শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৬ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়াসহ ১৪টি দেশের গবেষক ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘রাইকন ২০২৬’ (5th IEEE International Conference on Robotics, Automation, Artificial Intelligence and Internet of Things)।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু অ্যাকাডেমিক ভবনে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সরাসরি এবং অনলাইন—দুই মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ সম্মেলন।
আইইইই বাংলাদেশ সেকশন ও আইইইই রোবটিক্স অ্যান্ড অটোমেশন সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের যৌথ আয়োজনে এবং যবিপ্রবির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ সম্মেলনে মোট ৫১৭টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে। কঠোর পর্যালোচনা ও বাছাই প্রক্রিয়া শেষে এর মধ্যে ১৪৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এতে গবেষণাপত্র গ্রহণের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, "রোবোটিক্স, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংস এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো প্রযুক্তি নয়; বরং এসব প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগ শিল্পকারখানা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনকে পরিবর্তন করছে।" প্রযুক্তির উন্নয়ন অবশ্যই মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "গবেষক ও শিক্ষাবিদদের দায়িত্ব শুধু নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা নয়, বরং তা যেন নৈতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেটিও নিশ্চিত করা।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, "উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো জ্ঞান ও গবেষণাকে এমন অর্থবহ উদ্ভাবনে রূপ দেওয়া, যা মানুষের কল্যাণে সরাসরি ভূমিকা রাখে।" আন্তর্জাতিক এ সম্মেলন গবেষক, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কি-নোট বক্তব্য দেন ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস ইনকর্পোরেটেডের সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার রাম চন্দ্র পালসানিয়া। তিনি সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে এআই-চালিত অটোমেশনের ব্যবহার, প্রেডিক্টিভ মেইনটেইন্যান্স এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় টুলের ডাউনটাইম কমানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে স্লাইড উপস্থাপনের মাধ্যমে আলোচনা করেন। পাশাপাশি প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার, ডেটা নিরাপত্তা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাশ্রয়ী ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অর্গানাইজিং চেয়ার অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. ইমরান খান, অর্গানাইজিং কো-চেয়ার অধ্যাপক ড. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, জেনারেল চেয়ার অধ্যাপক ড. সেলিয়া শাহনাজ, আইইইই বাংলাদেশ সেকশনের চেয়ার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমামুল হাসান ভূঁইয়া এবং টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম কো-চেয়ার অধ্যাপক ড. শেখ মো. রবিউল ইসলাম বক্তব্য দেন। বিএমই বিভাগের প্রভাষক আনিকা আঞ্জুম ও ইইই বিভাগের প্রভাষক জাহেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে রোবোটিক্স, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংসের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ সম্মেলন দেশীয় গবেষকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সমাধান উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অর্থনৈতিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মধ্যম আয় রেকর্ড সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। একই সময়ে, দেশটির দারিদ্র্যের হার ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরোর নতুন প্রকাশিত তথ্য এই পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছে।
সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৭ সাল থেকে আয় সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর ২০২৫ সালে পরিবারের মধ্যম আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিবারের আয়ে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। শ্বেতাঙ্গ পরিবারের মধ্যম আয় ৩ শতাংশ এবং হিস্পানিক নন শ্বেতাঙ্গ পরিবারের আয় ২.৯ শতাংশ বেড়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের আয় বেড়েছে ৪.৮ শতাংশ। তবে এশীয় ও হিস্পানিক পরিবারের মধ্যম আয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।
নারী ও পুরুষের আয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে নারীদের মধ্যম আয় ৩.২ শতাংশ বেড়েছে, তবে পুরুষদের আয় সামান্য কমেছে। পূর্ণকালীন ও বছরজুড়ে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে নারীদের আয় পুরুষদের আয়ের ৮৩.৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ৮০.৬ শতাংশের তুলনায় বেশি।
কর পরিশোধের পর পরিবারের হাতে থাকা আয়ের হিসাবেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৪ সালে মধ্যম পোস্ট-ট্যাক্স পারিবারিক আয় ছিল ৭৩,৭৬০ ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৭৬,০৬০ ডলারে পৌঁছেছে, যা ৩.১ শতাংশ বেশি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হারও কমেছে। ২০২৫ সালে সরকারি হিসাব অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ১০.২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট কম। চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য ২০২৫ সালের গড় দারিদ্র্যসীমা ৩২,৯৭০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিশুদের দারিদ্র্যের হারও ২০২৫ সালে ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন ১৩.৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে, হিস্পানিক জনগণের সরকারি দারিদ্র্যের হার কমে ১৩.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এই গোষ্ঠীর জন্যও রেকর্ড সর্বনিম্ন।
তবে, কর, সরকারি সুবিধা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসা ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া ‘সাপ্লিমেন্টাল পভার্টি মেজার’ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ১৩.১ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ, সরকারি প্রচলিত হিসাবের তুলনায় এই মাপকাঠিতে দারিদ্র্যের হার প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। ২০২৫ সালে প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ মানুষ বা মোট জনসংখ্যার ৭.৯ শতাংশ কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল না। এই হার ২০২৪ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি।
২০২৫ সালে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল ৩৫.৮ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে মেডিকেয়ার আওতা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে, অন্যদিকে মেডিকেডের আওতা কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতাও কমে ১৭.৩ শতাংশে নেমেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হারিকেন ওটিসের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত মেক্সিকোর আকাপুলকোতে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে গিয়ে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা চার মাস বয়সী ক্ষুধার্ত শিশুকে নিজের বুকের দুধ খাইয়ে শান্ত করেন। এই মানবিক কাজের জন্য তিনি পদোন্নতি লাভ করেছেন।
পুলিশ কর্মকর্তার নাম আরিজবেথ ডিওনিসিও অ্যামব্রোসিও। ৩৩ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা মেক্সিকো সিটির পুলিশ বাহিনীর ‘জোরোস’ টাস্ক ফোর্সের সদস্য হিসেবে আকাপুলকোতে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
২৫ অক্টোবর ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার হারিকেন ওটিস আকাপুলকোতে আঘাত হানার পর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। উদ্ধারকাজের সময় ডিওনিসিও দেখতে পান, একটি শিশু দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষুধায় কাঁদছে। শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারছিলেন না।
পরিস্থিতি বুঝে শিশুটির মায়ের সঙ্গে কথা বলেন ডিওনিসিও। এরপর তার অনুমতি নিয়ে নিজের বুকের দুধ খাওয়ান শিশুটিকে। এতে কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটি শান্ত হয়ে যায়।
ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকাজের পোশাক পরা ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটিকে কোলে নিয়ে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন।
এক বছর বয়সী সন্তানের মা ডিওনিসিওর মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ‘পোলিসিয়া প্রিমেরো’ পদ থেকে উন্নীত হয়ে তিনি ‘সাব-অফিসিয়াল’ হয়েছেন।
মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী পাবলো ভাজকুয়েজ কামাচো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে ডিওনিসিওর পদোন্নতির বিষয়টি জানান।
তিনি বলেন, নাগরিকদের সেবার ব্রত এবং মেক্সিকো সিটির নাগরিক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য আকাপুলকোতে একটি শিশুর জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখা আরিজবেথ ডিওনিসিও অ্যামব্রোসিওকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তার এই কাজ সবার জন্য মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পদোন্নতির পর ডিওনিসিও বলেন, প্রয়োজনের মুহূর্তে শিশুটি ও তার মাকে সহায়তা করতে পেরে তিনি আনন্দিত। তবে নিজের কাজকে বড় কিছু মনে করেন না তিনি।
ডিওনিসিও বলেন, "আমি খুব সামান্যই করেছি, আমরা আরও সহায়তা করতে পারি। যদি সম্ভব হতো, তবে আমি শিশুটিকে দেখতে আবার সেখানে ফিরে যেতাম।"
এর আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, কান্নারত ও ক্ষুধার্ত একটি শিশুকে এমন পরিস্থিতিতে দেখে তার খুব খারাপ লেগেছিল। একজন মা হিসেবে এমন দৃশ্য তাকে আরও বেশি নাড়া দিয়েছিল বলেও জানান তিনি।
সূত্র: মেক্সিকো নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, যা তীব্র উপকূলীয় ক্ষয়, অস্বাভাবিক উঁচু ঢেউ এবং ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ঘটেছে।
এই ঘোষণা বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কাউন্টি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে করা হয়। উপকূলীয় এলাকায় ক্ষতির মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য ও ফেডারেল সরকারের অতিরিক্ত সহায়তা পাওয়ার পথ সুগম হবে।
ডানা পয়েন্টের ক্যাপিস্ট্রানো বিচ এলাকায় শক্তিশালী ঢেউয়ের আঘাতে সমুদ্র তীরবর্তী কিছু বসতবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চলতি সপ্তাহে লাগুনা বিচ, সান ক্লেমেন্টে এবং ডানা পয়েন্ট শহর পৃথকভাবে স্থানীয় জরুরি অবস্থা জারি করেছে।
অরেঞ্জ কাউন্টি বোর্ড অব সুপারভাইজরসের ভাইস চেয়ার ক্যাটরিনা ফোলি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের কাছে পুরো উপকূলীয় এলাকায় রাজ্যব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এর ফলে দ্রুত পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং ২০২৬-২৭ সালের আসন্ন শীতকালীন ঝড়ের মৌসুমের প্রস্তুতি জোরদার করা সম্ভব হবে।
ক্যাটরিনা ফোলি উল্লেখ করেছেন, সম্ভাব্য শক্তিশালী ‘এল নিনো’ ঝড়ের ধাক্কা সামলাতে উপকূল সুরক্ষা এবং দ্রুত বালু পুনঃস্থাপনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি গভর্নরের কাছে শীতকালীন ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রক্ষা, ধ্বংসাবশেষ অপসারণ, খাল রক্ষণাবেক্ষণ এবং সেতু সুরক্ষায় বিশেষ নির্বাহী আদেশের আহ্বান জানান।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, বহু বছর ধরে ক্যালিফোর্নিয়া কোস্টাল কমিশনকে উপকূলীয় ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা সত্ত্বেও উপকূল রক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অরেঞ্জ কাউন্টির কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো উপকূলজুড়ে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাপ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের সব জেলা পরিষদকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার, যাতে টেকসই জ্বালানি ব্যবহার ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করা যায়। আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জেলা পরিষদের স্থাপনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখা গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের ১ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনার আলোকে জারি করা চিঠিটি দেশের সব জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব দাপ্তরিক মূল ভবন এবং জেলা পরিষদের আওতাধীন স্থাপনাগুলোতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা আবশ্যক।
এতে জেলা পরিষদ ভবন, অডিটরিয়াম, ডাকবাংলো, হাট-বাজারসহ অন্যান্য ভবন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিটি স্থাপনায় ন্যূনতম দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপসহ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অথবা রাজস্ব তহবিলের অর্থ ব্যয় করা যাবে।
এছাড়া, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে।
নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের জন্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে প্রাপ্য হবে। ফলে জেলা পরিষদগুলোর রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।
নির্দেশনায় স্বয়ংসম্পূর্ণ জেলা পরিষদগুলোকে তাদের নিজস্ব রাজস্ব ও এডিপির অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে এর সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এমন জেলা পরিষদগুলো বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি বাস্তবায়ন গাইডলাইন অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।
সৌর প্যানেল স্থাপনকারী কোম্পানির সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছরের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সরকারের নির্দেশনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য জেলা পরিষদগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ