শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৪ পি.এম
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটোর বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া দাবানল নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে শুক্রবার অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা অভিযান পরিচালনা করেছেন। শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগুনের কারণে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বেশ কিছু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, আগুনের লেলিহান শিখায় গাছপালা জ্বলছে এবং ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী রাতের আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। এ সময় জরুরি সেবার যানবাহনের আলোও দৃশ্যমান ছিল।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
শহর কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃষ্টির অভাবে শুষ্ক হয়ে যাওয়া গাছপালা এবং প্রবল বাতাসের কারণে উত্তর কুইটোর কাসিতাগুয়া পাহাড়ে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ৪৮ জনকে এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে।
কুইটো দমকল বিভাগ জানায়, বৃহস্পতিবারের মধ্যে নয়টি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সাতটি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
দমকল বিভাগ এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা আকাশ ও স্থলপথে কাজ করছি, যাতে ক্ষয়ক্ষতি বা আশপাশের বাড়িঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়।’
দমকল বিভাগের কর্মকর্তা জেফারসন মেরা জানিয়েছেন, আগুন নেভাতে গিয়ে জরুরি সেবাকর্মীদের দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা খুবই কঠিন, কারণ সেখানে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন।’
কাসিতাগুয়া পাহাড় থেকে ওঠা আগুনের শিখা পুরো শহর থেকেই দৃশ্যমান ছিল। চলতি সপ্তাহে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় আরেকটি দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় কুইটো আগে থেকেই সতর্ক অবস্থায় ছিল।
কুইটোর নিরাপত্তাপ্রধান ক্যারোলিনা আন্দ্রাদে বলেন, ‘এই আগুন রাজধানীর গাছপালার ওপর ‘অত্যন্ত গুরুতর ও ভয়াবহ প্রভাব’ ফেলেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ধারণা, ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।’
তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আশপাশের বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর নেই।
শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কুইটোতে প্রায় ২০০টি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এতে রাজধানীর প্রায় ১,২০০ হেক্টর বনভূমি ধ্বংস হয়েছে।
দাবানল সৃষ্টির অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালেও কুইটো কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ দাবানলের সম্মুখীন হয়েছিল। ওই সময় ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর ঘটনায় ছয়জন আহত হন এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: নাইজেরিয়ায় অবৈধ খননকাজের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক ৩৭ জন খনি শ্রমিকের মৃত্যুতে দেশের সরকার শুক্রবার একটি বেসামরিক নিরাপত্তা কমান্ডারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে এবং ‘পূর্ণাঙ্গ তদন্তের’ নির্দেশ প্রদান করেছে।
এই মৃত্যুর ঘটনা বৃহস্পতিবার নাইজার রাজ্যে ঘটে। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তাদের রাখা হয়েছিল সেখানে অতিরিক্ত ভিড় এবং যথেষ্ট বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকার কারণে তাদের মৃত্যু ঘটেছে। লাগোস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।
বেলজিয়ামের আয়তনের দ্বিগুণেরও বেশি আয়তনের নাইজার রাজ্যটি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। সোনার সন্ধানে হাজার হাজার ক্ষুদ্র খনি শ্রমিক সেখানে কাজ করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তদন্ত চলাকালীন নাইজেরিয়া সিকিউরিটি অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কোরের (এনএসসিডিসি) রাজ্য কমান্ডার সুবেরু সিয়াকা আনিভিয়েকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এনএসসিডিসি মানুষের জীবন এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ ও অবকাঠামো সুরক্ষায় কাজ করে, যা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পরিচালিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওলুবুনমি তুনজি-ওজো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। আর যার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেই কমান্ড্যান্টকে তদন্ত চলাকালে বরখাস্ত রাখা হবে।’
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইজার রাজ্যের রাজধানী মিননায় এই ঘটনা ঘটার পর খনি শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এএফপির দেখা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে খোলা জায়গায় কয়েক ডজন তরুণের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের পরনে ছিল শুধু হাফপ্যান্ট। তাদের বেশিরভাগকেই কিশোর বলে মনে হয়েছে। পুলিশও এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে।
কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা জানান, নাইজার রাজ্যের অবৈধ খনিগুলো থেকে সোনা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত অপরাধী চক্রগুলোর সহিংসতা বাড়ছে।
এই চক্রগুলো খনি শ্রমিকদের কাছ থেকে কর আদায় করে এবং খনিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে উত্তোলিত আকরিকের একটি অংশ দাবি করে।
২০২৪ সালের সুইসএইডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে উত্তোলিত সোনার বেশিরভাগই সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাচার করা হয়। সেখান থেকে তা ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ঢুকিয়ে বৈধ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান বিএনপি সরকারকে সাহস থাকলে তাদের পূর্ববর্তী মেয়াদ, অর্থাৎ ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতির অভিযোগগুলো তদন্ত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি মন্তব্য করেন, ‘দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) পুনর্গঠন করে এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) ও বিরোধীদলকে টার্গেট করা হচ্ছে। যদি সাহস থাকে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতি ও অভিযোগগুলো আপনারা তদন্ত করুন।’
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিএনপি সরকার কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন পাস, বিরোধী মত দমন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে’ এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার এমন কিছু আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, যেগুলো মানবাধিকার হরণের সুযোগ তৈরি করছে।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা যে গণঅভ্যুত্থান করেছিলাম, যে লড়াই করেছিলাম দেশের মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য, সেই গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার এখনো এই দেশে নিশ্চিত হয়নি।’
মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা আপনাদের সামনে বলতে চাই, মিরাজ শেখ কোথায়? পাঁচ মাস হয়ে গেলো, কেন মিরাজ শেখের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না? অথচ এই সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, সরকারের বিগত সাত মাসে নাকি একটিও গুম হয়নি। মিরাজ শেখের গুমের ঘটনা পুরো বিশ্ববাসী এখন জানে।’
মিরাজ শেখের পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম জানান, তারা প্রথমে থানায় গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। পরে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেওয়া হলেও সেখানে কোস্টগার্ডের নাম লিখতে দেওয়া হয়নি।
গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘তিনি (গাজী সালাহউদ্দিন) একটা ভুল করেছিলেন। খারাপ ভাষা ব্যবহার করে সরকার প্রধানের নামে কটূক্তি করেছিলেন। আমরা সেটা সমর্থন করিনি। দল হিসেবে আমরা তৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর কোন সন্ত্রাস করেছেন যে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে?’
গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধেও একই আইনে মামলা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গালি দেওয়া কি এক ধরনের সন্ত্রাস? তারেক রহমান কি বাংলাদেশের নতুন দিগ্বিজয়ী? তার বিরুদ্ধে কথা বললেই, মিম করলেই, এমনকি গালি দিলেও, যেটা আমরা সমর্থন করি না, সেটা তো সন্ত্রাস নয়।’
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার বন্ধের দাবি জানান তিনি। হবিগঞ্জে ছাত্রশক্তির কর্মী আলিফের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘হবিগঞ্জে দেখেছেন, আমাদের ছাত্রশক্তির কিশোর আলিফের চোখ তারা কেড়ে নিয়েছে। বিরোধী দল-মত দমন করা শুরু হয়ে গেছে।’
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়েও আপত্তি জানান এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, গুমের অভিযোগের তদন্ত যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমেই করা হয়, তাহলে একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্য একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করবে। পাশাপাশি অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীকে শাস্তির বিধান রাখার ফলে মানুষ অভিযোগ করতে ভয় পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির বহু নেতাকর্মী বিগত সময়ে গুম হয়েছেন। সালাহউদ্দিন (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সাহেব গুম হয়েছেন, ইলিয়াস আলী গুম হয়েছেন। বিএনপি বিরোধীদলে থাকার সময় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। আর এখন তারা সরকারে এসে জাতীয় পর্যায়েও কোনো তদন্ত হতে দিচ্ছে না।’
মানবাধিকার কমিশনকে ‘সরকারি মানবাধিকার কমিশনে’ পরিণত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে গুমের তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জাতিসংঘে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৬ বছর বিএনপির নেতারা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের কাছে গেছেন। এখন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারা কী জবাব দেবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আপনি সেখানে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। আপনি সেখানে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন না। ভালো হতো, যদি জাতীয় ঐক্য আপনি দেখাতে পারতেন।’
তিনি আরও বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশন না করে পুলিশকে বিরোধীদল দমনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশনকেও দুর্বল করা হচ্ছে।
সরকার তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই সরকার তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, সুশাসন দিতে ব্যর্থ হয়েছে, এখন মানবাধিকার হরণ করে নিচ্ছে এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেনি।’
মানববন্ধন থেকে গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে মতপ্রকাশের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে এই আইনগুলো আপনারা সংশোধন করেন, সঠিকভাবে যাতে গুমের তদন্ত হয়, মানবাধিকার কমিশন যাতে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে পারে এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের নামে যে সংশোধন আনা হচ্ছে, সে আইনের সংশোধনের নামে যাতে কোনোভাবেই মতপ্রকাশের অধিকার হরণ না করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শুক্রবার সকালে দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় চীনের কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ ফিলিপাইনের মৎস্য বিভাগের একটি নৌযানকে ‘ধাক্কা দিয়েছে’ বলে ম্যানিলা থেকে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর চীনের কোস্টগার্ড ফিলিপাইনের নৌযানকেই দায়ী করেছে। তারা দাবি করেছে, ‘ঘটনার জন্য পুরোপুরি ফিলিপাইনের নৌযানই দায়ী।’
বার্তা সংস্থা এএফপি ম্যানিলা থেকে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিতর্কিত স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের একটি অগভীর এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। মাছের প্রাচুর্যের কারণে অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে চীনের কোস্টগার্ডের জাহাজের সঙ্গে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
একটি আন্তর্জাতিক রায়ে দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকাংশ এলাকার ওপর বেইজিংয়ের দাবি আইনগত ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হলেও, চীন এখনও ওই সাগরের বেশিরভাগ অংশের মালিকানা দাবি করে আসছে।
ফিলিপাইনের কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জে তারিয়েলা জানিয়েছেন, ‘জেলেদের জ্বালানি ভর্তুকি পৌঁছে দিতে সমুদ্রপথে টহল দেওয়ার সময় চীনা জাহাজটি বিআরপি দাতু মাগাত সালামাতকে ধাক্কা দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সকাল ১১টা ৪ মিনিটে সিসিজি-২১৫৮৫ মাত্র প্রায় ১০ মিটার দূরত্ব রেখে বিএফএআর (মৎস্য ব্যুরো)-এর নৌযানটির পেছন দিক দিয়ে সামনে চলে যায়।’
প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শেয়ার করা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, নয় মিনিট পর ‘চীনা জাহাজটি একই কৌশল আবার প্রয়োগ করে। এবার সেটি বিএফএআর-এর নৌযানটির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে ধাক্কা দেয়।’
ফিলিপাইনের কোস্টগার্ড এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে চীনা জাহাজটিকে নৌযানটির পেছনের দিকে দেখা যায়। ভিডিওতে একজন নাবিককে ‘সংঘর্ষ’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। তবে সংঘর্ষের মুহূর্তটি ভিডিওতে ধরা পড়েনি।
চীনের কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জিয়াং লু ফিলিপাইনের নৌযানকে দায়ী করে বলেন, তারা ‘বারবার দেওয়া কঠোর সতর্কতা উপেক্ষা করে’ ইচ্ছাকৃতভাবে গতিপথ পরিবর্তন করে ‘চীনের কোস্টগার্ডের জাহাজের সামনে দিয়ে চলে যায়।’
লু বলেন, ‘ফিলিপাইনের পক্ষের এ কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করেছে এবং চীনের কোস্টগার্ডের জাহাজ ও সদস্যদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা ফিলিপাইনকে অবিলম্বে সব ধরণের অনধিকার প্রবেশ ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার কঠোর সতর্কবার্তা দিচ্ছি।
অন্যথায় এর সব পরিণতির দায় তাদেরই বহন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই ব্যাখ্যা দেন।
এবি জুবায়ের তার পোস্টে উল্লেখ করেন, গতকাল থেকে মিডিয়ায় ‘ছাড়পোকা দমনে ৩২ লাখ টাকা ব্যয় ডাকসুর’ শিরোনামে যে ফ্রেমিং করা হচ্ছে, তা যেন অস্বাভাবিক কিছু নির্দেশ করছে।
তিনি আরও বলেন, ১৮টি হলের মোট ৪ হাজার ৮৭৭টি রুমে পেস্ট কন্ট্রোল মেডিসিন প্রদান করা হয়েছে। বেডের সংখ্যা ১৬ হাজার ৭২৯। এবার যদি প্রতিটি বেড ধরে হিসাব করা হয়, তাহলে দেখা যাবে বেডপ্রতি খরচ কত। তিনি জানান, যে মেডিসিন ব্যবহার করা হয়েছে, তা বাজারে পাওয়া সাধারণ গ্যাসের ট্যাবলেট নয়। এটি একটি স্বনামধন্য কোম্পানির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতকৃত মেডিসিন। কিছু রুম বাদে অধিকাংশ জায়গা থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। যেগুলোতে প্রত্যাশিত ফল আসেনি, সেগুলো হয়তো যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে ফলাফল ভিন্ন হতে পারত।
এবি জুবায়ের আরও উল্লেখ করেন, আলোচনার বিষয়বস্তুতে না গিয়ে তিনি বলেন, এই টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া কোনো অর্থ নয়। আমরা বাইরের উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে যতটুকু সম্ভব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছি। এগুলো ডাকসুর কাজ নয়, বরং প্রশাসনের কাজ। তবুও আমরা শিক্ষার্থীদের কষ্টের কথা চিন্তা করে এই উদ্যোগ নিয়েছি।
পোস্টের শেষে তিনি মন্তব্য করেন, সবখানে নেতিবাচকতা খুঁজে বের করা একটি ভালো লক্ষণ নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ