ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

পরিবারই ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি


পরিবারই ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি

ভারতে দরিদ্রতা কমানোর ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি সহায়তা এবং পারিবারিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ১৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভ করেছেন। তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ গ্রামীণ নারী।

এই কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ফলে খাদ্য ভর্তুকি ও সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলোর আর্থিক চাপও হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটানোর জন্য বাড়তি অর্থ হাতে এসেছে। ভারতের দারিদ্র্য কমানোর পেছনে শুধু ব্যক্তির আয় বৃদ্ধি নয়, বরং পারিবারিক সহযোগিতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

একই পরিবারের একাধিক সদস্যের আয় এবং সরকারি সহায়তার সংমিশ্রণে পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো পারিবারিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। অন্যদিকে, ভারতে এই পারিবারিক ব্যবস্থা এখনো অনেকটা অটুট রয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) চিন্তাধারাতেও পরিবারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: এল-সায়েদের জয়ে উচ্ছ্বসিত মুসলিমরা, তবে ধর্মের কারণে নয়

অর্থনীতির ভিত্তি পরিবার

ভারতের অর্থনীতিতে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশ্চাত্য অর্থনীতিবিদ গ্যারি বেকার ১৯৯২ সালে পরিবারকে একটি ছোট কারখানার সঙ্গে তুলনা করেন। তার মতে, পরিবার নিজেদের সম্পদ ও সময়কে কাজে লাগিয়ে সদস্যদের প্রয়োজন মেটায়। তবে ভারতে এই ব্যবস্থা ঐতিহ্যগতভাবে চলে আসছে।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) তাত্ত্বিক দত্তপন্ত ঠেঙ্গাড়ির মতে, পশ্চিমা বিশ্বে ব্যক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও ভারতে পরিবারই সমাজের মূল ভিত্তি।

ম্যাকিনসির হিসাব অনুযায়ী, ভারতের জিডিপির ৭৫ শতাংশের বেশি আসে পারিবারিক মালিকানাধীন ব্যবসা থেকে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের অক্টোবরের মর্গান স্ট্যানলির হিসাব অনুযায়ী, ভারতীয় পরিবারগুলোর কাছে প্রায় ৩৪ হাজার ৬০০ টন সোনা রয়েছে, যার মূল্য দেশটির জিডিপির ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশের সমান।

আরও পড়ুন: দুর্যোগের পর ৮০% শিশু অসুস্থ, ৪৯% স্কুল বন্ধ: সেভ দ্য চিলড্রেন

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সঞ্চয়ের বড় অংশই পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাঁর সংগঠন পরিবারকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে।

সামাজিক নিরাপত্তার ভিত্তি পরিবার

ভারতে পরিবার অনেকটা সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৮৫ শতাংশ বয়স্ক মানুষ সন্তানদের সঙ্গে বসবাস করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী বয়স্ক ব্যক্তিরা বিষণ্নতায় তুলনামূলকভাবে কম ভোগেন। অনেক দেশে এ ধরনের মানসিক ও সামাজিক সহায়তার জন্য সরকারি সেবার ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু ভারতে পরিবার থেকেই বিনা মূল্যে এসব সহায়তা পাওয়া যায়।

পরিবার রক্ষায় ভারতের সুযোগ

আরও পড়ুন: মহাকাশ থেকে মার্কিন নির্বাচনে ভোট দিলেন নাসার তিন নভোচারী

পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জনসংখ্যাসংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতের পারিবারিক ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখার ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত।

২০২৫ সালের আগস্টে তিনি ভারতীয় দম্পতিদের তিনটি সন্তান নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান। আরএসএসের ‘পঞ্চ পরিবর্তন’ কর্মসূচির পাঁচটি বিষয়ের একটি হলো পরিবার। এ ছাড়া ‘কুটুম্ব প্রবোধ’ নামে সংগঠনটির একটি শাখা পারিবারিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে।

ভারতের দারিদ্র্য হ্রাস ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে পরিবারের বড় ভূমিকা রয়েছে। পরিবার শুধু আয় ও সম্পদ গড়ে তোলে না, বরং নির্ভরশীল সদস্যদের সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মসম্পদ হস্তান্তরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে পারিবারিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা হলো, পরিবারব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আগেই তা রক্ষা করা বেশি সহজ ও কম ব্যয়বহুল।

আরও পড়ুন: আবার নতুন সকাল এসেছে-ডেমোক্র্যাটদের জয়ী বলে মন্তব্য মামদানি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেন বা ইংল্যান্ড নয়, পিএসজিতেই ক্যারিয়ার শেষ করতে চান জোয়াও নেভেস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ পি.এম


স্পেন বা ইংল্যান্ড নয়, পিএসজিতেই ক্যারিয়ার শেষ করতে চান জোয়াও নেভেস

স্প্যানিশ লা লিগা অথবা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মতো ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলার প্রতি কোনো আকর্ষণ বা স্বপ্ন নেই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেসের। ২২ বছর বয়সী এই তরুণ তারকা ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) থেকেই তার বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ার সম্পূর্ণরূপে শেষ করতে চান।

ফরাসি গণমাধ্যম ক্যানেল প্লাসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নেভেস তার ভবিষ্যৎ ফুটবল পরিকল্পনা এবং ক্লাব প্রতি ভালোবাসা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। পিএসজিতে তার অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘স্পেন কিংবা ইংল্যান্ডের কোনো ক্লাবে যাওয়ার আমার বিন্দুমাত্র লক্ষ্য নেই। আমার মূল লক্ষ্য হলো, নিজের জীবন নিয়ে সুখে ও ভালো থাকা এবং পিএসজির হয়ে একের পর এক শিরোপা জয় করা। আমি আমার পুরো ফুটবল ক্যারিয়ার এখানেই কাটাতে চাই।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা থেকে প্রায় ৭ কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফিতে পিএসজিতে যোগ দেন হোয়াও নেভেস। ফরাসি রাজধানীতে আসার পর থেকেই কোচ লুয়েস এনরিকের আস্থার প্রতিদান দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে পিএসজি মিডফিল্ডের অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। সম্প্রতি, পিএসজির প্রতি তার দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ক্লাবটির সঙ্গে নতুন চুক্তির মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়িয়ে নিয়েছেন এই প্রতিভাবান পর্তুগিজ মিডফিল্ডার।

এখন পর্যন্ত ফরাসি জায়ান্টদের হয়ে মাঠে নেমে শততম (১০০ ম্যাচ) ম্যাচ খেলার অনন্য মাইলফলকও তিনি অতিক্রম করেছেন। প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়া থেকে শুরু করে নিখুঁত পাসিং, গোল করা এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রে তার ক্লান্তিহীন ও পরিশ্রমী ভূমিকা বর্তমান পিএসজির অদম্য সাফল্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টঙ্গীতে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ পি.এম


টঙ্গীতে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

গাজীপুরের টঙ্গীতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের অজুহাতে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী চেরাগআলী এলাকা থেকে এই মিছিলের সূচনা ঘটে।

মিছিলটি পরবর্তীতে বেক্সিমকো, খাঁপাড়া, সাতাইশ রোডসহ মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে খরতৈল এলাকায় এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিল শেষে নেতাকর্মীরা টঙ্গীর গার্মেন্টসপল্লী হিসেবে পরিচিত গাজীপুরা ও সাতাইশ এলাকায় মোটরসাইকেল মহড়া দেন।

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ সুমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিরন, পশ্চিম থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান টিপু এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন টঙ্গী পশ্চিম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, "আমরা পোশাকশ্রমিকদের যেকোনো যৌক্তিক দাবির সঙ্গে একমত। তবে নিষিদ্ধ আওয়ামী সন্ত্রাসীরা যাতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কৌশলে মিশে গিয়ে পোশাক কারখানায় অরাজকতা তৈরি করতে না পারে, সে জন্য আমরা অতণ্ড প্রহরীর মতো মাঠে আছি। সকাল থেকে বিকেলে কারখানা ছুটি হওয়া পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুতে ভর্তুকির চাপ বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ ঝুঁকিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ পি.এম


এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুতে ভর্তুকির চাপ বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ ঝুঁকিতে

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম ২০ ডলার হলে সরকারকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে ৬০ টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হয়। চলতি বছরে সরবরাহ বিঘ্নের কারণে বাংলাদেশকে এর চেয়েও বেশি দামে এলএনজি কিনতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের ভর্তুকির বোঝা বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চ ব্যয় এবং অর্থায়ন সংকটের কারণে বাংলাদেশসহ এশিয়ার চারটি দেশে এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আমদানি টার্মিনাল নির্মাণের অর্ধেকের বেশি প্রকল্প বাতিল হয়েছে অথবা বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ফলে নতুন এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) একটি নতুন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘এলএনজি-টু-পাওয়ার ইন ইমার্জিং এশিয়া: আ ফাইভ-ইয়ার রিভিউ অব প্রজেক্ট আউটকামস’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের গত পাঁচ বছরের এলএনজিভিত্তিক প্রকল্প পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ২০২১ সালের পর থেকে উচ্চ ব্যয়, অর্থায়ন সংকট এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে চার দেশে প্রস্তাবিত অধিকাংশ প্রকল্পই প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার দেশে সম্ভাব্য ১০ হাজার ৯২০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ৯২টি এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ের ৪৪টি এলএনজি আমদানি টার্মিনাল পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৪৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ২২টি আমদানি টার্মিনাল প্রকল্প বাতিল হয়েছে অথবা সেগুলোর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত সম্ভাব্য ব্যয় ৬ হাজার ৭৮০ কোটি ডলার।

অন্যদিকে, এ সময়ে চার দেশে প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ১১ শতাংশ এবং এলএনজি আমদানি টার্মিনালের সক্ষমতার ১৫ শতাংশ চালু হয়েছে। বাস্তবায়িত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে গড়ে সাত বছরের বেশি সময় নিয়েছে। অথচ প্রকল্প উন্নয়নকারীরা সাধারণত তিন থেকে চার বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন।

আইইইএফএর বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান জ্বালানিবিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, "গত চার-পাঁচ বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামের ওঠানামা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর ও মূল্যসংবেদনশীল দেশের জন্য জ্বালানি ব্যয় বহন এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।" তিনি আরও বলেন, দেশের নিজস্ব গ্যাসসম্পদের ব্যবহার বাড়ানো, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বড় পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ করা গেলে বাংলাদেশ বেশি লাভবান হবে।

এলএনজির ব্যয় বাড়ায় বাড়ছে আর্থিক ঝুঁকি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামের অস্থিরতা, মূলধনি ব্যয় বৃদ্ধি, গ্যাস টারবাইন সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতা এবং ডলারের বিপরীতে এশিয়ার উদীয়মান দেশগুলোর মুদ্রার অবমূল্যায়ন এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আর্থিক সম্ভাবনাকে দুর্বল করেছে। এসব কারণে প্রকল্পের জন্য ব্যাংকঋণ পাওয়াও কঠিন হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদনের সহলেখক ও আইইইএফএর এশিয়ার এলএনজি ও গ্যাস বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার ডোলম্যান বলেন, "এসব ঝুঁকির কারণে এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুরো জীবনকালের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় ২০২১ সালের প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় সর্বোচ্চ ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।" উদীয়মান এশিয়ার অনেক দেশের জ্বালানি পরিকল্পনা তুলনামূলক কম জ্বালানির দাম ও সাশ্রয়ী মূলধনি ব্যয়ের ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে এশিয়ার স্পট মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ২৭ দশমিক ৫ ডলারে পৌঁছায়, যা সংঘাত শুরুর আগের দামের প্রায় তিন গুণ। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন এবং ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম ২০২০ সালের আগের গড় দামের তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্ববাজারে গ্যাস টারবাইনের সংকট নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ব্যয় বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূলধনি ব্যয় ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেড়েছে। ভারী শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাস টারবাইন সরবরাহ পেতে এখন ছয় বছর বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রযুক্তি ব্যয় কমছে। এসব প্রকল্প তুলনামূলক দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ায় পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে বিদ্যমান গ্যাস অবকাঠামোর বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

বাংলাদেশে গ্যাসের উচ্চমূল্য, বাড়ছে ভর্তুকির বোঝা। বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ২০ ডলার হলে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে সরকারকে ৬০ টাকারও বেশি ভর্তুকি দিতে হয়। কিন্তু চলতি বছর সরবরাহ বিঘ্নের কারণে বিভিন্ন সময়ে এর চেয়েও বেশি দামে এলএনজি কিনতে হয়েছে। এতে আগে থেকেই চাপে থাকা সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

আইইইএফএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের পর বাংলাদেশে তিনটি এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছে। তবে এলএনজি ও বিদ্যুতের উচ্চ ব্যয়ের কারণে সরকারের ভর্তুকির বোঝা বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে বহিঃস্থ অর্থায়নের ওপর নির্ভরতাও গভীর হয়েছে। এত ব্যয়ের পরও অনির্ভরযোগ্য এলএনজি সরবরাহের কারণে দেশে গ্যাসসংকট অব্যাহত রয়েছে।

শফিকুল আলমের মতে, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে শুধু এলএনজি আমদানি বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বরং নিজস্ব গ্যাসসম্পদের ব্যবহার বাড়ানো, জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানির চাহিদার দিকেও বিদ্যুতায়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে শিল্পকারখানায় গ্যাসচালিত বয়লারের পরিবর্তে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন হিট পাম্প ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

চার দেশে চার ধরনের সংকট

প্রতিবেদনে চার দেশের এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সমস্যা ও বিনিয়োগ পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে।

ফিলিপাইনে ২০২১ সালের পর বেশ কয়েকটি এলএনজি প্রকল্প বাতিল হয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যাংকঋণ পাওয়ার উপযোগী বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করতে না পারাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং বিদ্যুৎ খাতের বাইরে এলএনজির পর্যাপ্ত চাহিদা না থাকায় নতুন আমদানি টার্মিনাল নির্মাণের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও দুর্বল হয়েছে।

ভিয়েতনামে এলএনজি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও গত পাঁচ বছরে মাত্র একটি এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাণিজ্যিক উৎপাদনে এসেছে। বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির অর্থায়নযোগ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে এলএনজির দাম বৃদ্ধি এবং সেই ব্যয় বিদ্যুতের দামের মাধ্যমে আদায় করতে না পারার ঝুঁকি রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থার আর্থিক অবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে।

থাইল্যান্ডে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে তুলনামূলক বেশি অগ্রগতি হলেও বিদ্যমান গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এলএনজি টার্মিনালের সক্ষমতার বড় অংশ অব্যবহৃত থাকছে।

প্রতিবেদনের সহলেখক ও আইইইএফএর এশিয়ার এলএনজি ও গ্যাসবিষয়ক গবেষণা প্রধান স্যাম রেনল্ডস বলেন, "সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি, যন্ত্রপাতি ও মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা উদীয়মান এশিয়ার দেশগুলোতে এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।" একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্ভরযোগ্য আয়ের সম্ভাবনাও দুর্বল হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে এলএনজির সম্প্রসারণ বৈশ্বিক গ্যাসশিল্পের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ধীরগতিতে এগিয়েছে।

তিনি বলেন, "২০২১ সালের পর এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের দুর্বল চিত্র থেকে স্পষ্ট যে, উদীয়মান এশিয়ায় দ্রুত এলএনজির চাহিদা বাড়বে বলে যে প্রত্যাশা করা হয়েছিল, বাস্তবে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির সঙ্গে তার বড় ব্যবধান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধামইরহাটে ট্রাকের নিচে পড়ে কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ পি.এম


ধামইরহাটে ট্রাকের নিচে পড়ে কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় ট্রাকের চাকার নিচে পড়ে রিমন হোসেন (২১) নামে একজন কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ফার্শিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিক্ষার্থী উপজেলার উমার ইউনিয়নের বেলঘড়িয়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, উপজেলার আমাইতাড়া বাজার থেকে একটি ট্রাক ফার্শিপাড়া বাজারের দিকে যাচ্ছিল। একই পথে রিমন হোসেন তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়িতে ফেরার সময় ফার্শিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি ভ্যানের ধাক্কায় ট্রাকের পেছনের চাকার নিচে পড়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাকে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে তার মৃত্যু ঘটে। রিমন এবারে ধামইরহাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদরাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মমতাজুল হক জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আইনিপক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%