০৪:৩৮ পি.এম
ভারতের হায়দরাবাদে, শুধুমাত্র মুসলিম নাম থাকার কারণে ব্লিনকিট-এর এক ডেলিভারি এক্সিকিউটিভকে নৃশংসভাবে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় উগ্রবাদীদের একটি দল, যার মধ্যে ওয়্যারহাউস ম্যানেজারও ছিলেন, জড়িত ছিল।
আক্রান্ত যুবকের নাম হাবীব আনসারী। বিহারের বাঁকা জেলার বাসিন্দা হাবীব গত পাঁচ বছর ধরে হায়দরাবাদের গোলকুন্ডা এলাকায় বসবাস করছেন এবং সেখানে ডেলিভারি বয়ের কাজ করেন।
ঘটনাটি ঘটে ৩ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে। একটি অর্ডার ডেলিভারি শেষ করার পর, রাইদুর্গাম থানার অন্তর্গত পঞ্চবটী কলোনিতে অবস্থিত ব্লিনকিট ওয়্যারহাউসে ফেরার সময় হাবীব চিৎকারের শব্দ শুনে থামেন।
আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে শেখ পদবিধারীদের নামের সংখ্যা সর্বাধিক
সেখানে উপস্থিত প্রায় ১০ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে নাম জিজ্ঞাসা করে। হাবীব যখন জানায় যে সে মুসলিম, তখনই দলটি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নির্মমভাবে মারধর শুরু করে।
আক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে হাবীব দৌড়ে রাস্তার পাশে একটি খাবারের দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা তাকে ধাওয়া করে এবং গ্রাহক ও রাঁধুনির সামনে থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে এনে ফের মারধর করে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে হাবীবের ওপর চালানো এই হামলার নৃশংস মুহূর্তটি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।
পরবর্তীকালে ৬ নভেম্বর (রবিবার) আনসারি ‘মজলিস বাঁচাও তাহরিকের (এমবিটি) মুখপাত্র আমজাদ উল্লাহ খানের দ্বারস্থ হন।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে খান জানান, হামলার সময় আনসারি তার ভাইকে সাহায্যের জন্য ফোন করার চেষ্টা করেছিলেন এবং পুরো ঘটনার অডিও তার ফোনে রেকর্ড হয়ে গিয়েছিল। আনসারি বলেন, “আমার ভাইয়ের কাছে নিজের অবস্থান বলার আগেই তারা ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। তবে ফোনটির কল কেটে যায়নি।”
আরও পড়ুন: সহিংসতা সত্ত্বেও জেন-জিদের বিক্ষোভের পক্ষে: জার্মানির আইনমন্ত্রী
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা আহত আনসারিকে উদ্ধার করে রায়দুর্গম পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যান। সেখানে একজন সাব-ইনস্পেক্টর তার টিমকে আনসারির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল টেস্ট করানোর নির্দেশ দেন।
থানায় ফিরে আনসারি দেখতে পান, তাঁকে আক্রমণকারী ব্যক্তিরাও সেখানে উপস্থিত রয়েছে। পুলিশের সামনেই তারা আনসারিকে কোনো মামলা দায়ের না করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আনসারির অভিযোগ, “তারা আমাকে বলে যেন আমি কোনো অভিযোগ না করি, অন্যথায় তারা আমাকে মেরে ফেলবে। এ কথা বলার সময় পুলিশ কর্মকর্তারা সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন।”
তিনি আরও গুরুতর অভিযোগ করেন, পুলিশের এক কনস্টেবল তার কাছ থেকে জোর করে ১,৫০০ টাকা আদায় করেন এবং ঘটনাটি রিপোর্ট না করার জন্য চাপ দেন। এমনকি ওই পুলিশ সদস্য তার ফোনটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন।
এমবিটি মুখপাত্র আমজাদ উল্লাহ খান অভিযোগ করেন, এত কিছুর পরও পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোনো এফআইআর দায়ের করেনি। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “গত দুই বছর ধরে তেলেঙ্গানায় একটি স্পষ্ট চিত্র দেখা যাচ্ছে—যেখানে মুসলিমদের ঘিরে ধরে অমুসলিমদের দ্বারা প্রহার করা হচ্ছে। পুলিশ এসব মামলা সমাধানে কোনো সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে না। এফআইআর হলেও কোনো তদন্ত বা গ্রেপ্তার হয় না।
আরও পড়ুন: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্ব পেলেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন