০৬:১০ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, করদাতাদের জন্য এআই ভিত্তিক অনলাইন সেবা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কর আইন প্রতিপালনে সচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে কার্যক্রম গ্রহণের আওতায় কাজ শুরু করা হয়েছে। কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মুহূর্ত এসেছে।
এসময় জাতীয় সংসদে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর জন্য কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি একগুচ্ছ পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মো. আব্দুল্লাহ্ এর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এদিন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু নির্ধারিত প্রশ্নের জবাব টেবিলে উপস্থাপিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মো. আব্দুল্লাহ্ প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ২০২৪-২৫ অর্থবছর অনুযায়ী বাংলাদেশের জন্য কর-জিডিপি (Tax-to-GDP Ratio) অনুপাত প্রায় ৭ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে, যেখানে নেপালের এই হার প্রায় ২৩ দশমিক ১ শতাংশ, যা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি। বাংলাদেশের এই সমস্যা সমাধানে সরকারি পক্ষ থেকে কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হবে কিনা?
লিখিত জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ইতোমধ্যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি মিডিয়াম অ্যান্ড লং-টার্ম রেভিনিউ স্ট্র্যাটেজি (এমএলটিআরএস) গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর-জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিভাগের এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। অনলাইন উৎসে কর কর্তন ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় কর ছাড় এবং কর অব্যাহতি কমিয়ে রাজস্ব ব্যয় হ্রাস করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কর আইনকে সরলীকরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ এবং কর ঝুঁকি নির্ধারণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিল্প খাতভিত্তিক গড় সূচক ব্যবহার করে ঝুঁকি-ভিত্তিক নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান কার্যক্রমকে জোরদার করা হচ্ছে। করদাতার তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক ২০২৬ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচারকে যথাসম্ভব কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, মামলা ও বকেয়া, নিলাম, ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন, অনিস্পন্ন চালান, ডিফার্ড পেমেন্ট ইত্যাদি খাতে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় কার্যক্রমকে সরকার জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এছাড়া ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি ২০২৩ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে এবং কাস্টমস স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ২০২৪-২০২৮ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত করা হবে।
আরও পড়ুন: ক্যাবের সিলিন্ডার গ্যাসের দাম না বাড়ানোর দাবি, বিইআরসির গণশুনানি বৃহস্পতিবার
প্রধানমন্ত্রী লিখিত জবাবে বলেন, ‘আশা করি, এ সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে ৫ বছরের মধ্যে কর জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। অধিকন্তু, ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন: স্ট্রেংথেনিং ডোমেস্টিক রেভিনিউ মোবিলাইজেশন প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর অব্যাহতি পর্যায়ক্রমে যৌক্তিকীকরণ ইত্যাদি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন