বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৫:১১ পি.এম
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ওমানের সঙ্গে একটি নতুন সমঝোতা চূড়ান্ত করার পথে রয়েছে ইরান। কিন্তু তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, উপসাগরীয় এই দুই উপকূলীয় দেশের মধ্যে চুক্তি হলেই কিন্তু হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়া হচ্ছে না; এই বিষয়টি এমন নয়।
ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে পূর্ববর্তী সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ওয়াশিংটনের নেওয়া পদক্ষেপ প্রত্যাহার করা, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি তেহরানের দাবিগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এমন সব পদক্ষেপ প্রত্যাহার করতে হবে, যেগুলো ইরানের মতে পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী ছিল।
ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
• ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।
• যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর পুনর্বহাল করা নিষেধাজ্ঞা, বিশেষ করে তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করা।
• জুন মাসে ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার বিষয়টি সমাধান করা।
গারিবাবাদিকে প্রশ্ন করা হয়, ইরান কি মূলত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির ৫ নম্বর ধারা বাস্তবায়ন করছে? ওই ধারায় ৬০ দিনের জন্য নিরাপদ বাণিজ্যিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান ‘সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা’ চালানোর অঙ্গীকার করেছিল।
জবাবে তিনি বলেন, “না। ধারা ৫ কেবল কিছু দিকনির্দেশনামূলক নীতি নির্ধারণ করেছিল, এটি কোনও চূড়ান্ত কার্যকর পরিকল্পনা ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “নতুন ইরান-ওমান সমঝোতাকে সম্পূর্ণ নতুন একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা বর্তমান নিরাপত্তা পরিবেশের প্রতিফলন। এটি আগের প্রায় ৬০ বছরের ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নয়।”
গারিবাবাদির মতে, নতুন ব্যবস্থার ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের রুট পরিবর্তিত হবে। বাণিজ্যিক জাহাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচল করবে, আর বাকি অংশ ওমানের জলসীমা ব্যবহার করবে।
তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালির ওপর ‘কার্যকর সার্বভৌম কর্তৃত্ব’ প্রতিষ্ঠার একটি নতুন কৌশলের প্রতিফলন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শান্তিকালীন পরিস্থিতিতে ইরান নিয়মিতভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার নীতি অনুসরণ করতে চায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে হরমুজ প্রণালিকে ইরান শুধু একটি বাণিজ্যিক জলপথ নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক দরকষাকষির একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। ফলে ওমানের সঙ্গে সমঝোতা হলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অগ্রগতি ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে পূর্ণাঙ্গ স্বাভাবিকতা দ্রুত ফিরে আসবে- এমন সম্ভাবনা আপাতত কম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি, ইরানে নতুন করে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে একটি উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগন এ দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি সম্পর্কে তাঁকে সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি। তাঁর ধারনা ছিল, সমস্যাটি ইতোমধ্যেই সমাধান হয়ে গেছে। একই দিনে সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন সামরিক বাহিনী থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার প্রায় ৫০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ফেলেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, গুরুত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্রের মজুত উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি অনুযায়ী, বৈঠকের সময় হেগসেথ মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লে তিনি তার ডেপুটি স্টিফেন ফেইনবার্গের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট পুরো ঘটনাকে 'শতভাগ ভুয়া' বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেলও একই অবস্থান নিয়েছে এবং বলেন, হেগসেথ কাউকে বিভ্রান্ত করেননি। অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়া কিংবা অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের খবরও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে ট্রাম্প গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে, পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে উৎপাদনও দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে। তবে তিনি দাবি করেননি, অস্ত্রের মজুত সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য রয়েছে। অন্যদিকে এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের অগ্রগতি এবং পরবর্তী কৌশল নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে স্পষ্ট মতৈক্য নেই। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধের লক্ষ্য ও শেষ পরিণতি সম্পর্কে এখনো পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, এতে ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনা জটিল হয়ে উঠছে। ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি এনবিসিকে জানান, প্রেসিডেন্ট বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশ। তাঁর ধারণা ছিল, ইরানকে সমঝোতায় আনা সহজ হবে। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই হিসাব মিলছে না। অন্যদিকে ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। তবে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। দেশটি বলছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং একটি সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যায় সৃষ্ট ক্ষত দেখতে আসছেন। আগামী রবিবার (৯ আগস্ট) তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী সফর করবেন, যা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।
বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করার পর, পুনর্বাসন এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শেষে তিনি উত্তরের ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরে যাবেন। সেখানে তিনি হেফাজত আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এরপর ফটিকছড়ি থেকে সড়ক পথে হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামে (হাটহাজারী মাদরাসা) যাবেন।
সেখানে তিনি হেফাজতের সাবেক আমির মরহুম শাহ আহমদ শফির কবর জিয়ারত করবেন। এরপর জেলা পরিষদ বাংলোতে দুপুরের খাবার গ্রহণ করবেন। সবশেষে তিনি হাটহাজারী কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের শেষে চট্টগ্রামে দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক হবে রেডিসন ব্লুতে।
এ ব্যাপারে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুরের রহমান শামীম কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন।
এই সফরে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালী এলাকায় পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের সামগ্রী বিতরণ করবেন। এছাড়া ফটিকছড়ি হাটহাজারী সফর করবেন। দুপুরের খাবারের পর চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর যেন রক্তের ধারাবাহিকতা! ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে মার্চে বেগম খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
এরপর একই মাসে ২৯ এপ্রিল শতাব্দির সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করেছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ পুরো উপকূলীয় অঞ্চল। বিধ্বস্ত চট্টগ্রামে ৮ মে ১৯৯১ বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামবাসীর পাশে ছুটে এসেছিলেন। চট্টগ্রাম নগর দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং দ্বীপ উপজেলা সদ্বীপেও তিনি ছুটে গিয়েছিলেন।
জিয়ার পরিবার তথা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামের জন্য সব সময় উদার ছিলেন। ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফিরে তাদের সন্তান হাল ধরেছেন। এই সফরটি তারেক রহমানের জন্য ভিন্ন। তিনি এখন রাষ্ট্র প্রধান এবং দলের প্রধান। জনগণ প্রধানমন্ত্রীর থেকে বিশেষ ঘোষণা আশা করছেন।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় এবারের ভয়াবহ বন্যার পানি নেমে গেলেও তা দুর্ভোগের চিহ্ন রেখে গেছে। সরকারি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বন্যায় এক হাজার ৪৫৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিভিন্ন খাতে। প্রতিবেদনে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সুপারিশ করা হয়েছে।
বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের ছোট ছনুয়া-ছনুয়া বাজার সড়ক এখন কাদা, গর্ত আর ভাঙনে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছনুয়ার সেই সড়ক পরিদর্শন করার পরিকল্পনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে, যার পেছনে লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্র ও স্থানীয় মাফিয়াদের নির্মম নির্যাতন রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর খবর পৌঁছালে তার এলাকায় একটি শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। নিহত ইকবাল মাদবর (২৫) শিবচর উপজেলার দক্ষিণ বহেরাতলা ইউনিয়নের সরকারেরচর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, কয়েক মাস আগে শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের ছলেনামা গ্রামের কথিত মানবপাচারকারীরা, সাগর মাদবর ও কামরুল মাদবর, ইতালিতে বৈধভাবে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ইকবালকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এর জন্য চুক্তি অনুযায়ী পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়।
কিন্তু, ইকবালকে ইতালিতে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে লিবিয়ায় নিয়ে একটি মানবপাচারকারী চক্রের কাছে আটকে রাখা হয় বলেই দাবি করে তার পরিবার। সেখানে তাকে অমানবিক নির্যাতন করা হয় এবং পরিবারের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য ধারদেনা করে পরিবার আরও ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও, বাকি ৪ লাখ টাকা না দিতে পারায় ইকবালের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ের নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ইকবাল। একপর্যায়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেই সঙ্গে তার এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, সাগর মাদবর ও কামরুল মাদবরসহ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। তারা একইসঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা ও মানবপাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শিবচর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করা হয়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভনে মানবপাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়ে এখনো বহু তরুণ জীবনের পাশাপাশি অর্থও হারাচ্ছেন। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে সরকারি অনুমোদিত ও বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে সর্বদা পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সামরিক সক্ষমতা উন্নতির জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়া শুধুমাত্র নতুন সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং, বিদ্যমান অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, নতুন সরঞ্জাম সংযোজন, অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেনাদের মনোবল শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নত করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া।
ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে এই তথ্য পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সব পদক্ষেপ একযোগে বাস্তবায়নের ফলে সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান তিনি।
আক্রমিনিয়া বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নির্ভর করে ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকায়নের ওপর। সেনাবাহিনী নিজস্ব প্রকৌশল ও কারিগরি সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিদ্যমান সামরিক সরঞ্জাম পুনর্গঠন ও উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছে।
এটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত কার্যক্রম নয়; বরং প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশের বৃহত্তর প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি অংশ।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আরও জানান, নতুন সামরিক সরঞ্জাম বিভিন্ন ইউনিটে যুক্ত হওয়ায় বর্তমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জামের পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের প্রতিরক্ষা নীতিতে আকাশ প্রতিরক্ষা অন্যতম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। জটিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বহুমাত্রিক হুমকির প্রেক্ষাপটে দেশের আকাশসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সেনাদের মনোবল ও প্রেরণাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, অস্ত্র-সরঞ্জাম গুরুত্বপূর্ণ হলেও একটি বাহিনীর প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে সদস্যদের বিশ্বাস, শৃঙ্খলা, মানসিক প্রস্তুতি এবং দায়িত্ব পালনের দৃঢ় প্রত্যয়ের ওপর। বর্তমানে ইরানের সেনাসদস্যরা ‘জিহাদি চেতনা’ ও উচ্চ মনোবল নিয়ে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছেন।
অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আক্রমিনিয়া বলেন, দেশীয় সক্ষমতা এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে ইরানের সেনাবাহিনী বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য হুমকি বিবেচনায় রেখে বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে নিজেদের যুদ্ধ সক্ষমতা আরো উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ