ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভেনেজুয়েলার সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বৈঠক, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা


ভেনেজুয়েলার সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বৈঠক, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা

ঢাকা, ১৯ জুন, ২০২৬ : বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা দেশের বিরোধী দলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত করেছেন। বৈঠকে তারা গণতান্ত্রিক রূপান্তর বিষয়ে সংলাপের একটি রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানা যায়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার জাতীয় সংসদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ এবং সাবেক বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতা দিনোরা ফিগুয়েরার মধ্যে কারাকাসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ফিগুয়েরা আট বছর নির্বাসন শেষে বৃহস্পতিবার কারাকাসে ফিরেছেন।

টমি পিগট বলেছেন, এই বৈঠক একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ভেনেজুয়েলীয় সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সংলাপের একটি ‘রোডম্যাপ’ বা সুচিন্তিত প্রক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেপ। উভয় পক্ষ আলাপ-আলোচনা করে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের নানা উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করেছে।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

তিনি আরও জানিয়েছেন, এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, জাতীয় নির্বাচন পরিষদকে শক্তিশালী করা এবং একটি সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দিকে এগোবে।

দিনোরা ফিগুয়েরা ২০১৫ সালে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হয়েছিলেন। ৬৫ বছর বয়সী রাজনীতিক ফিগুয়েরা ২০১৮ সালে নির্বাসনে যান কারণ তিনি ‘হুমকি ও হয়রানির’ মুখে পড়েছিলেন। তিনি তখন তার রাজনৈতিক দল জাস্টিস ফার্স্টের সহকর্মী ফার্নান্দো আলবানের পক্ষে মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছিলেন, যিনি ওই বছরের অক্টোবর মাসে কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।

গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয় এবং তাকে মাদক পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর থেকে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

ফিগুয়েরা ভেনেজুয়েলায় ফিরে বিরোধীদলীয় নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন, যিনি সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য আলোচনার উদ্দেশ্যে নিজস্ব একটি উদ্যোগ শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

ফিগুয়েরা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আমন্ত্রণে এই সব চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে এসেছি... বিশেষ করে একটি বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন পরিষদ গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করতে।’

পরে জাতীয় পরিষদ নিশ্চিত করে যে, অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের ভাই হোর্হে রদ্রিগেজের সঙ্গে বিরোধী নেত্রী দিনোরাহ ফিগুয়েরার মধ্যে বৈঠক হয়েছে। ২০১৫-২০২০ মেয়াদের বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতাদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এই বৈঠকে অংশ নেন।

কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দিনোরা ফিগুয়েরো এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠকে তারা ভেনেজুয়েলায় ‘একটি স্থিতিশীল, সুশৃঙ্খল এবং সুসংহত গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথ’ নিয়ে আলোচনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট- সেখানে একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত দেশটিতে অবাধ ও সুষ্ঠু বহুদলীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

তিনি আরো বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার একটি নতুন নির্বাচন কমিশন দরকার এবং শেষ পর্যন্ত দেশটির ভবিষ্যৎ হবে মুক্ত ও সুষ্ঠু বহুদলীয় নির্বাচন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধের খরচ বাঁচাতে ৮০ বিলিয়ন ডলার চায় ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫৪ পি.এম


ইরান যুদ্ধের খরচ বাঁচাতে ৮০ বিলিয়ন ডলার চায় ইরান

পেন্টাগনের পক্ষ থেকে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ এবং অন্যান্য অ-প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয় মেটাতে তাদের প্রয়োজন অতিরিক্ত ৮০ বিলিয়ন ডলার।

এই সপ্তাহে ফোন কলের মাধ্যমে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিফেন ফেইনবার্গ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে এই খবর প্রকাশ করেছে রয়টার্স।

বৃহৎ আকারের এই ৮০ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অংশ প্রতিরক্ষা খাতের জন্য বরাদ্দ থাকলেও এই অতিরিক্ত তহবিলের মধ্যে খামার ও দুর্যোগ সহায়তার মতো জরুরি অ-প্রতিরক্ষা খাতের অগ্রাধিকারগুলোও থাকবে। হোয়াইট হাউস খুব শিগগিরই এই চূড়ান্ত সম্পূরক বাজেট প্রস্তাবটি আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠাতে পারে বলে জানা গেছে।

যদিও রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেদনটির সত্যতা সম্পূর্ণ যাচাই করতে পারেনি এবং মার্কিন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।

গত এপ্রিল মাসে পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন যে, ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যা ছিল এই যুদ্ধের ব্যয়ের প্রথম কোনো সরকারি হিসাব। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ইসরায়েলের সাথে যৌথভাবে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের সামগ্রিক ব্যয় নিয়ে ক্যাপিটল হিলে এখনও বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে।

এর আগে যুদ্ধ ব্যয়ের জন্য সরকারের প্রাথমিক ২০০ বিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রস্তাব মার্কিন আইনপ্রণেতাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছিল।

চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বিশাল বাজেট প্রস্তাব নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, চড়া জ্বালানি মূল্য এবং এই যুদ্ধের আর্থিক বোঝা নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে গত মে মাসে মার্কিন মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কারণে দেশের সাধারণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির বড় একটি অংশ চিন্তিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যের চিড়িয়াখানায় কুমিরের খাঁচায় শিশু, গ্রেপ্তার ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫৫ পি.এম


যুক্তরাজ্যের চিড়িয়াখানায় কুমিরের খাঁচায় শিশু, গ্রেপ্তার ১

যুক্তরাজ্যের একটি চিড়িয়াখানায় কুমিরের খাঁচার ভেতর থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কেমব্রিজশায়ার পুলিশ জানায়, দুপুর ১টা ২৪ মিনিটে ওল্ড হার্স্ট চিড়িয়াখানা থেকে জরুরি ফোন পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে দেখা যায়, তিন বছর বয়সী একটি শিশু আচমকাই কুমিরের খাঁচার ভেতর ঢুকে পড়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও স্থিতিশীল রয়েছে।

এই ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলেছেন, প্রাথমিকভাবে ধরনা করা হচ্ছে যে ওই ব্যক্তির সাথে শিশুটির কোনো পূর্বপরিচয় বা পারিবারিক সম্পর্ক নেই।

ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর ভেরিটি ম্যাকক্যান জানিয়েছেন, এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কিভাবে ঘটলো, তা জানতে আমরা ঘটনার সময় চিড়িয়াখানায় উপস্থিত থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছি এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ওল্ড হার্স্ট চিড়িয়াখানার মালিক পক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আহত শিশু ও তার পরিবারের প্রতি তারা গভীর সমবেদনা জানান।

তাদের বক্তব্যে আরো বলা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং পরিবারের প্রতি সম্মান দেখাতে চিড়িয়াখানার ‘ট্রপিক্যাল হাউস’—যেখানে অ্যালিগেটর ও ঘড়িয়াল রাখা হয়—পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

এদিকে, হান্টিংটনের সংসদ সদস্য বেন ওবেস-জেকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (টুইটার) একটি পোস্টে ঘটনাটিকে অত্যন্ত ‘গুরুতর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে বিষয়টি নিয়ে একটি ফৌজদারি তদন্ত চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিরাপত্তাসংকটের সমাধান মাত্র হত্যা নয়—জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ পি.এম


নিরাপত্তাসংকটের সমাধান মাত্র হত্যা নয়—জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলকে

মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইসরায়েলি ‘আতঙ্কের’ সমালোচনা করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়।

ভ্যান্স মন্তব্য করেন, ‘সব সমস্যার সমাধান শুধু হত্যা নয়।’ তিনি জানিয়ে দেন, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান কোনো ছাড় পাবে না। তিনি হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী কয়েকজন মন্ত্রীর সমালোচনা করেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের যথাযথ মূল্যায়ন করছেন না। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তিনি এ সমালোচনার মধ্যে রাখেননি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও অস্থিতিশীলতা নিরসনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে ইসরায়েল বেশ উদ্বিগ্ন। ইসরায়েলিদের আশঙ্কা রয়েছে যে, এই চুক্তি তাদের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা লক্ষ্যগুলোকে বাধাগ্রস্ত করবে। এ অবস্থায় জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলকে এই মন্তব্য করেন।

ভ্যান্স দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘ইসরায়েলের এই পুরো আতঙ্ক আমার কাছে কিছুটা অদ্ভুত লাগছে। কারণ আমি মনে করি, এটি অবিশ্বাসের জায়গা থেকে এসেছে এবং আমেরিকা বিশ্বের ওই অঞ্চলের আস্থা অর্জন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করা যায় না।’

ভ্যান্স আরো বলেন, ‘আমরা ওই দেশ ও সরকারের জন্য অনেক ভালো কাজ করেছি। আমরা একটি খারাপ চুক্তি করেছি, এমন ধারণার পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই। বরং দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করলে এ দাবি মোটেও যৌক্তিক নয়।’

তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এই চুক্তি নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। চুক্তিটি সম্পর্কে ভুল তথ্যের কারণেই তাদের এই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যেই এমন কিছু ব্যক্তি আছেন, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের মতো মানুষ, যারা এই চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তাদের উদ্দেশে আমার প্রশ্ন, আপনাদের বিকল্প প্রস্তাব কী? মাত্র ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ হিসেবে ইসরায়েল তার প্রতিটি জাতীয় নিরাপত্তা সংকটের সমাধান শুধু সামরিক অভিযান বা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে করতে পারে না।’

তিনি এই চুক্তিটি ইসরায়েলসহ ‘সমগ্র অঞ্চল এবং বিশ্বের’ জন্য ভালো হবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের ‘পারমাণবিক কর্মসূচি’ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।

ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছি। একই সঙ্গে আমরা ইরানকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে এসেছি, যেখানে তারা এমন কিছু প্রস্তাব দিচ্ছে, যেগুলো বাস্তবায়ন করবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু ছয় মাস আগেও সেগুলো কেবল কল্পনা বলেই মনে হতো।’

তিনি বলেন, ‘সুতরাং, আসুন এই আলোচনাটি এগিয়ে নিয়ে যাই। দেখা যাক, ইরানের কর্মকাণ্ড তাদের কথার সঙ্গে মেলে কি না এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও কিছুটা কৃতিত্ব দেওয়া যাক। আমার মতে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি সরকারের এক অসাধারণ অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাড়ি আমদানির বাজার যাচ্ছে চীন-ভারতের দখলে, শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫৯ পি.এম


গাড়ি আমদানির বাজার যাচ্ছে চীন-ভারতের দখলে, শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) দাবি করেছে, দেশের আমদানি করা গাড়ির বাজার ধীরে ধীরে জাপানের হাতছাড়া হয়ে চীন এবং ভারতের দখলে চলে যাচ্ছে। সংগঠনটির অভিযোগ, আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবেশবান্ধব ব্র্যান্ড নিউ গাড়ির জন্য যে শুল্ক সুবিধা রাখা হয়েছে, তা রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে কি-না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই। এই অবস্থায় প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির জন্য দেওয়া সুবিধা আড়াই হাজার সিসি পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তারা।

সরকার দেশে পরিবেশবান্ধব গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে শুল্ক সুবিধা দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় জানান, ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে মোট করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৪ শতাংশ করা হয়েছে। আর ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত দামের ইভির ক্ষেত্রে করভার নামিয়ে আনা হয়েছে ৮০ শতাংশে।

বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, ইভিকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে হাইব্রিড গাড়িকে প্রায় পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি জানান, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কও বাড়ানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ১৮০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির করভার ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ করা হয়েছে। আর ১৮০১ থেকে ২০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বারভিডার সাবেক সভাপতি মো. হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, পরিবেশবান্ধব গাড়ির ক্ষেত্রে হাইব্রিড এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিডকে আলাদা করে দেখা হচ্ছে কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, দুই ধরনের গাড়িই পরিবেশবান্ধব।

এদিকে, এই শুল্ক সুবিধা রিকন্ডিশন্ড প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে কি-না, তা বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্ট করা হয়নি। তবে শুল্কায়নের জন্য ব্যবহৃত দুটি এইচএস কোডে সমান সুযোগের ইঙ্গিত রয়েছে। এ বিষয়ে বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান বলেন, বাজেটে অনেক বিষয় এখনো অস্পষ্ট এবং মনে হচ্ছে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

মো. হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, ১ থেকে ২০০০ সিসির মধ্যে জাপানি প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির প্রায় উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এই রেঞ্জে চীনা, হুন্দাই, মার্সিডিজ এবং বিএমডব্লিউসহ বিভিন্ন দেশের গাড়ি রয়েছে।

বারভিডার দাবি, নতুন সুবিধা থেকে জাপানি গাড়িগুলো কার্যত বঞ্চিত হচ্ছে। এ কারণ জাপানের অধিকাংশ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির সিসি শুরু হয় আড়াই হাজার থেকে। বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, এই কাঠামোতে বাজারের সুবিধা মূলত চীন এবং ভারতের গাড়ির দখলে চলে যাবে।

বারভিডার সাবেক সভাপতি মো. হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, শুধু প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িকে সুবিধা দিতে হলে করসুবিধার আওতা ২ হাজার ৫০০ সিসি পর্যন্ত বাড়ানো উচিত। অর্থাৎ ১ থেকে ১ হাজার ৮০০ সিসি এবং ১ হাজার ৮০১ থেকে ২ হাজার ৫০০ সিসি; এই দুই স্তরে সুবিধা দিলে জাপানি গাড়ির পাশাপাশি অন্যান্য দেশের গাড়ি সমানভাবে বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারবে।

শুল্ক সুবিধার কারণে প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির বাজার যখন ধীরে ধীরে চীনের দখলে চলে যাচ্ছে, তখন বারভিডার দাবি, একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে জ্বালানিচালিত (আইসি) গাড়ির ক্ষেত্রেও। কারণ, ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসির আইসি গাড়ি আমদানিতে মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করার ঘোষণা বাজেট বক্তৃতায় দেওয়া হয়েছে।

তবে অ্যাসাইকুডার তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৫০১ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি গাড়ির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (এসডি) ৪৫ শতাংশই রাখা হয়েছে, কিন্তু ১ হাজার ২০১ থেকে ১ হাজার ৫০০ সিসি গাড়ির ক্ষেত্রে তা বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। অথচ দেশে ব্যবহৃত অধিকাংশ জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষমতা এই সীমার মধ্যেই।

এ বিষয়ে মো. হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, ১ থেকে ১ হাজার ২০০ সিসির শ্রেণিতে জাপানি গাড়ি প্রায় নেই বললেই চলে, সেখানে ভারতীয় গাড়ির উপস্থিতি বেশি। নির্দিষ্ট একটি দেশের গাড়িকে সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যেই সিসি-ভিত্তিক এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। অপরদিকে, ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসির শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি জাপানি হোম মডেলের গাড়ি আমদানি হয়, আর সেই শ্রেণিতেই শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।

এ অবস্থায় দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং চীন, জাপান ও ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে গাড়ির বাজারে শুল্ক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেছেন, এখনো সময় আছে কর কাঠামো এমনভাবে সাজানোর, যাতে সব ধরনের গাড়ি সমান সুযোগ পায়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষিত এবং জনপ্রিয় জাপানি গাড়িগুলোও যেন বাজার থেকে ছিটকে না পড়ে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে বৈদ্যুতিক বাস এবং ট্রাক উৎপাদনকারী শিল্পের জন্য উপকরণ এবং কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত ভ্যাটসহ সব ধরনের শুল্ক ও কর সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%