শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০৩ পি.এম
প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি হওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় চাম্পির কারণে তাইওয়ান প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঝড়ের প্রভাবে দ্বীপজুড়ে শুরু হয় প্রবল বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টি। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আর্থিক বাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রায় এক হাজার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ঝড়ের কারণে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরে প্রশান্ত মহাসাগরে আঘাত হানা শক্তিশালী ঝড়গুলোর মধ্যে চাম্পি অন্যতম। এক পর্যায়ে এটি সুপার টাইফুনে পরিণত হয়েছিল। যদিও ঝড়টি দুর্বল হয়ে এসেছে, তথাপি এর কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে বলে জানিয়েছেন তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ)।
সিডব্লিউএর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ঝড়টির অবস্থান ছিল তাইওয়ানের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এটি শুক্রবার রাতে তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে চীনের উপকূলের দিকে উত্তরমুখী হতে পারে। পরবর্তীতে এটি দক্ষিণ জাপানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির কারণে তাইওয়ানে একজনের মৃত্যু এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। পূর্বে আহতের সংখ্যা ১৭১ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়। সরকার জানিয়েছে, পাহাড়ি এলাকা থেকে ২ হাজার ৬৩৯ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তাইপাওয়ার জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে ৭৭ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঝড়ের কারণে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি।
তাইওয়ানের আবহাওয়াবিদ লিউ পেই-তেং রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ঝড়টি যদি তাইওয়ানের কাছে এসে থেমে যায়, ঘুরপাক খেলে কিংবা দিক পরিবর্তন করে, তবে সরাসরি স্থলভাগে আঘাত হানার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর বড় ঝড়গুলোর মধ্যে চাম্পির বাতাসের বিস্তৃতি অন্যতম। ঝড়টির গতি কমে গেলে তাইওয়ানে দীর্ঘ সময় ধরে প্রবল বাতাসের প্রভাব থাকতে পারে।
উপকূলীয় শহরগুলোতে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতির দমকা বাতাসের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া তাইপেইয়ের আশপাশসহ উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় প্রায় এক মিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইলান কাউন্টিতে বাতাসের গতি ও বৃষ্টিপাত বাড়তে থাকায় কর্তৃপক্ষ বালুর বস্তা বিতরণ করেছে। পাশাপাশি উভচর যান ও ফোলানো যায় এমন উদ্ধারকারী নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সুয়াও বন্দর শহরের প্রধান লি মিং-চেন জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীকে উদ্ধারকাজে যুক্ত করা হবে। মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় উভচর যান ব্যবহার করা হতে পারে।
অন্যদিকে, উত্তরের বন্দরনগরী কিলুংয়ে নৌকার মালিকেরা নিজেদের নৌযান নিরাপদে বাঁধার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক লিউ ইউ-এন জানিয়েছেন, ঝড় খুব বেশি ভয়াবহ মনে না হলেও তিনি বন্যার আশঙ্কা করছেন। চলতি বছর কিলুংয়ে একাধিকবার বন্যা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তাইওয়ানের আবহাওয়াবিদদের হিসাব অনুযায়ী, চাম্পির বাতাসের বিস্তৃতি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। ফলে ঝড়টি দ্বীপটির অধিকাংশ এলাকা প্রভাবিত করতে পারে। আবহাওয়াবিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর প্রভাব প্রায় দুই দিন স্থায়ী হতে পারে।
ঝড়ের কারণে শুক্রবার তাইওয়ানের আর্থিক বাজারও বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে চীনের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত কিনমেন দ্বীপপুঞ্জে স্কুল ও সরকারি-বেসরকারি অফিস স্বাভাবিকভাবে খোলা ছিল।
পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার সব ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বাতিল হয়েছে ৭১৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। তবে উত্তর থেকে দক্ষিণে চলাচলকারী উচ্চগতির রেলসেবা স্বাভাবিক ছিল।
রাজধানী তাইপেইয়ে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হলেও মেট্রোরেলসহ গণপরিবহন সীমিত পরিসরে চালু ছিল।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় তাইওয়ান সাধারণত ভালো প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। এর ফলে প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলক কম রাখা সম্ভব হয়। গ্রীষ্মকালে এ ধরনের ঝড় বেশি দেখা গেলেও শরৎকালেও ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চাম্পি প্রথমে জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলের সবচেয়ে পশ্চিমে অবস্থিত জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ ইয়োনাগুনির ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। এরপর ঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতি।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া একটি জ্বালানি চুক্তির পর, রাশিয়ার ডিজেলবাহী একটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরের দিকে যাত্রা শুরু করেছে। জাহাজের ট্র্যাকিং ডাটা অনুযায়ী, এই চালানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সরাসরি জ্বালানি সরবরাহের সূচনা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
শিপিং ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান 'কেপলার' (Kpler)-এর তথ্য অনুযায়ী, মল্টার পতাকাবাহী 'আজিওই ফানেনদেস' (Agioi Fanendes) নামের ট্যাঙ্কারটি গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে প্রায় ৪০,০০০ মেট্রিক টন (প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল) আল্ট্রা-লো-সালফার ডিজেল লোড করে বের হয়েছে।
শুরুতে জাহাজটি নিজের গন্তব্য 'নিউ ইয়র্ক' হিসেবে সিগন্যাল পাঠিয়েছিল, কিন্তু পরে তা পরিবর্তন করে "ফর অর্ডার্স" (for orders) স্ট্যাটাসে রূপান্তরিত হয়েছে। সাধারণত, যখন কোনো জাহাজের চূড়ান্ত খালাস বন্দর এখনো নির্ধারিত থাকে না, তখন এ ধরনের সিগন্যাল ব্যবহার করা হয়। জাহাজটির সম্ভাব্য পৌঁছানোর তারিখ আগামী ৭ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে প্রথম ট্যাংকারটি ইতিমধ্যেই রওনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত এই সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। এর আগে, ৯ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সাথে ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিটি রাশিয়াকে জ্বালানি তেল রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজে পেতে সহায়তা করবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেলের ক্রমবর্ধমান দামের চাপ কমাতে এবং সরবরাহ বাড়াতে সচেষ্ট রয়েছে। বর্তমানে মার্কিন বাজারে জ্বালানির উচ্চ মূল্য একটি বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চুক্তি ঘোষণার পর মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট একটি সাময়িক লাইসেন্স ইস্যু করেছে। ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর এই লাইসেন্সের অধীনে রুশ ডিজেল বিক্রি, ডেলিভারি, খালাস এবং আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৩ লাখ টন, নভেম্বরে ৫ লাখ টন এবং পরবর্তীতে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল রপ্তানি করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে এই সরবরাহের গতি সম্পূর্ণরূপে মস্কোর জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখার ওপর নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে মার্কিন বাজারে সরাসরি রুশ ডিজেল আমদানি বন্ধ ছিল। বর্তমান এই নতুন উদ্যোগ বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সূত্র: কেপলার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের অংশগ্রহণে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী নভেম্বরের প্রথমার্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানান, সেন্ট পিটার্সবার্গে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন মধ্যস্থতায় কিছু আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসেনি। পরবর্তীতে মার্কিন প্রশাসন অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়।
এদিকে, গত মঙ্গলবার কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন দূত উইটকফ। এরপর কিয়েভের পক্ষ থেকেও যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা পুনরায় শুরুর আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বৈঠকেও বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্যের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ইউক্রেনের বিশাল ভূখণ্ড মস্কোর হাতে ছেড়ে দেওয়া এবং ইউক্রেনের ন্যাটো (NATO) জোটে যোগ না দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থান থেকে রাশিয়া এখনো সরে আসেনি। বৃহস্পতিবার রাতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বন্দোবস্ত ও চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিই তাদের আলোচনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি বন্দি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সমঝোতার অংশ হিসেবে উভয় পক্ষ ২৭০ জন করে যুদ্ধবন্দি একে অপরকে হস্তান্তর করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ ধরনের বন্দি বিনিময় অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ও ৩১ রানে পরাজিত করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে প্রোটিয়ারা তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-১ সমতা অর্জন করে। প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ২১৪ রানে জয়ী হয়েছিল।
সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট আগামী ২৭ অক্টোবর কেপ টাউনে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হবে।
গেবেরহাতে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা জয়লাভের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিন জয়ী হতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল ছয় উইকেট। অন্যদিকে, ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে অস্ট্রেলিয়ার জন্য ১৭০ রান প্রয়োজন ছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৪২৫ রান করার পর অস্ট্রেলিয়া ৯৯ রানে গুটিয়ে গিয়ে ফলো-অনে পড়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩২৬ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১৫৬ রান। ট্রাভিস হেড ৮৭ রান এবং স্কট বোল্যান্ড ২ রানে অপরাজিত ছিলেন।
হেড তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১৫টি চারে ১৯০ বলে ১২১ রান করেন হেড। দলীয় ২০৯ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে উইয়ান মুল্ডারের বলে বোল্ড হন তিনি।
আগের দিন নাইটওয়াচম্যান হিসেবে ৪০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন বোল্যান্ড। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে স্টিভেন স্মিথ ৩ রান করতে সক্ষম হননি। শেষ দিকে উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারি ৩৭ রান করে অস্ট্রেলিয়ার বড় পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়া ২৯৫ রানে গুটিয়ে যায়।
বল হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদা ৪টি, উইয়ান মুল্ডার ৩টি এবং সিমোন হার্মার ২ উইকেট নেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা ৩৩৪ বলে ১৭৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন।
এই পরাজয়ের কারণে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট হারালেও, অস্ট্রেলিয়া তাদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। ১২ ম্যাচে ৭৫ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ ম্যাচে ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে। নিউজিল্যান্ড সমান ম্যাচে ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। বাংলাদেশ ৬ ম্যাচে ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে টাইগারদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ আরো এক বছর পর্যন্ত চলতে পারে। তবে তিনি আশা করেন যে, ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরে এলে যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে তার আগেই। এই পরিস্থিতিতে, হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজে হামলা এবং সমুদ্রপথে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়ে চলেছে।
একটি সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে যে যুদ্ধকে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার কথা বলেছিলেন, সেটি এখন আরও ১২ মাস পরও চলতে পারে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইরান তার আগেই অর্থবহ আলোচনায় বসবে।
ওয়াল্টজের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তার অভিযান এবং চাপ অব্যাহত রাখবে। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলা এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে একটি অর্থবহ চুক্তিতে পৌঁছানো।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের বন্দরগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন নৌ অবরোধ বজায় রাখার সক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে, তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। এর ফলে যুদ্ধের বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ