বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৪:৩৬ পি.এম
ভিসা না দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৯১ শিক্ষার্থীর আট কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলার মূল হোতা মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, যিনি মো. মতিউর রহমান নামেও পরিচিত, এবং তার সঙ্গে আরও তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকা শহরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই শুনানি শেষে আদেশ দেন। পুলিশ হেফাজতে থাকা এই সকল আসামিদের নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
আদালতে উপস্থিত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এই আসামিদের উপর হামলা চালান। রিমান্ডে যাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রাবেয়া খাতুন তানিয়া, সাইদুর রহমান এবং মো. তানজির ইসলাম। তানজিরের জন্য চার দিনের এবং বাকি তিন আসামির জন্য পাঁচ দিনের রিমানন্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
পুলিশের হেফাজত থেকে বের করে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, যিনি ভাটারা থানার উপপরিদর্শক মো. বিল্লাল ভূইয়া, আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন। পরে পুলিশ প্রহরায় আসামিদের আদালতে আনা হয় এবং এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্দেশ্যে গালাগাল করতে থাকেন।
আদালতের বারান্দায় আসামিদের নিলে কয়েকজন হামলার চেষ্টা করেন। আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এরপর পুলিশ প্রহরায় আসামিদের হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তুলে হামলা চালান। তখন পকেট গেট দিয়ে তাদের হাজতখানার ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এর আগে তারা হাজতখানার প্রধান গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। অনেকেই লাথি মেরে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর, বাদীপক্ষের আইনজীবী রুহুল আমিন মোল্লাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শান্ত করেন।
মামলার বিবরণে দেখা যায়, ভিসা গাইড কম্পানি স্টুডেন্ট ভিসা দ্বারা চার মাসের মধ্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পরে জাস্ট থট এডুকেশন কনসালট্যান্ট কম্পানি বিভিন্ন সময়ে ৯১ শিক্ষার্থী থেকে আট কোটি ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। তাদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের পর নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও বিদেশে পাঠানো হয়নি।
এমনকি, বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানে এরূপ আশ্বাস দেয়া হয়েছে যে তাদের স্টুডেন্ট ও ফ্যামিলি ভিসা প্রসেসিং হবে। কিন্তু পরবর্তীতে বিদেশে পাঠানোর পরিবর্তে তারা টাকা আত্মসাৎ করে। এরপর, ৮ জুলাই ভুক্তভোগী আল আমিন বাদী হয়ে মামলা করেন, যাতে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৭-৮ জনকেও আসামি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান বৃহস্পতিবার জানায়, গত মাসে নিজেদের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সহিংসতা বন্ধ করতে এবং আবার আলোচনায় ফিরতে উৎসাহিত করবে।
বার্তা সংস্থা এএফপি ইসলামাবাদ থেকে এ খবরটি জানায়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও, পাকিস্তান সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করতে এবং সমঝোতা স্মারকের আলোকে কৌশলগত পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করতে উৎসাহিত করে যাবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি হামলার অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে তৎপর পাকিস্তান।
অনলাইন ডেস্ক থেকে প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশিত হয়েছে যে, ১৬ জুলাই, ২০২৬ এ সময়ের পর খবরের চিত্রের মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ছে। আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও तीভ্র হয়েছে। ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র রাতভর হামলা চালিয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায়, প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতে, পাকিস্তান দুই পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলা সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে ঘটেছে এবং এর ফলে গত মাসে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের হুমকি কমানোর উদ্দেশ্যে ৬ ঘণ্টাব্যাপী একাধিক হামলা চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এই ঘোষণা দিয়েছেন, আলজাজিরা জানায়। তিনি বলেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও পাকিস্তান সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করতে 'কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা' পুনরায় শুরুর জন্য উৎসাহিত করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে এবং 'তবুও পাকিস্তান সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করে আবারও আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানাতে থাকবে।'
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর পরে গত এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদে পাকিস্তানের উদ্যোগে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটাই ছিল গত চার দশকের মধ্যে প্রথমবার, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা সরাসরি একই কক্ষে বসে আলোচনা করেন।
এরপর জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়, যেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ অংশগ্রহণ করেন।
সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক সম্মেলনে ওই সমঝোতা নিয়ে আরও আলোচনা হয়। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে সেই সমঝোতা এখন গুরুতর চাপে পড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের রামুতে বন্যাদুর্গত ও পানিবন্দি ১০০০ মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মানবিক সংগঠন ‘মৈত্রী-০২’। আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বন্যাদুর্গতদের কাছে।
ত্রাণসামগ্রী বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। তিনি সরকারের পাশাপাশি মানবিক সংগঠনগুলোকে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার জন্য আহ্বান জানান।
ত্রাণসামগ্রী হিসেবে প্রত্যেক পরিবারে ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি পেঁয়াজ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শুকনা খাবারসামগ্রী, খাবার সেলাইন ও ওষুদও দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান এ সময় উপস্থিত থেকে সমাজের ধনী ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় যে মামলাগুলো হয়েছে, তার মধ্যে ৫৯টি মামলা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এসব মামলার সঠিক ঘটনা উদঘাটনের লক্ষ্যে, সংস্থাটি প্রায় ৪০ জিবি তথ্য-উপাত্ত, ফরেনসিক আলামত এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকার বিশ্লেষণ করছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে জুলাই আন্দোলনের মামলার অগ্রগতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান।
তিনি বলেন, ডিবিতে জুলাই আন্দোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট ৫৯টি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। প্রতিটি মামলায় আসামির সংখ্যা অনেক। আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা, কে কী ভূমিকা পালন করেছেন এবং ফরেনসিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের কাজ চলছে।
প্রায় ৪০ জিবির ডাটা পর্যালোচনা করতে হচ্ছে এবং আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই মামলাগুলোর তদন্ত করছি।
তিনি আরও বলেন, আইনের মধ্যে থেকেই যথাযথ তদন্ত সম্পন্ন করা হবে, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে একই ঘটনার একাধিক মামলা এবং মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার উল্লেখ করেন, এসব মামলা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ