মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২১ পি.এম
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, হুতিদের যেকোনো ধরনের হামলার বিরুদ্ধে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষা করতে দেশটি বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
আজ মঙ্গলবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রিন্স ফয়সাল উল্লেখ করেন, নিজেদের রক্ষা করার জন্য সৌদি আরব তার সব ধরনের উপায় ব্যবহার করবে।
হুতিদের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, "মিলিশিয়ারা যখনই নিজেদের কোনো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দেখতে পায়, তখনই তারা সহিংসতার পথ বেছে নেয়।" তিনি আরও বলেন, হুতিরা মূলত ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংকটকে সৌদি আরবে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, হুতিদের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ সবসময় খোলা ছিল এবং এখনও রয়েছে, তবে তারা বারবার সহিংসতার দিকেই ধাবিত হচ্ছে।
এদিকে বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হুতিদের ক্রমাগত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।" তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে বাবেল মান্দেব প্রণালিতে সার্বিক নিরাপত্তা ও অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
সূত্র: আরব নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুই দিন ধরে মদনমোহনপুর ও চাম্পারায় চা বাগানের শ্রমিকেরা বকেয়া মজুরি পরিশোধের জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তারা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শেষে বাগান এলাকায় মানববন্ধন করেন।শ্রমিকেরা ঘোষণা দিয়েছেন যে, বকেয়া মজুরি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখবেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বাগান দুটির স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে নারী ও পুরুষ শ্রমিকেরা একত্রিত হয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় তাদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বকেয়া মজুরির দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ও মানববন্ধন’ এবং ‘বকেয়া মজুরি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বাগান পূর্ণ কর্মবিরতিতে থাকবে।
আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, চা বাগানে কাজ করে পাওয়া মজুরির ওপর তাদের অধিকাংশ পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। নিয়মিত কাজ করেও সময়মতো মজুরি না পাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসাসহ পরিবারের অন্যান্য খরচ মেটাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।
শ্রমিকদের মতে, তারা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা দাবি করছেন না; বরং নিজেদের শ্রমের ন্যায্য পাওনা মজুরি চান।
দীর্ঘদিনের বকেয়া মজুরি পরিশোধ না করে স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তারা দ্রুত বকেয়া মজুরি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক শ্রমিক জানিয়েছেন, নিয়মিত বাগানে কাজ করলেও সময়মতো মজুরি না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে চলতে কষ্ট হচ্ছে। বাজারে বাকিতে পণ্য নিতে হচ্ছে এবং সন্তানদের প্রয়োজনীয় খরচও ঠিকমতো মেটানো যাচ্ছে না। দ্রুত বকেয়া মজুরি পরিশোধের জন্য তারা বাগান কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে, চাম্পারায় চা বাগানের ব্যবস্থাপক রাহেল রানা শ্রমিকদের দুই দিন ধরে কর্মবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাগানসহ আশপাশের ন্যাশনাল টি কম্পানির সব ব্যবস্থাপক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই এর সমাধান হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সৌদি আরবের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন।
তিনি এই হামলাগুলোকে ‘কাপুরুষোচিত’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করে বলেন, এই ধরনের আক্রমণ শুধুমাত্র নিরীহ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে না, বরং পুরো অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তাকেও বিপন্ন করে।
হামলার পর এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের বেসামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হুতিদের দ্বারা চালানো কাপুরুষোচিত হামলার তিনি ‘সর্বোচ্চ কঠোর ভাষায়’ নিন্দা জানাচ্ছেন।
শেহবাজ শরিফ বলেন, “পাকিস্তান সৌদি বাদশাহ, তার ক্রাউন প্রিন্স এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সৌদি জনগণের পাশে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ হামলা’ নিরীহ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।
বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ইসলামাবাদের ‘অটল সমর্থন’ পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, “আমরা রাজ্যের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি আমাদের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি।”
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বিদ্যমান। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও রিয়াদের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে ইসলামাবাদ। এ কারণে সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান দুই দেশের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্কেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
হুতিরা দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সক্রিয় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে তাদের হামলার ঘটনাও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বিবৃতিতে একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি ইসলামাবাদের অঙ্গীকার এবং আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত না করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ী, ৮ সেপ্টেম্বর, বাসস (২০২৬) : ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজবাড়ীতে পালিত হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তারিফ উল হাসান।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক আফরোজ পারভীন।
প্রধান অতিথি বলেন, ‘সাক্ষরতা আন্ত:খাত ভিত্তিক সামাজিক দায়িত্ব। মানুষকে মানুষ হিসেবে তখন বিবেচনা করা যাবে, যে মানুষটির মৌলিক বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাক্ষরতার বিষয়টি আগে লিমিটেড ছিল। এখন আগের তুলনায় অনেক উন্নতি হয়েছে। লেখাপড়া, জ্ঞান কম থাকলেও প্রাথমিক স্বাস্থ্য, জমির হিসাব ও ব্যাংকের লেনদেন এবং জরুরি টেকনোলজিক্যাল জ্ঞান থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘সাক্ষরতা মানুষকে তথ্য বুঝতে নিজের অধিকার ও দায়িত্ব জানতে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে ও সমাজ সচেতনও প্রাথমিক জ্ঞান তার থাকতে হবে। স্বাস্থ্য শিক্ষা সম্পর্কে জানতে হবে, পাশাপাশি মানবিক গুণাবলীও থাকতে হবে। ’
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল হক, জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তবিবর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শঙ্কর চন্দ্র বৈদ্য, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রতিনিধি জামাল উদ্দিন খান প্রমুখ।
দিবসটি পালন উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সামনে আম্রকানন থেকে সকালে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে জেলার স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকমণ্ডলীসহ বিভিন্ন বেসরকারি এনজিও সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ, সমাবেশ এবং স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। মঙ্গলবার রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
এদিন দুপুরে সংগঠনের সদস্যসচিব অ্যাড. পলাশ কান্তি নাগ, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, মাহফুজ হোসেন, বীথি দাস নন্দিনী, বিজয় প্রসাদসহ অন্যান্য সদস্যরা জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের মাধ্যমে স্মারকলিপিটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর জমা দেন। স্মারকলিপিতে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব অ্যাড. পলাশ কান্তি নাগ বলেন, "গণপতি স্যারসহ তার পরিবারের চার সদস্য হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "তদন্ত প্রক্রিয়া কোন পথে অগ্রসর হচ্ছে, এ নিয়ে মানুষের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে।" তিনি বলেন, "শুধুমাত্র ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলায় চারজনকে হত্যা করা হয়েছে, পুলিশের এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের মনে হচ্ছে, সুপরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথায় চারজনকে হত্যা করা হয়েছে।" হত্যাকাণ্ডের ৯ দিন পর অভিযুক্তদের ডোপ টেস্ট করিয়ে ফলাফল নেগেটিভ আসার বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, "গণপতি চক্রবর্তীর অবসরজনিত কারণে পাওয়া টাকা নিয়ে হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে।" তিনি অভিযোগ করেন, "পুরো ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। সে জন্য আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি। বিতর্কিত ভূমিকার জন্য দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। পুলিশ যদি কোনো পক্ষকে বাঁচানোর চেষ্টা করে তবে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।"
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, তাদের মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ