ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হয়রানিমূলক ১৫ মামলায় মির্জা আব্বাস খালাস


হয়রানিমূলক ১৫ মামলায় মির্জা আব্বাস খালাস

বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রি সংক্রান্ত ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে দায়ের হওয়া ১৫টি মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসকে খালাস প্রদান করেছেন আদালত।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এই রায় প্রদান করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রি সংক্রান্ত ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে মির্জা আব্বাসসহ মোট ২১ জনকে আসামি করে পৃথক ১৫টি মামলা দায়ের করে দুদক। এর মধ্যে মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে প্রত্যেক মামলায় আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী, মো. শহীদ আলম।

এছাড়া, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে দুই মামলায়, আহমেদ আকবর সোবহানকে দুই মামলায়, মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ, আলী হায়দার চৌধুরীকে পৃথক মামলায় আসামি করা হয়েছে। সকলেই এসব মামলায় খালাস পেয়েছেন।

২০০৭ সালের ২৯ মার্চ এই মামলা দায়ের করে সংস্থাটি। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর, ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলাগুলোর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিত্যক্ত বাড়ি নম্বর এনডব্লিউ (আই)-৬, রোড নম্বর-৫৩, গুলশান, ঢাকায় নিলাম দরপত্র আহ্বান করা হয়। বাড়ি নম্বর কে-৬, সড়ক নম্বর-৮৯, গুলশান, বাড়ি নম্বর সিএনজি-১৬, সড়ক-১১৩, গুলশান, বাড়ি নম্বর বি-৫, সড়ক নম্বর-১১৩, গুলশান, বাড়ি নম্বর-১২০, সড়ক-২, পুরাতন ধানমন্ডি, বাড়ি নম্বর-১৩৯, সড়ক নম্বর-২, ধানমন্ডি, বাড়ি নম্বর-৫৪০/এ (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১২, ধানমন্ডি, বাড়ি নম্বর-৫৪০/বি (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১২ (পুরাতন), বাড়ি নম্বর-৭২৩/এ (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১৪ (পুরাতন), বাড়ি নম্বর-৭২৩/বি, সড়ক নম্বর-১৪ ধানমন্ডি, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর ও ১৮ নম্বর কলেজ স্ট্রিট, বাড়ি নম্বর-৭/১, নওরতন কলোনি, শান্তিনগরসহ মোট ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি রাজউক কর্তৃক সাজানো দরপত্রে কারচুপি ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের বাড়িগুলো পাইয়ে দিয়ে প্রকারান্তরে লাভবান হয়ে সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকার অর্থের ক্ষতি সাধন করেছেন।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে দ্য বাংলাদেশ অ্যাবানডন্ড প্রপার্টি (কন্ট্রোল, ম্যানেজমেন্ট ও ডিসপোজাল) অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী উল্লিখিত ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা না করে লাভবান ও অন্যান্য প্রভাবশালীদের লাভবান করার জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের দর বেশি হওয়া সত্ত্বেও তা আমলে না নিয়ে রাজউক কর্তৃক সাজানো কম মূল্যের দরপত্রের মাধ্যমে মূল্যায়ন না করে বিক্রির অনুমোদন করেন। আসামি মির্জা আব্বাসসহ অন্যান্য আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৯, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ৫(২) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যন্ত্রাংশের নামে আনা হলো ৪ বিলাসবহুল গাড়ি, শনাক্ত করলো কাস্টমস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪২ পি.এম


যন্ত্রাংশের নামে আনা হলো ৪ বিলাসবহুল গাড়ি, শনাক্ত করলো কাস্টমস

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) মোংলা বন্দরে ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আনা চারটি বিলাসবহুল গাড়ির চালান শনাক্ত করেছে। এই গাড়িগুলো তিন থেকে চারটি বড় খণ্ডে কেটে আনা হয়েছে। সংস্থাটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব খণ্ডে গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য অংশ বিদ্যমান রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এতে উল্লেখ করা হয়, যদিও পৃথক গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, পরীক্ষায় পাওয়া অংশগুলো পুনরায় সংযোজন করলে গাড়ির মূল কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য পুনর্গঠন করা সম্ভব। ফলে চালানটি সাধারণ ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ নয়, বরং আংশিক সংযোজিত অবস্থায় মোটরযান আমদানির চেষ্টা হতে পারে।

চালানটিতে থাকা চারটি গাড়ির বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি। কিন্তু পুরো চালানটি ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করে ইনভয়েস মূল্য মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার দেখানো হয়েছে। শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা এবং শুল্ক-করসহ পরিশোধযোগ্য অর্থ ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৬৯০৪। আমদানিকারক হলো ঢাকার গেন্ডারিয়ার ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খুলনার এসটি ইন্টারন্যাশনাল। পণ্যগুলো জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে আনা হয়েছে।

এনবিআর জানায়, চালানটিতে ১৪ ধরনের পণ্যের মোট ১৬৪টি প্যাকেজ ছিল। ঘোষিত পণ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল ব্যবহৃত দরজা, ২০০০ সিসি পেট্রোল ইঞ্জিনসহ গিয়ার অ্যাসেম্বল, সাসপেনশন শক অ্যাবসরবার, নোজ কাট, হেড লাইট, টেইল লাইট, ফেন্ডার, কেবিন, স্টিরিং হুইল, বাম্পার ইত্যাদি।

এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় এবং মোংলা সার্কেল চালানটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করে। এরপর গত ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষার সময় বিআরটিএ ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়। গাড়ির বিভিন্ন অংশে থাকা স্টিকার, লেবেল, চিহ্ন ও নম্বর বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় গাড়িগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

পরীক্ষায় ঘোষিত আলাদা গাড়ির যন্ত্রাংশের বিপরীতে বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ ব্যবস্থা, সংবেদক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সংযুক্ত অবস্থায় সামনের কাটা অংশ, সম্পূর্ণ পেছনের কাটা অংশ, সামনের ও পেছনের অংশ কাটা ও ছাদ কাটা প্যানেল এসেম্বল পাওয়া যায়। কাস্টমস গোয়েন্দার অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে যে, সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশের মতো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না করে গাড়িগুলোকে কয়েকটি বড় অংশে কেটে আমদানি করা হয়েছে।

শনাক্ত চারটি গাড়ির মধ্যে রয়েছে—২০১৭ মডেলের রেঞ্জ রোভার ভোগ, ২০১০ মডেলের বিএমডাব্লিউ ৬৫০ আই, ২০১৬ মডেলের লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। রেঞ্জ রোভারের বাংলাদেশি বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, বিএমডাব্লিউর ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকা, লেক্সাসের ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি এবং টয়োটা ক্রাউনের ৩০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাস্টমস গোয়েন্দার হিসাবে, চারটি গাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। তবে এগুলো আনুমানিক বাজারমূল্য; চূড়ান্ত মূল্যায়ন ও শুল্ক-কর নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শুল্কায়নের মাধ্যমে হবে।

এনবিআর জানায়, চালানটির ইনভয়েস মূল্য ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। ঘোষণায় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২২.৭৪৩৩ টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় ১৯ হাজার ৫৭৭ টাকা ধরে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা। এর ওপর শুল্ক-কর দেখানো হয় ৬ লাখ ৭ হাজার ৩৯৬ টাকা এবং অন্যান্য অর্থসহ মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা।

তবে গাড়িগুলোকে পৃথক ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে না দেখিয়ে জিআরআই আইন অনুযায়ী আংশিক সংযোজিত অবস্থায় সম্পূর্ণ মোটরযান হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা হলে কত শুল্ক-কর প্রযোজ্য হতো, তা এখন নির্ধারণ করা হচ্ছে। গাড়ির প্রকৃত মূল্য, ইঞ্জিনের ক্ষমতা, বয়স, অবচয় এবং প্রযোজ্য শুল্ক-করসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে রাজস্ব ফাঁকির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

আইন অনুযায়ী কোনো পণ্য অসম্পূর্ণ, অসমাপ্ত বা খণ্ডিত অবস্থায় থাকলেও তাতে যদি সম্পূর্ণ পণ্যের ‘এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার’ বিদ্যমান থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সেটিকে সম্পূর্ণ পণ্য হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা যায়। পরীক্ষায় পাওয়া অংশগুলোর ধরন ও বিন্যাস বিবেচনায় এসব গাড়ির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ মোটরযানের এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার বিদ্যমান বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিংবদন্তি হলিউড অভিনেতা টিম কারি আর নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


কিংবদন্তি হলিউড অভিনেতা টিম কারি আর নেই

হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ও গায়ক টিম কারি মারা গেছেন। বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করা এই অভিনেতা ‘দ্য রকি হরর পিকচার শো’-তে ড. ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার চরিত্রে অভিনয় করে ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

 

মঙ্গলবার, লস অ্যাঞ্জেলেসের টোলুকা লেকে অবস্থিত তার বাড়িতে শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যু ঘটে। তার দীর্ঘদিনের ম্যানেজার ও বন্ধু মার্শিয়া হারউইটজ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে, মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

২০১২ সালে গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে টিম কারি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

 

ওই স্ট্রোকের ফলে তার চলাফেরায় গুরুতর সমস্যা দেখা দেয় এবং পরে তাকে হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভর করতে হয়। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, তিনি অভিনয় ও কণ্ঠশিল্পের কাজ চালিয়ে গেছেন।

টিম কারির অভিনয়জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় চরিত্র নিঃসন্দেহে ড. ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার। ১৯৭৩ সালে লন্ডনের মঞ্চে প্রথমবার তিনি এই চরিত্রে অভিনয় করেন।

 

পরে ১৯৭৫ সালে একই চরিত্রে ‘দ্য রকি হরর পিকচার শো’ সিনেমায় অভিনয় করেন। মুক্তির সময় সিনেমাটি বড় ধরনের সাফল্য পায়নি। তবে সময়ের সঙ্গে এটি দর্শকদের মধ্যে আলাদা জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং এক পর্যায়ে কাল্ট ক্লাসিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সিনেমাটির মধ্যরাতের বিশেষ প্রদর্শনী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বিশাল ভক্তগোষ্ঠী তৈরি হয়। দর্শকেরা সিনেমার সংলাপের সঙ্গে কথা বলতেন, গান ও নাচে অংশ নিতেন এবং অনেকেই চরিত্রগুলোর পোশাক পরে প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত হতেন।

 

এই একটি চরিত্রই টিম কারিকে পপ সংস্কৃতির অন্যতম স্মরণীয় মুখে পরিণত করেছে। তবে, তার ক্যারিয়ার ‘রকি হরর’-এর বাইরেও বিস্তৃত ছিল।

স্টিফেন কিংয়ের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৯০ সালের টিভি মিনিসিরিজ ‘ইট’-এ পেনিওয়াইজ দ্য ক্লাউন চরিত্রে অভিনয় করেও ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন টিম কারি। তার অস্বস্তিকর ও ভয়ংকর উপস্থিতি চরিত্রটিকে দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে তোলে।

এছাড়া, ‘ক্লু’, ‘অ্যানি’, ‘লিজেন্ড’, ‘হোম অ্যালোন ২: লস্ট ইন নিউইয়র্ক’, ‘দ্য থ্রি মাস্কেটিয়ার্স’, ‘মাপেট ট্রেজার আইল্যান্ড’ এবং ‘চার্লি’স অ্যাঞ্জেলস’-এর মতো সিনেমায়ও তিনি অভিনয় করেছেন।

বিশেষ করে ‘হোম অ্যালোন ২’-এ হোটেলের কনসিয়ার্জ এবং ‘লিজেন্ড’-এ ভিলেন ডার্কনেস চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

টিম কারি শুধুমাত্র চলচ্চিত্র অভিনেতা ছিলেন না; থিয়েটারেও তার দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ার ছিল। ‘অ্যামাডিউস’, ‘মাই ফেভারিট ইয়ার’ এবং ‘মন্টি পাইথন’স স্প্যামালট’-এর মতো মঞ্চনাটকে অভিনয়ের জন্য তিনি তিনবার টনি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন লাভ করেন।

অ্যানিমেশনেও কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ব্যাপক কাজ করেছেন তিনি। ‘পিটার প্যান অ্যান্ড দ্য পাইরেটস’ অ্যানিমেটেড সিরিজে ক্যাপ্টেন হুকের কণ্ঠ দেওয়ার জন্য ১৯৯১ সালে ডেটাইম এমি অ্যাওয়ার্ড জেতেন।

২০১২ সালের গুরুতর স্ট্রোক তার জীবন ও ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। স্ট্রোকের পর দীর্ঘ সময় শারীরিক ও স্পিচ থেরাপি নিতে হয় তাকে। পরবর্তীতে অভিনয়ের পাশাপাশি কণ্ঠশিল্পের কাজে বেশি মনোযোগ দেন।

২০১৬ সালে ‘দ্য রকি হরর পিকচার শো: লেটস ডু দ্য টাইম ওয়ার্প এগেইন’-এর টিভি সংস্করণে তিনি আবারও ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত হন, তবে এবার অভিনয়ের বদলে বর্ণনাকারীর ভূমিকায়। ২০২০ সালেও একটি লাইভ টেবিল রিডিংয়ে আবার ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার চরিত্রে অংশ নেন।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজের পরিমাণ কমে গেলেও টিম কারি পুরোপুরি অবসর নেননি। ২০২৪ সালের হরর সিনেমা ‘স্ট্রিম’-এর মাধ্যমে আবারও বড় পর্দায় তাকে দেখা যাবে। পাশাপাশি সংগীত নিয়েও কাজ করেছেন। নিজের ব্যান্ডের সঙ্গে গান পরিবেশন করার পাশাপাশি একাধিক অ্যালবামও প্রকাশ করেছেন তিনি।

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে টিম কারি কখনো প্রচলিত নায়কোচিত চরিত্রের মধ্যে নিজেকে আটকে রাখেননি। বিচিত্র, অদ্ভুতুড়ে ও খলচরিত্রে তার অভিনয় তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তবে, ড. ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার চরিত্রটিই তাকে বিশ্বজুড়ে এমন এক তারকায় পরিণত করেছে, যাকে চলচ্চিত্রের ইতিহাসে দীর্ঘদিন মনে রাখা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, ২ পাইলট নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ পি.এম


ভারতে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, ২ পাইলট নিহত

ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে একটি দুই ইঞ্জিনের প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট ও কো-পাইলট নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার গঙ্গা নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা সংস্থার কর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

কর্মকর্তাদের মতে, বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।

এ ঘটনার পর উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহত দুই পাইলটের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি কামনা করেন। সূত্র: এনডিটিভি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেহেরপুরে উদ্ধারকৃত টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫২ পি.এম


মেহেরপুরে উদ্ধারকৃত  টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর

জেলায় উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১০৮টি মোবাইল ফোন এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়ে ১৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে মেহেরপুর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে, মেহেরপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় প্রকৃত মালিকদের কাছে মোবাইল ফোন এবং টাকা হস্তান্তর করেন।

এসময় পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় উল্লেখ করেন, পুরাতন মুঠোফোন ক্রয়ের সময় অবশ্যই মোবাইলের বক্স ও ক্যাশ মেমো বিক্রেতার কাছ থেকে গ্রহণ করতে হবে। অনলাইনে প্রতারণার শিকার হওয়ার প্রতিরোধে, কারো কথায় প্রলোভনে পড়ে মোবাইল ব্যাংকিং যেমন বিকাশ, নগদ বা অন্য কোন ক্যাশ অ্যাপের ওটিপি কাউকে শেয়ার করা উচিত নয়। অনলাইনে কিছু ক্রয়ের পূর্বে অবশ্যই অভিজ্ঞজনের সাথে আলোচনা করা প্রয়োজন। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশের এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। হারানো মোবাইল এবং টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল।

পুলিশ সুপার আরও জানান, মেহেরপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে হারানো ১০৮টি মোবাইল ফোন এবং মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ হওয়া ১৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মেহেরপুর সদর থানায় ৬১টি, গাংনী থানায় ২৮টি এবং মুজিবনগর থানায় ১৮টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, এছাড়া অন্য জেলা থেকে ১টি মোবাইল ফোন এবং টাকা উদ্ধার করেছে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট। পাশাপাশি ২৬টি ফেসবুক আইডি রিকোভারি ও ৫ জন নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জামিনুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%