০৪:৪৯ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফুরকান উদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনার উচ্চতর তদন্তের জন্য দুটি কমিটি গঠনসহ মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রায় ৮ ঘণ্টা অবরোধের পর শিক্ষার্থীদের দেওয়া চার দফা দাবি মেনে নেওয়ার ফলে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
আজ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতির মামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল
সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি তদন্ত কমিটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধীনে ঘটনার অভ্যন্তরীণ বিষয়টি তদন্ত করবে এবং অপর কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করবেন।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে। তবে তিনি চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন। পাশাপাশি গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে আসা আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর জন্য স্টপেজ চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য আগামী ৬ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আরেকটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসন ইতিবাচকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আশা করছি, গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস পাওয়া গেছে। এসব সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহাবুবর রহমান বলেন, রাবি শিক্ষার্থীর সঙ্গে যে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে এবং তাকে মারধর করা হয়েছে তার প্রতিবাদে এবং কয়েকটি দাবি নিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশে আমরা পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে ঘটনাগুলোতে আলোচনা করেছি। এরপর যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে অনুরোধ করেছিলাম অবরোধ তুলে নিতে। শিক্ষার্থীদের যে চার দফা দাবি ছিল, সেগুলোর সবগুলোই মোটামুটি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। যিনি মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছেন, সে সম্পর্কে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের অফিস থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার
এর আগে, শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত টিটিইর শাস্তি এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন। এর ফলে প্রায় ৭ ঘণ্টা রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়ে এবং শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
পরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হওয়ার পর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয় এবং রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন