ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগে বাংলা কিউআরের গুরুত্ব বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক


স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগে বাংলা কিউআরের গুরুত্ব বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করছে। হাসপাতালের টিকিট ও বিভিন্ন ফি পরিশোধ, স্কুলের বেতন এবং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কেনাকাটা থেকে শুরু করে সড়ক ও সেতুর টোল পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর চালুর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মানুষের নিয়মিত সম্পৃক্ততার এসব ক্ষেত্রে নগদ লেনদেন কমানোর চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, বাংলা কিউআর চালু হলে এসব খাতে লেনদেন সহজ ও দ্রুত হবে এবং নগদ অর্থ ও ভাংতির সমস্যাও হ্রাস পাবে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলা কিউআর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান আরিফ হোসেন খান।

আরও পড়ুন: পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কমাতে ব্যাংক পর্ষদে নতুন ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

জানা গেছে, ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলা কিউআরকে আরও সহজ, নিরাপদ ও ব্যয়সাশ্রয়ী পেমেন্ট মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী তিন মাসে একাধিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে। ইতোমধ্যে বাংলা কিউআরের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত জুনের তুলনায় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং লেনদেনের অর্থমূল্য বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। বর্তমানে বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী মার্চেন্টের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখে পৌঁছেছে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতির প্রতিটি লেনদেনের একটি ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট তৈরি করা। দেশের অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে অর্থনীতির প্রকৃত আকার আরও বড় হবে। এ কারণে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার প্রায় ৫১০ বিলিয়ন ডলার। ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির লেনদেনগুলোও যদি হিসাবের আওতায় আনা যায়, তাহলে প্রকৃত অর্থনীতির আকার আরও বড় হতে পারে। এ ধরনের বড় অর্থনীতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের বাজারকে আরও দৃশ্যমান করে তুলবে।

তিনি বলেন, বিদেশিরা কোনো দেশে বিনিয়োগের আগে সেখানে বাজার আছে কি না এবং বাজারের আকার কত- তা বিবেচনা করে। বাংলাদেশকে যদি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এ দেশে বিনিয়োগে আরও আগ্রহী হবে। আর এ লক্ষ্য অর্জনে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: অক্টোবরের ২৬ দিনে দেশে এসেছে ২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, দেশের বড় অঙ্কের লেনদেন সাধারণত ক্যাশলেস পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। কিন্তু ছোট ছোট দৈনন্দিন লেনদেন এখনো মূলত নগদনির্ভর। মুদি দোকান, বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় অল্প অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ অর্থের ব্যবহার বেশি। এই ছোট লেনদেনগুলোকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনতে বাংলা কিউআর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, নগদ লেনদেনে নানা ধরনের বিড়ম্বনা রয়েছে। বাজারে নিম্ন মূল্যমানের নোটের সংকট রয়েছে। অনেক সময় ক্রেতার কাছে ৫০ টাকার নোট থাকলেও ১০ বা ২০ টাকার ভাংতি পাওয়া যায় না। আবার পুরোনো ও মলিন নোট নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়। এসব কারণে লেনদেনে সময় লাগে, কখনো ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বিরোধও তৈরি হয়। বাংলা কিউআরের মাধ্যমে এসব সমস্যা অনেকটাই দূর করা সম্ভব।

আরিফ হোসেন খান বলেন, গত ১ জুলাই থেকে সর্বস্তরে বাংলা কিউআর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা চালু করা হয়েছে। এরপর গত তিন মাস ধরে বাস্তবে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে, সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এখন সেসব বাধা দূর করতেই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলা কিউআর চালুর পর ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন প্রায় চার গুণ বেড়েছে। সর্বশেষ এক সপ্তাহে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। একই সময়ে মার্চেন্টের সংখ্যাও প্রায় তিন গুণ বেড়ে বর্তমানে ৪০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: সার আমদানি কমাতে তিনটি বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ

তবে এখনো বাংলা কিউআর ব্যবহারে অন্যতম সমস্যা হিসেবে ফি বা চার্জের বিষয়টি রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যবসায়ী পণ্য বিক্রি করার পর যদি তার প্রাপ্য অর্থের একটি অংশ কেটে রাখা হয়, তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের লেনদেনে উৎসাহিত হবেন না। তাই ব্যবসায়ীদের জন্য বিষয়টি কীভাবে সহজ ও ব্যয়সাশ্রয়ী করা যায়, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে বিভিন্ন সমাধান বের করা হয়েছে।

বাংলা কিউআরের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এর আন্তঃব্যবহারযোগ্যতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে কোনো মার্চেন্ট একটি নির্দিষ্ট মোবাইল আর্থিক সেবা বা ব্যাংকের কিউআর ব্যবহার করলে অন্য প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সেখানে পেমেন্ট করতে পারতেন না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো মার্চেন্ট বিকাশের কিউআর ব্যবহার করলে নগদের গ্রাহক সেখানে পেমেন্ট করতে পারতেন না। একইভাবে কোনো ব্যাংকের গ্রাহক অন্য প্রতিষ্ঠানের কিউআর থাকলে সমস্যায় পড়তেন।

কিন্তু বাংলা কিউআরের মাধ্যমে এই সমস্যা দূর হয়েছে বলে জানান তিনি। এখন একটি সার্বজনীন কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা ও পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা লেনদেন করতে পারবেন। ফলে সবাই একটি অভিন্ন ব্যবস্থার আওতায় চলে এসেছে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি আমদানির দায় মেটানোর চাপে বাড়ল ডলারের দাম

আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলা কিউআরকে জনপ্রিয় করার জন্য গভর্নরের নেতৃত্বে একটি স্টিয়ারিং কমিটি এবং ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি কার্যকরী কমিটি কাজ করছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা যুক্ত রয়েছেন।

তিনি বলেন, শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা দিয়ে বাংলা কিউআরের ব্যবহার দ্রুত বাড়ানো সম্ভব নয়। এ কারণে দেশের প্রায় ১৯টি জেলায় বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বাংলা কিউআরে কী ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকলে এটি মানুষের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে এবং কী ধরনের খরচ হলে এটি সবার জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী হবে-এসব বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে।

আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরকে আরও জনপ্রিয় করতে কয়েকটি পদক্ষেপ কার্যকর হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু পদক্ষেপ ১ নভেম্বর থেকে এবং আরও কিছু পদক্ষেপ নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বছরের শেষ নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে। এসব পদক্ষেপ চালু হলে আগামী তিন মাসে গত তিন মাসের তুলনায় আরও দ্রুত অগ্রগতি হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলা কিউআর ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। স্বাস্থ্য খাতে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কেনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় ১০ টাকার টিকিট কিনতে ৫০ টাকার নোট দিলে ভাংতি পাওয়া যায় না। এতে লাইনে অপেক্ষার সময় বাড়ে। বাংলা কিউআর থাকলে মোবাইল ফোন দিয়ে স্ক্যান করে সরাসরি অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

আরও পড়ুন: এনএসইজেডের সমস্যা ৩ মাসে সমাধান হবে : প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

শিক্ষা খাতেও বাংলা কিউআর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্কুলের বেতন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের ক্যান্টিনে খাবার কেনা, স্টেশনারি, পেন্সিল, ইরেজার, শার্পনার বা জ্যামিতি বক্স কেনার মতো ছোট লেনদেনও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে করা সম্ভব। ইতোমধ্যে বেসরকারি স্কুলের বেতন ক্যাশলেস করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব পেমেন্ট বাংলা কিউআরের মাধ্যমে করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

যোগাযোগ খাতেও বাংলা কিউআর ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন সড়কের টোল প্লাজায় দীর্ঘ লাইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টোল পরিশোধের ক্ষেত্রেও কিউআর ব্যবহার করা গেলে সময় কমানো সম্ভব। এতে নগদ অর্থের প্রয়োজন হবে না এবং টোল আদায়ের প্রক্রিয়াও আরও দ্রুত করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, যেসব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন সম্পৃক্ততা সবচেয়ে বেশি, সেসব খাতে দ্রুত ক্যাশলেস ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বাংলা কিউআরের উপযোগিতা, এর সুবিধা এবং বাস্তবায়নের বিষয়গুলো তাদের জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলা কিউআর বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নির্দেশনাও প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিলে বাস্তবায়ন আরও দ্রুত হবে।

আরও পড়ুন: পপুলার ও কেএনএস কানাডার ফাইব্রোস্ক্যান সেবা নিয়ে নতুন সমঝোতা

আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলা কিউআরকে শুধু একটি পেমেন্ট পদ্ধতি হিসেবে নয়, দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অবকাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী তিন মাসে নতুন পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে এবং দৈনন্দিন ছোট লেনদেনের বড় একটি অংশ ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজার তরুণদের রোবট তৈরির উদ্যোগ, প্রতিকূলতার মধ্যেও উদ্ভাবনী সক্ষমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


গাজার তরুণদের রোবট তৈরির উদ্যোগ, প্রতিকূলতার মধ্যেও উদ্ভাবনী সক্ষমতা

গাজার একদল তরুণ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সরঞ্জাম পাওয়ার ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, সেখানে হাতে থাকা সামান্য যন্ত্রাংশ দিয়েই রোবট তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সীমিত উপকরণ ও সংকুচিত সুযোগ সত্ত্বেও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার তাদের আগ্রহ থামাতে পারেনি।

গাজা সিটিতে অনুষ্ঠিত একটি প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে উদ্ভাবকেরা ফেলে দেওয়া এবং সহজলভ্য বিভিন্ন যন্ত্রাংশকে নতুনভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। এসব উপকরণ ব্যবহার করে তারা তৈরি করছেন বিভিন্ন ধরনের রোবট ও প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্র। নিজেদের প্রয়োজন ও ধারণা অনুযায়ী এসব যন্ত্রকে সচল করার চেষ্টা করছেন তারা।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তরুণদের এই উদ্যোগ প্রযুক্তির প্রতি তাদের আগ্রহ এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতার পরিচয় প্রদান করছে। নতুন যন্ত্র বা উপকরণ পাওয়া কঠিন হলেও, তারা হাতে থাকা জিনিস দিয়েই বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজছেন।

এই আয়োজন শুধু রোবট তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গাজার তরুণ প্রকৌশলী ও প্রোগ্রামারদের নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগানোর এবং একসঙ্গে শেখার সুযোগও তৈরি করেছে এটি। তারা দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন রোবট তৈরির প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন এবং পাশাপাশি নিজেদের ধারণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করছেন।

অর্থনৈতিক সংকট ও অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এমন উদ্যোগ গাজার তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে নিয়ে আসছে। সীমিত উপকরণ ও সুযোগের মধ্যেও তারা দেখাচ্ছেন, নতুন কিছু তৈরির জন্য সবসময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। কৌতূহল, সৃজনশীলতা এবং শেখার আগ্রহ উদ্ভাবনের পথ তৈরি করতে পারে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসির ‘১০’ নম্বর জার্সি পাওয়ার তালিকায় ৫ সম্ভাব্য নাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


মেসির ‘১০’ নম্বর জার্সি পাওয়ার তালিকায় ৫ সম্ভাব্য নাম

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেও লিওনেল মেসির ‘নাম্বার টেন’ জার্সি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই নম্বরের সঙ্গে এমএলটেনের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের এই নম্বরের জার্সিটি কার গায়ে উঠবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার ও রাজনীতিক কার্লোস ম্যাক অ্যালিস্টার মনে করেন, মেসির পরপরই কাউকে ১০ নম্বর জার্সি দেওয়া উচিত নয়। বরং কিছু মাস সময় নিয়ে সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের পর্যবেক্ষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

ইএসপিএনে দেওয়া বক্তব্যে ম্যাক অ্যালিস্টার বলেন, “আমি কাউকেই ১০ নম্বর দেব না।” তবে তিনি পাঁচজন খেলোয়াড়ের নাম প্রস্তাব করেছেন। এই তালিকায় রয়েছে ৫ জন খেলোয়াড়।

তার প্রস্তাব অনুযায়ী, মেসির পর নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত কয়েকজন খেলোয়াড়কে পর্যায়ক্রমে ১০ নম্বর জার্সি পরানো যেতে পারে। এরপর তাদের পারফরম্যান্স ও দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে স্থায়ী উত্তরসূরি বেছে নেওয়া হবে।

সম্ভাব্য পাঁচ খেলোয়াড় হিসেবে উঠে এসেছে এনজো ফার্নান্দেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও নিকো পাজের নাম।

তবে মেসির উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা চললেও আর্জেন্টিনার অধিনায়কত্বের উত্তরসূরি ইতোমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে। কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসির পর ক্রিস্তিয়ান রোমেরো জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করবেন। মেসি ও নিকোলাস ওতামেন্দির পর অধিনায়কত্বের ক্রমে রোমেরো তৃতীয় ছিলেন।

অর্থাৎ আর্জেন্টিনার নেতৃত্বের দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, সেটি স্পষ্ট হলেও মেসির ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সির নতুন মালিক কে হবেন, সেই সিদ্ধান্তের জন্য এখনো অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহে শনিবার ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৬ পি.এম


ঝিনাইদহে শনিবার ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে

ঝিনাইদহে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের জন্য আগামী শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এ তথ্যটি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো), ঝিনাইদহ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যাম্পাস ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের আওতাধীন ১১ কেভি শিল্পকলা, ক্যাডেট কলেজ, ভাটাই, সার্কিট হাউজ, জেলখানা, আরাপপুর এবং ডিসি কোর্ট ও অফিস ফিডারের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

বিদ্যুৎ বন্ধের আওতাধীন এলাকাগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে- এইচএসএস রোড, মদন মোহন পাড়া, পোস্ট অফিস মোড়, আরাপপুর, দুঃখী মাহমুদ রোড, উকিলপাড়া, নেভি অফিস এলাকা, মহিষাকুণ্ড, আইএইচটি, পুরাতন হাটখোলা, জাগড় মোড়, ময়ূরাপুর, লক্ষ্মীকোল, কাঞ্চনপুর, গোপীনাথপুর, খাজুরা, সেলিম চৌধুরী সড়ক, আমতলা, পাগলাকানাই সড়ক, ব্যবসায়ীপাড়া, পূজা মন্দির এলাকা, নতুন কোর্টপাড়া, ডিসি অফিস, এসপি অফিস, ভাটাই বাজার, নাকোশাল, গাবলা, কুলচারা ও মুড়ারীদহসহ সংশ্লিষ্ট ১১ কেভি ফিডারের আওতাধীন এলাকা।

ওজোপাডিকো জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পূর্বে কাজ শেষ হলে আগাম বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হতে পারে। কর্তৃপক্ষ সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দৌলতপুরে নজরুল বর্ষে ‘নজরুলের সৃষ্টি কর্মের উপর’ সেমিনার অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৬ পি.এম


দৌলতপুরে নজরুল বর্ষে ‘নজরুলের সৃষ্টি কর্মের উপর’ সেমিনার অনুষ্ঠিত

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে ‘নজরুলের সৃষ্টি কর্মের উপর’ একটি আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই সেমিনারটি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার বেলা ১১:০০ ঘটিকায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব সিলভিয়া স্নিগ্ধা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি প্রবীর বিশ্বাস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফে আল মুঈজ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মঈনুল ইসলাম, এবং মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ লোকমান হোসেন।

এছাড়া, দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপ্ন কুমার, দৌলতপুর সরকারি মতিলাল ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আমিরুল ইসলাম, এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর ফিরোজ।

সেমিনারে বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, সঙ্গীত ও অনবদ্য সৃষ্টিকর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, নজরুলের সাহিত্য ও চিন্তাধারা আমাদের সমাজে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্য ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। অতিথিরা তরুণ প্রজন্মের কাছে নজরুলের সৃষ্টিকে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকবৃন্দ উক্ত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%