বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৫ পি.এম
পরিবারসহ কক্সবাজারে পাঁচ দিনের ভ্রমণ শেষে বরিশালে ফেরার পথে ডিবি পুলিশের হাতে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে পাঁচজনকে। পরে তাদের বিরুদ্ধে আগে দায়ের হওয়া একাধিক মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। পুলিশ জানিয়েছে, বাসে তল্লাশি চালিয়ে নতুন করে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়নি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বরিশাল নগরীর কেডিসি এলাকার বাসিন্দা নিলুফা বেগম (৩৩), তার স্বামী রাসেল হাওলাদার (৩৪), মো. সোহেন (২৯), মো. মিঠু হাওলাদার (৩০) ও আসমা বেগম (৩৩)।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিলুফা বেগমের বিরুদ্ধে ৯টি, রাসেল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২টি, মো. সোহেনের বিরুদ্ধে ৪টি, মো. মিঠু হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২টি এবং আসমা বেগমের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে মাদকসংক্রান্ত মামলাতেই তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জানা গেছে, পাঁচজন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। যাতায়াতের জন্য ইউরো পরিবহনের একটি স্লিপার বাস ভাড়া করা হয়। পাঁচ দিন কক্সবাজারে অবস্থান শেষে ৫ অক্টোবর সোমবার দুপুরে তারা বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ভ্রমণে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
বরিশালে ফেরার পথে বিমানবন্দর এলাকায় বাসটিতে তল্লাশি চালায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় পাঁচজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে আগের দায়ের হওয়া মাদক মামলাগুলোতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে পাঁচজনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে শুনানি শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বরিশাল মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের উপপরিদর্শক (এসআই) তানজিল আহমেদ জানান, পাঁচজনের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা রয়েছে। নিলুফা বেগমের বিরুদ্ধে ৯টি, রাসেল হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২টি, সোহেনের বিরুদ্ধে ৪টি, মিঠু হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২টি এবং আসমা বেগমের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বের মাদক মামলাগুলোর কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নতুন করে তল্লাশির সময় কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনা ঘটেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষে চাষিদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)-এর যৌথ উদ্যোগে উন্নত জাতের দ্রুত বর্ধনশীল জি-৩ রুই মাছের পোনা ও বিভিন্ন পুকুর ব্যবস্থাপনা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সংস্থা দুটির যৌথ পরিচালনায় এগ্রো মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইউনিট (AMDU)-এর আওতাধীন মৎস্য খাতের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই উপকরণগুলো বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে পাঁচজন সদস্যের মাঝে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)-এর নির্বাহী পরিচালক জনাব মোঃ কামাল উদ্দিন দ্রুত বর্ধনশীল জি-৩ রুই মাছের পোনা, ঝাঁকিজাল, পুকুরের চুন, রাসায়নিক সার ও সাইনবোর্ডসহএসব উপকরণ তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন এফডিএ-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী জনাব শংকর চন্দ্র দেবনাথ এবং মৎস্য কর্মকর্তা জনাব মোঃ সাইদুর রহমান।
উদ্যোক্তারা জানান, আধুনিক চাষ পদ্ধতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে মৎস্য খাতের পাঁচজন নির্বাচিত ও সফল সদস্যের মাঝে প্রাথমিকভাবে এই উন্নত জাতের পোনা ও পুকুর ব্যবস্থাপনার আনুষঙ্গিক উপকরণ তুলে দেওয়া হয়েছে। বিতরণের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে আমিষের চাহিদা পূরণ, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য চাষিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা।
মৎস্য কর্মকর্তা জনাব মোঃ সাইদুর রহমানজানান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) কর্তৃক উদ্ভাবিত এই জি-৩ রুই মাছ সাধারণ রুইয়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি দ্রুত বর্ধনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। ফলে আধুনিক পদ্ধতিতে এই মাছ চাষ করলে চাষিরা অল্প সময়ে অধিক লাভবান হতে পারবেন।
উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)-এর নির্বাহী পরিচালক জনাব মোঃ কামাল উদ্দিন চাষিদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু উপকরণ বিতরণই নয়, আধুনিক পদ্ধতিতে পুকুর প্রস্তুত করা, সঠিক নিয়মে সুষম খাদ্য প্রয়োগ এবং নিয়মিত পানির গুণাগুণ বজায় রাখার জন্য চাষিদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও প্রশিক্ষণও প্রদান করা হবে। তারা আরও জানান, পিকেএসএফ-এর সহযোগিতায় এফডিএ’র AMDU কার্যক্রমের আওতায় মৎস্য খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যচাষিদের আর্থিক সক্ষমতা ও জীবিকায়নের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উন্নত জাতের এই পোনা ও উপকরণ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন সুবিধাভোগী মৎস্য চাষিরা। এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং অন্যান্য চাষিদেরও আধুনিক মৎস্য চাষে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহাসড়কের কাজ শেষ হলে শেরপুর-ময়মনসিংহের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার কমে যাবে। শেরপুর থেকে ময়মনসিংহের যাতায়াতের জন্য প্রধান সড়কটি শেরপুর-নকলা-ফুলপুর-ময়মনসিংহ হয়ে ৬৯ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। এই দূরত্ব কমানোর জন্য কানাশাখোলা বাজারের সংযোগ সড়ক থেকে ভীমগঞ্জ বাজার-নারায়ণখোলা-রামভদ্রপুর-পরানগঞ্জ হয়ে ময়মনসিংহের রহমতপুরের সাথে একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হবে, যার ফলে শেরপুর-ময়মনসিংহের দূরত্ব মাত্র ৪৯ কিলোমিটার হবে।
এই মহাসড়কের নির্মাণ সম্পন্ন হলে শেরপুর-ময়মনসিংহের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার কমে যাবে। এছাড়া, মহাসড়কটি শেষ হলে চরাঞ্চলবাসীসহ এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। এতে চরাঞ্চলে ছোট-বড় শিল্পকারখানা গড়ে উঠতে পারে, যা কর্মসংস্থান ও মানুষের আয় রোজগারের সুযোগ বৃদ্ধি করবে। চরাঞ্চলের উৎপাদিত কৃষি পণ্য সহজেই ময়মনসিংহ-ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
মহাসড়কটি ঘিরে পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রাম জেলাসহ ওই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ও জীবন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সুবিধা আসবে। শেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলার সাথে বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের যোগাযোগ, অর্থনীতি-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক দিক বিবেচনায় এই মহাসড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ৪২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজটি করছে শেরপুর ও ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কাজ সম্পন্ন হতে ২ বছরের বেশি সময় লাগবে। সড়কের দৈর্ঘ্য ৪৪.৯০৬ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩৩.৭৮ ফুট হবে, যেখানে নির্মিত হবে ছোট-বড় ৮টি সেতু ও শতাধিক ছোট ও মাঝারি কালভার্ট।
জানা গেছে, সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রথম উদ্যোগ নেয় বৃটিশ সরকার। শেরপুর থেকে চন্দ্রকোনার চরবসন্তি পর্যন্ত বিশাল অঞ্চলজুড়ে মহাসড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে ১৯৫২/৫৩ সালে জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়। সরকারের মেগা পরিকল্পনার আওতায় এই যোগাযোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয় ৪ বছর পূর্বে। গত বছরের ২২ আগস্ট কাজটি শুরু হয়। সেতু নির্মাণে বড় বাধা ছিল ব্রহ্মপুত্র নদ।
ময়মনসিংহের পরানগঞ্জ-রহমতপুরের ব্রহ্মপুত্র নদ ও রেললাইনের ওপর ১৪৭১ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের জন্য ৩৫৮ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, মহাসড়কটি হয়ে গেলে যাতায়াতের সময় অনেক কমে যাবে।
এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধি পাবে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ময়মনসিংহ শহরের ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ব্যবসায়ীরা জানান, মহাসড়কটি হয়ে গেলে লোকজন স্বল্প সময়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে পারবেন। কৃষকরা দ্রুত কৃষিপণ্য ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরে বাজারজাত করে ন্যায্যমূল্যে পাবেন।
তারা আরও জানান, রাস্তাটি হয়ে গেলে জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে। রোগীদের স্বল্প সময়ে ময়মনসিংহে চিকিৎসা করানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ বিষয়ে শেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, মহাসড়কের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। ইতোমধ্যে সড়কের ৩৫-৪০ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষানগরী ময়মনসিংহ অনেক কাছাকাছি চলে আসবে। জনসাধারণ অত্যন্ত কম খরচে যাতায়াত করতে সক্ষম হবে এবং ছাত্রছাত্রীরাও উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবে, ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি বৃদ্ধি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রিয়াল মাদ্রিদে কিলিয়ান এমবাপ্পের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। কিন্তু দুই বছরের মধ্যেই সেই স্বপ্নের আকাশে মেঘ জমতে শুরু করেছে।
এখন এমবাপ্পের মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে তার আচরণ, চোটের সময়ে জীবনযাপন এবং কোচ জোসে মরিনহোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েই আলোচনা বেশি হচ্ছে। এমনকি আগামী মৌসুমে এমবাপ্পে রিয়ালে থাকবেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ ও আরএমসি স্পোর্টের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুম শেষে এমবাপ্পের রিয়াল ছাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এমবাপ্পে ক্লাব ছাড়তে চান বা রিয়াল তাকে বিক্রি করতে চায়—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সমস্যার সূত্রপাত মূলত চোটের সময় এমবাপ্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে। সম্প্রতি বাঁ হাঁটুর চোটে ফ্রান্সের দল থেকে বাদ পড়ার পর তাকে প্রেমিকার সঙ্গে প্যারিসের একটি নাইটক্লাবে দেখা যায়। এর পর সুইজারল্যান্ডে সাইকেল চালানোর ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। এতে রিয়ালের অস্বস্তি আরো বেড়ে গেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
কোচ মরিনহোর অবস্থানও কঠোর। গত মাসে তিনি বলেছিলেন, “আপনি ২৪ ঘণ্টাই একজন ফুটবলার। আপনি কী খান, কী পান করেন, কীভাবে ঘুমান—সবকিছুই আপনার পেশার অংশ। আপনি স্কি করতে পারবেন না, সাইকেলও চালাতে পারবেন না।”
মরিনহো আরো সতর্ক করে বলেছিলেন, “সাইকেল থেকে পড়ে গেলে হয়তো তিনটি ম্যাচ খেলতে পারবেন না, কিংবা আরো খারাপ কিছু হতে পারে। ফুটবলার হতে গেলে অনেক কিছুই আপনাকে ছাড়তে হবে।”
সব মিলিয়ে রিয়ালের ড্রেসিংরুমের অস্বস্তির সঙ্গে এমবাপ্পেকে ঘিরে নতুন বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে। তবে চোট কাটিয়ে তিনি অনুশীলনে ফিরেছেন এবং লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে শনিবারের ম্যাচে খেলবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আটজন আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তদন্ত কর্মকর্তা শাহআলী থানার উপপরিদর্শক মো. আতোয়ার রহমানের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ আদেশ প্রদান করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ডে থাকা আসামিরা হলেন— মো. শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, মো. শাহ আলম, মো. আতিকুর রহমান, মো. কামরুল ইসলাম, মো. নুর আলম, মো. রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ ওরফে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং মো. সাজ্জাদ হোসেন মিশু।
এদিন আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এখন পর্যন্ত এ মামলায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ ওরফে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, শাহ আলম, আতিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম, সোহেল ও শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর মিলন ও মিন্টুকে, ৩০ সেপ্টেম্বর শহিদুল ইসলামকে, ১ অক্টোবর সাইফুল ইসলাম ও আলমকে এবং ২ অক্টোবর নুর আলমকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে শাহআলী থানা এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলাকারীরা হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও মো. আব্দুল হাইকে মারধর করে বেঁধে রাখে। পরে হ্যামার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে তারা ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের একটি সেমিপাকা ঘর, পরিবার পরিকল্পনা সেবার আরেকটি সেমিপাকা ঘর এবং ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের সেমিপাকা ঘর ভাঙচুর করা হয়। এসব কক্ষে থাকা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতিও ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ভাঙচুরের পর প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পরে সেখানে সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে তারা চলে যায়। এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বাদী হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর শাহআলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. হানিফ মিয়া নামে একজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ