ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৮ ঘণ্টা পর রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক


৮ ঘণ্টা পর রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফুরকান উদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনার উচ্চতর তদন্তের জন্য দুটি কমিটি গঠনসহ মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ৮ ঘণ্টা অবরোধের পর শিক্ষার্থীদের দেওয়া চার দফা দাবি মেনে নেওয়ার ফলে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।

আজ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতির মামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল

সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি তদন্ত কমিটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধীনে ঘটনার অভ্যন্তরীণ বিষয়টি তদন্ত করবে এবং অপর কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করবেন।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে। তবে তিনি চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন। পাশাপাশি গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে আসা আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর জন্য স্টপেজ চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য আগামী ৬ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আরেকটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসন ইতিবাচকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আশা করছি, গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস পাওয়া গেছে। এসব সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহাবুবর রহমান বলেন, রাবি শিক্ষার্থীর সঙ্গে যে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে এবং তাকে মারধর করা হয়েছে তার প্রতিবাদে এবং কয়েকটি দাবি নিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নির্দেশে আমরা পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে ঘটনাগুলোতে আলোচনা করেছি। এরপর যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে অনুরোধ করেছিলাম অবরোধ তুলে নিতে। শিক্ষার্থীদের যে চার দফা দাবি ছিল, সেগুলোর সবগুলোই মোটামুটি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। যিনি মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছেন, সে সম্পর্কে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের অফিস থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

এর আগে, শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত টিটিইর শাস্তি এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন। এর ফলে প্রায় ৭ ঘণ্টা রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়ে এবং শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।

পরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হওয়ার পর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয় এবং রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়ে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতজুড়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


ভারতজুড়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা

শিক্ষা সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি বর্তমানে ভারতের একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে বর্তমান নিয়ন্ত্রণকারী দল বিজেপির ওপর নজিরবিহীন চাপ পড়েছে। এমনকি এই আন্দোলন কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তা এখনো অজানা। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারতের কাকরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

আন্দোলনরত যুব নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী ও তাদের সমর্থকদের ওপর পুলিশ চড়াও হওয়ার পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আবার হাজারো মানুষের সমাবেশ ঘটে। তবে এই আন্দোলন শুধু দিল্লি সীমিত থাকে নি; এটি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কেরালা রাজ্য, যেখানে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী।

অন্যদিকে, রাজস্থান থেকে মানুষ এসে দিল্লিতে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই দাবি করেছেন যে আন্দোলনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণও ঘটছে।

সোমবার (২০ জুলাই) অনুষ্ঠিত প্রতিবাদে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করে। তারা পুলিশের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করে।

মধ্যাঞ্চলীয় দিল্লি সহিংসতার সাক্ষী হয়, যেখানে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে, ফলে অন্তত ৬০ জন আন্দোলনকারী আহত হন। পুলিশ প্রতিবাদস্থলের মঞ্চ এবং অস্থায়ী তাঁবুগুলোও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের ১১৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন এবং ৭০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের বিষয়ে পুলিশ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বিরোধী দলগুলো এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

সিজেপি মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন, যা চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারতের প্রধান বিচারপতির মন্তব্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গড়ে ওঠে। প্রধান বিচারপতি সাংবাদিকতা ও অ্যাক্টিভিজমের দিকে ঝুঁকে পড়া যুবকদের বোঝাতে কাকরোচ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। এই মন্তব্য নিয়ে যখন ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, তখন তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, এটি কেবল ভুয়া ও বানোয়াট ডিগ্রিধারিদের উদ্দেশ্যে ছিল।

সোমবারের জনসমাগম প্রমাণ করে যে, সিজেপি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল না হলেও লাখ লাখ মানুষকে রাজপথে নামতে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা গত এক মাস ধরে দিল্লির ৩০০ বছরের পুরনো পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ‘জন্তর মন্তরে’ অবস্থান করছেন।

২৮ জুন অ্যাক্টিভিস্ট ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক তাদের সাথে যোগ দিয়ে অননির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করলে এটি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে। শনিবার পুলিশ তাকে জোরপূর্বক প্রতিবাদস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে তিনি এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই আন্দোলন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোদীর বিরুদ্ধে সর্বজনীন অসন্তোষ প্রকাশের একটি স্পষ্ট ও দৃশ্যমান রিপ্রেজেন্টেশনে পরিণত হয়েছে। ওয়াংচুক এবং সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বেশিরভাগ প্রধান বিরোধী দল, কৃষক নেতা, অ্যাক্টিভিস্ট এবং বলিউড তারকারা সমর্থন দিয়েছেন।

বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সঠিক ছিল এবং তিনি মোদীকে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে যুব-বিরোধী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সোমবারের আগে সরকার আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনা করেনি। অবশেষে সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা সিজেপির কয়েকজন নেতার সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবি শুনেছেন।

আন্দোলনকারীদের ডাকা পার্লামেন্ট অভিযানে অংশ নিতে সারাদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছেন; এর পর মন্ত্রী তাদের সাথে বৈঠকে বসেছেন। নাড্ডা, যিনি ক্ষমতাসীন বিজেপির শীর্ষ নেতা, বলেছেন যে বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে। তিনি সব প্রতিবাদকারীকে তাদের অবস্থান কর্মসূচি শেষ করার জন্য এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করতে প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করেছেন।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, নাড্ডার সাথে তাদের ১০ মিনিটের বৈঠকটি কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস ছাড়াই শেষ হয়েছে, কেবল বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সিজেপির আরেক নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এই বৈঠকের জন্য চার ঘণ্টা অপেক্ষা করাকে সময়ের অপচয় বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে সিজেপি হয়তো বৈঠকের পর তাদের প্রতিবাদ স্থগিত করতে রাজি হবে। কিন্তু সারা দিন এলাকাটিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকা পর সহিংসতার ঘটনার ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পেলে তাদের অবস্থান আরও কঠোর হয়।

দিনের বেলায় আমি প্রতিবাদকারীদের আহতদের জন্তর মন্তরে নিয়ে আসতে দেখি। তাদের মধ্যে একজন তরুণ, যার মাথা ফেটে রক্তে ভেসে যাচ্ছিল,কে স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসকরা ব্যান্ডেজ করছিলেন এবং একজন ছাত্রের পা ভেঙে গিয়েছিল।

প্রতিবাদকারীরা নাড্ডার সাথে সাক্ষাৎ করার মুহূর্তেই পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী জন্তর মন্তর খালি করতে অভিযান চালাতে আসে। তাদের মধ্যে কিছুর সাদা পোশাকের কর্মকর্তাও ছিলেন, যাদের অনেকের মুখ ঢাকা ছিল। তারা ইউনিফর্ম পরা পুলিশদের সাথে মিলিত হয়ে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া করে এবং লাঠি দিয়ে পেটাতে শুরু করে।

মাইকে বারবার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল- এখনই চলে যান, এই প্রতিবাদ শেষ করুন। প্রতিবাদকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে পুলিশের ব্যারিকেড টপকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। আমি দেখতে পাই অনেকে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন, কেউ কেউ লাঠির আঘাতে আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছিল, ভাই-বোন ও বন্ধুবান্ধবরা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল এবং নারীরা কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন।

এই অপারেশনের নেতৃত্বে থাকা একটি জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি। কয়েক মিনিট পর, আমাকে বাইরে পৌঁছানোর জন্য এক নারী কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়।

ইন্টারনেট ফের চালুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এমন সব ভিডিওতে ভরে যায় যেখানে দেখা যায় যে নিরাপত্তা বাহিনী নারীসহ প্রতিবাদকারীদের বেধড়ক পেটাচ্ছে এবং অনেকে মাটিতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।

সোমবার রাতে সিজেপি পুনরায় জন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে: “এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শেষ হচ্ছে না!” “পুলিশি বর্বরতা সত্ত্বেও সিজেপির সাহসী প্রতিবাদকারীরা ফিরে এসেছে। দিল্লিবাসী, বাইরে আসুন এবং জন্তর মন্তরে আমাদের সাথে যোগ দিন—এটি হয় এখন, না হয় কখনোই নয়! ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে!”—এমন বার্তা পাঠানো হয়।

পুলিশ পরবর্তীতে একটি বিবৃতিতে দাবি করেছে যে প্রতিবাদকারীরা “উচ্ছৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক ও হিংসাত্মক আচরণ” প্রদর্শন করেছে, ছত্রভঙ্গ হতে অস্বীকার করেছে এবং বারবার সতর্ক করার পরও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে। পুলিশ আরও জানায়, “প্রতিবাদকারীরা পুলিশ কর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ও অন্যান্য বস্তু দিয়ে আক্রমণ করে, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করে, পুলিশ ও অন্যান্য সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করে এবং ব্যাপক সহিংসতায় লিপ্ত হয়।”

সিজেপি পুলিশের এই বিবরণ প্রত্যাখ্যান করে তাদের বিরুদ্ধে প্রথম আক্রমণকারী হওয়ার অভিযোগ এনেছে। সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে তারা আহত বা আইনি সহায়তার প্রয়োজনীয় সমর্থকদের তাদের সাথে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

“আমাদের সব সমর্থকদের কাছে, বিশেষ করে পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্বারা নৃশংসভাবে মারধরের শিকার হওয়া মেয়েদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। আমরা আরও ভালো ব্যবস্থা নিতে পারতাম। দিল্লি পুলিশের অমানবিক আচরণ থেকে আপনাদের রক্ষা করতে আমার আরও উদ্যোগী হওয়া উচিত ছিল,” দিপকে এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করেন।

অন্য একটি পোস্টে তিনি জানান, এক আহত নারী সমর্থকের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তিনি তাকে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছেন।

সিজেপি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর জবাবদিহির দাবি জানাচ্ছে। ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET)-এর প্রশ্ন ফাঁসের পর তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে তাদের মুখ্য দাবি বানিয়েছে।

৩ মে অনুষ্ঠিত এই মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রায় ২২.৮ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের খবরের পর পরীক্ষাটি বাতিল করা হয় এবং কয়েক সপ্তাহ পর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে তাদের পরিবার জানিয়েছে।

প্রতিবাদকারীদের দাবি, প্রধানের এই ফাঁসের নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত। তিনি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সিজেপি ও তাদের সমর্থকদের “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টকারী উপাদানের বি-টিম” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে সোমাবরের বিশাল জনসমাগম, সহিংসতা এবং সিজেপির অবস্থান চলে না যাওয়ার অনড় মনোভাব এই আন্দোলনকে দীর্ঘ সময় আলোচনার কেন্দ্রে রাখবে বলেই মনে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে উদ্ধার যুবকের মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫২ পি.এম


প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে উদ্ধার যুবকের মরদেহ

পাবনার সাঁথিয়ায় একটি লিবিয়া প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে আলিফ (২৩) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় প্রবাসী বাদশা আলীর স্ত্রীর জিজ্ঞাসাবাদ করতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর এলাকায়, সেখান থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত আলিফ পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলো এবং রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত রইজ শেখের সন্তান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে বাদশা ওই এলাকার বাসিন্দা লিবিয়া যান। এরপর তার স্ত্রীর সঙ্গে আলিফের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে আলিফ ওই নারীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে মঙ্গলবার সকালে সকাল ৯টার সময় দেখা যায়, আলিফের মরদেহ গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত রয়েছে, যা উদ্ধার করে পুলিশ।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেনজীরকে ফেরত পাঠাতে কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


বেনজীরকে ফেরত পাঠাতে কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই পুলিশ

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ফেরত পাঠাতে কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে সম্প্রতি দুদককে চিঠি দেয় দুবাই পুলিশ। সংস্থাটির মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম জানান, এর জবাব দুই-এক দিনের মধ্যে পাঠানো হবে। তিনি আরো বলেন, অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার নথিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে পলাতক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাই পুলিশ গ্রেফতার করে। এরপরই তাকে দেশে ফেরাতে তোড়জোড় শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সমস্ত নথিপত্র প্রস্তুত করে প্রত্যর্পণপত্র পাঠায় সংস্থাটি।

দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানান, চিঠির জবাবে এক মাস পর বেনজীরকে ফেরত পাঠাতে নীতিগত সম্মতি দিয়ে মামলাসহ কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করে সম্প্রতি চিঠি দেয় দুবাই পুলিশ। আমরা তাদের চিঠি হাতে পেয়ে জবাব প্রস্তুত করা শুরু করেছি।

বেনজীরের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ অঢেল সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ছয়টি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বিচারকাজ শুরু হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাদকসেবীদের আড্ডা, আতঙ্কে বাসিন্দারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ পি.এম


মধুপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাদকসেবীদের আড্ডা, আতঙ্কে বাসিন্দারা

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের গারোবাজার এলাকায় একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাদকসেবীদের অবাধে মাদকসেবন ও আনাগোনা এবং আড্ডার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ২০১২ সালে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ৬ একর জমির ওপর ১৫০টি পরিবারের জন্য নির্মিত এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বর্তমানে মাত্র ১০টি পরিবার বসবাস করছে।

বাকি ঘরগুলোর অনেকগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় সেগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পটি মূলত ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের উদ্যোগে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

মহিষমারা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সানোয়ার হোসেন জানান, বিগত সরকারের আমলে ১৫০ জন পরিবারের জন্য এই আশ্রয়ণ কেন্দ্র স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে ঐ আশ্রায়ণ কেন্দ্রে মাত্র ৭/৮ টি পরিবার বসবাস করছে। আশ্রায়ণের বাকি ঘরগুলো ফাঁকা অবস্থায় পড়ে আছে। আশ্রয়ণের পাশেই একটি হাইস্কুল রয়েছে, যেখানে ছাত্রদের মেসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেসের পাশেই পরিত্যক্ত আশ্রায় কেন্দ্রে গভীর রাত পর্যন্ত নেশার কেনাবেচার আড্ডা চলে। মাদকসেবীদের আতঙ্কে থাকে মেসের ছাত্রসহ কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। এতে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসীরা দাবি করছেন, প্রশাসন দ্রত পরিত্যক্ত ঘরগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করুক এবং মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি তারা প্রকৃত উপকারভোগীদের সেখানে পুনর্বাসনেরও দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%