১০:৪৯ এম
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়েছে। নতুন করে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে গত বুধবার।
ফলে সাধারণ মানুষের পারিবারিক খরচ চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির নিজস্ব কার্যালয়ে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
সেখানে সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান এবং নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের চলতি অর্থবছরের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়, যাতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক নানা ধাক্কার কারণে অর্থনীতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এর মধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অন্যতম। তিনি উল্লেখ করেন, “সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ হলেও, জ্বালানি মূল্যস্ফীতি প্রায় ১৫ শতাংশ।”
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
জ্বালানি, পরিবহন ও সেবা খাতের খরচ বৃদ্ধির কারণে উচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তুলনায় মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার কম। ফলে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।
সিপিডি মনে করে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও মূল্যস্ফীতির একটি বড় কারণ। সংবাদ সম্মেলনে তারা সাম্প্রতিক এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে জানায়, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের একাধিক স্তর থাকার কারণে খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম ৭০ থেকে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, “আমাদের খাদ্য মূল্যস্ফীতি মূলত সরবরাহচালিত, চাহিদাচালিত নয়। তাই সরবরাহ ঠিক রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, এর জন্য কৌশলগত মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার করা জরুরি।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
সরবরাহ শৃঙ্খলে মধ্যস্বত্বভোগীদের সংখ্যা কমিয়ে কৃষক ও খুচরা পর্যায়ের দামের ব্যবধান কমাতে হবে। নিম্ন আয়ের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও জরুরি।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানিসংকটের কারণে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, যা হয়তো সাময়িকভাবে মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধাক্কা দেবে, কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য শ্লথ বা সংকুচিত করে দিতে পারে।
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত বলেন, বৈশ্বিক মূল্য পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিদ্যুতের দাম কিছুটা সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল। তবে এই বৃদ্ধি অবশ্যই আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে কঠোরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।
সিপিডি জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশে প্রবাসী আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে, লেনদেন ভারসাম্যে উন্নতি এসেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। তবে রপ্তানি খাতে এখনো চাপ রয়েছে। দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগের চাহিদা বেশ দুর্বল।
আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়
এ ছাড়া ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকা বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ অর্থনীতিকে সংকটে ফেলছে।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, রেমিট্যান্স বাড়লেও কেন এত ঘন ঘন ওঠানামা হচ্ছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করার পরামর্শ দেওয়ার সময় তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, রপ্তানিমুখী কার্যক্রম যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে এবং দেশীয় মূল্য সংযোজনকে উৎসাহিত করার ওপর জোর দিতে হবে।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, “শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে এ বিষয়ে নেতিবাচক ইঙ্গিত পাচ্ছি।”
আরও পড়ুন: "অসহিষ্ণু বক্তব্য রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এ নিয়ে যেতে পারে": সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স
তিনি আরও বলেন, সময়মতো মজুরি প্রদান, কারখানার নিরাপত্তা এবং ট্রেড ইউনিয়নের স্বীকৃতি দেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে শ্রম অধিকার নিশ্চিতকরণের শর্ত যুক্ত করা উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন