ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

উল্লাপাড়ায় ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী তৃতীয় লিঙ্গের নারী


উল্লাপাড়ায় ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী তৃতীয় লিঙ্গের নারী

৩ নভেম্বর ২০২৬

সমাজের নানা অবহেলা, বঞ্চনা আর প্রতিকূলতাকে জয় করে নিজের চেষ্টায় স্বাবলম্বী হয়েছেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার তৃতীয় লিঙ্গের নারী স্বপ্না (২৩)। একসময় জীবিকার প্রয়োজনে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে হতো তাঁকে। কিন্তু কারও কাছে হাত না পেতে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে শুরু করেন ছাগল পালন। মাত্র দুটি ছাগল দিয়ে শুরু করা তাঁর সেই উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে একটি ছোট খামারে। বর্তমানে সেখানে রয়েছে ১৮টি ছাগল। কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য মনোবল দিয়ে গড়ে তোলা এই খামারই এখন তাঁর জীবিকার প্রধান অবলম্বন।

স্বপ্নার বাড়ি উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর মিলপাড়া এলাকায়। রেলওয়ের জায়গায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন তিনি। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা নুরজাহান বেগম। ছোটবেলায় বাবা-মা তাঁর নাম রেখেছিলেন স্বপন। স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনাও করেছেন। পরবর্তী সময়ে জীবনের নানা বাস্তবতায় স্বপন থেকে পরিচিতি পান স্বপ্না নামে।

আরও পড়ুন: মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে বরিশাল নগরীতে ডিবি পুলিশের আকস্মিক চেকপোস্ট ও সাঁড়াশি অভিযান

স্বপ্না জানান, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হওয়ায় জীবিকার জন্য একসময় অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে হতো তাঁকে। এ সময় নানা মানুষের কটূক্তি ও নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে নিজের উপার্জনের পথ খুঁজতে উৎসাহিত করে। অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর ছাগল পালনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে বাবা-মায়ের সহযোগিতায় শুরু করেন খামার।

স্বপ্নার মা নুরজাহান বেগম বলেন, তাঁদের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। সরকারি জায়গায় বসবাস করেন তাঁরা। সংসার চালাতেও অনেক কষ্ট করতে হয়। পাশের বাড়িতে একজনকে ছাগল পালন করতে দেখে স্বপ্নারও ছাগল কেনার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে তাঁর বাবা ১৩ হাজার ও ১৪ হাজার টাকা দিয়ে দুটি ছাগল কিনে দেন। সেই দুটি ছাগল থেকেই শুরু হয় স্বপ্নার খামারের পথচলা।

শুরুতে অল্পসংখ্যক ছাগল নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ধীরে ধীরে খামার বড় করার চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে ছাগলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২টিতে। কিন্তু হঠাৎ রোগে আক্রান্ত হয়ে ছয়টি ছাগল মারা গেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি ছাগল মারা যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়লেও হাল ছাড়েননি তিনি। নতুন করে উদ্যোগ নিয়ে আবারও খামার গড়ে তোলেন। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ১৮টি ছাগল। এর মধ্যে তোতা, হরিয়ানা, বিটল, যমুনাপাড়ি ও ব্ল্যাক বেঙ্গলসহ বিভিন্ন জাতের ছাগল রয়েছে। তাঁর দাবি, জাত ও আকারভেদে প্রতিটি ছাগলের বাজারমূল্য এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত।

স্বপ্না জানান, খামারের পাঠা প্রজননের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা আয় হয়। পাশাপাশি বছর শেষে বিক্রির উপযোগী ছাগল বিক্রি করেও ভালো অর্থ পাওয়া যায়। গত বছর চট্টগ্রামে বিভিন্ন পূজা উপলক্ষে ১০টি ছাগল বিক্রি করে মোট ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: রংপুরে ৩৩ ওয়ার্ডে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রোগ্রামের উদ্বোধন

স্বপ্না বলেন, ‘আমি চাই না জীবিকার জন্য আর কারও কাছে হাত পাততে হোক। নিজের পরিশ্রমে কিছু করে বাঁচতে চাই। এই খামার দিয়েই আমার সংসার চলে। অনেক কষ্ট করে খামারটি দাঁড় করিয়েছি। মাঝেমধ্যে ছাগল মারা যাওয়ায় লোকসান হয়েছে, তবুও দমে যাইনি। আমার স্বপ্ন, খামারটিকে আরও বড় করা। সরকার সহযোগিতা করলে উন্নত জাতের ছাগল পালন, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আরও ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারব। পাশাপাশি অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করতে চাই।’

স্বপ্নার এই উদ্যোগ শুধু তাঁর নিজের জীবিকার পথই তৈরি করেনি, বরং সমাজের প্রচলিত নেতিবাচক ধারণার বিপরীতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রয়োজনীয় পুঁজি, সরকারি সহযোগিতা ও পশুপালনবিষয়ক প্রশিক্ষণ পেলে তাঁর খামারটি আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। স্বপ্নার প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর তাঁর পাশে দাঁড়াবে, যাতে আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বড় উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দোহারে দুই যুবককে আটক, অনলাইন জুয়ায় জড়িত ও ইয়াবা উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


দোহারে দুই যুবককে আটক, অনলাইন জুয়ায় জড়িত ও ইয়াবা উদ্ধার

ঢাকার দোহার উপজেলার বিশেষ অভিযানে থানা পুলিশ মুকুল হোসেন (২৪) ও সুমিত সূত্রধর (২০) নামে দুই যুবককে আটক করেছে। তাদের কাছে ৩০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে এবং তারা অনলাইন জুয়ায় জড়িত বলে পুলিশের তথ্য প্রকাশ করেছে।

আটককৃতদের মধ্যে মুকুল হোসেন মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে জয়পাড়া পূর্ব বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

মুকুল হোসেন দক্ষিণ জয়পাড়া এলাকার মনির হোসেনের ছেলে এবং সুমিত সূত্রধর একই এলাকার স্বপন সূত্রধরের ছেলে। পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার জনাব শামীমা পারভীন এর নির্দেশনায়, সহকারী পুলিশ সুপার (দোহার সার্কেল), মোঃ শামীম হোসেনের সহযোগিতায় এবং দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে এসআই সুমন সরকার, এসআই হামিদুর রহমান ও এএসআই আব্দুল মালেকসহ পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে।

দোহার থানার এসআই সুমন সরকার জানান, আটক মুকুল হোসেন অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া, তিনি বিভিন্ন সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ায় যুক্ত করার চেষ্টা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, আটককৃত মুকুল হোসেন ও সুমিত সূত্রধরের বিরুদ্ধে মাদক ও জুয়া সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকদ্রব্যের অবৈধ কারবার ও বিস্তার রোধে আইনানুগ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সমাবেশ, চার কিশোরী পেলেন লক্ষাধিক টাকার চেক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


কাউখালীতে বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সমাবেশ, চার কিশোরী পেলেন লক্ষাধিক টাকার চেক

পিরোজপুরের কাউখালীতে বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধে অভিভাবক ও কিশোরীদের সচেতন করতে সমাবেশ এবং সঞ্চয় ও সরকারি প্রণোদনার চেক বিতরণ করা হয়েছে। সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার কেউন্দিয়া শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
‘বাল্যবিবাহকে না বলি, সঞ্চয়ে ভবিষ্যৎ গড়ি করলে সঞ্চয় ২০০ টাকা, সরকার দেবে ৪০০ টাকা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ. গোলাম রব্বানী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক মোঃ নাজমুল আনোয়ার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুর রহমান মিজান।
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ মাসুম মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম রফিক ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার । এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে প্রকল্পের আওতায় মেয়াদ পূর্ণ হওয়া চার কিশোরীর জমাকৃত সঞ্চয় ও সরকারি প্রণোদনা মিলিয়ে মোট ১ লাখ ১ হাজার ১৪৭ টাকার চেক তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ গোলাম রব্বানী বলেন, “বাল্যবিবাহ ও মাদক সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিশেষ করে কিশোরীরা বাল্যবিবাহের শিকার হলে তাদের শিক্ষা ও জীবন থমকে যায়। আজকের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য অভিভাবক ও কিশোরীদের সচেতন করা, যাতে তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সোচ্চার হয়। বিআরডিবির মাধ্যমে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা প্রদান কিশোরীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার বলেন, আমাদের মেয়েরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। আজ চারজন কিশোরীকে তাদের সঞ্চয় ও প্রণোদনার চেক দেওয়া হয়েছে। এটি দেখে অন্য শিক্ষার্থীরাও সঞ্চয়ে উৎসাহিত হবে। ‘করলে সঞ্চয় ২০০ টাকা, সরকার দেবে ৪০০ টাকা’ এই স্লোগান আজ বাস্তব রূপ পাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের সামনে তিনটি পথ, উপদেষ্টাদের মতভেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৯ পি.এম


ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের সামনে তিনটি পথ, উপদেষ্টাদের মতভেদ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে তিনটি ভিন্ন পথ নিয়ে চিন্তা করছেন। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার উপদেষ্টারা তিনটি ভিন্ন দিক থেকে তাকে প্রভাবিত করছেন। আলোচনার একটি পথ রয়েছে, অন্যটি আবার যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার। মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তিনি কোন পথে যাবেন, তা নিয়ে আশা করা হচ্ছে।

প্রথম পথের সমর্থকরা হলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। তারা চান যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে যুদ্ধের অবসান ঘটানো হোক।

দ্বিতীয় পথে আছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তাদের মত হলো, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা উচিত।

তৃতীয় পথের সমর্থকরা হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং সিআইএ প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ। তারা ‘যুদ্ধও নয়, চুক্তিও নয়’ অবস্থান ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার কথাও বলেছেন, যাতে ইরান আমেরিকার শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়।

র‍্যাটক্লিফ ট্রাম্পকে আরও জানিয়েছেন, যদি অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকে, তাহলে ইরানে অস্থিরতা বাড়তে পারে। এর ফলে সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে বিদ্রোহ করতে পারে। অনেক পর্যবেক্ষক দীর্ঘদিন ধরেই বলছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটাতে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ উসকে দেওয়াই ট্রাম্পের যুদ্ধের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

ট্রাম্প কোন দিকে ঝুঁকছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গত কয়েক সপ্তাহে তিনি বারবার ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছেন। একই সময়ে, তিনি নতুন করে আলোচনার দায়িত্ব ভ্যান্সকে দিয়েছেন। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকে সরাসরি আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা করছেন।

অ্যাক্সিওসের সূত্র জানায়, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা একটি খসড়া চুক্তি তৈরি করেছেন। এতে তিন দিনের মধ্যে কয়েকটি আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ রয়েছে। লক্ষ্য হলো আমেরিকা ও ইরানের সরাসরি আলোচনা আবার শুরু করা। দুই দেশের জবাবের অপেক্ষায় আছেন মধ্যস্থতাকারীরা।

তবে এই ভাবনা চলাকালীন সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। এটি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সীমিত হামলার সর্বশেষ ঘটনা।

যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যা নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটাররা এর জন্য সরাসরি ট্রাম্পকে দায়ী করছেন। এমনকি কিছু রিপাবলিকান প্রার্থী ও ভোটার তার থেকে দূরত্ব রাখছেন বলেও জানা গেছে।

যখন উপদেষ্টারা তাকে বিভিন্ন দিক থেকে প্রভাবিত করছেন, তখন ট্রাম্প বলছেন, সিদ্ধান্ত নিতে ‘কোনো তাড়া নেই’। তিনি অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘এভাবে হোক বা ওভাবে, আমরা কিছু একটা করব। তবে কোনো তাড়া নেই। আমরা ওদের আর্থিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছি। ওদের টাকা নেই, গ্যাসোলিন নেই। ওদের মানুষ এসব নিয়ে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ছে।’

নির্বাচনের আগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের হাতে চুক্তি করার তাড়া এখন কিছুটা কম। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ওরা চুক্তি করার তাড়াটা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাইন্যান্সে ৬০০ কোটি ডলারের অর্থ চুরির অভিযোগে মুখ খুলল উত্তর কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৯ পি.এম


বাইন্যান্সে ৬০০ কোটি ডলারের অর্থ চুরির অভিযোগে মুখ খুলল উত্তর কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের অধিক অর্থ চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত অভিযোগকে গুরুতর রাজনৈতিক উসকানি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা ডয়েচে ভেলের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএর উদ্ধৃতি দিয়ে জানা যায়, কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক কথাবার্তা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এ ধরনের অভিযোগ নতুন কিছু নয়।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই অভিযোগ করে যে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ চুরি করেছে। সংস্থাটির দাবি, গত সপ্তাহে এই ঘটনা ঘটেছে।

ব্লকচেইন বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসও হামলার পেছনে একই গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করেছে। জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুরির ২০ মিনিটের মধ্যে অধিকাংশ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন-প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক চুরি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালে বাইবিট নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের চুরির ঘটনা ঘটেছিল। ওই হামলার জন্যও উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের দায়ী করা হয়েছিল।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক পুনরায় শুরুর প্রস্তাব নিয়ে পিয়ংইয়ং এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্লেষকদের ধারণা, উত্তর কোরিয়ার দ্রুত অভিযোগ অস্বীকারের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র উন্নয়নে অর্থ জোগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস বন্ধের চেষ্টা জোরদার করতে পারে।

অন্যদিকে, চুরির ঘটনার পর বাইন্যান্স বিভিন্ন নেটওয়ার্কে লেনদেন ও অর্থ উত্তোলন পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (জিএমটি ০৪:০০) থেকে বিন্যান্স স্মার্ট চেইন, ইথেরিয়াম, সোলানা, এক্সআরপি ও সুইসহ কয়েকটি নেটওয়ার্কে আরও কিছু মুদ্রা উত্তোলনের সুযোগ চালু হবে। আরবিট্রাম, অপটিমিজম, ট্রন ও বেস নেটওয়ার্কের নির্দিষ্ট কিছু মুদ্রাও এ উদ্যোগের আওতায় থাকবে।

বাইন্যান্সের দাবি, চুরি হওয়া অধিকাংশ অর্থ তারা নিজেদের তহবিল থেকে পূরণ করেছে।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%