০৮:২৪ পি.এম
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় নগরীর ওয়াসা মোড়ে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।
মুহাম্মদ শাহজাহান প্রধান অতিথির বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ২০০৬ সালের অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার ফলেই ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছিল। তিনি বলেন, সেদিনের নির্মমতার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে, তবে তার মতে, ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের হত্যা করে দেশকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: যুবদল নেতাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
তিনি আরও বলেন, সেদিন বিকেল ৩টায় চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে আওয়ামী লীগ গুলি চালিয়েছিল। ইসলামী আন্দোলনের জনশক্তিরা মানবঢাল তৈরি করায় নেতৃবৃন্দের কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি আশাবাদী যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবঢাল থাকলে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।
মুহাম্মদ শাহজাহান আরও বলেন, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সুফল এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি সতর্ক করেন যে, যদি এই সরকার আইনের শাসনের প্রতি গুরুত্ব না দেয় এবং বিচারের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা না করে, তাহলে সরকারের পরিণতি হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি তার ভূমিকা পরিষ্কার করার আহ্বান জানান এবং চাটুকারদের দ্বারা নিজের ক্ষতি না করার পরামর্শ দেন।
জুলাই চেতনার বাস্তবায়নে আমীরে জামায়াতের আপসহীন নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বীর চট্টগ্রামকে আবারও বীরোচিত ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে লগি-বৈঠার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতির অগ্রযাত্রা রোধ করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রগতির যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, তা নস্যাৎ করতেই ওই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১/১১-এর সরকারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের কবলে পড়ে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও জনগণের প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের মামলা পুনরুজ্জীবিত করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে। সরকারকে আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থেকে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও বাংলাদেশপন্থী রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় সরকার, জনগণ ও দেশ অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুছ ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়রপ্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শফিউল আলম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, নগর অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ফারুকে আজম, ফখরে জাহান সিরাজী, চকবাজার থানা আমীর আহমেদ খালেদুল আনোয়ার, পাঁচলাইশ থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমি, সদরঘাট থানা আমীর এম এ গফুরসহ মহানগর ও থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন