ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মোহনপুরে পারিবারিক বিরোধের কারণে একজনকে পিটিয়ে হত্যা


মোহনপুরে পারিবারিক বিরোধের কারণে একজনকে পিটিয়ে হত্যা

রাজশাহী অঞ্চলের মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের হরিহরপাড়া গ্রামে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর রাজ্জাক, বয়স ৫৫ বছর।

এই ঘটনার সময় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুর রাজ্জাক মৌগাছি ইউনিয়নের হরিহরপাড়া গ্রামের ভুগর মণ্ডলের ছেলে।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের মধ্যে আম নামানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষের সময়ে আব্দুর রাজ্জাককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। সংঘর্ষের ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হবে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুশান্তের মৃত্যুর পর হাজতবাসের তিক্ত স্মৃতি এখনও তাজা! এ বার রিয়া কোন প্রতিশোধের কথা জানালেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:০৪ এম


সুশান্তের মৃত্যুর পর হাজতবাসের তিক্ত স্মৃতি এখনও তাজা! এ বার রিয়া কোন প্রতিশোধের কথা জানালেন?

এক সময় ‘ডাইনি’ অপবাদ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। বলা হয় রিয়া নাকি ‘কালো জাদু’ জানেন। আর এই অবস্থার প্রতিশোধ নিতে চান রিয়া!

সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যুর পর রিয়া চক্রবর্তীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল। এই ঘটনার পর মাল্টিপল ড্রাগ সংক্রান্ত কারণে একজন মাসের জন্য কারাবাসেও থাকতে হয়েছিল তাঁকে। পরবর্তীতে, তিনি আদালত থেকে সমস্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। তবে হাজতবাসের স্মৃতি এখনও তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। রিয়া নিজের শান্তি খুঁজে পেতে ভুলে গিয়েছেন। তাঁর চরিত্র নিয়ে নিরন্তর কাঁটাছেড়া হয়েছে। একটা সময়ে তাঁকে ‘ডাইনি’ অপবাদও দেওয়া হয়েছিল। শুনা যাচ্ছে যে, এবার নাকি সে সবের প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত এই কন্যা!

২০২০ সালের ১৪ জুন সুশান্তের মৃত্যু ঘটে। সুশান্তের মৃত্যুর মাত্র ছ’দিন আগে রিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল। অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, সুশান্তের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগও উঠেছিল। তাঁর নামও মাদকযোগে শামিল হয়েছিল। সে জন্য তিনি এক মাস সংশোধনাগারে ছিলেন। মানসিকভাবে তখন কেমন অবস্থায় তিনি ছিলেন, সেই বিষয়ে আগেই বহুবার কথা বলেছেন রিয়া।

সম্প্রতি, চ্যাট শো ‘ডাবল ডেট’-এ ভাই শৌভিক চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে যান রিয়া। সেখানে তিনি এই মানসিক কষ্টের কথা বলেছিলেন। সুশান্তের রহস্যজনক মৃত্যুর পর কীভাবে তাঁর চরিত্র নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলেছিল, সেটার উপরও আলোকপাত করেন। ‘ডাইনি অপবাদে’ কীভাবে তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিল, তা তিনি বর্ণনা করেন। রিয়া বলেন, “এমন এক পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি বের হয়ে আসা সম্ভব নয়। এটা এমন এক ট্রমা যার প্রভাব মনের পাশাপাশি শরীরেও পড়ে। এই ক্ষত সারিয়ে তোলা একদম সোজা নয়। সত্যি বলতে, আমাদের ‘পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’ হয়ে গিয়েছে। যখন কেউ বাড়িতে বেল বাজায়, তখন সেখানেও আতঙ্ক হওয়া স্বাভাবিক। আপনি থেরাপি নিয়ে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারেন। কিন্তু আমাদের পরিস্থিতি যেহেতু গোটা দেশের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল, তাই এটি মনে গেঁথে গিয়েছে।”

এই ঘটনার পর অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। বেশ কয়েক বছর বড় কিংবা ছোট পর্দায় রিয়াকে দেখা যায়নি। তারপরে, তিনি একটি পোশাক সংস্থা খোলেন। সেই সংস্থার নাম রাখা চেয়েছিলেন ‘চুড়েল কা বদলা’। বাংলায় এটি ‘ডাইনির প্রতিশোধ’ হিসাবে অনুবাদ হয়। এই নাম নির্বাচনের পিছনে রিয়ার যুক্তি হলো, “এলে সমাজ যেভাবে আমাকে অপবাদ দিয়েছিল, তার প্রেক্ষিতেই এটি ছিল। এমনকি আমি মজার সব টি-শার্ট তৈরির কথাও ভাবতে হয়েছিল। কিন্তু সবাই আমাকে নেতিবাচক ভাবে চিন্তা করতে বারণ করেছিল। আমি তো ‘ব্ল্যাক শিপ’ লেখা ব্রেসলেটও তৈরি করিয়েছিলাম, কারণ তখন আমাদের ঠিক তেমনই মনে হয়েছিল। সমাজের চোখে আমরা যেন ‘ব্ল্যাক শিপ’, একেবারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিলাম।” রিয়া অবশ্য জানিয়েছেন, এমন কঠিন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে শান্ত থাকতে তাঁকে সাহায্য করেছে হনুমান চালিশা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

করাচিতে রেঞ্জার্স সদর দপ্তরে সশস্ত্র হামলা, ৭ জন নিহত হয়েছে, ৩ নিরাপত্তাকর্মীসহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:০৫ এম


করাচিতে রেঞ্জার্স সদর দপ্তরে সশস্ত্র হামলা, ৭ জন নিহত হয়েছে, ৩ নিরাপত্তাকর্মীসহ

পাকিস্তানের করাচিতে সিন্ধু রেঞ্জার্স সদর দপ্তরে সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৩ নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে যে, এ ঘটনায় ৪ হামলাকারীও নিহত হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় করাচির পূর্বাঞ্চলের গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আলজাজিরার একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

সিন্ধু পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জাভেদ আলম ওধো জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরের প্রধান ফটকে আঘাত করে। এরপর কয়েকজন ভারি অস্ত্রধারী হামলাকারী সদর দপ্তরে ঢুকে পড়ে।

তবে এসময় বিস্ফোরণ ঘটেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

এদিকে ঘটনার পর সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলি শাহ হামলার বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে একটি বিবৃতি দেন। এবিবৃতিতে তিনি বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

হামলার পর আশপাশের পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। সেখান থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট (এসএসইউ), অ্যান্টি-টেররিস্ট ফোর্স এবং রেঞ্জার্স সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছেন।

এখন পর্যন্ত কোনও সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলার ঘটনা বেড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মির্জাপুর মহাসড়কে মোটরসাইকেল ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় একজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৭ এম


মির্জাপুর মহাসড়কে মোটরসাইকেল ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় একজন আটক

মির্জাপুরে মহাসড়কে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের প্রচেষ্টার ঘটনায় মোটরসাইকেল ছিনতাইকারী হিসেবে মিজানুর রহমান নামের এক যুবককে আটক করে জনতা। গণপিটুনির মাধ্যমে তাকে রক্ষিত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে পুলিশকে সোপর্দ করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার বাওয়ার কুমারজানী মধ্যপাড়ায় এটি ঘটে। জানা গেছে, মিজানুর রহমানের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলা সদরে।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছিনতাইকারীরা একটি প্রাইভেটকার নিয়ে মহাসড়কের ওই স্থানে ঢাকাগামী একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। ফলে মোটরসাইকেল আরোহী আহত হয়ে মহাসড়কে পড়ে যান।

পরে, ছিনতাইকারীরা ওই মোটরসাইকেলটি তুলে পালানোর চেষ্টা করে।

এ সময় মোটরসাইকেল চালকের চিৎকারে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। জনতার উপস্থিতি দেখে ছিনতাইকারীরা প্রাইভেট কার নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তাদের একজন সদস্য গাড়িতে উঠতে ব্যর্থ হন এবং স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন।

পরে খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং ছিনতাইকারীকে উদ্ধার করে।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সঠিকতা নিশ্চিত করে জানান, অন্য পলাতক ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করার কার্যক্রম শুরু হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতালিতে ট্রিপল মার্ডার: মা এখনও জানেন না তার একমাত্র ছেলে বেঁচে নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:২১ এম


ইতালিতে ট্রিপল মার্ডার: মা এখনও জানেন না তার একমাত্র ছেলে বেঁচে নেই

প্রায় ৬০ বছর বয়সী জাহানারা বেগমের সংসারে রয়েছে এক ছেলে এবং পাঁচটি মেয়ে। তার একমাত্র ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল ছিল তার সকল স্বপ্ন, নির্ভরতা এবং বেঁচে থাকার উৎস। যদিও তার ছেলে বিদেশে থাকতেন, প্রতিদিনই ফোন করে মায়ের খোঁজ নিতেন এবং দেশে ফিরে মায়ের পাশে থাকার কথা দিতেন। কিন্তু ইতালির রাজধানী রোমে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে বাবুল নিহত হন, তার স্ত্রী এবং পাঁচ বছরের মেয়ে আরিশাও হত্যার শিকার হন। বিষয়টি এখনও নোয়াখালীর প্রত্যন্ত গ্রামের সেই মায়ের কাছে পুরোপুরি পৌঁছায়নি। তিনি এখনো এই বিশ্বাস রাখেন যে, তার ছেলে বেঁচে আছে এবং সুস্থ হয়ে একদিন ফিরে আসবে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বিজয়নগর এলাকায় কামাল উদ্দিন বাবুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। শোকে কাতর মায়ের বিলাপ উঠছে ঘর থেকে। চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বারবার বলছেন, “আমার বাবুল আবার আইবো, আমার বাবুল কিছু হইব না।”

এখনো ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি স্পষ্ট করে মাকে জানানো হয়নি, শুধুমাত্র বলা হয়েছে, বাবুল গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে এক আত্মীয়ের সাহায্যে ইতালিতে পাড়ি জমান বাবুল। বিদেশ যাওয়ার আগে তিনি একাধিক বিয়ের মাধ্যমে মমতাজ বেগম আরজুকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেন। তাদের সংসারে জন্ম নেয় একজন ছেলে অয়ন ও একজন মেয়ে আরিশা। বাবুল দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থাকাকালীন তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সুখী জীবনযাপন করেছেন। পরিবারের সদস্যদের আশা ছিল, কিছু পরিমাণ পরে বাবুল দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন। তবে শুক্রবার রাতে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই চুরমার হয়ে যায়।

ইতালির স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তির ভিয়া মন্তিলিও এলাকায় এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। নিহত কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম এবং তাদের কন্যা আরিশা ইসলাম নিহত হন। গুরুতর আহত হন তাদের ছেলে অয়ন, যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে আছেন।

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের দাবি, শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে বাবুলের স্ত্রীর সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। যদিও বাবুল স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ইতালিতে চলে আসেন, এরপরও এই বিরোধ ছিল। ঘটনার দিন, কামাল উদ্দিন, তার স্ত্রী এবং সন্তানদের উপস্থিতিতে শাহাদাতের সঙ্গে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সময় শেষ হলে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং শাহাদাত ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। বাবুল এবং তার পরিবার তখন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

ঘটনার পরে সন্দেহভাজন শাহাদাত হোসেন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন, যেখানে তিনি লেখেন, "একজন মানুষ শুধু নিজে একা মরে না, নিজেও মরে অন্যকেও মরার মতো করে রেখে যায়। তাই মরার সময় প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে মরা উচিত। তাতে কারও জন্য কাউকে কষ্ট পেতে হয় না।"

শনিবার, ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শাহাদাতের ছবি প্রকাশ করে এবং তাকে ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর তার অবস্থান সম্পর্কে জনসাধারণের কাছে তথ্য চাওয়া হয়। শাহাদাতের বড় ভাই, সৌদি প্রবাসী ইসমাইল হোসেন হারুন বলেন, "চার বছর আগে শাহাদাত তার সব সম্পত্তি বিক্রি করে যুক্তরাজ্যে চলে যায়। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না।"

ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পরে পুলিশ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাদের হত্যা করা হয়েছে।

চরকাঁকড়ার ওই বাড়িতে এখন শুধু কান্না এবং অপেক্ষা বিরাজমান। একদিকে, প্রিয় সন্তানকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে পুত্রবধূ এবং নাতনির মৃত্যু—সব মিলিয়ে পুরো পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে। তবে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হচ্ছে, জাহানারা বেগম এখনও এই বিষয়ে জানতে পারেনি। তিনি এখনো অপেক্ষা করছেন তার বাবুল একদিন ফিরে আসবে। তবে সেই অপেক্ষার আর কোনো শেষ নেই।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, "ভুক্তভোগী পরিবার মৌখিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছিল। এরপর পুলিশ নিয়মিত টহল দিয়ে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছিল।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%