ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

যে কণ্ঠের সুরে চলত সংসার, আজ সে কণ্ঠ একেবারেই নীরব


যে কণ্ঠের সুরে চলত সংসার, আজ সে কণ্ঠ একেবারেই নীরব

একসময় গান ছিল মোস্তফা বয়াতির পরিচয়ের মূল ভিত্তি, গান গেয়ে তিনি সংসার চালাতেন। মাটির সুরে পালাগান গেয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন এই বাউলশিল্পী। তাঁর স্বপ্ন ছিল গানকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যাওয়ার। কিন্তু হৃদরোগের কারণে তাঁর কণ্ঠের স্বাভাবিক শক্তি হারিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে তিনি শেষ সম্বলটুকুও হারিয়েছেন। বর্তমানে নিজের চিকিৎসা, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা এবং সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। জীবনের এমন কঠিন সময়ে তিনি সরকারের এবং সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।

শিল্পী মোস্তফা বয়াতি আচমিতা ইউনিয়নের গনেরগাঁও গ্রামের মেনু মিয়ার সন্তান। ১৯৯২ সালে ওস্তাদ লাল মিয়া বয়াতির হাত ধরে বাউল গানের জগতে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সংগীতশিল্পী চূড়ান্ত নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হন মোস্তফা বয়াতি। এরপর তিনি পল্লীগানের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর বাউলগানের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল।

কিন্তু ২০০৯ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর জীবনের গল্প বদলে যায়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসক কর্নেল (অব.) জিহাদ খানের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, জোরে কথা বলা এবং গান গাওয়া নিষেধ। অথচ গান ছিল তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন, সেই গান থেকেই আজ দূরে থাকতে হচ্ছে তাঁকে।

আরও পড়ুন: জামিনের পর পরীমনির অশালীন ভাষায় দুই শব্দের পোস্ট

মোস্তফার ভিটেবাড়ি ছাড়া কোনো ফসলি জমি নেই। গান গেয়ে উপার্জিত অর্থের সঞ্চয় এবং সামান্য যে ফসলি জমি ছিল, তাও বিক্রি করে চিকিৎসার খরচ মেটাচ্ছেন। এখন অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তাঁর মানসিক রোগে আক্রান্ত বাবা দিন-রাতের পার্থক্য বুঝতে পারেন না। অসুস্থ মায়ের ওষুধের খরচ এবং সংসারের ব্যয় বহন করাও তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

মোস্তফা বয়াতির ছাত্রীরা, লিজা বয়াতি, মৌ মিম বয়াতি, সাথী বয়াতি, ঐশী বয়াতি, সোনিয়া বয়াতি, মুন্না বয়াতি, ফারজানা বয়াতি, হ্যাপি বয়াতি ও আদরি সরকার জানান, তাঁরা মোস্তফা বয়াতির কাছ থেকে গান শিখছেন। মাঝে মাঝে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ পেলে সেখান থেকে পাওয়া পারিশ্রমিকের কিছু অংশ উস্তাদের চিকিৎসা ও ওষুধ কেনার জন্য দিয়ে থাকেন।

মোস্তফা বয়াতির স্ত্রী সেলিনা খাতুন জানান, তাঁর স্বামী গান গেয়ে সংসারের খরচ বহন করতেন। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তিনি গান গাইতে পারেন না। স্বামীর কষ্ট চোখের সামনে দেখেও কিছু করতে না পারার বেদনা তাঁকে প্রতিনিয়ত কুরে কুরে খাচ্ছে। বর্তমানে মোস্তফা বাড়িতে কয়েকজন ছেলেমেয়েকে গান শেখান। সেখান থেকে পাওয়া সামান্য অর্থ দিয়েই কোনো রকমে দিন কাটছে পরিবারটির।

নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বাউলশিল্পী মোস্তফা বয়াতি বলেন, “২০০৯ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে আর আগের মতো গান গাইতে পারি না। আমার গাওয়া ৩৫টি অডিও ক্যাসেট বাজারজাত করেছি। গানই ছিল আমার একমাত্র সম্পদ ও জীবিকার অবলম্বন। আমার যা কিছু সঞ্চয় ছিল, সব চিকিৎসার পেছনে খরচ করেছি।

আরও পড়ুন: আদনানের প্রথম সিনেমা ‘অপলক’এ নিশো ও মেহজাবীন

এখন মানসিক রোগে আক্রান্ত বাবা, অসুস্থ মা, স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি। নিজের চিকিৎসা করাব, নাকি বাবা-মায়ের চিকিৎসা করাব, নাকি সংসার চালাব—কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমার চিকিৎসার জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চাই।”

একসময় যে কণ্ঠে পল্লীগানের সুর ছড়িয়ে পড়ত মানুষের হৃদয়ে, আজ সেই কণ্ঠ একেবারেই নীরব। অভাব এবং অসুস্থতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন এই শিল্পী। সমাজের হৃদয়বান মানুষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এগিয়ে আসেন, তবে হয়তো আবারও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি। স্বাভাবিক জীবনে বেঁচে থাকার স্বপ্ন ফিরে পেতে পারেন তিনি।

এমএইচ

আরও পড়ুন: আথিয়ার জন্মদিনে রাহুলের heartfelt শুভেচ্ছা: তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনের কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ পি.এম


ফেনীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনের কর্মসূচি

ফেনী, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : ফেনী জেলা প্রশাসন ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় দিবসটি উদযাপনের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক মাহবুব উল করিম এর সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.সাইদুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক আবু নাসের চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুফতি আবদুল হান্নান, ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার জাকির উদ্দিন, জেলা কালচারাল অফিসার সুদীপ্তা চক্রবর্তী এবং জেলা যুবদল সদস্য সচিব নইম উল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

গৃহীত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ, বিকাল সাড়ে ৩ টায় ভাষা শহীদ সালাম স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।

এর আগে ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটিতে উপজেলা পর্যায়ে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মসূচি পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মাহবুব উল করিম।

তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে।" জেলা প্রশাসক সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপনের আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের: শামা ওবায়েদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ পি.এম


নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, সরকার জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা ও দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংলাপে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। এই সংলাপটি জ্বালানি খাতে ঋণের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে আলোচনা করে।

শামা ওবায়েদ সৌরবিদ্যুতের প্রসারে আইন প্রণয়ন, সরকারি স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার এবং জলবায়ু কূটনীতিতে আলাদা উইং গঠনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমদানি নির্ভর ব্যবস্থায় জ্বালানি খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ঘটেছে। বর্তমান সরকার দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকটের সমাধান এবং সৌরবিদ্যুতের প্রসারে কাজ করছে।

এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত হয়েছে এবং এটি সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিবেশমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও সক্রিয় হতে হবে।

আসন্ন কপ সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে পরিবেশ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবারই প্রথম একসঙ্গে কাজ করছে। তবে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরা হলো না, বিস্ফোরক মামলায় ভাঙ্গায় বাস থেকে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৮ আসামি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরা হলো না, বিস্ফোরক মামলায় ভাঙ্গায় বাস থেকে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৮ আসামি

হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়ে বাড়ি ফেরার পথে শেষ পর্যন্ত আর বাড়ি ফেরা হলো না তাঁদের। পরিবহন বাসে চড়ে এলাকায় ফেরার সময় ফরিদপুরের ভাঙ্গা মহাসড়ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলার আট আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১০। পরে তাঁদের আলফাডাঙ্গা থানার একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১০-এর স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০) ভাঙ্গা মহাসড়ক এলাকায় একটি পরিবহন বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মোঃ রুবেল শেখ (৪০), মোঃ আশিক শেখ (২৭), মোঃ এলায়েত শেখ (৫৫), মোঃ মন্টু শেখ (২৮), মোঃ উজ্জল শেখ (৪০), মোঃ সাগর শেখ (২৩), মোঃ সজল শেখ (২১) ও সাজ্জাদ শিকদার (৩৫)। তাঁরা সবাই আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের বাসিন্দা।

র‍্যাবের অভিযানের পর গ্রেপ্তার আটজনকে পুলিশের বিশেষ গাড়িতে ফরিদপুরে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও গ্রাম্য বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে একাধিক সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা ও মামলা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জুন বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে সুমন শেখ (৩০) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সুমন ছিলেন চা-দোকানি রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে পাইচোর ভাতিজা।
এর প্রায় আড়াই মাস পর গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে পাইচোসহ কয়েকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রবিউল ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এর আগে গত ১ অক্টোবর রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকা থেকে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি উকিল শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সরোয়ার বলেন, র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া আটজনকে আলফাডাঙ্গা থানার বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রোগীরা ভোগান্তিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রোগীরা ভোগান্তিতে

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করার পরও চিকিৎসকের সাক্ষাৎ মিলছে না। অভিযোগ উঠেছে যে, হাসপাতাল থেকে বরাদ্দকৃত ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধাও মিলছে না।

প্রতিদিন জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে আসেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করার পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে অনেক রোগী হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের অধিকাংশ চিকিৎসকের কক্ষ প্রায়ই তালাবদ্ধ থাকে। যেসব চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন, তাদের ওপর অতিরিক্ত রোগীর চাপ থাকায় যথাযথ সময় দিতে পারেন না। আবার দুপুরের মধ্যেই অনেক চিকিৎসক চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগীকে ফিরে যেতে হচ্ছে।

হাসপাতালের সরবরাহ তালিকায় ওষুধের নাম থাকলেও রোগীদের তা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের আবতাফ আলী জানান, ‘এর আগেও দুই দিন এসে টিকিট নিয়েও ডাক্তার দেখাতে পারিনি। আজও এসে ফিরে যাচ্ছি, ডাক্তার নেই। দুই দিনে প্রায় ২০০ টাকার বেশি খরচ হলো, কিন্তু ডাক্তার দেখাতে পারলাম না।’

সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুরের রেখা বেগম বলেন, ‘নিজে মেডিসিনের ডাক্তার ও ছেলেকে দাঁতের ডাক্তার দেখানোর জন্য এসেছিলাম। কিন্তু দুটি কক্ষই তালাবদ্ধ। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটেও ফিরে যাচ্ছি। ডাক্তার তো পেলামই না, উল্টো সারাদিন হয়রানি হতে হলো।’

শুধু বহির্বিভাগ নয়, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শয্যা না পেয়ে অনেককে বারান্দা ও সিঁড়ির নিচে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, হাম, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের একই জায়গায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

প্রয়োজনীয় ওষুধের অধিকাংশই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। হাসপাতালটিতে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বোয়ালী এলাকার ভর্তি রোগী আলমউদ্দিন জানান, ‘বেড না পেয়ে তিন দিন ধরে মেঝেতে শুয়ে কোনোরকমে চিকিৎসা নিচ্ছি। দিনে একবার ডাক্তার আসেন। তিনি যা লিখে দেন, তা দোকান থেকে কিনতে হয়। দুটি পরীক্ষা দিয়েছিলেন, সেগুলোও বাইরে থেকে করিয়েছি। সরকারি হাসপাতাল শুধু নামেই, এখানে চিকিৎসা ও সুবিধা কোনোটাই নেই।’

রোগীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করেছেন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আসিফ রহমান। তিনি বলেন, ১০০ শয্যার জনবল ও অবকাঠামো দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনা করতে হচ্ছে। এর ওপর ১০০ শয্যার অনুমোদিত জনবলের মধ্যে চিকিৎসকসহ প্রায় অর্ধেক পদ শূন্য রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। আশা করছি, সমস্যার সমাধান হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। ১০০ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে ২০৮টি পদ থাকার কথা। এর মধ্যে চোখ, ডেন্টাল, গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, চর্মরোগ বিভাগ ও মেডিকেল অফিসারসহ বিভিন্ন পদে ৪৮ জন চিকিৎসকসহ মোট ৭৮টি পদ শূন্য রয়েছে।

হাসপাতালটিতে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৭০০ থেকে ৮০০ এবং অন্তর্বিভাগে প্রায় ৪০০ রোগী চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে থাকেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে প্রয়োজনীয় জনবল, শয্যা ও চিকিৎসাসেবার ঘাটতিতে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%