মোঃ উজ্জ্বল মিয়া নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৯ পি.এম
দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ৪ নম্বর জারিয়া ইউনিয়নের হানিফ উদ্দিন রানা।
হানিফ উদ্দিন রানা ৪ নম্বর জারিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৌদাম গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হাজী হাতেম আলীর বড় ছেলে। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি ইউনিয়নের মানুষের বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।
তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ২০০৭ সালে পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন উপজেলা কমিটি গঠিত না হওয়ায় তিনি কোনো সাংগঠনিক পদ পাননি। তবে পদ-পদবির বাইরে থেকেও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেন হানিফ উদ্দিন রানা।
হানিফ উদ্দিন রানার দাবি, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন মামলা, কারাবরণ ও রিমান্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ে তিনি ২৭টি মামলার আসামি হয়েছেন, ১৩ বার কারাবরণ করেছেন এবং কয়েক দফা রিমান্ডে ছিলেন।
তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালে ঢাকার মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে তিনি সাত দিন রিমান্ডে ছিলেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে কেরানীগঞ্জ ও নেত্রকোনা কারাগারে বিভিন্ন সময় কারাবন্দি ছিলেন বলেও জানান তিনি।
পরবর্তীতে ২০২২ সালে তিনি পূর্বধলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে পরবর্তীতে সেই পদও হারান বলে জানান তিনি।
দলীয় পদে না থাকলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন হানিফ উদ্দিন রানা। স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনকে সামনে রেখে এবার ৪ নম্বর জারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, হানিফ উদ্দিন রানা দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে রয়েছেন। এ কারণে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তারা।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের নাগরিকদের সরকারি সেবা পেতে হয়রানির শিকার হতে হবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন হানিফ উদ্দিন রানা। তার ভাষ্য, ইউনিয়নের সরকারি বাজেট ও বিভিন্ন বরাদ্দ যথাযথভাবে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন তিনি।
হানিফ উদ্দিন রানা বলেন, “মানুষের পাশে থাকার জন্য কোনো পদ-পদবির প্রয়োজন হয় না। দীর্ঘদিন ধরে আমি ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সুযোগ পেলে জনগণের সেবা এবং ইউনিয়নের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেব।”
তবে তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন মামলা, গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও দলীয় পদ হারানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও দলীয় সূত্র থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তার প্রার্থিতা ও স্থানীয় সমর্থনের বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনের তফসিল ও দলীয়/স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মাদকবিরোধী অভিযান ও আদালতের ওয়ারেন্ট তামিলের লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ। অভিযানে মাদক সেবন ও বিক্রয়ের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত অপর এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযান চলাকালে উপজেলার গোসাইবাড়ি এলাকার মৃত আঃ লতিফের ছেলে মোঃ আল আমিন (৫০) কে মাদক সেবন ও বিক্রয়ের সময় আটক করা হয়।
পরে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। আদালত আল আমিনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ২ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অপরদিকে, ওয়ারেন্ট তামিল অভিযানে সিআর মামলা নং-২৩৭/২৫, নাগেশ্বরী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ)/৩০ ধারার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নাগেশ্বরী উপজেলার হাতিয়ার ভিটা এলাকার মহসিন আলীর ছেলে। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নাগেশ্বরী থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান, ওয়ারেন্ট তামিল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা শুধু হাওর-বাঁওড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জনপদ নয়; এই মাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভাটি বাংলার বাউল, মরমি ও লোকসংগীতের দীর্ঘ ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম বাউল কামালউদ্দিন পাশা, যিনি কামাল পাশা নামেও পরিচিত।
জন্ম ও শৈশব
প্রকাশিত জীবনীভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, কামালউদ্দিন পাশা ১৯০১ সালের ৬ ডিসেম্বর দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম বাউল কবি আজিজ উদ্দিন এবং মাতার নাম আমেনা খাতুন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। ভাটিপাড়ার তালুকদার বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম হয়েছিল বলে বিভিন্ন লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই তিনি ভাটি অঞ্চলের লোকজ পরিবেশ, গান, পালাগান, মরমি সাধনা ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীকালে এই পরিবেশই তাঁর সৃষ্টিশীল জীবনের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।
সংগীতজীবনে উত্থান
কামালউদ্দিন পাশা শুধু গান গাইতেন না—তিনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার ও মরমি সাধক। দেহতত্ত্ব, মুর্শিদি, ইসলামী ভাবধারা, ভাটিয়ালি ও লোকগানের বিভিন্ন ধারায় তাঁর সৃষ্টি ছড়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়াসহ ১৪টি দেশের গবেষক ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘রাইকন ২০২৬’ (5th IEEE International Conference on Robotics, Automation, Artificial Intelligence and Internet of Things)।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু অ্যাকাডেমিক ভবনে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সরাসরি এবং অনলাইন—দুই মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ সম্মেলন।
আইইইই বাংলাদেশ সেকশন ও আইইইই রোবটিক্স অ্যান্ড অটোমেশন সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের যৌথ আয়োজনে এবং যবিপ্রবির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ সম্মেলনে মোট ৫১৭টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে। কঠোর পর্যালোচনা ও বাছাই প্রক্রিয়া শেষে এর মধ্যে ১৪৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এতে গবেষণাপত্র গ্রহণের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, "রোবোটিক্স, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংস এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো প্রযুক্তি নয়; বরং এসব প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগ শিল্পকারখানা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনকে পরিবর্তন করছে।" প্রযুক্তির উন্নয়ন অবশ্যই মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "গবেষক ও শিক্ষাবিদদের দায়িত্ব শুধু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা নয়, বরং তা যেন নৈতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেটিও নিশ্চিত করা।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, "উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো জ্ঞান ও গবেষণাকে এমন অর্থবহ উদ্ভাবনে রূপ দেওয়া, যা মানুষের কল্যাণে সরাসরি ভূমিকা রাখে।" আন্তর্জাতিক এ সম্মেলন গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কি-নোট বক্তব্য দেন ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস ইনকর্পোরেটেডের সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার রাম চন্দ্র পালসানিয়া। তিনি সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে এআই-চালিত অটোমেশনের ব্যবহার, প্রেডিক্টিভ মেইনটেইন্যান্স এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় টুলের ডাউনটাইম কমানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে স্লাইড উপস্থাপনের মাধ্যমে আলোচনা করেন। পাশাপাশি প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার, ডেটা নিরাপত্তা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাশ্রয়ী ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অর্গানাইজিং চেয়ার অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. ইমরান খান, অর্গানাইজিং কো-চেয়ার অধ্যাপক ড. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, জেনারেল চেয়ার অধ্যাপক ড. সেলিয়া শাহনাজ, আইইইই বাংলাদেশ সেকশনের চেয়ার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমামুল হাসান ভূঁইয়া এবং টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম কো-চেয়ার অধ্যাপক ড. শেখ মো. রবিউল ইসলাম বক্তব্য দেন। বিএমই বিভাগের প্রভাষক আনিকা আঞ্জুম ও ইইই বিভাগের প্রভাষক জাহেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে রোবোটিক্স, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংসের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ সম্মেলন দেশীয় গবেষকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সমাধান উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অর্থনৈতিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মধ্যম আয় রেকর্ড সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। একই সময়ে, দেশটির দারিদ্র্যের হার ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরোর নতুন প্রকাশিত তথ্য এই পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছে।
সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৭ সাল থেকে আয় সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর ২০২৫ সালে পরিবারের মধ্যম আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিবারের আয়ে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। শ্বেতাঙ্গ পরিবারের মধ্যম আয় ৩ শতাংশ এবং হিস্পানিক নন শ্বেতাঙ্গ পরিবারের আয় ২.৯ শতাংশ বেড়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের আয় বেড়েছে ৪.৮ শতাংশ। তবে এশীয় ও হিস্পানিক পরিবারের মধ্যম আয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।
নারী ও পুরুষের আয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে নারীদের মধ্যম আয় ৩.২ শতাংশ বেড়েছে, তবে পুরুষদের আয় সামান্য কমেছে। পূর্ণকালীন ও বছরজুড়ে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে নারীদের আয় পুরুষদের আয়ের ৮৩.৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ৮০.৬ শতাংশের তুলনায় বেশি।
কর পরিশোধের পর পরিবারের হাতে থাকা আয়ের হিসাবেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৪ সালে মধ্যম পোস্ট-ট্যাক্স পারিবারিক আয় ছিল ৭৩,৭৬০ ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৭৬,০৬০ ডলারে পৌঁছেছে, যা ৩.১ শতাংশ বেশি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হারও কমেছে। ২০২৫ সালে সরকারি হিসাব অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ১০.২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট কম। চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য ২০২৫ সালের গড় দারিদ্র্যসীমা ৩২,৯৭০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিশুদের দারিদ্র্যের হারও ২০২৫ সালে ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন ১৩.৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে, হিস্পানিক জনগণের সরকারি দারিদ্র্যের হার কমে ১৩.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এই গোষ্ঠীর জন্যও রেকর্ড সর্বনিম্ন।
তবে, কর, সরকারি সুবিধা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসা ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া ‘সাপ্লিমেন্টাল পভার্টি মেজার’ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ১৩.১ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ, সরকারি প্রচলিত হিসাবের তুলনায় এই মাপকাঠিতে দারিদ্র্যের হার প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। ২০২৫ সালে প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ মানুষ বা মোট জনসংখ্যার ৭.৯ শতাংশ কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল না। এই হার ২০২৪ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি।
২০২৫ সালে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল ৩৫.৮ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে মেডিকেয়ার আওতা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে, অন্যদিকে মেডিকেডের আওতা কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতাও কমে ১৭.৩ শতাংশে নেমেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ