শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১৪ এম
যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত গুগলের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবসার কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক নিয়মে পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিয়েছে, যা অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজারে প্রতিযোগীদের জন্য সুযোগ বৃদ্ধি করবে। তবে, আদালত গুগলের বিশাল বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবসা ভেঙে বিক্রি করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় জেলা আদালতের বিচারক লিওনি এম. ব্রিংকেমা এই আদেশ প্রদান করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের করা মামলার রায়ে বেআইনিভাবে বিজ্ঞাপন প্রযুক্তির বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগের ভিত্তিতে এই নির্দেশনা এসেছে।
অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজারে গুগলের আধিপত্য নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে। এ ক্ষেত্রে দুটি মামলা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২০ সালে দায়ের করা একটি মামলায় গুগলের অনলাইন সার্চ ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। অন্যদিকে, ২০২৩ সালে দায়ের করা মামলাটি সরাসরি গুগলের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে।
সরকারের অভিযোগ, গুগল বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজারে বেআইনিভাবে একচেটিয়া অবস্থান তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের একটি পৃথক রায়ে আদালত গুগলের সার্চ ব্যবসাকে অবৈধ একচেটিয়া ব্যবসা হিসেবে চিহ্নিত করে। সেখানে সার্চ-ভিত্তিক বিজ্ঞাপন ব্যবসার বিষয়টিও উঠে আসে। আদালতের মতে, গুগল নিজেদের বাজারক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সার্চ ও সার্চ বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে আধিপত্য বজায় রেখেছে।
গুগলের ব্যবসায়িক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য মার্কিন বিচার বিভাগ পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে ক্রোম ব্রাউজার ও অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমকে গুগলের মূল ব্যবসা থেকে আলাদা করার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিচারক অমিত মেহতা এসব প্রস্তাবের একটি বড় অংশ প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে ক্রোম ও অ্যান্ড্রয়েড গুগলের অধীনেই থেকে যায়। তবে, বিভিন্ন ডিভাইসে গুগল সার্চকে ডিফল্ট হিসেবে রাখার জন্য অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একচেটিয়া চুক্তি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কিছু সার্চ-সংক্রান্ত তথ্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে ভাগ করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
এবার বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবসার ক্ষেত্রেও গুগলকে একই ধরনের প্রতিযোগিতাবান্ধব পরিবর্তন আনতে বলা হয়েছে। বিচারক ব্রিংকেমার নির্দেশ অনুযায়ী, গুগলকে বিজ্ঞাপন ব্যবসা বিক্রি করতে হবে না। তবে, বাজারে প্রতিযোগীদের জন্য আরও সমান সুযোগ তৈরি হয়, এমনভাবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক নিয়ম ও কার্যক্রম বদলাতে হবে।
আদালতের বিস্তারিত লিখিত রায় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আগামী ১৪ দিন এটি গোপন রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে মামলার পক্ষগুলো রায়ে থাকা সংবেদনশীল তথ্য চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় অংশ গোপন করার কাজ করবে। এরপর আদালতের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে বাংলা সিনেমার সোনালি দিন ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, উত্তমকুমারের সময়ের মতো বাংলা ছবিগুলি আবারও সারা দেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করুক। এই লক্ষ্যে টালিউডের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সবকিছু দেওয়ার আশ্বাস দেন শুভেন্দু। প্রয়োজনে আইন সংশোধনেও তিনি রাজি আছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নন্দনে উত্তম স্মরণে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। তবে তিনি নিজে কোনো কর্মসূচি শুরু না করে চলচ্চিত্র তারকাদের সামনে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সকালে সামাজিক মাধ্যমে উত্তমকুমারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি লিখেছেন— 'ইনস্টাগ্রাম-যুগের আগে একজন অভিনেতা মানুষের হৃদয়ে রাজত্ব করতেন। আজ তার ১০০তম জন্মশতবার্ষিকী। মহানায়ককে আমার শ্রদ্ধা।'
যদি উত্তমকুমার বেঁচে থাকতেন, তবে বৃহস্পতিবারই তার ১০০ বছর পূর্ণ হতো। তবে তিনি না থেকেও আজও বাঙালির অন্যতম সেরা আইকন, এ দিনটির উন্মাদনা তা আবারও প্রমাণ করে। সকালের অনুষ্ঠানে মাল্যদান করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আগে ডাকা হলেও, তিনি প্রবীণ চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব রঞ্জিত মল্লিককে এগিয়ে দেন।
সন্ধ্যায় একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রবীন্দ্রসদন চত্বর থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে মিউজিয়ামের পাশ দিয়ে নন্দনে এসে শেষ হয়। এই পদযাত্রায় তারকাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। নন্দনে উত্তমবিষয়ক একটি প্রদর্শনীর সূচনা হয়। সেখানেও আনুষ্ঠানিক সূচনার জন্য শুভেন্দুকে ডাকা হলে, তিনি অভিনেতা জিৎকে ফিতে কাটার জন্য এগিয়ে দেন। পরে মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, উত্তমের জন্মশতবর্ষে বাংলার মানুষ তার উপরে মুখ্যমন্ত্রিত্বের ভার তুলে দেওয়ার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। ক্ষমতায় আসার পর মহানায়কের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বর্তমানে শুনি— দক্ষিণ ভারতের ছবি রাজত্ব করছে। তার উপরে রয়েছে বলিউডের ছবি। তবে মহানায়কের যুগে টালিউডই দেশে রাজত্ব করত। আমি চাই, সেই দিন ফিরে আসুক। বলিউডের ছবির উপরে রাজত্ব করবে টালিউড।’
তিনি আরও বলেন, "আপনারা আলোচনা করে আমাকে বলুন— তার জন্য কী চাই, আমি তাই দেব। আমরা দুহাত দিয়ে আপনাদের সঙ্গে থাকব। আমাকে বাজেট দিন, আমি অর্থ অনুমোদন করে দেব। পরিকল্পনা বলুন, ছাড়পত্র দিয়ে দেব। প্রয়োজনে আইন বদলে দেব, যা লাগবে বলুন, ব্যবস্থা করে দেব।"
অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী জানান, তিনি চান এখানে যারা শুটিং করতে আসবেন, তাদের ৩০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হোক। তিনি বলেন, "আমি সবার সঙ্গে কথা বলে শুভেন্দুদার কাছে পরিকল্পনা নিয়ে যাব। তিনি অনুমোদন দিলেই হবে। তবে ভর্তুকি আমরা নগদে দেব না, কর বা অন্য কিছুর সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করে দেব।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর শহরের ব্যস্ততম সাথী সিনেমা হলের সামনের সড়কের ঢালাই কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত খোয়ার মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে উন্নয়নকাজ চললেও সেখানে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে না। ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য সড়কের পাশে রাখা খোয়ার মধ্যে নিম্নমানের ও ভাঙাচোরা ইটের খোয়া দেখা যাচ্ছে বলে তারা দাবি করেছেন।
তাদের আশঙ্কা, নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করে ঢালাই করা হলে সড়কের স্থায়িত্ব কমে যেতে পারে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কে ফাটল, ভাঙন কিংবা গর্ত সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি দুর্ভোগও বাড়বে পথচারী ও যানবাহন চালকদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাথী সিনেমা হলের সামনের সড়কটি মধুপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত একটি সড়ক। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন এ পথ ব্যবহার করেন। ফলে এ সড়কের নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে ব্যবহৃত ইটের খোয়ার মান পরীক্ষা করুক। পাশাপাশি প্রকল্পের নির্ধারিত নকশা ও নির্মাণ specifications অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, সেটিও তদারকির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য ত্রাণ, পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ ১০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা) প্রদান করেছে।
এ তথ্য বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেছে।
ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারীর কাছে বাংলাদেশের এই সহায়তার বার্তা পৌঁছে দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর কাছে পাঠানো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি চিঠিও রাষ্ট্রদূতের হাতে তুলে দেন।
চিঠিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ সরকারের প্রদত্ত ১০ লাখ ডলারের অর্থ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হবে। এই অর্থ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য চলমান ত্রাণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
এর আগে, গত ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নেপাল দূতাবাসে খোলা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন হুমায়ুন কবির। সেখানে তিনি ভয়াবহ দুর্যোগে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেন।
এছাড়া, গত ২৭ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদেও একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ