাৎ অধিবেশন বসানো হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিনেট ভবনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের তথ্য রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, উপাচার্য বছরে অন্তত একবার সিনেটের সভা ডাকবেন। অধ্যাদেশের ২০(১) ধারা অনুযায়ী, সিনেটের সদস্য সংখ্যা ১০৫ জন। উপাচার্য পদাধিকারবলে সিনেটের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, এবং উপ-উপাচার্যদ্বয়, কোষাধ্যক্ষ সদস্য এবং রেজিস্ট্রার সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া, সরকারের মনোনীত পাঁচজন, স্পিকারের মনোনীত পাঁচজন সংসদ সদস্য, আচার্যের মনোনীত পাঁচজন শিক্ষাবিদ, সিন্ডিকেট মনোনীত গবেষণা সংস্থার পাঁচজন প্রতিনিধি, শিক্ষা পরিষদ মনোনীত পাঁচজন কলেজ অধ্যক্ষ, শিক্ষা পরিষদ মনোনীত ১০ জন কলেজ শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়-অধিভুক্ত শিক্ষা বোর্ডের দুই চেয়ারম্যান, নিবন্ধিত গ্র্যাজুয়েটদের ভোটে নির্বাচিত ২৫ জন, শিক্ষকদের ভোটে নির্বাচিত ৩৩ জন এবং শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত পাঁচজন প্রতিনিধি সিনেটের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের অচলাবস্থা নতুন নয়। এর আগে ২০০১ সালের ২৮ ও ২৯ জুন ২০তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ ১৪ বছর আর কোনো অধিবেশন হয়নি। পরে ২০১৫ সালের ১৮ মে ২১তম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সেই অচলাবস্থা ভাঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানউদ্দীন।
এর এক বছর পর, ২০১৬ সালের ১৯ মে, তার সভাপতিত্বে ২২তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেটিই এখন পর্যন্ত রাবি সিনেটের সর্বশেষ অধিবেশন।
দীর্ঘদিন পর ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর রাকসু ও সিনেট শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরাসরি ভোটে পাঁচজন শিক্ষার্থী সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়, এবার হয়তো সিনেটের অচলাবস্থার অবসান হবে।
তবে নির্বাচনের প্রায় ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের শপথ হয়নি। অনুষ্ঠিত হয়নি সিনেটের কোনো অধিবেশনও। ফলে ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পরও সিনেটের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি তাঁদের।
রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) ও সিনেট সদস্য মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আরটিভিকে বলেন, "শিক্ষার্থীদের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পরও তাদের শপথ না হওয়া এবং সিনেটের অধিবেশন অনুষ্ঠিত না হওয়া বিব্রতকর।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় সিনেট একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট, প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং উপাচার্য নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সিনেটের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
সিনেটের গুরুত্ব তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ও তিনবারের সাবেক ডিন ড. ফজলুল হক আরটিভিকে বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সিনেট কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। অনেক দিন ধরেই সিনেট বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করে, শুধু শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছে, তাই সিনেট দরকার—বিষয়টি এমন নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এই সিনেটেই গ্রহণ করা দরকার।"
দীর্ঘদিন ধরে সিনেটের কার্যক্রম অচল থাকায় দ্রুত এটি সচল করার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও নির্বাচিত সিনেট প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, সিনেট সক্রিয় হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণে বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক জবাবদিহি ও স্বচ্ছতাও বাড়বে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত পাঁচজন প্রতিনিধি এখনো শপথ না নেওয়ায় দ্রুত শপথ আয়োজন এবং সিনেটের অধিবেশন আহ্বানের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
রাকসুর এজিএস ও সিনেট সদস্য সালমান সাব্বির আরটিভিকে বলেন, "সিনেট দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকলেও সেখানে শিক্ষার্থীদের কোনো প্রতিনিধি ছিল না। রাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে এবার আমরা পাঁচজন শিক্ষার্থী সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত সিনেট কার্যকরের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেখা যায়নি। বিগত ও বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার এ বিষয়ে কথা বললেও তারা নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। এটি প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব। আমরা দ্রুতই সিনেট কার্যকর চাই।"
দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে সিনেটের কোনো অধিবেশন না হওয়ায় কবে এই অচলাবস্থার অবসান হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নতুন করে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও তাদের শপথ ও সিনেটের অধিবেশন এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হওয়ার পরও সিনেট কার্যকর না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিনেটের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম আরটিভিকে বলেন, "সিনেট কার্যকরের বিষয়টি আমরা চিন্তাভাবনায় রেখেছি। আশা করি, কিছুদিনের মধ্যেই সিনেটের অধিবেশন আয়োজন করতে পারব। কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা রয়েছে। সেগুলো সমাধান করে যত দ্রুত সম্ভব আমরা সিনেটের কার্যক্রমের দিকে এগোচ্ছি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহিবুল্লাহ মুবিন, যিনি মুবিন মাঝি (৩০) নামে পরিচিত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহরে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশ করার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় আদালতের নির্দেশে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর আগে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হেলমেট পরিহিত অবস্থায় মুবিন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে গাড়িবহরের ভেতরে প্রবেশ করেন। এক পর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পতাকাশোভিত গাড়ির বাঁ পাশের জানালার কাছে চলে আসেন। চলন্ত অবস্থায় কালো গ্লাসের জানালার দিকে হাত উঁচিয়ে সালামও দেন তিনি।তার আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে তেজগাঁও থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।
আটকের পর তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুনিরুজ্জামান জানান, মুবিনের দেহতল্লাশি করা হলেও তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। তবে তার আচরণ রহস্যজনক ছিল। বাবুগঞ্জ এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মুবিন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক ইউনুস মাঝির পুত্র। তিনি ঢাকায় রাইড শেয়ারিংয়ের কাজ করতেন বলে জানা গেছে।পুলিশ জানিয়েছে, তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সাবেক অর্থ, পরিকল্পনা ও বাণিজ্যমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান তার অবদান এবং অর্জনের কারণে শুধু বিএনপির গৌরব নন, তিনি গোটা জাতির সম্পদ।
তিনি বলেন, সাইফুর রহমান এ জাতির সম্পদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের গৌরব। নানা কারণ ও অবদানের জন্যে তিনি জাতির সম্পদ।
মরহুম এম সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাইফুর রহমান যখন ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) চালু করেন, তখন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক সমালোচনা করা হয়েছিল। ১৯৯১ সালে এটি চালুর সময় সংসদে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগও ভ্যাট ব্যবস্থা বন্ধ বা বাতিল করতে পারেনি।
তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটা প্রাণ সঞ্চার করেছিল। এটা সাইফুর রহমানের অবদান।’
সাইফুর রহমানের ব্যবস্থাপনা দক্ষতার প্রশংসা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিরোধী দলেও থাকা অবস্থায় বিএনপির রাজনৈতিক বিরোধীরা তার ব্যক্তি হিসেবে উচ্চতা, ম্যানেজমেন্ট ক্যাপাসিটি এবং অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়ে সেভাবে সমালোচনা করতে পারেনি। কারণ দেশের জনগণের মধ্যে তার দক্ষতা ও যোগ্যতা সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল।
তিনি বলেন, সাইফুর রহমান এমন একজন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপক ছিলেন, যিনি টাকা পাচার, ব্যাংক লুট ও ব্যাংকের টাকা নিয়ে সরকারের ঘাটতি বাজেট পূরণের মতো ঘটনা ঘটতে দেননি। তার সময়ে ব্যাংক ছিল ব্যাংকের জায়গায় এবং বাজেট নিজস্ব ট্যাক্স কালেকশনের মাধ্যমে প্রণয়ন করা হতো বলে উল্লেখ করেন রিজভী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘পরবর্তী ১৭ বছর ছিল লুটপাটের অর্থনীতি, লুটপাটের বাজেট। গোটা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ফাঁকা এবং খোকলা করে দেওয়া হয়েছে। লুটপাট এবং টাকা পাচার যেন আমাদের অর্থনীতির একটা সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, সাইফুর রহমানের লক্ষ্য ছিল ব্যক্তিকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং নিজের পায়ে দাঁড় করানো। কীভাবে একজন ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করা যায়, কীভাবে তাঁকে অর্থনৈতিকভাবে নিজের পায়ে দাঁড় করানো যায়—সাইফুর রহমান তা জানতেন।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, সাইফুর রহমান যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন এবং বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তখন শেয়ারবাজার লুট হয়নি। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাঁর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সময় শেয়ারবাজারে অনিয়ম ঠেকাতে তিনি যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে একটি পশ্চাৎপদ ও দরিদ্র দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে সাইফুর রহমান তার মেধা, দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার যোগ্যতা কাজে লাগিয়েছিলেন। এ কারণে আন্তর্জাতিকভাবেও তিনি সম্মানিত হয়েছেন।
রুহুল কবির রিজভী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের ঘোষণা, খাল কাটার কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষামূলক উদ্যোগের মধ্যে জনকল্যাণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আবারও দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দিকে নিয়ে যাবে এবং দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্য সম্পূর্ণভাবে বিমোচন হয়ে দেশ একটি সমৃদ্ধশালী জাতিতে পরিণত হবে—এটাই দেশের মানুষের প্রত্যাশা।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ জি.কে গউছ। ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এম নাসের রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগে অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান, একটি কার্তুজ ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. জাবেদ হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, রোববার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণপুর এলাকার কালা মিয়ার বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার জাবেদ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণপুর গ্রামের মো.সিরাজ উদ্দিন মিন্টুর ছেলে।
পুলিশ জানায়, নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে সেনবাগ থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে জাবেদ হোসেনের বসতঘরের শয়নকক্ষে তোষকের নিচ থেকে একটি দেশীয় তৈরি লোহা ও কাঠ সংযুক্ত পাইপগান, একটি কার্তুজ এবং দুটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। পরে অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষণের অভিযোগে জাবেদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ আরও পেয়ার জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সেনবাগ থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ