ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্রান্সে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের শীর্ষ সহযোগী গ্রেফতার


ফ্রান্সে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের শীর্ষ সহযোগী গ্রেফতার

বিশ্বজুড়ে সাঁড়াশি অভিযানের মুখে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পর ফ্রান্সও এই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

কানাডায় কৌতুক অভিনেতা কপিল শর্মার ক্যাফের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনার সূত্র ধরে ফ্রান্সে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক শীর্ষ সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এছাড়াও, কানাডিয়ান পুলিশ এই ঘটনার সাথে জড়িত আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অন্য এক সদস্যকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে কানাডা।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার ফ্রান্স থেকে গরিন্দর দেব নামের এক গ্যাংস্টারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গরিন্দরকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কানাডায় নিয়ে আসা হবে। মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ৪০ বছর বয়সি গরিন্দর দেব ‘ডক্টর’, ‘রকেট’ এবং ‘রিটজ কার্লটন’ নামেও পরিচিত।

অভিযোগ রয়েছে যে, গরিন্দর লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অপরাধমূলক নেটওয়ার্ককে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দিতেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ কোকেন ও হেরোইন পাচারের ষড়যন্ত্র এবং সরবরাহে সাহায্য করার অভিযোগ।

২০২৫ সালের জুনে প্রায় ৯৯.২ কেজি কোকেন এবং ১ কেজি হেরোইনের একটি চালান পাঠানোর চেষ্টায় তার নাম জড়ায়, যা মার্কিন সংস্থাগুলো জব্দ করেছিল।

অন্য একটি মামলায়, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য জশানদীপ সিংকে কানাডার ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি ট্রাইব্যুনাল’ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কানাডার সারে এলাকায় কৌতুক অভিনেতা কপিল শর্মার ক্যাফের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল তা লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে জশানদীপের বিরুদ্ধে। যদিও এখনও পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

জশানদীপ ২০২২ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডায় এসেছিলেন। তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এর আগে আর্শদীপ সিং নামের বিষ্ণোই গ্যাংয়ের আরেক সদস্যকেও কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

বিশ্বজুড়ে সাঁড়াশি অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং কানাডায় পর পর এই অ্যাকশন লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিদেশি নেটওয়ার্ক ধ্বংসের একটি বড় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ভারত-ভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক সংগঠিত অপরাধ চক্রকে লক্ষ্য করে চালানো এক যৌথ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপজুড়ে ২৪ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর খুন, মাদক পাচার, চাঁদাবাজি ও আন্তঃসীমান্ত সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এটিকে অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই সমালোচনার মুখে বার্নহ্যাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ এম


যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই সমালোচনার মুখে বার্নহ্যাম

গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, গাজায় রক্তপাতের ঘটনায় আগের লেবার সরকার যথাসময়ে কড়া অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছিল এবং ক্ষমতায় এসে তার সরকার এ বিষয়ে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে।

বার্নহ্যামের এই মন্তব্যের পর যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী ইহুদি সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টিও তার অবস্থানের সমালোচনা করেছে। তবে লেবার পার্টির বামপন্থী এমপিরা তার বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন।

গাজা ইস্যুতে আরও কঠোর হওয়ার ঘোষণা

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার গাজা সংকট যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে পারেনি। তিনি বলেন, আমরা গাজা ইস্যুতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতেও আমরা অনেক দেরি করেছি।

তিনি আরও জানান, ক্ষমতায় গ্রহণের পর তার সরকার গাজায় সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করবে। তিনি জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে।

পররাষ্ট্রনীতিতে ধারাবাহিকতার আশ্বাস

বার্নহ্যাম একই সঙ্গে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিলেও যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে না। তিনি ন্যাটোর প্রতি অঙ্গীকার, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ইহুদি সংগঠনগুলোর উদ্বেগ

যুক্তরাজ্যের বোর্ড অব ডেপুটিজ অব ব্রিটিশ জিউজ এবং জিউইশ লিডারশিপ কাউন্সিল এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বার্নহ্যামের বক্তব্য নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন এবং এ বিষয়ে তার দলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছে। তারা বলেছেন, ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বার্নহ্যামের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিকে তারা স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে গাজার মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগও তারা ভাগ করে নেয়।

তবে সংগঠনগুলোর মতে, ইসরায়েল সরকারের সমালোচনার আড়ালে অনেক সময় চরমপন্থি ইসলামপন্থি, অতি-বাম ও অতি-ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে থাকে। তাই ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

কনজারভেটিভদের সমালোচনা

যুক্তরাজ্যের ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেম প্রীতি প্যাটেল অভিযোগ করেন, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সবাইকে খুশি করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাউকেই সন্তুষ্ট করতে পারবেন না। তাঁর ভাষায়, একদিকে তিনি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের কথা বলছেন, অন্যদিকে নিজের দলের বামপন্থি অংশ ও ফিলিস্তিনপন্থি সমর্থকদের সন্তুষ্ট করতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।

অন্যদিকে কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব ইসরাইলের পার্লামেন্টারি চেয়ারম্যান গ্রেগ স্মিথ বলেন, যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষুণ্ন করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে।

বামপন্থিদের সমর্থন

বার্নহ্যামের ঘোষণাকে লেবার পার্টির বামপন্থি এমপিরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সাবেক ছায়ামন্ত্রী ক্লাইভ লুইস বলেন, এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় প্রথম পদক্ষেপ। তিনি ইসরাইলের ওপর সম্পূর্ণ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করার আহ্বান জানান।

আরেক সাবেক ছায়ামন্ত্রী অ্যান্ডি ম্যাকডোনাল্ডও বার্নহ্যামের অবস্থানকে ‘সঠিক ও বড় পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাজ্যের বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেমস মারেও স্বীকার করেছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে ব্রিটিশ সরকার দেরি করেছিল। তিনি বলেন, আমার মনে হয়, আমরা যে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলাম, তা আরও অনেক আগেই জানানো উচিত ছিল।

গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষই তা লঙ্ঘনের অভিযোগে একে অপরকে দায়ী করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ শান্তি দূত নিকোলাই ম্লাদেনভও বলেছেন, হামাস ও ইসরাইল- উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। উভয় পক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত নয় মাসে গাজায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে বহু বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন, এবং চারজন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ প্রায় নিশ্চিত

কিয়ার স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে লেবার পার্টির নেতা নির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইতোমধ্যে ৩২২ জন লেবার এমপির সমর্থন পেয়েছেন। ফলে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বীর পক্ষে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ভোট ছাড়াই তিনি লেবার পার্টির নেতা এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।

নতুন নীতির ইঙ্গিত

বার্নহ্যাম ইতোমধ্যে ব্রিটেনের ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করা, গণপরিবহন, আবাসন ও প্রয়োজনীয় সেবার ওপর স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এছাড়া প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে কর বৃদ্ধি অথবা সরকারি ঋণ বাড়ানোর সম্ভাবনাও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা উড়িয়ে দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, গাজা নীতিতে কঠোর অবস্থান, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বার্নহ্যাম লেবার পার্টিকে নতুন রাজনৈতিক পথে এগিয়ে নিতে চাইছেন। তবে তার এই অবস্থান যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: ডেইলি মেইল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপে যে রেকর্ড শুধুই এমবাপ্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১০ এম


বিশ্বকাপে যে রেকর্ড শুধুই এমবাপ্পের

গত শুক্রবার চলতি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে অনায়াসে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বর্তমান রানার্সআপ ও টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্স। এই জয়টির মাধ্যমে ফ্রান্স টানা তিন আসরে শেষ চারে পৌঁছানোর তালিকার মধ্যে যুক্ত হলো, যা ব্রাজিল (২০০২-২০১০) এবং পশ্চিম জার্মানির (১৯৮২-১৯৯০) মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গী হয়ে গিয়েছে।

এদিন গোটা ম্যাচে মরক্কোর আক্রমণভাগকে কোনো সুযোগই দেয়নি ফ্রান্সের রক্ষণভাগ; পুরো ৯০ মিনিটে মরক্কো কেবল একটি শট দিয়েছিল যা ছিল ফরাসিদের গোলপোস্ট লক্ষ্য করা।

খেলার সূচনা থেকেই ফরাসি আক্রমণভাগের নিখুঁত ও আক্রমণাত্মক ফুটবল মরক্কোর রক্ষণকে কোণঠাসা করে ফেলে। দলের হয়ে গোল দুটি করেন ওসমানে দেম্বেলে এবং অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে ২০০২ বিশ্বকাপের রোনালদো ও রিভালদো জুটির পর প্রথম হিসেবে একই টুর্নামেন্টে ৫ বা তার বেশি গোল করার অনন্য কীর্তি অব্যাহত রেখেছেন এমবাপ্পে-দেম্বেলে জুটি। এছাড়া, মাইকেল অলিস, দেসিরে দুয়ে এবং ব্র্যাডলি বারকোলার মতো তরুণরা তাদের সৃজনশীল ফুটবল ও আক্রমণাত্মক শক্তির মাধ্যমে বর্তমান ফরাসি আক্রমণভাগকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা দলে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করছে।

ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে ফুটবল ইতিহাসের বিভিন্ন ঐতিহাসিক রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের দুটি ভিন্ন আসরে কমপক্ষে ৮টি করে গোল করার এক অবিশ্বাস্য নজির স্থাপন করেছেন। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তিনি ৮টি গোল করেছিলেন। কেবল গোল করাই নয়, চলতি আসরে তিনি ৩টি গোল করিয়েছেন সতীর্থদের দিয়ে, যার ফলে এই বিশ্বকাপে তার মোট গোল অবদান দাঁড়িয়েছে ১১টি। ১৯৬৬ সালের পর থেকে তিনি একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০-এর বেশি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন।

একটি একক বিশ্বকাপে ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখে এমবাপ্পে ১৯৭০ সালের জার্মান কিংবদন্তি জার্ড মুলারের (১০ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট) ১৩টি গোলের অবদানের পর সর্বোচ্চ আউটপুটের রেকর্ড গড়লেন। মাত্র ২০টি বিশ্বকাপ ম্যাচে ২০টি গোল করে তিনি এখন গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। যদিও লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে দুজনেই সমান ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন, তবে অ্যাসিস্টের সংখ্যা বেশি থাকার কারণে টাইব্রেকার নিয়মে ফরাসি অধিনায়কই এই সময় গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ফ্রন্টরানার হিসেবে অবস্থান করছেন।

সেমিফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে ফরাসি এই আক্রমণভাগ বর্তমানের যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় ত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

৯০ মিনিটে ১-১ সমতা, ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত সময়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৩ এম


৯০ মিনিটে ১-১ সমতা, ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচ গড়াল অতিরিক্ত সময়ে

ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়নি। মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত একটি রুদ্ধশ্বাস সংগ্রামে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে ১-১ গোলের সমতায় রয়েছে, যার কারণে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে।

ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে প্রথমে এগিয়ে যায় নরওয়ে। নরওয়ের প্যাট্রিক বার্গের চাপে বল হারান ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ইংলিশ খেলোয়াড়রা ফাউলের দাবি জানালেও নরওয়ে খেলা চালিয়ে যায়। বাম দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নেওয়া শট ডান পোস্টে লেগে যায় এবং জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে জালে প্রবেশ করে। এতে নরওয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

গোল হজমের পর ইংল্যান্ডের আক্রমণের তীব্রতা বাড়ে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের নিচু ক্রস থেকে বল পেয়ে, বক্সের ভেতর থেকে দারুণ দক্ষতায় ঘুরে দাঁড়িয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে গোল করেন জুড বেলিংহাম। তাঁর দুর্দান্ত ফিনিশে থ্রি লায়ন্স ১-১ সমতায় ফিরে আসে।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই বেশ কয়েকটি আক্রমণ গড়লেও তাতে আর কোনো গোলের দেখা মেলেনি। ফলস্বরূপ, নির্ধারিত সময় ১-১ সমতার মধ্যে শেষ হয়েছে এবং সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে ম্যাচটি অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের লড়াইয়ের দিকে এগিয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফুটবলে কার্ডের প্রবর্তনে নাম জড়িয়ে থাকা আর্জেন্টাইন অধিনায়কের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২০ এম


ফুটবলে কার্ডের প্রবর্তনে নাম জড়িয়ে থাকা আর্জেন্টাইন অধিনায়কের মৃত্যু

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বিখ্যাত ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা আন্তোনিও উবালদো রাত্তিন মারা গেছেন। ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই আইডলের মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

রাত্তিন ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপ এবং ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক লাল কার্ডের ঘটনাবলীও জড়িয়ে আছে তার নামের সাথে।

এল রাতা’ নামে পরিচিত রাত্তিন বোকা জুনিয়র্সের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। প্রচণ্ড লড়াকু মানসিকতা, আবেগ, দৃঢ় ব্যক্তিত্ব এবং নেতৃত্বগুণ দিয়ে তিনি এমন এক মডেল তৈরি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ক্লাবের কিংবদন্তি রুবেন ‘চাপা’ সুয়ে, ব্লাস আর্মান্দো জিউন্তা ও মরিসিও সেরনার মতো খেলোয়াড়রা অনুসরণ করেন।

আলবিসেলেস্তেদের এই কিংবদন্তির পুরো ক্যারিয়ারে মাত্র দুটি দলের জার্সি পরেছিলেন; বোকা জুনিয়র্স এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। বোকা জুনিয়র্সের যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা রাত্তিনের ১৯ বছর বয়সে মূল দলে অভিষেক ঘটে এবং পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে নীল-হলুদ জার্সি পরেই খেলেছেন।

১৫ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে তিনি বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ৩৮২ ম্যাচ খেলেছিলেন এবং প্রতিটি ম্যাচেই ছিলেন একাদশের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ক্লাবটির হয়ে তিনি চারটি শিরোপা জিতেছিলেন, ১৯৬২, ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালের লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ১৯৬৯ সালের কোপা আর্জেন্টিনা।

বোকায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর নেতৃত্ব ও উপস্থিতি তাকে স্বাভাবিকভাবেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্যে পরিণত করে। রাত্তিন প্রায় এক দশক ধরে আর্জেন্টিনার জার্সি পরেছিলেন এবং ১৯৬২ চিলি বিশ্বকাপ ও ১৯৬৬ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে খেলেছিলেন।

১৯৬৬ বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনার অংশ।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রাইটলাইন তাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখনও হলুদ ও লাল কার্ডের প্রচলন ছিল না। ফলে পুরো ঘটনাটি দীর্ঘ সময় ধরে চলে। রাত্তিন প্রায় ১০ মিনিটেরও বেশি সময় মাঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন এবং এমনকি রেফারি কী বলছেন তা বোঝার জন্য অনুবাদকও চান।

এই ঘটনার পরে ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ থেকে ফুটবলে হলুদ ও লাল কার্ড চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে সেই ঘটনার সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল মাঠ ছাড়ার সময় রাত্তিনের প্রতিবাদী আচরণ। তিনি ব্রিটিশ পতাকা থাকা কর্নার ফ্ল্যাগ ভেঙে দেন এবং পরে রাজকীয় লাল কার্পেটে বসে পড়েন। এটি ছিল তার বিদ্রোহী মনোভাব ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের স্পষ্ট প্রকাশ।

সে সময়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় অনেক কম ছিল। ফলে রাত্তিন ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত এক দশকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মোট ২১টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে ৫টি বিশ্বকাপ ম্যাচ এবং ৩টি কোপা আমেরিকার ম্যাচ রয়েছে। জাতীয় দলের হয়ে তিনি ১টি গোল করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%