ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেত্রকোণায় বিজিবির অভিযানে ৭ লাখ ৬৭ হাজার টাকার চোরাই পণ্য জব্দ


নেত্রকোণায় বিজিবির অভিযানে ৭ লাখ ৬৭ হাজার টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযানের মাধ্যমে ভারতীয় কম্বল, মদ, কয়লা, চিনি, সাবান এবং দেশীয় রসুনসহ ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন ৩১।

আজ সকালে বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী।

তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা এবং চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা নির্মূলে নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

আরও পড়ুন: মাধবপুরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার কাউন্সিল অনুষ্ঠিত, নতুন নেতৃত্বে বেলাল-শিপন

এই লক্ষ্যে, সীমান্ত এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমন ও নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্দেশ্যে ২৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী স্থানে সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ব্যাটালিয়নের অধীন পাঁচগাঁও, বিজয়পুর এবং ভবানীপুর বিওপির চৌকস টহল দল স্থানীয় দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় সফলভাবে অভিযানগুলো সম্পন্ন করে। অভিযানের সময় সীমান্ত পিলার ১১৮১/৫-এস, ১১৮১/৬-এস, ১১৫১ এমপি, ১১৫২ এমপি এবং ১১৫৩ এমপি’র কাছাকাছি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানায়, জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে মোট ৪১ পিস ভারতীয় কম্বল, ৭২ বোতল ভারতীয় মদ, ১৭ হাজার ৯০০ কেজি ভারতীয় কয়লা, ২০০ কেজি চিনি, ৮০০ পিস সাবান এবং ৩৬০ কেজি বাংলাদেশী রসুন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিজিবির টহল দল চোরাচালানকারীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের পালিয়ে যেতে দেখে, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব পণ্য জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত পণ্যের মোট মূল্য ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জয়পুরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২

লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় জননিরাপত্তা রক্ষা এবং দেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সীমান্তে অবৈধ পণ্য পারাপার ঠেকাতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, জব্দকৃত চোরাই পণ্যের আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে বিজিবি কাজ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে উদ্ধারকৃত ভারতীয় মদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে এবং অন্যান্য চোরাই পণ্যসমূহ (কম্বল, কয়লা, চিনি, সাবান ও রসুন) নেত্রকোণা কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আইনগত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর এসব মালামাল বিধি মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য হস্তান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন: বরিশালে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ঘাস কাটলেন কমিশনার ও জেলা প্রশাসক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুর সদর উপজেলা নার্সারি মালিক কল্যাণ সমিতির কমিটি গঠন হয়, সভাপতি- সিরাজুল সাধারণ সম্পাদক রাসেল,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি,

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫১ পি.এম


শেরপুর সদর উপজেলা নার্সারি মালিক কল্যাণ সমিতির কমিটি গঠন হয়, সভাপতি- সিরাজুল সাধারণ সম্পাদক রাসেল,

১৫ বিশিষ্ট সদস্য শেরপুর। সদর উপজেলার নার্সারী ব্যবসায়ী। মালিক কল্যাণ সমিতির নতুন। কার্যকরী কমিটি সভায় অনুমোদন দিয়েছেন। শেরপুর জেলা নার্সারি কল্যাণ মালিক সমিতি।

সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম।
সহ-সভাপতি মোঃ হান্নান মিয়া। সাধারণ সম্পাদক- মোঃ রাসেল মিয়া। সহ-সাধারণ- সম্পাদক
মোঃ সাইদুর ইসলাম।
কোষাধক্ষ-মোঃ মানিক মিয়া।
প্রচার সম্পাদক মোঃ আলম মিয়া
সদস্য, মোঃ কুদ্দুস মিয়া মোঃ খোরশেদ আলম, মোঃ নূর হোসেন, মোঃ ইসমাইল হোসেন, মোঃ কমল মিয়া, মোঃ আশিক মিয়া, মোঃ আরিফ মিয়া, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, জনি মোঃ ফজল মিয়া। ০২-১০-২০২৬ তারিখে
১৫ পনেরো সদস্য বিশিষ্ট শেরপুর সদর উপজেলার নার্সারী ব্যবসায়ী মালিক কল্যাণ সমিতির নতুন কার্যকরী কমিটি সভায় অনুমোদন দিয়েছেন। শেরপুর জেলা নার্সারি কল্যাণ মালিক সমিতি সভাপতি। মোঃ সাদেক আলী ও
সাধারণ সম্পাদক জহির রায়হান।
ও
শেরপুর সদর উপজেলা নার্সারি মালিক কল্যাণ সমিতির
নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন আলোচনা সভার সভাপতি
মোঃ লুৎফর রহমান
স্বাক্ষরিত প্যাটে অনুমোদন দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় গ্রিডে বারবার বিপর্যয়, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫২ পি.এম


জাতীয় গ্রিডে বারবার বিপর্যয়, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

দেশে বারবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয় এবং বড় ধরনের বিভ্রাটের ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় বেশি, তবুও জ্বালানির সংকট, সঞ্চালন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং কার্যকর ব্যাকআপের অভাবে বড় কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে তা মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য সরকারের। আগামী নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তির বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দিতে জাতীয় গ্রিড কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, অতীতের গ্রিড বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রযুক্তির বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে গ্রিডের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে এখনই জোর দেওয়া জরুরি।

গত মঙ্গলবার মেঘনাঘাট এলাকায় জাতীয় গ্রিডে কারিগরি ত্রুটির পর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উৎপাদন থেকে বিতরণ পর্যন্ত গ্রিড সুরক্ষায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি এড়ানো কঠিন হবে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, গ্রিডের ত্রুটি, দুর্ঘটনা ও বিপর্যয় মোকাবেলায় তাঁরা নিয়মিত কাজ করছেন। স্পিনিং রিজার্ভ বা আকস্মিক উৎপাদন ঘাটতি সামাল দেওয়ার মতো অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে বড় কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া বা উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব সামাল দেওয়া সহজ হবে।

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। একই সময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা। এসব বিদ্যুৎ দেশের উৎপাদনব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও সঞ্চালন ও গ্রিড পরিচালনায় নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সূর্যালোকের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভরশীল। ফলে আবহাওয়া ও দিনের সময় অনুযায়ী উৎপাদনে দ্রুত পরিবর্তন আসতে পারে। গ্রিডে এ ধরনের পরিবর্তন সামাল দেওয়ার জন্য প্রযুক্তি, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত রিজার্ভ সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কোনো কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প উত্স থেকে ঘাটতি পূরণের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যানালিসিসের (আইইইএফএ) প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম কালের কণ্ঠকে জানান, "সাম্প্রতিক গ্রিড বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ এখনো চিহ্নিত হয়নি। কারিগরি কমিটির তদন্তে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তবে সঞ্চালন লাইনে কোনো ত্রুটির পর ফ্রিকোয়েন্সির ভারসাম্য নষ্ট হলে তার ক্যাসকেডিং ইফেক্ট তৈরি হতে পারে। এতে নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটতে পারে।"

তিনি আরও বলেন, "সামনে দেশের বিদ্যুত্ব্যবস্থায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার বড় পরিসরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় গ্রিডের আধুনিকায়নে এখনই গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে গ্রিডে ফ্রিকোয়েন্সির পরিবর্তন এবং বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের আকস্মিক ভারসাম্যহীনতা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।"

শফিকুল আলম বলেন, "নবায়নযোগ্য জ্বালানি আবহাওয়ানির্ভর ও পরিবর্তনশীল। সূর্যালোক থাকলে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন দ্রুত বাড়তে পারে, আবার সূর্যালোক কমে গেলে উৎপাদন হঠাৎ কমে যেতে পারে। ভবিষ্যতে গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের অংশ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লে এ ধরনের ওঠানামা সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তাই ১০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য থাকলে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রিডেও বিনিয়োগ ও আধুনিকায়ন করতে হবে।"

তিনি উল্লেখ করেন, "রুফটপ সোলারের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মার্ট মিটারের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাত্ক্ষণিকভাবে জানতে পারবে কখন এবং কি পরিমাণ বিদ্যুৎ রুফটপ সোলার থেকে গ্রিডে আসছে। এতে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হঠাৎ কমে বা বেড়ে গেলে কিংবা চাহিদায় আকস্মিক পরিবর্তন এলে ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ ব্যবস্থা গ্রিডের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"

উৎপাদন সক্ষমতা বেশি, কার্যকর ব্যাকআপে ঘাটতি : দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট; কিন্তু স্থাপিত সক্ষমতা আর প্রয়োজনের সময় বাস্তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা এক নয়। গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির সংকটের কারণে সব কেন্দ্র থেকে সব সময় পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় না। ফলে কোনো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে অন্য কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে ঘাটতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা গ্রিড বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন নিশ্চিত করা না গেলে এবং আকস্মিক ঘাটতি পূরণের মতো পর্যাপ্ত স্পিনিং রিজার্ভ না থাকলে গ্রিডের ওপর চাপ বাড়ে। এ অবস্থায় সঞ্চালন লাইনে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। এর আগে গত মাসে হঠাৎ ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে ওই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। তখন অন্য কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় উৎপাদন বাড়াতে না পারায় দেশজুড়ে লোডশেডিং বেড়ে যায়।

বিপিডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, "বর্তমানে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ হলেও ব্যাকআপে বড় ঘাটতি রয়েছে, যার ফলে বড় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কারিগরি ত্রুটির কারণে আকস্মিক বন্ধ হয়ে গেলে জ্বালানির অভাব ও পরিচালনগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাত্ক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুত্ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়।"

বারবার বিপর্যয়, একই উদ্বেগ : গত এক দশকে জাতীয় গ্রিড ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রিড উপকেন্দ্রে একাধিক বড় ধরনের বিপর্যয় ও বিদ্যুিবভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২ মে জাতীয় গ্রিডের আংশিক বিপর্যয়ে ৩২ থেকে ৩৭টি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। ভৈরবের কাছে ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ে উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকা ছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়ে। ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর আমিনবাজার গ্রিড উপকেন্দ্রে ২৩০ কেভি সার্কিট ব্রেকার বিস্ফোরণে ঢাকা ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।

২০২৫ সালের ১১ মার্চ একই উপকেন্দ্রে ট্রান্সফরমারের কারিগরি ত্রুটিতে ঢাকার কয়েকটি এলাকায় অন্তত দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। ওই বছরের ২৬ এপ্রিল আমিনবাজার উপকেন্দ্রে ত্রুটিতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবারের ঘটনা আবার দেখিয়েছে, সঞ্চালনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কোনো অংশে ত্রুটি দেখা দিলে তার প্রভাব একাধিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে প্রতিটি ঘটনার কারণ এক নয়। কোথাও সঞ্চালন লাইনের ত্রুটি, কোথাও উপকেন্দ্রের যন্ত্রপাতির সমস্যা, আবার কোথাও উৎপাদন ও সঞ্চালনব্যবস্থার ভারসাম্যহীনতা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রিড বিপর্যয় ঘটলেই তা বড় দুর্ঘটনার ইঙ্গিত নয়। তবে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে এর অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধান, ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো চিহ্নিত করা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

আগামী দিনে পারমাণবিক বিদ্যুৎ এবং বিপুল পরিমাণ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ আরো বাড়বে। তাই শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ালেই চলবে না; উৎপাদন ও চাহিদার তাত্ক্ষণিক ভারসাম্য রক্ষা, পর্যাপ্ত স্পিনিং রিজার্ভ নিশ্চিত করা এবং গ্রিডের নিরাপত্তাব্যবস্থা আধুনিকায়নে সমন্বিত বিনিয়োগ প্রয়োজন। অন্যথায় একটি সঞ্চালন লাইন বা উপকেন্দ্রের ত্রুটিও বড় অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ঈশ্বরদীতে চাঁদাবাজি ও মাদক ব‍্যবসা করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫২ পি.এম


বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ঈশ্বরদীতে চাঁদাবাজি ও মাদক ব‍্যবসা করছে

বিএনপির নাম ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি বাজারে চাঁদাবাজি ও মাদক ব‍্যবসা করছে। স্কুলের লাইব্রেরি দখল করে তারা ক্লাব গঠন করেছে। ক্লাবের মাধ্যমে সেখানে মাদক বিক্রির অভিযোগ করেছেন ঈশ্বরদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হেকমত উল্লাহ কনক মণ্ডল।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে সাঁড়া ইউনিয়নের আরামবাড়িয়া বাজারে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

এ কর্মসূচিটি সাঁড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ব‍্যানারে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হেকমত উল্লাহ কনক মণ্ডল, যুবদল নেতা আতাউর রহমান, মনোয়ার হোসেন মনির, সাজেদুল হোসেন, আকরাম হোসেন ও জাকারিয়া সেন্টু, মহিলা দলের নেত্রী আনজু খাতুন ও রনিফা বেগম, ছাত্রদল নেতা প্রিন্স মাহমুদ, তহিদুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন ও জয় ইসলাম প্রমুখ।

হেকমত উল্লাহ কনক মণ্ডল বলেন, "অবৈধভাবে বেশ কয়েকটি দোকান তুলে জায়গা দখল করে আছে। বাজারের জায়গা দখল করে অফিস নির্মাণ করেছে। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস‍্য হাবিবুর রহমান হাবিবের নামে তারা নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে।"

আতাউর রহমান মন্তব্য করেন, "আমাদের ইউনিয়ন খুব শান্তিপূর্ণ একটা জায়গা ছিল। কিন্তু কিছু কূচক্র, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি করে। মাদক ব্যবসা করে। গুলিবর্ষণ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এতে আমাদের এলাকার শান্তি নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে আমরা মানববন্ধন করছি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে উদ্দ‍্যেশ‍্য করে তারা অশালীন বক্তব্য দেয়। মিথ‍্যা ভিত্তিহীন উদ্দেশ‍্য প্রনোদিতভাবে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।"

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জমি দখলসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে এবং গ্রেপ্তারের মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে।

মানববন্ধনের বক্তারা অবিলম্বে এসব মাদক ব্যবসায়ী এবং সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিয়ামতিতে জনগণের সমস্যা ও সমাধান নিয়ে উঠান বৈঠক,নেতৃত্বে সোহেল ফরাজী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব সংবাদদাতা :মোঃসানি

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৩ পি.এম


নিয়ামতিতে জনগণের সমস্যা ও সমাধান নিয়ে উঠান বৈঠক,নেতৃত্বে সোহেল ফরাজী

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নে জনগণের সমস্যা ও তার সমাধানের লক্ষ্যে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় ট্যাংরাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোহেল ফরাজির উদ্যোগে এ উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে ৬, ৭ নং ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের মুখ থেকে সরাসরি তাদের সমস্যার কথা শোনা এবং তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া।
বৈঠকে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বিভিন্ন জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তারা ক্ষতবিক্ষত ইটের সলিং রাস্তা দ্রুত পিচ ঢালাই, ট্যাংরাখালী স্কুল মাঠ বালু দিয়ে ভরাট করে খেলার উপযোগী করা এবং যুব সমাজকে মাদক থেকে রক্ষায় করার জন্য নিয়ামতি ইউনিয়নে বিভিন্ন খেলার মাঠগুলো সংস্কার করে খেলার উপযোগীতা করে গড়ে তোল।
বৈঠকে এক অসহায় বৃদ্ধ মহিলা তার সংসারের করুণ দুর্দশা ও চিকিৎসার জন্য সহায়তার আবেদন জানান। ওই বৃদ্ধ মহিলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শোনা হয়। এ সময় বাউল গানের মাধ্যমে সোহেল ফরাজির করা উন্নয়নমূলক কাজের চিত্র তুলে ধরা হয়।
পরে জনগণের সমস্যার জবাবে সোহেল ফরাজি বলেন, "আমি নিয়ামতি ইউনিয়নে কোটি টাকার কাজ করেছি। তিনবার চেয়ারম্যান হলেও এত টাকা তোলা সম্ভব নয়। আমি নিয়ামতির বাইরেও দুটো রাস্তার কাজ করে দিয়েছি, সেখানে আমার কোনো ভোট নেই। আমি ভোটের আশায় নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করি।"
তিনি আরও বলেন, "আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হবো কিনা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। একটি কুচক্রী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে আমি সরকারি অর্থায়নে কাজ করেছি। সরকারি বরাদ্দ তো আপনারাও পেয়েছেন, তাহলে আপনাদের কাজ কোথায়?"
পরে তিনি ওই অসহায় বৃদ্ধ মহিলার চিকিৎসা সহায়তা, ক্ষতবিক্ষত রাস্তা সংস্কার এবং স্কুল মাঠ ভরাটের আশ্বাস দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে রাত ৮টায় উঠান বৈঠক শেষ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%