সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২০ এম
ফেনী শহরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়ে ৩৮ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ২৫ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আটক অন্যদের অভিভাবকদেরও থানায় আসতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে ফেনী মডেল থানা পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করেন।
ফেনী মডেল থানা সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও কিশোরদের সম্পৃক্ততায় বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ বাড়তে থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শহরের রাজনন্দিনী দিঘি, পেট্রোবাংলা, একাডেমি, মাস্টারপাড়া ও নাজিররোড থেকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করছিল এমন ৩৮ কিশোরকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে প্রায় সবার বয়স ১৬ থেকে ২২ বছরের মধ্যে।
এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কমাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে আটক ৩৮ জনের মধ্যে ২৫ জনের অভিভাবককে থানায় ডেকে এনে মুচলেকা নিয়ে জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদের অভিভাবকরা না এলে বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট পর্যটন কেন্দ্র হরাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, এক শ্রেণীর লুট চক্রের হোতারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ওদের কারণে নানা সৌন্দর্য শুধু মাত্র অসহায়ত্ব বিরাজ করছে। যেমন করে পাহাড়ের বুক চিরে নেমেছে স্বচ্ছ জলধারা। নদীর বুকে বিছানো ধবধবে সাদা পাথর। দূরে মেঘে ঢাকা পাহাড়, কাছে সবুজের সমারোহ। কোথাও নীলাভ স্বচ্ছ জল, কোথাও সারি সারি চা-বাগান। আবার কোথাও বুক ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গাছের সারি। প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্যের নাম সিলেট। জাফলং, বিছানাকান্দি, সাদাপাথর, রাতারগুল, লালাখাল, পান্তুমাই- প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র যেন প্রকৃতির আলাদা একেকটি ছবি। তবে প্রকৃতি যেখানে দু’হাত উজাড় করে দিয়েছে, সেখানে মানুষের অব্যবস্থাপনা যেন সেই সৌন্দর্য কেড়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। নির্বিচারে বালু-পাথর লুট, পাহাড় কাটা, যত্রতত্র প্লাস্টিক-বর্জ্য ফেলা, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ- সবমিলিয়ে মানুষই যেন ‘বারোটা বাজাচ্ছে’ প্রকৃতি-পর্যটনের। এরপরও পর্যটনকে ঘিরে রয়েছে অপার সম্ভাবনা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেটের পর্যটন বিকাশে প্রয়োজন মহাপরিকল্পনা। আর এখনই প্রকৃতি রক্ষায় উদ্যোগী না হলে সর্বনাশ ঘটবে পর্যটনের। সিলেটে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ তালিকার শীর্ষে থাকে জাফলংয়ের নাম। জাফলংয়ে পৌঁছার আগেই সীমান্তের ওপারের সারি সারি পাহাড় আর চূড়া থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণা দেখে শুরু হয় পর্যটকদের উচ্ছ্বাস। পাথরের উপর পিয়াইনের স্বচ্ছ জলরাশি, ডাউকি ঝুলন্ত ব্রিজ, মায়াবি ঝর্ণা, দেশের প্রথম সমতল চা বাগান আর আদিবাসী খাসিয়া সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় জীবনধারা দেখতে দেখতে শেষ হয় তাদের প্রকৃতিকন্যা দর্শন। কিন্তু এই জাফলংয়েই এখন প্রকৃতি রক্ষার প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে। বালু-পাথর লুট, দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে ইসিএভূক্ত জাফলং এখন পার করছে দুঃসময়।
জাফলংয়ের পরই পর্যটকদের গন্তব্য হয়ে ওঠে সাদাপাথর। ধবধবে সাদা পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া স্বচ্ছ জল¯্রােত, আকাশের গায়ে হেলান দেয়া পাহাড় আর মাথার ওপর ভেসে বেড়ানো মেঘের ভেলা মুগ্ধ করে পর্যটকদের। কিন্তু সেই সাদাপাথরে পড়েছে কালোছায়া। বালু-পাথর লুটের কারণে ধলাই নদী হারিয়েছে স্বাভাবিক গতিপথ। নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। সবচেয়ে দুরাবস্থায় রয়েছে জল-পাথরের বিছানাকান্দি। যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটনকেন্দ্র থেকে অবাধে পাথরলুট ও পরিবেশ ধ্বংসের কারণে এখন মৃতপ্রায় পর্যটনকেন্দ্রটি।
সিলেটের পর্যটনে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল। বর্ষায় পানিতে গলা ডুবিয়ে থাকে বিশাল বনের সারি সারি গাছ। গাছের ডালে পাখির ডাক, নানা রকম পশুর দেখা, নৌকার বৈঠার শব্দ আর চারপাশের নীরবতা তৈরি করে অন্যরকম পরিবেশ। দেশের অন্যতম মিঠাপানির জলাবনও ভাল নেই। নৌযানের সংখ্যা বৃদ্ধি, পানিতে বর্জ্য ফেলা, শব্দদূষণ ও অপরিকল্পিত কার্যক্রমের কারণে রাতারগুলের জীববৈচিত্র্য রীতিমতো হুমকিতে।
পর্যটনকেন্দ্র লালাখাল যেন পাহাড়ের কোলে আঁকা এক জলরঙের ছবি। নৌকা ভ্রমণে নেমে পান্নাসবুজ স্বচ্ছ পানির সৌন্দর্য্যে যেন হারিয়ে যান পর্যটকরা। অন্যদিকে সীমান্তঘেঁষা পান্তুমাইয়ে পাহাড়ের বুক থেকে নেমে আসা জলপ্রপাত পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বর্ষায় জলধারা যখন পপ্রবল হয়ে ওঠে, তখন দূর থেকেই শোনা যায় পানির গর্জন। কিন্তু লালাখাল ও পান্তুমাই রক্ষায়ও নেই সরকারি- বেসরকারি কোন উদ্যোগ।
এর বাইরে সিলেটের চা-বাগান, খাদিমনগর উদ্যান, হাকালুকি হাওর, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজারসহ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোও পর্যটনকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রকৃতি, ইতিহাস, ধর্ম ও সংস্কৃতিকে ঘিরে সিলেটে পর্যটন শিল্প গড়ে ওঠার সুযোগ থাকলেও সেদিকে নজর নেই কারও।
সিলেটের পর্যটনের বিকাশে সবচেয়ে বড় অন্তরায় দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা। বেহাল সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক, ট্রেনের টিকেট সংকট ও আকাশপথে বেশি ভাড়ার কারণে অনেকেই ইচ্ছা থাকাসত্ত্বেও সিলেটমুখী হন না। আর যারা পরিবার নিয়ে আসেন তাদেরকে আসা-যাওয়ায় পোহাতে হয় ভোগান্তি। এছাড়া পরিবেশ ও প্রকৃতি বিনাশী কার্যক্রম বন্ধে জোরালো উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে সিলেটের স্থানীয় অর্থনীতি বদলে যাবে। কর্মসংস্থান হবে হাজার হাজার মানুষের। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন মহাপরিকল্পনা।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা বলেন, ‘সিলেটের পর্যটন প্রকৃতিনির্ভর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখতেই এখানে পর্যটকরা আসেন। কিন্তু আমরা প্রকৃতি রক্ষার চেয়ে বিনাশে বেশি ব্যস্ত। এ অবস্থা চলতে থাকলে পর্যটনের সর্বনাশ ঘটবে। প্রকৃতি বাঁচলে সিলেটের পর্যটন বাঁচবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, “পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের সাথে সমন্বয় করে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। সিলেটে নতুন নতুন পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জেলা প্রশাসন আন্তরিক রয়েছে। গেল কয়েক দিন আগে জৈন্তাপুরে একটি পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থানের সন্ধান পাওয়া যাওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পর্যটনের বিকাশে সিলেট থেকে তামাবিল পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য তাকে এ পদে নিয়োগ দেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশ সূত্রে জানানো হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) শেষ হওয়ায় তার স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
এদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, "আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাবো ইনশাআল্লাহ।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহার করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নারী পরিচয়ে ইতালি প্রবাসী এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রায় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পিবিআই জানিয়েছে, ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নারী সেজে এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন টিটু। পরে বিভিন্ন কৌশলে তার কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে তোফায়েল আলম টিটুকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই ঢাকা জেলা। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সিমসহ তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ।
এম. এন. মোর্শেদ বলেন, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বারিশুর বাঘবাড়ি এলাকার শাহনাজ বেগমের (৪৬) ইতালি প্রবাসী ছেলে শাহাদাত খান (২২)। ফেসবুকে ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামে একটি পেজের মাধ্যমে তার সঙ্গে ওই ব্যক্তির পরিচয় হয়। পেজটিতে সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হতো।
পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, পরে নারী সেজে নারীসূলভ কণ্ঠে শাহাদাতের সঙ্গে ফোন ও ইমোতে কথা বলে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়।
তিনি বলেন, পরে বিভিন্ন কৌশলে শাহাদাত ও তার মায়ের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়। আসামি নিজের মায়ের অসুস্থতার কথা বলেও বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
এ ঘটনায় প্রথমে আদালতে সিআর মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা। মামলাটি তদন্তের সময় পিবিআই প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য পায়। পরে বিকাশ ও নগদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর ভিত্তিতে ১০ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের জন্য নেয় পিবিআই ঢাকা জেলা।
পিবিআই জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মনজুর রহমান তথ্য ও বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে তোফায়েল আলম টিটুর সম্পৃক্ততার তথ্য পান। পরে ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে দারুস সালাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর ২১ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আলম টিটুকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
তদন্তের তথ্য জানিয়ে পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, তোফায়েল নারীর মতো কণ্ঠে কথা বলতে পারেন। ফেসবুক মেসেঞ্জারে শাহাদাতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ইমোতে নারী কণ্ঠে কথা বলার মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখতেন তিনি। শাহাদাতের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেও বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআইয়ের পিসিপিআর যাচাইয়ে তোফায়েলের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি সিআর মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই মামলার তদন্ত শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পিবিআই বলছে, প্রতারণার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে আরও কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অপহৃত ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিসানের (২৪) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জিসান কাকারা ইউনিয়নের লোটনী এলাকার বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রবিবার সাড়ে ১১টার দিকে কাকারা ইউনিয়নের লোটনী এলাকার সাবের সওদাগরের দোকানের সামনে থেকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন ব্যক্তি জিসানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম - কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে জিসানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
জানা যায়, জিসান চকরিয়া পৌর শহরের আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্সে একটি কাপড়ের দোকান পরিচালনা করতেন। অন্যান্য সময়ের মতো রাত ১১টায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাচ্ছিলেন। বাড়ির কাছেই রাস্তার ওপর থেকে জিসানকে অপহরণ করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, জিসানকে অপহরণের পর চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকার ‘কবির টাওয়ার’-এ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে নির্মমভাবে তাঁর মরদেহ মহাসড়কের নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায় ঘাতকরা।
এদিকে ঘটনার প্রেক্ষাপটে জিসানের বড় ভাই কায়সারের সঙ্গে কবির টাওয়ারের মালিক জকরিয়া-র ছোট ভাই মিজানের একটি অডিও কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অপহরণের মাত্র দুই ঘণ্টা আগের ওই অডিওতে মিজানকে বলতে শোনা যায়, "আমরা অপারগ হয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এজাহার লিখেছি। কালকে দিনের মধ্যে আপনার ভাইকে (জিসানকে) নিয়ে যদি সমাধানে না বসেন, তাহলে আমি আমার মতো সমাধানের রাস্তা খুঁজে নেব। আপনার ভাইকে খুঁজতে ৫০ জন লোক রেডি আছে।"
এ খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা সবুজবাগ এলাকার কবির টাওয়ারের পার্কিংয়ে সন্দেহভাজন একটি সাদা রঙের এক্স-নোহা (X-Noah) গাড়ি শনাক্ত করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে ভবন মালিকের পরিবার নানা অজুহাতে ফুটেজ দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন এবং এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ