বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২১ পি.এম
সিলেটের দুই শিশু শিক্ষার্থীদের উপর বলাৎকারের অভিযোগে একটি মাদরাসার শিক্ষককে পুলিশ আটক করেছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরের শাহপরান (রহ.) থানার পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর মামলার প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ফয়জুল হক সিলেট সদর উপজেলার পীরের বাজার এলাকার একটি মাদরাসার শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ওই মাদরাসার হিফজ শাখার দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করেছেন।
শিশুদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার ফয়জুলকে জৈন্তাপুর থেকে গ্রেপ্তার করে শাহপরান থানার পুলিশ। পুলিশ জানায়, ফয়জুল মাদরাসা ছেড়ে পালিয়ে জৈন্তাপুরে চলে যান, যখন থানায় নির্যাতনের শিকার শিশুদের পরিবার অভিযোগ জানান। ফয়জুল হকের বাড়িও জৈন্তাপুরে অবস্থিত।
শাহপারান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আহমদ বলেন, ৮ থেকে ১০ বছরের দুটি শিশুর উপর বলাৎকারের অভিযোগ রয়েছে ওই মাদরাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে।
ওসি জানান, শিশুরা সম্প্রতি মাদরাসা থেকে বাড়ি ফিরে এসেছে এবং মাদরাসায় যেতে আপত্তি জানায়। অভিভাবকরা তাদের মারধর করেও মাদরাসায় পাঠাতে পারেননি। এক পর্যায়ে শিশুরা অভিভাবকদের জানায়, প্রতি রাতে হুজুরের ঘরে যেতে হয়। না গেলে মারধর করা হয়। আর ঘরে গেলে খারাপ কাজ করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুল হক বলাৎকারের কথা স্বীকার করেছেন। ওসি বলেন, "বোলাৎকারের কথা উনি স্বীকার করেছেন। আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম, শিশুদের সঙ্গে এসব খারাপ কাজ না করে আরেকটি বিয়ে করেন না কেন, জবাবে ফয়জুল বলেছেন, ‘মেয়েদের আমার ভালো লাগে না’।"
ওসি আরও জানান, মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফয়জুল হককে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শিশু দুটিকে মেডিকেল পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ধরলা নদীতে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে উৎসবের পরিবেশ বিরাজমান। ফুলবাড়ী ধরলা সেতুর উত্তরে আয়োজিত এই নৌকা বাইচ দেখতে হাজারো দর্শনার্থী দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন।
স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল এই নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন গত ২৬ আগস্ট তারিখে করা হয়। সেই দিন থেকে স্থানীয় এবং দূর-দূরান্তের মোট ১২টি বড় বড় নৌকাসহ বাইচালরা অংশগ্রহণ করছে। এরপর থেকে নির্ধারিত সময়ে ধরলা নদীতে নৌকা বাইচের প্রতিযোগিতা জমে উঠেছে।
নারী, পুরুষ, শিশু ও কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে নদীর পাড় মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। কেউ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে, কেউ নৌকায় কিংবা আশপাশের উঁচু স্থানে অবস্থান নিয়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করছেন।
বিশেষ করে নৌকা বাইচ শুরু হলে দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে পুরো ধরলা পাড় মুখর হয়ে ওঠে। প্রতিযোগী নৌকাগুলো ঢেউ কেটে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের করতালি, চিৎকার এবং উৎসাহে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, নৌকা বাইচ গ্রামবাংলার বহু পুরোনো ঐতিহ্য। একসময় নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এমন আয়োজন তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। তাই ধরলা নদীতে এই আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
আয়োজকরা বলেন, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তারা ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নৌকা বাইচকে ঘিরে ধরলার পাড়ে ছোট-বড় নানা ধরনের দোকানপাট বসেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বাড়তি বেচাকেনার সুযোগ পাচ্ছেন। সব মিলিয়ে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ীর ধরলা পাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
নৌকা বাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থী অসীম কুমার রায়, ববিতা খাতুন ও রুবিন খাতুন জানান, তারা প্রত্যেকে খেলার দিন করে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ দেখতে এসেছেন। সড়ক থেকে ধরলা সেতু পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। উপচে পড়া ভিড় ও নানা ভোগান্তি উপেক্ষা করেও তারা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই মনোমুগ্ধকর খেলা উপভোগ করছেন।
নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলাটি সত্যিই আনন্দদায়ক। খেলা দেখতে হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। নদীর ঢেউয়ের মতো এই খেলা মানুষের মনকে নির্মল আনন্দের স্রোতে ভাসিয়ে দেয়। আমাদের লোকজ সংস্কৃতির এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটি ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আয়োজকদের অনেক ধন্যবাদ জানাই।
নৌকা বাইচ কমিটির উপদেষ্টা ও খেলা পরিচালনাকারী শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল আলম সোহেল এবং সাবেক ছাত্রনেতা ও উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা সামচুজ্জামান হাসু জানান, নৌকা বাইচ গ্রামবাংলার একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী খেলা। সময়ের পরিক্রমায় খেলাটি অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। নৌকা বাইচ আয়োজনের মাধ্যমে একদিকে যেমন আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরে আসছে, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের কাছেও এই ঐতিহ্যবাহী খেলার পরিচিতি বাড়ছে।
তারা আরও বলেন, নৌকা বাইচসহ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো যদি প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে। যেহেতু সেমিফাইনাল শেষ, আগামী দুই এক দিনের মধ্যে ভালো দিন দেখে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রতি বছর ধরলা নদীর তীরে নিয়মিত নৌকা বাইচ আয়োজন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে সম্প্রতি একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান। এই চুক্তিটি ‘মক্কা প্যাক্ট’ নামে পরিচিত, যা অনুযায়ী, যদি এই তিন দেশের মধ্যে কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হয়, তবে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
গত ৭ আগস্ট এই প্রতিরক্ষা জোট গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশ এতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। সরকারের পক্ষ থেকে ন্যাটোর আদলে গঠিত এই জোটে যোগদানের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে একাধিকবার। সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানও বলেছে, তাদের প্রতিরক্ষা জোটে আগ্রহী সব মুসলিম দেশের জন্য দরজা খোলা রয়েছে।
তবে, সম্প্রতি জোটভুক্ত তিন দেশের অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অন্য কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেই। খবরটি প্রকাশ করেছে দ্য ডন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান এই অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, "এ মুহূর্তে জোট সম্প্রসারণের বিষয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। প্রথমে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ককে তাদের জোট এবং সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এরপর জোটটি একইরকম দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থান পোষণকারী সকল দেশের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।"
সাজ্জাদ হায়দার খান উল্লেখ করেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক পরবর্তী পর্যায়ে চুক্তির সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপাল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারি এসব বিষয় তুলে ধরেন।
বৈঠকে দুই দেশের ক্রীড়া উন্নয়ন, পর্বতমালা সুবিধা গ্রহণ এবং সম্ভাব্য টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট সিরিজ আয়োজনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রদূত সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান শক্তিশালী রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভাণ্ডারি দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা আরও গভীর করার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, "আমাদের মধ্যে চমৎকার রাজনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান, তবে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে আরও অনেক কিছু করার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।"
রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ পুনরায় শুরুর জন্য বিশেষ প্রস্তাব দেন। তিনি উল্লেখ করেন, "সম্প্রতি নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়নি। আমাদের জনগণের—বিশেষ করে যারা সাম্প্রতিক দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন—অনুপ্রেরণা প্রয়োজন।"
নেপালের রাষ্ট্রদূত বলেন, "আমরা বাংলাদেশের কাছে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের অনুরোধ জানাচ্ছি; আমাদের দল বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত, অথবা আমরা বাংলাদেশ দলকে নেপালে সাদরে স্বাগত জানাব।"
এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আঞ্চলিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে 'স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি' বা ক্রীড়া কূটনীতির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, "আমরা ক্রীড়া কূটনীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবং বিভিন্ন খেলাধুলায় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কাজ করছি।"
তিনি নেপালি রাষ্ট্রদূতকে একটি আনুষ্ঠানিক আগ্রহপত্র (লেটার অফ ইনটেন্ট) জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন, যাতে মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে পারে।
এছাড়া, প্রতিমন্ত্রী হক বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদদের সহায়তায় নেপালের ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দেন এবং পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য নেপালকে আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-কে প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’
আজ বঙ্গভবনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম ব্রিফিংকালে বাসসকে এই তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে দুদক চেয়ারম্যান কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি দমনে কমিশনের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন, অনিয়ম ও জবাবদিহিতার অভাবে দুর্নীতি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন ও নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করছে জাতির অগ্রগতি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। দুদককে সততা ও সাহসের সঙ্গে দুর্নীতি দমনে কাজ করে যেতে হবে।
রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিনের বিপুল সংখ্যক বিচারাধীন মামলাগুলো আইনগতভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি ও দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানান। এসময় তিনি গুরুতর দুর্নীতির ব্যাপারে দ্রুত অনুসন্ধান ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
তিনি দুর্নীতিবিরোধী মূল্যবোধ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং কমিশনকে তার সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কমিশনার (তদন্ত) ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো.সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া এবং সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ