ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জামালপুরে স্বস্তিকা রাইস মিলের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ, জনমনে ক্ষোভ


জামালপুরে স্বস্তিকা রাইস মিলের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ, জনমনে ক্ষোভ

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বাউসী এলাকায় অবস্থিত মেসার্স স্বস্তিকা রাইস মিলকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকাল ৪ টা পর্যন্ত এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলা খাদ্য গুদাম সুত্রে জানা গেছে, সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহের লক্ষ্যে চলতি মৌসুমে সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়ন এর সানাকুর এলাকার এসএস অটো রাইস মিল এর স্বত্বাধিকারী আনোয়া উস সাদাব লাঞ্জু মিয়াকে দুই কিস্তিতে মোট ১২৮ টন এবং বাউশী এলাকায় স্বস্তিকা রাইসমিল-এর স্বত্বাধিকারী সমীর কুমার সাহা তুষারকে ৬৪ টন ধান বরাদ্দ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: শ্বশুরের মৃত্যুর এক দিন পর মারা গেলেন পুত্রবধূ

চলতি মৌসুমে সরিষাবাড়ী উপজেলার খাদ্য গুদামে সরকারী বরাদ্দের সম্পুর্ন ধান সংগ্রহ করে চাল সরবরাহের চেষ্টা করছেন অসাধু সিন্ডিকেট। সঠিক তদন্ত করে এই চাল কালোবাজারী ও ধান কালোবাজারী ৩/৪ সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ, র‍্যাব ১৪, গোয়েন্দা সংস্থা ও এনএসআই এর কর্মকর্তাদের কাছে ছায়া তদন্ত করে গ্রেফতারের জোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

স্বস্তিকা রাইসমিলের স্বত্বাধিকারী সমীর কুমার সাহা তুষার অভিযোগ করে বলেন, সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি, বিদ্যমান আইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করেই ধান সংগ্রহ, চাল উৎপাদন ও সরবরাহের সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ধান সংগ্রহ এবং চাল সরবরাহ করা হয়েছে। এতে সরকার, সাধারণ মানুষ কিংবা অন্য কোনো পক্ষের কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি।

প্রতিষ্ঠানের সব হিসাব-নিকাশ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সরকারের নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির মধ্যেই পরিচালিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, সরকারি বরাদ্দ এবং সব ধরনের কার্যক্রম সরকারি বিধি-বিধানের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।

তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে সরিষাবাড়ী উপজেলা খাদ্য গুদামে এককভাবে ধান সংগ্রহ ও চাল সরবরাহের চেষ্টা করে আসছে। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এখন তার প্রতিষ্ঠানকে জড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ত্রিশালে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত পাঁচ লাখ মানুষ

সমীর কুমার সাহা তুষার আরও অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল জামালপুরে কর্মরত বিভিন্ন সাংবাদিকের কাছে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের চেষ্টা করছে।

পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন আইডি থেকেও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ করেন, যথাযথ তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে জামালপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: আসাদুজ্জামান খান বলেন, সরিষাবাড়ী উপজেলায় ধান ক্রাশিংয়ের জন্য মিল নির্বাচন খাদ্য অধিদপ্তরের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী করা হয়েছে।

কোনো উপজেলার পর্যাপ্ত অটোমিল না থাকলে অথবা মিল মালিকরা সরকারি নির্ধারিত দরে ধান ক্রাশিংয়ে আগ্রহী না হলে পার্শ্ববর্তী উপজেলা কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য জেলার মিলেও ধান ক্রাশিংয়ের সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, স্বস্তিকা রাইসমিলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: নেছারাবাদে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় দুজন

প্রতিষ্ঠানটির পুষ্টি চাল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় কমানো এবং ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট মিলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সরিষাবাড়ীতে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সচল রাখার লক্ষ্যে পরবর্তীতে দুইটি মিলের মধ্যে বরাদ্দ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবল চাপের মুখে আন্দোলনকারীদের সাথে বসার প্রস্তাব মোদি সরকারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


প্রবল চাপের মুখে আন্দোলনকারীদের সাথে বসার প্রস্তাব মোদি সরকারে

ভারতের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রেক্ষিতে শিক্ষা সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে মোদি সরকার। বুধবার (২২ জুলাই) আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে সরকার চারটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানান, ককরোচ জনতা পার্টি এবং ছাত্র আন্দোলনকারীদের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং সরকার যেকোনো সময়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে। বুধবার বিকেল থেকেই তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য সরকার চারটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের সকল তরুণ বন্ধুদের প্রতি এটি একটি স্থায়ী আমন্ত্রণ। সরকার আন্দোলনকারীদের সুবিধামতো যেকোনো সময়ে সব বিষয়ে আলোচনা করার জন্য প্রস্তুত।"

মন্ত্রী আরও বলেন, এই আলোচনায় সরকারের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডাও যোগ দেবেন। আলোচনা নাড্ডার কার্যালয়ে অথবা বাসভবনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সরকার এখানে কোনো প্রতিপত্তির কথা বলছে না। আলোচনা করতে ধীরে ধীরে আমরা একটি সমাধানের দিকে এগোব। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সরকারের নেয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলোই এটি একটি অংশ।

এদিকে, বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, পুলিশ বৃহস্পতিবার তাদের জানিয়েছে যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা তার বাসভবনে তাদের সাথে আলোচনা করতে চান। তবে তারা কারও বাড়ি বা অফিসে যেতে অস্বীকার করেছেন। সৌরভ দাস বলেন, "গণদরবার এখানেই। মন্ত্রীদের জনগণের মাঝে আসা উচিত। যদি তারা কথা বলতে চান, তাহলে সেই আলোচনা যন্তর মন্তরে হওয়া উচিত।"

প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গোটা ভারত উত্তাল অবস্থায় রয়েছে। দিল্লির বিক্ষোভ পাঞ্জাব, বিহার, মহারাষ্ট্র সহ বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। রাস্তায় নেমে এসেছে লাখো শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবারও দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বিজেপির সমর্থকদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে প্রবেশ করে সহিংসতার অভিযোগও করেছেন।

এদিন পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ করেছে বিরোধীরা। চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেছেন। তিনি লেখেন, "যারা প্রশ্ন ফাঁস করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ক্ষতি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।" প্রধানমন্ত্রীর এই দায়সারা বিবৃতির তীব্র সমালোচনা করেছে দেশটির বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি দৃঢ়ভাবে বক্তব্য রেখেছেন যে, তরুণদের ভবিষ্যত নষ্টের জন্য মোদিকেই দায়ী করে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কাছে তাকে আবারও ক্ষমা চাইতে হবে।

এদিকে, টানা ২৫ দিন ধরে অনুষ্ঠিত অনশনে গুরুতর অসুস্থ পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের আইনি ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এমন স্পষ্ট আশ্বাস পেলে তিনি অনশন ভাঙবেন।

শিক্ষার্থীদের এই অরাজনৈতিক আন্দোলন ভারতজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বলিউড তারকা সালমান খান, নাসিরুদ্দিন শাহসহ বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাহসী ও শান্তিপূর্ণ অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। অনেকে যন্ত্র মন্তরে গিয়ে তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাঠ প্রশাসনে নারী নেতৃত্বের নতুন রেকর্ড, ২০ জেলায় ডিসি ও ১৯১ উপজেলায় ইউএনও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


মাঠ প্রশাসনে নারী নেতৃত্বের নতুন রেকর্ড, ২০ জেলায় ডিসি ও ১৯১ উপজেলায় ইউএনও

দেশের মাঠ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পদের ক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতি বর্তমানে স্মরণকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড করে। বর্তমানে ৬৪ জেলার মধ্যে ২১টিতে নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ৪৯৯ উপজেলার ১৯১টিতে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে তারা কাজ করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি প্রশাসনে নারীর সক্ষমতা এবং নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রতিফলন করে।

এর আগেও দেখা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রশাসনে সর্বোচ্চ ১৮ জন নারী ডিসি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০ জন নারী ডিসি বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে, এখনো ৯ বিভাগীয় কমিশনারের মধ্যে একজনও নারী নেই।

বর্তমানে দায়িত্বে থাকা নারী ডিসিদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া, মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার এবং কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার।

এছাড়া আরো আছেন- রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, फেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক, নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়, বরগুনার জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন এবং শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণ করলে, ঢাকা বিভাগে নারী ডিসির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলার মধ্যে ৯ জেলায় নারী ডিসি দায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়া, খুলনা বিভাগে চারজন, চট্টগ্রাম বিভাগে তিনজন, রংপুর বিভাগে দুজন এবং রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগে একজন করে নারী ডিসি রয়েছেন।

শুধু জেলা প্রশাসনে নয়, উপজেলা প্রশাসনেও নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। বর্তমানে দেশের ৪৯৯টি উপজেলার মধ্যে ১৯১টিতে নারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ, প্রায় ৩৯ শতাংশ উপজেলায় নারীদের নেতৃত্ব রয়েছে।

ভূমি প্রশাসনেও নারীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে ৪৭৮ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর মধ্যে ১১৬ জন নারী, যা মোট পদের ২৪ শতাংশের অধিক।

সব মিলিয়ে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ১ হাজার ৮৫টি পদের মধ্য থেকে ৩৩২টিতে নারী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ, মাঠ প্রশাসনের প্রায় ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা এখন রয়েছে।

কেন্দ্রীয় প্রশাসনেও নারীদের উপস্থিতি বেড়েছে। বর্তমানে ৮১টি সচিব ও সচিব-সমমর্যাদার পদের মধ্যে ১৪টিতে নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া ৩৬১ জন অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে ৭৩ জন, ১ হাজার ৫১ জন যুগ্ম সচিবের মধ্যে ২৪৯ জন, ১ হাজার ৬৪৩ জন উপসচিবের মধ্যে ৪০৪ জন এবং ৩ হাজার ৩৫০ জন সহকারী ও সিনিয়র সহকারী সচিবের মধ্যে ৯৮৬ জন নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।

সহকারী সচিব থেকে সচিব পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৩৩০টি পদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা ১ হাজার ৬৮৬ জন। নারীদের হার ২৬.৬৪ শতাংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে ৫ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে ইউজিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ পি.এম


উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে ৫ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে ইউজিসি

দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) পাঁচ বছর মেয়াদি ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষ অর্জনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬–২০৩০)’ চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইউজিসি চেয়ারম্যানের সভাকক্ষে এই কর্মপরিকল্পনার খসড়া নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এই বিষয় নিয়ে বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষাকে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চশিক্ষা রূপান্তর বিষয়ক জাতীয় কর্মশালার সুপারিশ, সরকারের অগ্রাধিকার এবং ইউজিসির কৌশলগত পরিকল্পনার সমন্বয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি এ জাতীয় কর্মপরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি জানান, কর্মপরিকল্পনায় পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—স্নাতকদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধি ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পখাত সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি; ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার; শিক্ষক উন্নয়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি; গবেষণার উৎকর্ষ, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিকীকরণ; এবং সুশাসন, মাননিশ্চিতকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই), ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস), ডিজিটাল প্রশাসন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে গবেষণা প্রকাশনা ও পেটেন্টের সংখ্যা দ্বিগুণ করা, আন্তর্জাতিক গবেষণা ও একাডেমিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ, সমন্বিত জাতীয় উচ্চশিক্ষা তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার একটি কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যও কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি এছাড়াও বলেন, কর্মপরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্তরণের অংশ হিসেবে দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হবে।

এ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যেভাবে সিআইএ’র গোপন স্থাপনায় নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে ইরান: প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২০ পি.এম


যেভাবে সিআইএ’র গোপন স্থাপনায় নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে ইরান: প্রতিবেদন

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান সিআইএ’র বিভিন্ন স্থাপনায় নিখুঁত ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলার পেছনে রাশিয়া কোনও রকম টার্গেটিং ইনফরমেশন কিংবা উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করেছে কিনা, তা মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা তদন্ত করছেন।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে এটি জানিয়েছেন মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের বিষয়ে জানাশোনা সম্পন্ন চার ব্যক্তি। জাতীয় নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, সিআইএ’র স্থাপনায় হামলা চালানোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য রুশ সম্পৃক্ততা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এখনো নিশ্চিত হয়ে উঠতে পারেননি। তবে হামলাগুলোর কার্যকারিতা, নিখুঁত নিশানা এবং রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তাকে তারা সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

রয়টার্সসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম পূর্বে জানিয়েছিল যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে রাশিয়া ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সহায়তা করে আসছে। যদিও সিআইএ’র স্থাপনার উপর হামলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত আগে প্রকাশিত হয়নি।

রয়টার্স ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চে ইরান সিআইএ’র অন্তত দু’টি গোপন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এর মধ্যে একটি ছিল সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সিআইএ স্টেশন এবং অন্যটি পূর্ব ইরাকে অবস্থিত একটি আলাদা ঘাঁটি। কিছু সূত্র জানায়, সিআইএ’র আরও কিছু ঘাঁটিতে হামলা হয়েছিল, কিন্তু বিস্তারিত জানানো হয়নি।

নথি দেখার সুযোগ রয়েছে এমন এক কর্মকর্তার বর্ণনা অনুযায়ী, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার একটি অভ্যন্তরীণ মেমোতে বলা হয়েছে যে, আঞ্চলিক সিআইএ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পেছনে রাশিয়ার ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ওই কর্মকর্তা মেমোটির নির্দিষ্ট রচয়িতার নাম উল্লেখ করেননি।

উপসাগরীয় অঞ্চলে নিয়োজিত দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে যে ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে, সেখানে বিশ্লেষকদের অনুমান- সৌদি আরবে হামলায় শাহেদ ড্রোনের উন্নত দুইটি রুশ সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্যমতে, প্রথম ড্রোনটি দূতাবাসের বাইরের দেয়ালের একটি দুর্বল অংশে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গর্ত তৈরি করে এবং দ্বিতীয় ড্রোনটি সেই গর্ত দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বিস্ফোরিত হয়। এই ঘটনায় হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি, গত সপ্তাহে জর্ডানে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন সেনা ব্যারাক লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। হামলায় অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। এই ঘটনার পর রাশিয়া ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করছে-এই আশঙ্কা আরও প্রকট হয়েছে।

অন্য একটি সূত্র জানায়, রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম ‘কোমেটা-এম’ সরবরাহ করে তাদের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের নিখুঁত নিশানা ভেদ করার ক্ষমতাকে বাড়াতে সাহায্য করেছে। বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন, ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তির তুলনায় এই ব্যবস্থা অনেক বেশি নিখুঁত এবং জ্যাম করা (বাধাগ্রস্ত করা) কঠিন।

যদিও রাশিয়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে সমরাস্ত্র প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তার কথা স্বীকার করেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%