বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:৩৪ পি.এম
লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে। কিন্তু জনপ্রিয় মার্কিন ইউটিউবার ও স্ট্রিমার আইশোস্পিড এই অর্জন মোটেও ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারছেন না। তিনি দেশের কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর একজন দ্বিধাহীন সমর্থক হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তিনি স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন যেন তিনি ফাইনালে মেসি ও আর্জেন্টিনাকে থামানোর চেষ্টা করেন।
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা পরপর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করার পর, নিজের ইউটিউব লাইভ অনুষ্ঠান চলাকালীন স্পিড বলেন, ইয়ামালের কাঁধে এখন সবচেয়ে বড় দায় responsibility।
তিনি বলেন, “লামিন ইয়ামাল, এই বার্তাটি তোমার জন্য। পুরো মনোযোগ দাও। প্লিজ! ‘পোর ফাভোর’ (দয়া করে), লামিন।”
এরপর, রোনালদো-ভক্তদের পক্ষ থেকে ইয়ামালের কাছে বিশেষ এক অনুরোধও জানান তিনি। স্পিড আরও বলেন, 'আমাকে এই বিপর্যয় থেকে বাঁচাও। যদি মেসি আবার বিশ্বকাপ জিতে যায়, তাহলে রোনালদোর ভক্ত হিসেবে আমার আর কিছুই বলার থাকবে না। তাই লামিন ইয়ামাল, এবারের বিশ্বকাপ জিতে আমাদের রোনালদো-ভক্তদের বাঁচাও।'
এবারের বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিদায়ের কারণে মেসির আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠায় আইশোস্পিড আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কারণ, আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতলে মেসির বিশ্বকাপ শিরোপা হবে দুটি, আর রোনালদোর ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পথে এখনও এই ট্রফিটি অধরা রয়েছে।
এমন অদ্ভুত ঘটনা হলো, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আইশোস্পিড আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষদের সমর্থন করে এসেছেন। নকআউট পর্বে কেপ ভার্ডে, মিসর এবং ইংল্যান্ডের পক্ষ নিয়েছিলেন তিনি। এমনকি সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ‘রিভার্স জিংক্স’-এর আশায় আর্জেন্টিনার জার্সি পরে লাইভে এসে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও ফল পরিবর্তন হয়নি, প্রতিটি ম্যাচেই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আর্জেন্টিনা।
তাহলে এখন তাই তার সব আশা স্পেন এবং লামিন ইয়ামালের উপর নির্ভর করছে। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত রক্ষণভাগের নৈপুণ্যে মাত্র একটি গোল হজম করে ফাইনালে উঠেছে স্পেন। আক্রমণভাগেও ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি দুই সহোদর ভাই, ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। সজীব ও সুজনের মৃত্যুর খবরটি তাদের বাবা ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টার সময়, রিয়াদ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে প্রাইভেটকারে তাদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মৃতদেহগুলো লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের বড় ও মেজো ছেলের।
সজীব ও সুজন জেদ্দায় ব্যবসা করতেন। তাদের সহকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, তারা রিয়াদ শহরে ব্যবসার জন্য মালামাল কিনতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে, তাদের বহনকারী গাড়িটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ি সজোরে ধাক্কা দেয়। একারণে তাদের গাড়ির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়েমুচড়ে যায়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে সজীব ও সুজন মারা যান।
নিহতদের বাবা আব্দুল মালেক বলেছেন, ‘আমার দুই ছেলে একসঙ্গে মারা গেছে। সবাই তাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করবেন।’ তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন যাতে তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা জানিয়েছেন, ‘ঘটনাটি আমাদের জানা নেই। খোঁজ নিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভিসা না দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৯১ শিক্ষার্থীর আট কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলার মূল হোতা মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, যিনি মো. মতিউর রহমান নামেও পরিচিত, এবং তার সঙ্গে আরও তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা শহরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই শুনানি শেষে আদেশ দেন। পুলিশ হেফাজতে থাকা এই সকল আসামিদের নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
আদালতে উপস্থিত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এই আসামিদের উপর হামলা চালান। রিমান্ডে যাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রাবেয়া খাতুন তানিয়া, সাইদুর রহমান এবং মো. তানজির ইসলাম। তানজিরের জন্য চার দিনের এবং বাকি তিন আসামির জন্য পাঁচ দিনের রিমানন্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
পুলিশের হেফাজত থেকে বের করে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, যিনি ভাটারা থানার উপপরিদর্শক মো. বিল্লাল ভূইয়া, আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন। পরে পুলিশ প্রহরায় আসামিদের আদালতে আনা হয় এবং এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্দেশ্যে গালাগাল করতে থাকেন।
আদালতের বারান্দায় আসামিদের নিলে কয়েকজন হামলার চেষ্টা করেন। আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এরপর পুলিশ প্রহরায় আসামিদের হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তুলে হামলা চালান। তখন পকেট গেট দিয়ে তাদের হাজতখানার ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এর আগে তারা হাজতখানার প্রধান গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। অনেকেই লাথি মেরে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর, বাদীপক্ষের আইনজীবী রুহুল আমিন মোল্লাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শান্ত করেন।
মামলার বিবরণে দেখা যায়, ভিসা গাইড কম্পানি স্টুডেন্ট ভিসা দ্বারা চার মাসের মধ্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পরে জাস্ট থট এডুকেশন কনসালট্যান্ট কম্পানি বিভিন্ন সময়ে ৯১ শিক্ষার্থী থেকে আট কোটি ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। তাদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের পর নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও বিদেশে পাঠানো হয়নি।
এমনকি, বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানে এরূপ আশ্বাস দেয়া হয়েছে যে তাদের স্টুডেন্ট ও ফ্যামিলি ভিসা প্রসেসিং হবে। কিন্তু পরবর্তীতে বিদেশে পাঠানোর পরিবর্তে তারা টাকা আত্মসাৎ করে। এরপর, ৮ জুলাই ভুক্তভোগী আল আমিন বাদী হয়ে মামলা করেন, যাতে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৭-৮ জনকেও আসামি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান বৃহস্পতিবার জানায়, গত মাসে নিজেদের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সহিংসতা বন্ধ করতে এবং আবার আলোচনায় ফিরতে উৎসাহিত করবে।
বার্তা সংস্থা এএফপি ইসলামাবাদ থেকে এ খবরটি জানায়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও, পাকিস্তান সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করতে এবং সমঝোতা স্মারকের আলোকে কৌশলগত পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করতে উৎসাহিত করে যাবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলার অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে তৎপর পাকিস্তান।
অনলাইন ডেস্ক থেকে প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশিত হয়েছে যে, ১৬ জুলাই, ২০২৬ এ সময়ের পর খবরের চিত্রের মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ছে। আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও तीভ্র হয়েছে। ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র রাতভর হামলা চালিয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায়, প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতে, পাকিস্তান দুই পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলা সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে ঘটেছে এবং এর ফলে গত মাসে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের হুমকি কমানোর উদ্দেশ্যে ৬ ঘণ্টাব্যাপী একাধিক হামলা চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এই ঘোষণা দিয়েছেন, আলজাজিরা জানায়। তিনি বলেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও পাকিস্তান সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করতে 'কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা' পুনরায় শুরুর জন্য উৎসাহিত করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে এবং 'তবুও পাকিস্তান সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করে আবারও আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানাতে থাকবে।'
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর পরে গত এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদে পাকিস্তানের উদ্যোগে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটাই ছিল গত চার দশকের মধ্যে প্রথমবার, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা সরাসরি একই কক্ষে বসে আলোচনা করেন।
এরপর জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়, যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ অংশগ্রহণ করেন।
সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক সম্মেলনে ওই সমঝোতা নিয়ে আরও আলোচনা হয়। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে সেই সমঝোতা এখন গুরুতর চাপে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ