হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
০১:৫৩ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবারের পাসের হারে এবং জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। ঢাকা বোর্ডের পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ফলাফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এসএসসির ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পাসের হারে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিম্নে আছে ময়মনসিংহ বোর্ড। এই বোর্ডের গড় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ দেখা যায়। কিন্তু ১১টি শিক্ষা বোর্ডের হিসাব ধরলে দেখা যাচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার সবচেয়ে কম পাসের হার হলো মাদরাসা বোর্ডের।
এই বোর্ডে দাখিলে পাসের হার মাত্র ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা যায় :
ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১.৬৩ শতাংশ; জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩৩২৫৩ জন।
রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩.৬৭ শতাংশ; জিপিএ–৫ পেয়েছে ১৬১১৩ জন।
কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৬৫.৪২ শতাংশ; জিপিএ–৫ পেয়েছে ৯৮১৪ জন।
যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৬.২৭ শতাংশ; জিপিএ–৫ পেয়েছে ১১৪৭৮ জন।
চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯.৪৮ শতাংশ; জিপিএ–৫ পেয়েছে ৯৩৯৮ জন।
বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৬০.৩৫ শতাংশ; জিপিএ–৫ পেয়েছে ২৭৭৮ জন।
সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ; জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩৮৩৬ জন।
দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৫৮.০৫ শতাংশ; জিপিএ–৫ পেয়েছে ১৩৬৩৯ জন।
ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫৭.৩৯ শতাংশ; জিপিএ–৫ পেয়েছে ৫৭০০ জন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এক নারীর ধর্ষণের মামলায় আদালত দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রত্যেকের ওপর এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন - দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নিমাইমারী এলাকার মোবারক আলীর ছেলে আশকর আলী (৪০) এবং একই এলাকার আসমত আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩৫)।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩১ মার্চ রাত ১১টার দিকে, দেওয়ানগঞ্জের নিমাইমারী এলাকায় একটি বসতঘরে ৪০ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণ করেন আশকর আলী ও জাহিদুল ইসলাম।
ওই নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে উভয়কে আটক করেন। পরে ঘটনার আপস-মীমাংসার কথা বলে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারীর ছেলে বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করে আদালত খুঁজে পায়, দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আইনজীবী ফজলুল হক বলেন, ‘মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মন্তব্য করেছেন, গণতান্ত্রিক দেশে বিভিন্ন ধরনের ইস্যু থাকবে। এবং সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে।
তিনি সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন।
দীনেশ ত্রিবেদী এ বিষয়ে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গণতান্ত্রিক ইস্যু রয়েছে এবং তা থাকবে; এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। দুই দেশের সম্পর্ক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে। ভারতের জনগণ চান যে, দুই দেশের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠুক, একইভাবে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীও সুন্দর সম্পর্ক চায়। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে ভালো কিছু হবে।
তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার কাছে খুব ভালো লাগছে। আলোচনা হয়েছে খুবই আন্তরিকভাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে কৃষি-প্রযুক্তি, দুগ্ধশিল্প, সবুজ জ্বালানিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
এ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব খাতে যৌথ বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক সংযোগ এবং রফতানি সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন সুযোগের কথা তুলে ধরা হয়।
সভায় নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের মার্কেট ম্যানেজার (দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া) র্যাচেল ম্যাকগাকিয়ান সহ অন্যান্যদের সঙ্গে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান। প্রতিনিধিদলে অন্য সদস্যরা ছিলেন যুগ্মসচিব (এফটিএ) মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ এবং উপসচিব (এফটিএ) ফারহানা ইসলাম।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে আমদানিতে দুগ্ধজাত পণ্য এবং ধাতব পণ্যের একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা মূলত তৈরি পোশাকনির্ভর।
বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের অ-পোশাক রফতানি খাত সম্প্রসারণে নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, টেকসই বস্ত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিউজিল্যান্ডের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরে বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিভিন্ন সনদ ও উৎপাদন ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য খাতে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া দেশে ৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীর দক্ষ জনশক্তির কথা তুলে ধরে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সফটওয়্যার, ফিনটেক এবং ডিজিটাল সেবা খাতে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেয়া হয়।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের কোম্পানিগুলোকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানানো হয়। দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশেষায়িত পুষ্টিপণ্য, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, কৃষি-প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি খাতে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্বন্ধে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বাজারেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে বাস্তব রূপ দিতে তিনটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- এনজেডটিইর দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া দলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিক্যাল, আইটি এবং চামড়া খাতের রফতানিকারকদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়িক ক্রেতাদের ভার্চুয়াল বিটুবি বৈঠকের আয়োজন এবং নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করা।
এছাড়াও, উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক পরিষদ প্রতিষ্ঠা এবং বাণিজ্য মেলা আয়োজন ও অংশগ্রহণের বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়। বৈঠকে উভয় দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশের বৃহৎ বাজার এবং উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উচ্চমূল্যের রফতানি সক্ষমতার সমন্বয় দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ