১০:৪৪ পি.এম
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সততা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতাকে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, সরকার এলাকার উন্নয়নে বরাদ্দ দিতে পারে, তবে যদি জনপ্রতিনিধি অসৎ হন, তাহলে সেই অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় না হয়ে ব্যক্তির পকেটে চলে যাবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের হাজীপুর দরবার শরিফে ‘দয়াল বাবা আবুল চান হাজীপুরী স্মরণে ভক্ত মেলা ও বিশেষ সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, মানিকগঞ্জ পীর-ফকির, সুফি সাধক ও বাউলদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের জেলা। এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রাখেন।
আরও পড়ুন: ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে গ্রেপ্তার লালবাগের সার্ভেয়ার
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার ও দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর, কবর থেকে লাশ তুলে নির্যাতন এবং পুড়িয়ে ফেলার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এসব অপকর্ম প্রতিরোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সাধক ও দরবার শরিফ থেকে মানুষ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও মানবতার শিক্ষা লাভ করে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আফরোজা খানম রিতা বলেন, জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সময় প্রার্থীর দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি সততা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু সরকারি বরাদ্দ আনলেই এলাকার উন্নয়ন হয় না, বরং সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, মন্ত্রী হিসেবে আমি এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নে বরাদ্দ আনার চেষ্টা করব। কিন্তু সৎ ও যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত না হলে সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে না। বরাদ্দ আনতে পারব, তবে তা যথাযথভাবে কাজে লাগানোর দায়িত্ব চেয়ারম্যানের।
চেয়ারম্যান নির্বাচনে নিজের কোনো ভূমিকা নেই উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এ নির্বাচনে আমার কোনো হাত নেই। এমনকি আমি একটি ভোটও দিতে পারব না। তবে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করার দায়িত্ব ভোটারদের নিতে হবে।
আরও পড়ুন: তথ্য উপদেষ্টা ‘আমার দেশ’ ছেঁড়ার ঘটনায় মন্তব্য করতে চাননি
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাজীপুর দরবার শরিফের পীর মো. আতাউর রহমান। আয়োজক ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মো. মোশাররফ হোসেন চাঁন ও আফরোজা বেগম ডলি।
এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নুরতাজ আলম বাহার, অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খান, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ পারভেজ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মাল্যদান, বস্ত্র বিতরণ, বিশেষ সংবর্ধনা ও তবারক বিতরণ করা হয়। পরে লালন সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনা ও কামালের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেবে প্রসিকিউশন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন