শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৪৭ এম
নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ওন্দো রাজ্যে সন্দেহভাজন বিষাক্ত মদ পান করার ফলে অন্তত ৪৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় প্রায় ১৭০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
৫ সেপ্টেম্বর, রাজ্যের ওদিগবো ও আরারোমি-ওবু এলাকায় স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যালকোহল পান করার পর এই ঘটনা শুরু হয়। পরে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে পাশের ইরেলে এলাকায়, যেখানে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দৃষ্টিশক্তি হারানো। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয়ভাবে তৈরি ওই পানীয়তে বিষাক্ত মিথানল মিশে যাওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিষাক্ত পদার্থের সুনির্দিষ্ট উৎস এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনার পর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আক্রান্তদের চিকিৎসা ও নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুলিশও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে এবং স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আগের সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা ছিল ৪৮ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা ১৮২ জন। তবে পরবর্তী সময়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জ্বালানি সংকটের কারণে গাজার কুয়েত হাসপাতাল আগামী রোববার থেকে অধিকাংশ চিকিৎসাসেবা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল জরুরি রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হবে। এই তথ্যটি আলজাজিরা সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
গাজার অন্যতম বৃহৎ হাসপাতালটি তাদের পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে অবহিত করেছে।
জ্বালানি সংকটের ফলে অস্ত্রোপচার, প্রসূতি সেবা, বহির্বিভাগ, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অ্যাম্বুলেন্স এবং রোগী পরিবহন সেবা বন্ধ থাকবে। তবে সাধারণ জরুরি বিভাগ ও প্রসূতি জরুরি বিভাগ চালু রাখা হবে।
গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার মধ্যে এই ঘোষণা এসেছে। বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, জ্বালানি, ইঞ্জিন তেল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে কয়েকটি হাসপাতালের জেনারেটর বন্ধ হয়ে গেছে। অবশিষ্ট জেনারেটরগুলোও সার্বক্ষণিক চালু থাকায় সব জীবন রক্ষাকারী বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এর কয়েক দিন আগে খান ইউনিস এলাকার নাসের হাসপাতালের কর্মীরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন ভবনে পালাক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। হাসপাতালটির চারটি জেনারেটরের মধ্যে একটি ইতোমধ্যে অচল হয়ে পড়েছে।
কুয়েত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, সেবা বন্ধ হলে প্রতিদিন হাজারো ফিলিস্তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের নতুন বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে যে, মুক্তিযুদ্ধের সময় দলের ভূমিকা নিয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিটি উদ্যোগই থমকে গেছে। বইটির নাম ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ এবং এতে এসব ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
রাজ্জাকের বর্ণনায়, প্রথমবারের মতো ১৯৯৪ সালে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের পর ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি প্রস্তাব দেন যে, নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার পর গোলাম আযম যেন একাত্তরের বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেন। যদিও নীতিগতভাবে প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন, বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত সমাবেশে গোলাম আযম সাধারণভাবে ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতে যদি আমি কোনো ভুল করে থাকি, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করবেন।’ রাজ্জাকের মতে, এটি ছিল নিতান্তই দায়সারা।
২০০১ সালে চারদলীয় জোটের নির্বাচনী বিজয়ের পর দ্বিতীয় বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অধ্যাপক– আফতাব আহমেদ, এম মাহবুবউল্লাহ ও আবদুর রবের সহযোগিতায় সাতটির বেশি খসড়া তৈরি করে নেতারা এক বিবৃতিতে ঐকমত্যে পৌঁছান। কিন্তু ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী মত পরিবর্তন করেন, যা রাজ্জাক উল্লেখ করেছেন। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ রাজ্জাককে জানান, তার ধারণা, এই পরিবর্তনটি নিজামী করেছিলেন কোনো প্রবীণ নেতার পরামর্শে, যার নাম কখনো প্রকাশ করা হয়নি।
২০০৫ সালে বিষয়টি দলের ওয়ার্কিং কমিটিতে তোলা হলে কণ্ঠভোটে তা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রত্যাখ্যাত হয়। বিরোধীরা যুক্তি দেন যে, পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া ভুল ছিল না এবং ক্ষমা চাইলে পাকিস্তান অসন্তুষ্ট হবে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন এক সাবেক সংসদ সদস্য। রাজ্জাক পরে লিখেছেন যে, ইতিহাস প্রমাণ করেছে সেই আশঙ্কা ভিত্তিহীন ছিল।
২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দল। ২০১১ সালে মজলিশে শুরার শেষ উন্মুক্ত অধিবেশনেও রাজ্জাকের প্রস্তাব গুরুত্ব পায়নি। ২০১৬ সালে নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের পর নতুন নেতৃত্বের সময়ও একটি খসড়া তৈরি হয়, বিদেশি আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানের সহায়তায় একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রস্তুত করা হয়, কিন্তু সেটিও প্রকাশের মুখ দেখেনি।
রাজ্জাকের মূল্যায়ন হলো, প্রতিবারই দলের ভেতরের প্রভাবশালী একটি অংশ হস্তক্ষেপ করে উদ্যোগ থামিয়ে দিয়েছে। তার মতে, একাত্তরের ভূমিকা আজও জামায়াতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে রয়ে গেছে—দুই দশকে অর্ধডজনের বেশি খসড়া বিবৃতি তৈরি হলেও একটিও প্রকাশিত হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হুথিদের নেতা আবদুল মালিক আল-হুথি অভিযোগ করেছেন যে, সৌদি আরব মক্কাকে রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যবহার করে ইয়েমেনের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক ঘণ্টার ভাষণে তিনি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। আলজাজিরার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, আল-হুথি উল্লেখ করেন যে, সৌদি আরব মক্কাকে ‘নিপীড়নের প্রতীক’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি এটিকে মিথ্যা ও প্রতারণামূলক প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন।
সম্প্রতি সৌদি আরব অভিযোগ করেছে যে, আনসার আল্লাহ গোষ্ঠী মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছে। তবে আল-হুথি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মুসলিম বিশ্বের প্রতি সৌদি আরবের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ইয়েমেনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
হুথি নেতা জানান, ইয়েমেনে সৌদি আরবের আগ্রাসনের এটি ১২তম বছর। তার দাবি, বর্তমান সংঘাতের এই পর্যায় সৌদি আরবই শুরু করেছে। তিনি বলেন, মক্কা ও অন্যান্য ঘটনার প্রেক্ষিতে সৌদি সামরিক অভিযান চালানোর পর ইয়েমেনে পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
আল-হুথির ভাষ্য অনুযায়ী, সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি সামরিক অভিযান এবং পরবর্তী সময়ে মোচা দখল ও আনসার আল্লাহর অগ্রযাত্রার মাধ্যমে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। তিনি দাবি করেন, আনসার আল্লাহ দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে মোচা, ধাবাব ও বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
হুথি নেতা আরও বলেন, সৌদি আরব ইয়েমেনকে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে যেতে বাধ্য করেছে। তার মতে, বর্তমানে ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক তৎপরতা একটি দেশের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ, যারা ইয়েমেনকে অধীন ও নিপীড়িত অবস্থায় রাখতে চায়।
আল-হুথি আরও অভিযোগ করেন যে, সৌদি আরবের সামরিক কর্মকাণ্ডের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নবাদীরা’ নেতৃত্ব দিচ্ছে। তার দাবি, তারা সৌদি আরবের ওপর রাজনৈতিক নীতি চাপিয়ে দিচ্ছে এবং সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রভাবিত করছে।
সূত্র: আলজাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২৪.৩ বিলিয়ন ডলার। খবর আল জাজিরার
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, এই চুক্তি সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার করবে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত এফ-৩৫ বিক্রি হলেও এতে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য বদলাবে না বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতি তুলে ধরা হয়েছে—মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তুলনায় ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা এগিয়ে থাকতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন ইয়েমেনের হুথিরা দাবি করেছে, তারা বুধবার মারিব শহরের আকাশে সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
হুথিরা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে শহরের একটি এলাকায় যোদ্ধাদের পোড়া ধ্বংসাবশেষের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের দাবি, সেটি সৌদি চিহ্নযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ।
হুথিদের দাবি, বিমানটি একটি ‘স্থানীয়ভাবে তৈরি’ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে। সত্য হলে, এটি ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে।
এতদিন ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী আকাশপথে তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে ছিল। প্রতিবেশী ইয়েমেনে হামলা চালাতে তারা বিমানশক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ