মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৫১ পি.এম
#বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক ও মন্ত্রী পর্যায়ের
#যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব
#ছয় বিভাগীয় শহরে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণে সহযোগিতা কামনা
#রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে টোকিওর সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সরকার এবং দেশটির বেসরকারি খাতকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে।" ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে।" ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
তিনি তাঁর পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি।"
জ্বালানি নিরাপত্তা ও সহযোগিতা
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।"
এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ গবেষণা
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, "এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধা, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।"
প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অগ্রসর সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অবকাঠামো, দ্রুতগতির রেল ও যোগাযোগব্যবস্থা
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, "জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ
বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ এবং অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (EPA) দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "এ চুক্তির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।"
জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও রোহিঙ্গা সংকট
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "তাঁর সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।"
একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানাচ্ছি।"
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, "রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সব পক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখতে হবে। এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।"
যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব, সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয়
বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।" তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ অধ্যায় আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।
প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলো চিহ্নিত করা, সেগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। তিনি একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, "গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।"
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, "পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে সহযোগিতা প্রদান এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে দুই সরকার প্রধান গুরুত্বারোপ করেছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টায় টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’তে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর তিনি এই কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জাপান বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে এবং বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী। জাপান বাংলাদেশে মেরিটাইম সেফটির জন্য সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেন তিনি।
এছাড়া, বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্টকে যুগোপযোগী করার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে বলে জানান তাকাইচি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক ক্রমেই সুদৃঢ় হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অংশীদার। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।’
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। গার্ড অব অনার প্রদান শেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্ক পারষ্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী ভিত্তিতে রূপান্তর করাই দুই দেশের লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুর সদর উপজেলার ১ নং কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে তিনি কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম, সেবার মান ও চলমান উন্নয়নমূলক কাজের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, কালভার্ট ও ট্র্যাকস-সংক্রান্ত বিষয়, জন্মনিবন্ধনসহ ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি পরিষদের বিভিন্ন সেবা ও কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হায়দার, কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, ইউপি সদস্য সৈয়দুর রহমান (আর্মি), প্রশাসনিক কর্মকর্তা শামছুন্নাহার
গ্রাম আদালতের জেলার ম্যানেজার (ডিএম) মাহফুজা রহমান, উপজেলা সমন্বয়কারী শারমিন নাহার সহ
পরিষদের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী
উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসকের এ পরিদর্শনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের সেবামূলক কার্যক্রম ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পেনের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা বাংলাদেশের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোগী হন।
তিনি সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্পেনের সেভিলে তৃতীয় বাংলাদেশ-স্পেন এক্সপো ২০২৬ উদ্বোধনকালে এই আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ওষুধ, চামড়া ও জুতা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পে উল্লেখযোগ্য সুযোগ বিদ্যমান।
এই অনুষ্ঠানে স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, আন্দালুসিয়া সরকারের মন্ত্রী, সিনেটর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। এক্সপোতে প্রায় ৪০টি বাংলাদেশি ও স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য প্রদর্শন করে, যার মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পাটজাত পণ্য, রাসায়নিক ও গৃহস্থালির সামগ্রী।
শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগের প্রশংসা করেন, যা দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ, জ্ঞান বিনিময় এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ককে জোরদার করবে। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও উল্লেখ করেন, যা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ‘সোনালি আঁশ’ পাটের বৈশ্বিক বাজারে সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।
তার মতে, আধুনিক ফ্যাশন, নকশা এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরিতে পাটের উদ্ভাবনী ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নকশা, ফ্যাশন এবং সাংস্কৃতিক শিল্পসহ সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশ উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এক দিনব্যাপী এই এক্সপোর লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও স্পেনের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করা, স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও টেকসই উৎপাদনে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা। আয়োজকরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় পাবনার ঈশ্বরদী অঞ্চলে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পারমাণবিক জ্বালানির (ইউরেনিয়াম) একটি নতুন চালান এসে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি বিশেষ গাড়িবহর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
প্রকল্পের সূত্র জানায়, সোমবার গভীর রাতে (রাত প্রায় আড়াইটায়) রাজধানী ঢাকা থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দেয় ইউরেনিয়ামবাহী এ বহরটি। সড়কপথে ঢাকা থেকে রূপপুর পর্যন্ত ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ গাড়িগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
নিরাপত্তা এবং পরিবহন বিঘ্নহীন রাখার জন্য ভোর থেকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। গাড়িবহরটি প্রকল্প এলাকায় নিরাপদে প্রবেশ করার পর মহাসড়কে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রথম পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনা হয় এবং চলতি বছরের মে মাসে তা পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১১ অক্টোবর প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়, যা প্রকল্পটির কমিশনিং কার্যক্রমে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের আশা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য আরও দুটি চালান আনা হবে। সব মিলিয়ে মোট নয়টি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সবই রাশিয়া থেকে বিশেষ বিমানে দেশে পৌঁছানোর কথা। ধারাবাহিক এই জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ